Urmi's blog
আল্লাহ কাকে কখন হেদায়েত করে সেইটা কেউ বলতে পারে না ❤️
শাইখ ইবনুল উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
“যদি কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে কোনো দোষের কারণে লজ্জিত করে বা উপহাস করে, তবে হতে পারে আল্লাহ সেই ভাইয়ের প্রতি দয়া করবেন, তাকে সেই দোষ থেকে মুক্তি দেবেন; আর পরে সেই উপহাসকারীকে সেই একই দোষে আক্রান্ত করবেন।”
— শারহ রিয়াদুস সালিহীন (৬/২৬৩)
কাউকে গুনাহ করতে দেখলে তার প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করে, মনে বিরূপতা জমিয়ে রেখে, তার ভুলত্রুটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করে কিংবা তাকে হেয় চোখে দেখে যতটা সময় ব্যয় করি, সে সময়টুকু যদি তার হিদায়াতের জন্য দুআ করে তাকে সঠিকটা বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় ব্যয় করতে পারতাম!
পৃথিবীতে এমন কিছু মা আসেন, যাঁরা কেবল সন্তান জন্ম দেন না, বরং এক একটি ইতিহাস জন্ম দেন। ইমাম শাফিঈ, ইমাম আহমাদ এবং ইমাম বুখারীর জীবনের উচ্চ শিখরে পৌঁছানোর মূলে ছিল তাঁদের বিধবা মায়েদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ।
১. ইমাম শাফিঈর (রহ.) মা: দারিদ্র্য দমাতে পারেনি যাঁর হিম্মত
১৫০ হিজরি। ফিলিস্তিনের আসক্বালান শহর। মাত্র দুই বছরের শিশু শাফিঈ পিতৃহীন হলেন। মা ফাতেমা বিনতে আব্দুল্লাহ দিশেহারা না হয়ে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি চাইলেন ছেলে যেন বংশীয় ঐতিহ্য ও বিশুদ্ধ আরবী ভাষা শেখে। তাই চরম দারিদ্র্য মাথায় নিয়ে পাড়ি জমালেন সুদূর মক্কায়।
সংগ্রাম: মক্কায় এসে অভাব তাঁদের নিত্যসঙ্গী হলো। কাগজ কেনার সামর্থ্য ছিল না বলে শিশু শাফিঈ রাস্তা থেকে পশুর হাড় ও খেজুর পাতা কুড়িয়ে আনতেন। মা পরম মমতায় সেই হাড়ের ওপর তাঁকে পড়া লিখে রাখতে বলতেন।
বিশাল ত্যাগ: ২০ বছর বয়সে যখন শাফিঈ জ্ঞানের সন্ধানে ইয়ামন যেতে চাইলেন, মা নিজের একমাত্র মাথাগোঁজার ঘরটি ১৬ দীনারে বন্ধক রাখলেন। সেই টাকা ছেলের হাতে তুলে দিয়ে বললেন, "যাও বাবা, দ্বীনের আলো নিয়ে এসো।"
ফলাফল: মায়ের এই ত্যাগের বিনিময়েই মাত্র ৭ বছরে কুরআন ও ১০ বছরে 'মুয়াত্তাহ' মুখস্থ করে উম্মাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকীহ হলেন ইমাম শাফিঈ (রহ.)।
২. ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের (রহ.) মা: পাহাড়সম দৃঢ়তার কারিগর
বাগদাদের কনকনে শীতের রাতে এক দশ বছরের বালককে নিয়ে এক নারী অন্ধকার রাস্তা মাড়িয়ে মসজিদের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন—তিনি ইমাম আহমাদের মা ছাফিয়া।
শৈশবের তারবিয়াত: বাবা মারা গিয়েছিলেন মাত্র ৩০ বছর বয়সে। তরুণী মা পুনরায় বিয়ে না করে ছেলেকে ‘আল্লাহওয়ালা’ বানানোর মিশনে নামলেন। তিনি শেষরাত থেকে পানি গরম করে ছেলেকে ওজু করিয়ে দিতেন এবং মসজিদে নিয়ে গিয়ে পাহারা দিতেন যতক্ষণ না মুসুল্লিরা আসত।
ঈমানি জেদ: ইমাম আহমাদ যখন পরবর্তী জীবনে ‘খলকে কুরআন’ ফিতনার সময় অমানুষিক নির্যাতনের মুখেও সত্যে অটল ছিলেন, সেই সাহসের বীজ বপন করেছিলেন তাঁর মা। মা শিখিয়েছিলেন, দুনিয়া একদিকে থাকলেও হকের পথে একা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা: সত্তর বছর বয়সেও ওজু করতে গিয়ে ইমাম আহমাদ মায়ের স্মৃতিতে কাঁদতেন। তিনি বলতেন, মায়ের দোয়াই তাঁকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
৩. ইমাম বুখারীর (রহ.) মা: দোয়ার বরকতে ফিরে পাওয়া দৃষ্টি
ইমাম বুখারীর (রহ.) বাবা ইসমাইল ছিলেন একজন মুহাদ্দিস, যিনি তাঁর সন্তানের জন্য এক লক্ষ দিরহাম হালাল সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন। কিন্তু শৈশবে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে শিশু মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী) তাঁর চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেন।
দোয়ার শক্তি: ডাক্তাররা যখন হাল ছেড়ে দিলেন, তখন মা ধরলেন আরশের মালিকের দুয়ার। রাতের পর রাত জায়নামাজে চোখের পানি ফেলে তিনি আল্লাহর কাছে ভিক্ষা চাইলেন।
অলৌকিকতা: একদিন স্বপ্নে তিনি ইবরাহীম (আ.)-কে দেখলেন, যিনি সুসংবাদ দিলেন যে মায়ের কান্নার বরকতে আল্লাহ তাঁর ছেলের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন। সকালে উঠে দেখা গেল শিশু মুহাম্মাদ সত্যিই সব দেখতে পাচ্ছেন!
কঠিন বিচ্ছেদ: ১৬ বছর বয়সে মা তাঁর প্রিয় সন্তানকে মক্কায় রেখে একা দেশে ফিরে এলেন কেবল ইলম অর্জনের স্বার্থে। মক্কায় একাকী থেকে ইলম হাসিল করার সেই বিরহমাখা ত্যাগই আজকের ‘সহীহ বুখারী’র ভিত্তি।
এই তিন মা আমাদের শেখান যে, স্বামী না থাকা বা দারিদ্র্য সন্তান মানুষের পথে বাধা নয়। যদি অন্তরে আল্লাহর ওপর ভরসা এবং সঠিক লক্ষ্য থাকে, তবে একজন একাকী মা-ই পারেন পৃথিবীকে বদলে দেওয়া কোনো মহামানব উপহার দিতে।
Copy post
সুখী হবেন কীভাবে?
সুন্নাহর আলোকে প্রকৃত সুখের উপায়,,
হযরত আবু হুরায়রা রা.থেকে বর্ণিত,রাসূলে কারীম ﷺ ইরশাদ করেন,"অর্থ সম্পদে যারা তোমাদের থেকে দুর্বল,গরিব,তাদের দেখো"।যারা তোমাদের থেকে বিত্তশালী,বড়লোক তাদের দেখোনা।তাহলে তোমাদের অন্তরে আল্লাহর নেয়ামতের গুরুত্ব ও মর্যাদা লোপ পাবেনা
তবে দ্বীনের ক্ষেত্রে তোমার চাইতে উপরের ব্যক্তিকে দেখবে যে, অমুক দীনের কত কাজ করছে!আর আমি এখনো তার থেকে নিচেই রয়ে গেছি।তাহলে তুমি দুনিয়াও পাবে,দীনও পাবে।
বই:সুখী হওয়ার সহজ উপায়
আল্লামা তাকি উসমানী (দা.বা)
The Department of Computer science and Engineering[CSE] Floor #6
Female Academy zone [FAZ]
International Islamic university of chittagong [IIUC]....
সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর কে?
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর হলো সেই ব্যক্তি, যে তার নামাজ থেকে চুরি করে।
সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! সে কীভাবে নামাজ থেকে চুরি করে?"
তিনি (সা.) বললেন:
সে তার রুকু ও সিজদা পূর্ণভাবে আদায় করে না।
মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২২৬৪২
_এ হাদিসটি আলবানী (রহ.) সহিহ বলেছেন_
"চেষ্টা, যা সবাই পারে না।
আর যে পারে, সে দুনিয়াতেই জান্নাত দেখে।"
এই কথার বাস্তবতা আপনারা পুরো দু'আ কবুলের গল্পের মধ্যেই দেখতে পাবেন।
তিনি লিখেছেন, এক বোন ছিলেন। যার বাবা-মা কেউই নেই। তিনি এতিম। দেখতে তেমন সুন্দর নন, ফেস কাটিংও সাধারণ। তবে সবই তো আল্লাহর দান, এতে কারও কিছু করার নেই। তিনি অনেক মোটা ও শ্যামলা ছিলেন। এসব কারণে তাঁর বিয়ে হচ্ছিল না। একে একে তাঁর ছোট সবার বিয়ে হয়ে গেল, শুধু তাঁরটাই বাকি রয়ে গেল।
পরে আল্লাহর রহমতে আমার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। আমি যখন যে আমল করতে বলতাম, তিনি কষ্ট হলেও তা করার চেষ্টা করতেন। এমনও দিন গেছে, তিনি ৭০ হাজার বারও ইস্তেগফার পড়েছেন। আর তাহাজ্জুদ তো প্রায় প্রতিদিনই পড়তেন। একদিন এসে তিনি বললেন, "আপু, আমার বোনের মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। ওর বয়স মাত্র ১৫ বছর। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমি ওর বিয়েতে যাব না।"
আমি বললাম, "না, তুমি অবশ্যই যাবে। এমনও তো হতে পারে, ঐ বিয়ের উসিলাতেই আল্লাহ তোমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিবেন।"
সুবহানাল্লাহ! ঠিক তাই হলো।
সেই বিয়েতে তিনি নিজের হাতে কনেকে সাজিয়ে দেন। সবাই তাঁর কাজের অনেক প্রশংসা করে এবং জানতে চায়, কে এত সুন্দর করে কনেকে সাজিয়েছে। এরপর তাঁকে দেখে একটি পরিবার পছন্দ করে এবং বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আলহামদুলিল্লাহ, ২০২৫ সালের রমজান মাসে তাঁর বিয়ে হয়ে যায়। সাত ভরি সোনা দিয়ে তাঁকে বিয়ে করা হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর স্বামী অনেক ধনী। তাঁদের বাসা ভাড়া থেকেই প্রতি মাসে তিন-চার লাখ টাকা আয় হয়। তাঁর স্বামী লন্ডনে পড়াশোনা করেন। আর একটি বিষয় আমাকে সবসময় ভাবায়। তিনি নিজেকে দেখতে খারাপ মনে করতেন। কিন্তু তাঁর শ্বশুরবাড়ির প্রায় সবাই দেখতে তাঁর চেয়েও সাধারণ। তাই তাঁকে চেহারা নিয়ে কেউ কখনো কথা শোনাতে পারেনি। বরং তিনি তাঁদের সবার চেয়ে সুন্দর।
আলহামদুলিল্লাহ, আজ ছয় দিন হলো তাঁর একটি ছেলে সন্তান হয়েছে। আর মজার বিষয় হলো, এত মোটা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। মাঝেমধ্যে তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়। তিনি একদিন বললেন, "আপু, জানো? থার্টিফার্স্টে আমার হাজবেন্ডের ১০ দিনের ছুটি ছিল। সে শুধু আমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য ১০ দিনের ছুটিতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে দেশে এসেছে।"
সুবহানাল্লাহ! এটাই হলো ইস্তেগফারের কামাল।
একটা ইউটিউব ভিডিও থেকে লেখা। (সংগৃহীত)
তুমি কি জানতে চাও, আল্লাহর কাছে তোমার সম্মান কতটকু? তাহলে দেখ, তিঁনি তোমাকে কোন অবস্থায় রেখেছেন–
- যদি দেখ তিঁনি তোমাকে তাঁর যিকিরে মশগুল রেখেছেন, তাহলে জেনে রেখ, তিঁনি তোমাকে স্মরণ করতে চান।
- যদি দেখ তিঁনি তোমাকে কুরআন দ্বারা মশগুল রেখেছেন, তাহলে জেনে রেখ, তিঁনি তোমার সাথে কথা বলতে চান।
- যদি দেখ, তিঁনি তোমাকে ইবাদাত/আনুগত্যে ব্যস্ত রেখেছেন, তাহলে জেনে রেখ, তিঁনি তোমাকে তাঁর সান্নিধ্যে টেনে নিয়েছেন।
- যদি দেখ, তিঁনি তোমাকে দুনিয়া দিয়ে ব্যস্ত করে দিয়েছেন, তাহলে জেনে নাও, তিঁনি তোমাকে দূরে ঠেলে দিয়েছেন।
- যদি দেখ, তিঁনি তোমাকে লোকজনের সাথে মশগুল বানিয়ে দিয়েছেন, তাহলে জেনে নাও, তিঁনি তোমাকে অপমানিত করেছেন।
- যদি দেখ, তিঁনি তোমাকে দু'আর দ্বারা ব্যস্ত রেখেছেন, তাহলে জেনে নাও, তিঁনি তোমাকে কিছু দিতে চান।
অতএব, সবসময় নিজের অবস্থা দেখ। তুমি কোন কাজে মশগুল? আল্লাহ তোমাকে যে কাজে ব্যস্ত রেখেছেন, সেটাই তোমার অবস্থান তাঁর কাছে।
— শায়খ ড. রাতিব আন-নাবলুসি
#সীরাহ
• আমরা সাধারণত নফল সালাত বললেই তাহাজ্জুদের কথা ভাবি। অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের এমন আরও কিছু সুন্দর সালাত শিখিয়েছেন, যেগুলো দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তকে ইবাদতে পরিণত করতে পারে।
মসজিদে প্রবেশ করলেন, ওযু করলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় পড়লেন, গুনাহের পর অনুতপ্ত হলেন কিংবা দিনের ব্যস্ততার মাঝে আল্লাহর জন্য কয়েক মিনিট আলাদা করলেন—প্রতিটি অবস্থার সঙ্গেই জড়িয়ে আছে কিছু মূল্যবান নফল সালাত।
ইবাদতকে বোঝা বানাবেন না। ধীরে ধীরে নিজের জীবনের স্বাভাবিক অংশ বানান।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—নফল সালাত কখনো ফরজ সালাতের বিকল্প নয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাতে অবহেলা রেখে শুধু নফল বাড়ানো সঠিক অগ্রাধিকার নয়। প্রথম দায়িত্ব হলো ফরজ সালাত ঠিক করা; এরপর নফল ও সুন্নাহ দিয়ে আল্লাহর আর ও নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করা।
ওযুর পর: দুই রাকাত নফল
মসজিদে প্রবেশ করে: তাহিয়্যাতুল মসজিদ
সকাল থেকে যোহরের আগে: সালাতুদ দুহা
গুনাহের পর: সালাতুত তাওবা
সিদ্ধান্তের আগে: সালাতুল ইস্তিখারা
রাতের শেষভাগে: তাহাজ্জুদ
#পরকালের প্রস্তুতি
21/07/2026
গীবত..
নিজের জান্নাত অন্যের হাতে উপহার দিয়ে দেওয়া।
গীবত এমন এক গুনাহ, যা জিহ্বা দিয়ে শুরু হয়, কিন্তু কিয়ামতের দিন নেক আমলকে নিঃস্ব করে দেয়। আজ যার দোষ বলছি, কাল হয়তো তার কাছেই আমার সালাত, সিয়াম ও ইবাদতের সওয়াব পৌঁছে যাবে। তুমি সারাজীবন সালাত, সিয়াম, তিলাওয়াত ও নেক আমলের মাধ্যমে একটি ফলভরা গাছ তৈরি করলে। কিন্তু গীবতের কারণে সেই ফল কিয়ামতের দিন অন্যের ঝুলিতে চলে যাবে। তাই নিজের আমলকে বাঁচাই, জিহ্বাকে সংযত রাখি, আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। 🤲 আল্লাহুম্মাগফিরলী।
সংগৃহীত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
4100
