Onika Sawon Rattrika

Onika Sawon Rattrika

Share

Hey... This is rattrika.... this page is operate by me.....

17/10/2023

হে পর জীবনের পথিক! পাথেয় সংগ্রহ করে নাও। জেনে রাখো,সর্বোত্তম পাথেয় হলো ' তাকওয়া '।🌷
(আল বাকারা ~১৯৭)

06/06/2021

আমার বাসায় ৪টা সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে।এই লকডাউনে বাসায় বসে সিসিটিভিতে রাস্তায় মানুষের আনাগোনা দেখি। কিছুদিন ধরে আমার চিন্তার জগতে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কারণ আমার পবিত্র ধর্মগ্রন্থে মহাপবিত্র স্রষ্টা বারংবার বলেছেন..

"নিশ্চয়ই চিন্তাশীলদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে"

এই বাক্য অনেকবার পড়েছি, কিন্তু কখনো এতো গভীরভাবে ভেবে দেখিনি। গত ক'দিন ধরে কিছু বিষয় নিয়ে ভাবছি। যেমন-

১. যে সিসিটিভিতে আমি রাস্তার মানুষের কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করছি, তা এই পৃথিবীর বিভিন্ন উপাদান দিয়েই তৈরী। তাহলে কি এমন কোন মহাশক্তিধর সিসিটিভি আছে, যা সমগ্র বিশ্ব-ব্রহ্মান্ড পর্যবেক্ষণ করছে?

"নিশ্চয়ই তিনি(আল্লাহ) সব দেখেন"

২. আমি আমার এক মৃত বন্ধুর বিয়ের ডিভিডি খুব আবেগ নিয়ে দেখছিলাম। সে নাই, কিন্তু তার অতীত কর্মকাণ্ড দেখতে পাচ্ছি। সেই আবেগ পরক্ষণেই ভয়ে পরিণত হল, যখন ভাবলাম, এমন কোন মহাশক্তিশালী ডিভিডি কি থাকা সম্ভব যা সমগ্র সৃষ্টির কার্যাবলী রেকর্ড করছে। আর সেটা পরে প্লে করা হবে?

"সেদিন সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়বে

তোমার পালনকর্তার আদেশ অনুযায়ী "

৩. মা যখন বাচ্চা প্রসব করে, তখন সেই বাচ্চার পুষ্টিগুণ অনুযায়ী মায়ের বুকে দুধই কেন আসে? কোকাকোলা, স্প্রাইট, বিয়ার কেন আসেনা? কার পরিকল্পনা? মাথা কাজ করেনা রে ভাই।

"মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই দুর্বল"

৪. পৃথিবীতে আমাকে কেন পাঠানো হলো??আবার আমাকে বিদায়ও নিতে হবে আমার ইচ্ছা ছাড়াই। কেন? কার ইচ্ছামত পৃথিবীতে আসলাম আর বিদায় নিব?

"বলুন,আমি আশ্রয় নিচ্ছি মানুষের পালনকর্তার কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের প্রকৃত মাবুদের কাছে"

৫. বৃষ্টির পানি টাক মাথায় পড়লে চুল গজায়না, কিন্তু মৃত জমিতে পড়লে ঠিকই হরেকরকম ফসল জন্মে। কি আছে এতে? কার নির্দেশে এমন হয়??

"আর যিনি আসমান থেকে পরিমিতভাবে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দ্বারা আমি মৃত জনপদকে সঞ্জীবিত করি। এভাবেই তোমাদেরকে বের করা হবে"

৬. উট তার উদরে পানি ধরে রাখতে পারে, যা মরুভূমিতে প্রয়োজনমতো কাজে লাগায়। মানুষ কেন পারেনা? উটকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করলো কে? মাথা কাজ করেনা।

"তারা উটের দিকে কি তাকিয়ে দেখেনা,

যে কিভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে"

৭. সমুদ্রের অনেক গভীরে যেখানে সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারেনা, সেখানে কিছু মাছ আছে যাদের শরীরে বিদ্যুৎ তথা আলো তৈরী হয়। এত গভীরে পানির চাপেও তারা মারা যায়না, অথচ এই চাপে লোহাও বেকে যায়। কে এদের এভাবে সৃষ্টি করলো?

"তিনি যা ইচ্ছা তাই সৃষ্টি করেন"

৮. মানুষের এক জিহবা এতো স্বাদ কিভাবে বুঝে? কে প্রোগ্রাম করলো? কিভাবে সম্ভব??

৯. খাদ্যহজম প্রক্রিয়া এতো নিখুঁত কিভাবে? যেমন, শর্করা হয় মুখবিবরে, এর জন্য আলাদা এনজাইম, আবার আমিষ হয় পাকস্থলীতে, তার জন্য আলাদা এনজাইম? আবার ফিল্টার হিসেবে কিডনি, অপাচ্য নির্গমনের পথ.. কে সেই মহা বিজ্ঞানময় সত্ত্বা!! ইশারা কি বুঝেন??

১০. মানুষের শ্রবণ ও দর্শন মেকানিজম যে কি জটিল তা ভাবা যায়না। কে এতো নিখুঁতভাবে ডিজাইন করলো??

১১. বিজ্ঞান শুধু দুটো প্রশ্ন নিয়ে কাজ করে। কি এবং কিভাবে? কেন'র কোন উত্তর বিজ্ঞানের কাছে নেই। যেমন, কি হল? ভূমিকম্প.. কিভাবে হল? টেক্টোনিক প্লেটের সঞ্চালনের কারণে। টেক্টোনিক প্লেট কেন সরে গেল? উত্তর নাই।

এভাবে আরো অনেক বিষয় আছে চিন্তা করার, যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়-

ALLAH is the only explanation of all physical phenomena in this universe..

"আমিই তোমাদের সৃষ্টি করেছি.
তারপরও তোমরা কেন বিশ্বাস করছ না? "

হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম প্রতিপালক সম্পর্কে ধোকায় ফেলে দিয়েছে?(কোরআন ৮২ঃ৬)

( Collected )

16/04/2021
13/04/2021

আজ বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে। চাঁদ দেখার দোয়া।
اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ
হে আল্লাহ, আপনি আমাদের জন্য এই চাঁদকে নিরাপদ, ঈমান, শান্তি ও ইসলামে সাথে উদিত করুন। (হে নতুন চাঁদ) আল্লাহ্ আমার ও তোমার প্রভু। (মুস্তাদরাকে হাকেম, ৭৭৬৭)

13/04/2021
08/03/2021

আজ নারী দিবস : ইসলাম কি বলে?
নারী ও পুরুষ অখণ্ড মানব সমাজের দু’টি অপরিহার্য অঙ্গ। পুরুষ মানব সমাজের একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করলে আরেকটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করে নারী। নারীকে উপেক্ষা করে মানবতার জন্য যে কর্মসূচী তৈরী হবে তা হবে অসম্পূর্ণ। আমরা এমন কোনো সমাজের কথা কল্পনাই করতে পারি না যা কেবল পুরুষ নিয়ে গঠিত, যেখানে নারীর প্রয়োজন অনুভূত হয় না। প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি সমাজেই নারী ও পুরুষ সমানভাবে পরস্পরের মুখাপেক্ষী। তাই এর কোনোটাকে বাদ দিয়ে মানব সমাজ কোনক্রমেই পূর্ণত্ব অর্জন করতে পারে না। এ কারণেই নারী-পুরুষের সুষম উন্নয়ন সমাজ প্রগতির একটি অনিবার্য পূর্বশর্ত। নারী সুদীর্ঘকাল ধরে নানাভাবে নিপীড়িত ও নিষ্পেষিত হয়েছে এবং আজকের সভ্য সমাজেও হচ্ছে। ইসলাম একেবারে শুরু থেকেই সর্বতোভাবে নারী-নির্যাতনের বিপক্ষে সোচ্চার। তারপরও মুসলিম অধ্যুষিত আমাদের এ জনপদে নারীরা নিপীড়িত, নির্যাতিত ও অবহেলিত কেন তা রীতিমত বিস্ময়কর।

ইসলামের দৃষ্টিতে নারী

সমাজে নারীর অবস্থান যখন ছিল অমানবিক এবং অতি করুণ তখন থেকেই ইসলাম নারীর অধিকার ও মর্যাদা উন্নয়নের জন্য নজীরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে। সে সকল পদক্ষেপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল :

(ক) নারী সম্মানিত সৃষ্টি : ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ অতীব সম্মানিত ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। ইসলাম জন্মগতভাবে মানুষকে এ মর্যাদা দিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,

۞وَلَقَدۡ كَرَّمۡنَا بَنِيٓ ءَادَمَ [الاسراء

আর নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানদেরকে সম্মানিত করেছি’’। [সূরা আল-ইসরা/বনী ইসরাইল: ৭০]

বস্তুত মানুষ সম্পর্কে ইসলামের এ ঘোষণা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই সমানভাবে শাশ্বত ও চিরন্তন। মানবিক সম্মান ও মর্যাদার বিচারে নারী ও পুরুষের মাঝে কোনই পার্থক্য নেই। নারীকে শুধু নারী হয়ে জন্মাবার কারণে পুরুষের তুলনায় হীন ও নীচ মনে করা সম্পূর্ণ জাহেলী ধ্যান-ধারণা, এরূপ চিন্তাভাবনা ইসলাম স্বীকার করে না। অতএব ইসলামের দৃষ্টিতে নারী হচ্ছে মহান স্রষ্টা আল্লাহর সম্মানিত সৃষ্টি।

(খ) ঈমান ও আমলই নারী-পুরুষের মর্যাদা নির্ণয়ের সঠিক মাপকাঠি : ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের সফলতা ও ব্যর্থতা সুস্থ চিন্তা ও সঠিক কর্মের সাথে সম্পৃক্ত। যে আদর্শ ও মতবাদ নারীকে শুধু নারী হওয়ার কারণে নীচু ও লাঞ্ছনার যোগ্য মনে করে, মানবতার উচ্চ আসন থেকে দূরে নিক্ষেপ করে এবং পুরুষকে শুধু পুরুষ হওয়ার কারণে উচ্চতর আসনের উপযুক্ত মনে করে, ইসলাম তাকে জাহেলিয়াত বলে আখ্যায়িত করেছে। ইসলাম পরিস্কার ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে যে, মর্যাদা লাঞ্ছনা এবং মহত্ত্ব ও নীচতার মাপকাঠি হলো তাকওয়া-পরহেযগারী এবং চরিত্র ও নৈতিকতা। এ মাপকাঠিতে যে যতটা খাঁটি প্রমাণিত হবে মহান আল্লাহর কাছে সে ততটাই সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবে।

আল্লাহ বলেন,

مَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَلَنُحۡيِيَنَّهُۥ حَيَوٰةٗ طَيِّبَةٗۖ وَلَنَجۡزِيَنَّهُمۡ أَجۡرَهُم بِأَحۡسَنِ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ ٩٧ #النحل: ٩٧

পুরুষ বা নারীর মধ্য থেকে যে-ই ভালো কাজ করলো সে ঈমানদার হলে আমি তাকে একটি পবিত্র জীবন যাপন করার সুযোগ দেব এবং তারা যে কাজ করছিল আমি তাদেরকে তার উত্তর পারিশ্রমিক দান করব।’’ [ সূরা আন-নাহল: ৯৭]

আল্লাহ আরো বলেন,

فَٱسۡتَجَابَ لَهُمۡ رَبُّهُمۡ أَنِّي لَآ أُضِيعُ عَمَلَ عَٰمِلٖ مِّنكُم مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰۖ ال عمران: ١٩٥]

তাদের রব তাদের দোআ কবুল করলেন এ মর্মে যে, পুরুষ হোক বা নারী হোক তোমাদের কোনো আমলকারীর আমল আমি নষ্ট করব না।’’ [সূরা আলে-ইমরান: ১৯৫]

অর্থাৎ মানব জাতির দু’টো শাখার মধ্য হতে যে-ই কর্মের পবিত্রতার দ্বারা তারা আমলনামা উজ্জ্বল করবে, আল্লাহর কাছে মর্যাদা ও সফলতার প্রাপ্তি ঘটবে তারই। সে দৃষ্টিকোণ থেকে বহু নারী ঈমান ও আমলে বহু পুরুষকে ছাড়িয়ে গেলে নিঃসন্দেহে তারা সে সব পুরুষের চেয়ে মর্যাদাবান বিবেচিত হবেন।

(গ) নারী ও পুরুষ উভয়ই সভ্যতার নির্মাতা: আল-কোরান আল-কারিমের বক্তব্য থেকে এ কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত যে, জীবনের সবরকমের তৎপরতা ও উত্থান-পতনের ক্ষেত্রে সর্বদাই নারী ও পুরুষ পরস্পরকে সহযোগিতা করেছে। উভয়ে মিলে জীবনের কঠিন ভার বহন করেছে এবং উভয়ের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সভ্যতা ও তামাদ্দুনের ক্রমবিকাশ ঘটেছে।

আল্লাহ বলেন,

وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتُ بَعۡضُهُمۡ أَوۡلِيَآءُ بَعۡضٖۚ يَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَيُطِيعُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓۚ [التوبة: 71

আর মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারী একে অপরের বন্ধু। তারা ভাল কাজের আদেশ দেয়, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে।’’ [সূরা আত-তাওবাহ: ৭১]

(ঘ) নারী সম্পর্কে ভুল দৃষ্টিভঙ্গির অপনোদন : ইসলাম আগমনের পূর্বে গোটা দুনিয়া নারী জাতিকে একটি অকল্যাণকর তথা সভ্যতা ও তামাদ্দুনের জন্য অপ্রয়োজনীয় উপাদান মনে করে কর্মক্ষেত্র থেকে অপসারিত করেছিল। তাকে অধঃপতনের এমন এক অন্ধকার গুহায় নিক্ষেপ করেছিল যেখান থেকে তার উন্নতি ও ক্রমবিকাশের আশা করা ছিল বাতুলতা মাত্র। দুনিয়ার এ আচরণের বিরুদ্ধে ইসলাম উচ্চ কন্ঠে প্রতিবাদ করে বললো যে, গতিশীল জীবন নারী ও পুরুষের উভয়ের মুখাপেক্ষী। নারীকে এ জন্য সৃষ্টি করা হয় নি যে, সে ধাক্কা খেতে থাকবে এবং তাকে জীবনের রাজপথ থেকে তুলে কাঁটার মত দূরে নিক্ষেপ করা হবে। কারণ পুরুষকে সৃষ্টি করার যেমন একটা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে তেমনি নারীকে সৃষ্টিরও একটা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে। মানুষের এ দু’টো শ্রেণী দিয়ে আল্লাহ অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণ করেছেন,

لِّلَّهِ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ يَخۡلُقُ مَا يَشَآءُۚ يَهَبُ لِمَن يَشَآءُ إِنَٰثٗا وَيَهَبُ لِمَن يَشَآءُ ٱلذُّكُورَ ٤٩ أَوۡ يُزَوِّجُهُمۡ ذُكۡرَانٗا وَإِنَٰثٗاۖ وَيَجۡعَلُ مَن يَشَآءُ عَقِيمًاۚ إِنَّهُۥ عَلِيمٞ قَدِيرٞ ٥٠ [الشورى: ٤٩، ٥٠]

আসমানসমূহ ও যমীনের মালিকানা আল্লাহরই, তিনি যা চান তা-ই সৃষ্টি করেন। যাকে ইচ্ছা তাকে কন্যা দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা পুত্র-কন্যা উভয় প্রকার সন্তান দান করেন, আবার যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।’’ [সূরা আশ-শুরা: ৪৯–৫০]

ইসলাম নারী জাতিকে লাঞ্ছনা ও অমর্যাদাকর অবস্থান থেকে দ্রুততার সাথে উঠিয়ে এনে এমনই অধিকার ও মর্যাদা দান করেছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

«كُنَّا نَتَّقِي الْكَلَامَ وَالِانْبِسَاطَ إِلَى نِسَائِنَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَيْبَةَ أَنْ يَنْزِلَ فِينَا شَيْءٌ فَلَمَّا تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَكَلَّمْنَا وَانْبَسَطْنَا»

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে আমরা আমাদের স্ত্রীদের সাথে কথা বলতে এবং প্রাণ খুলে মেলামেশা করতেও ভয় পেতাম, এ ভেবে যে, আমাদের সম্পর্কে কোনো আয়াত যেন নাজিল না হয়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তিকালের পর আমরা প্রাণ খুলে তাদের সাথে মিশতে শুরু করলাম।’’ [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫১৮৭]

এ নির্যাতিত শ্রেণীটির বেঁচে থাকার অধিকার পর্যন্ত ছিল না। আল-কোরান বললো যে, না, তারাও জীবিত থাকবে এবং যে ব্যক্তিই তার অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে, মহান আল্লাহর কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।

وَإِذَا ٱلۡمَوۡءُۥدَةُ سُئِلَتۡ ٨ بِأَيِّ ذَنۢبٖ قُتِلَتۡ ٩ [التكوير: ٨، ٩

আর যখন জীবন্ত প্রোত্থিত কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?’’ [সূরা আত-তাকভীর: ৮,৯]

আব্দুল্লাহ ইবন আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«مَنْ كَانَتْ لَهُ أُنْثَى فَلَمْ يَئِدْهَا وَلَمْ يُهِنْهَا وَلَمْ يُؤْثِرْ وَلَدَهُ عَلَيْهَا - قَالَ يَعْنِى الذُّكُورَ - أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّة»

যে ব্যক্তির কন্যা সন্তান আছে, আর যে তাকে জ্যান্ত কবরস্থ করে নি কিংবা তার সাথে লাঞ্ছনাকর আচরণ করে নি এবং পুত্র সন্তানকে তার উপর অগ্রাধিকার দেয় নি, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’’ [সুনান আবু দাউদ, হাদীস নম্বর: ৫১৪৮]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন,

«مَنْ عَالَ ثَلاَثَ بَنَاتٍ فَأَدَّبَهُنَّ وَزَوَّجَهُنَّ وَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ فَلَهُ الْجَنَّة»

যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা সন্তান লালন পালন করেছে, তাদেরকে উত্তম আচরণ শিখিয়েছে, বিয়ে দিয়েছে এবং তাদের সাথে সদয় আচরণ করেছে সে জান্নাত লাভ করবে।’’ [সুনান আবু দাউদ, হাদীস নম্বর: ৫১৪৯]

নারীদের প্রতি কোমল ব্যবহারের গুরুত্ব প্রকাশ করছে কোরানের নিম্নোক্ত নির্দেশ,

وَعَاشِرُوهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ [النساء :

আর নারীদের সাথে সদয় আচরণ কর।’’ [সূরা আন-নিসা: ১৯]

এক সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীগণ উটের পিঠে সফর করছিলেন। স্ত্রীদের কাঁচের সাথে তুলনা করে তিনি বললেন,

«رُوَيْدًا سَوْقَكَ بِالْقَوَارِير»

কাঁচগুলোকে (স্ত্রীদেরকে) একটু দেখে শুনে যত্নের সাথে নিয়ে যাও।’’ [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬১৮২]

এসকল হাদীস থেকে আমরা নারী জাতি সম্পর্কে ইসলাম মানুষের মধ্যে যে মেজাজ, আবেগ ও সহানুভূতি সঞ্চার করতে চেয়েছে তা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি।

(ঙ) মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে ইনসাফ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা : ইসলাম সুবিচার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কেবলমাত্র উৎসাহব্যঞ্জক উপদেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয় নি, নারী ও পুরুষ উভয়ের অধিকার আইনের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও প্রতিষ্ঠিত করেছে। সে আইন সর্বদিক দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ।

ইসলাম নারীর শিক্ষা অর্জনের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদির নিশ্চয়তা বিধান করেছে। ইসলামী শরীয়াতের সীমার মধ্যে থেকে অর্থনৈতিক ব্যাপারে শ্রম-সাধনা করার অনুমতি রয়েছে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যেই।

নারী ও আমাদের সমাজ

আধুনিক সমাজে নারীকে অগ্রসর ভাবা হলেও আমাদের সমাজে নারীরা এখনও অনেক পিছিয়ে আছে, অনেক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত এবং বহু ক্ষেত্রে তারা নির্যাতনের শিকার। আমাদের সমাজে নারীর প্রতি বঞ্চনা ও নির্যাতনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে তুলে ধরছি।

(ক) নারীর নিরাপত্তাজনিত সমস্যা : আমদের সমাজে নারীরা পূর্ণ নিরাপত্তা ভোগ করে না। আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে অনেকে অপহৃত হয়। স্কুল কলেজে যাওয়ার পথে কিশোরী যুবতীরা হয়রানির শিকার হয়। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে গ্রামঞ্চলে এখনও অনেক নারী ধর্ষিতা হয়।

(খ) নারী পাচার : নারী পাচার আমাদের দেশে একটি বিশাল সমস্যা। পাচার চক্রের সদস্যরা ছলে বলে কৌশলে কিংবা ফুসলিয়ে নারীদেরকে বিভিন্ন দেশে মোটা অংকের বিনিময়ে পাচার করে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাচারকৃত এসকল নারীদেরকে জোর পূর্বক দেহ ব্যবসা ও অন্যান্য অবাঞ্ছিত কাজে ব্যবহার করা হয়।

(গ) বেশ্যাবৃত্তিতে নিয়োগ : বেশ্যাবৃত্তি নারীদের জন্য একটি অবমাননাকর পেশা। এ বৃত্তিতে নিয়োজিত করার জন্য বহু চক্র নারীদেরকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এবং নানা কৌশলে পতিতালয়ে নিয়ে আসে। পতিতাবৃত্তির পেশায় নিয়োজিত হয়ে এসব নারীদের জীবন বিষিয়ে উঠে। শুধু তাই নয় পতিতালয়েও তারা নানা নির্যাতনের মুখোমুখি হয়।

(ঘ) যৌন হয়রানি : আমাদের দেশে কিশোরী মেয়ে থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে গার্মেন্টসে কর্মরত মেয়েরা সবচেয়ে বেশী শিকার হয়। বাসায় কর্মরত কাজের মেয়েদের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়ে থাকে। তবে যে বিষয়টি অধিক দুঃখজনক তা হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ছাত্রীদের কেউ কেউ যৌন হয়রানির শিকার হয়।

(ঙ) গর্ভবতী নারীদের নির্যাতন : অনেক পরিবারে দেখা যায় গর্ভবতী নারীরা গর্ভাবস্থায় স্বামী, শ্বাশুড়ী ও ননদ কর্তৃক নিগৃহীত হন। এ অবস্থায় নারীদের পক্ষে গৃহাস্থালীর স্বাভাবিক কার্যক্রম করা সম্ভব হয় না বিধায় তারা মানসিক এবং অনেক সময় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন।

(চ) সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা : আমাদের দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীরা পিতৃসম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা স্বামীর সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত হয়ে থাকে।

(ছ) মোহরানা না দেয়া : বিপুল সংখ্যক নারী আমাদের দেশে তাদের প্রাপ্য মোহরানা থেকে বঞ্চিত থাকে। যারা মোহরানা পায় তারাও প্রায় ক্ষেত্রে নগদ পায় না। আর অনেক চতুর স্বামী বিয়ের রাতেই স্ত্রীর কাছে মাফ চেয়ে নিয়ে মোহরানা আদায়ের দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভ করার হীন চেষ্টা করে।

(জ) শিশুনারীকে শ্রমে বাধ্য করা : আমাদের দেশে এখন বিপুল সংখ্যক নারী শিশুকে শ্রমের কাজে লাগানো হয় যা অমানবিক। বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসেবে এদের প্রায়ই নানা রকম লোমহর্ষক নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়ার কথা শুনা যায়।

(ঝ) নারী শ্রমের সঠিক মুল্যায়ন না করা : বহুক্ষেত্রে নারীরা তাদের প্রাপ্য বেতন ভাতা প্রাপ্ত হয় না। নামমাত্র বেতনে বাসা-বাড়িতে কাজের মেয়ে ও বুয়াদেরকে রাখা হয়। এছাড়াও দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরত নারী শ্রমিক এবং গার্মেন্টসে কর্মরত মেয়েরাও চাকুরির নানা অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা থেখে প্রায়ই বঞ্চিত থাকে। মুসলিম সমাজে বহু নারীরা আজও গৃহস্থালী কাজে তাদের পুরো সময়টুকুই ব্যয় করে। অথচ তাদের এ বিশাল শ্রমের কোন অর্থনৈতিক মূল্যয়ন আমাদের সমাজে আজও হয় নি।

(ঞ) নারীকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার : বিজ্ঞাপন চিত্রে নারীকে যৌন প্রতীক হিসেবে প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া ফ্যাশান শো ও সুন্দরী প্রতিযোগিতাও নারীদেহে প্রদর্শনের এক একটি মহড়া। এসব কিছুতে মূলতঃ নারীকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা নারীর আত্মমর্যাদাবোধ, সম্মান ও মানব মর্যাদার সাথে অসংগতিপূর্ণ।

(ট) নারীর ধর্মীয় অধিকার হরণ : ধর্ম নারীকে যে সকল অধিকার দিয়েছে অনেক সময় সেক্যুলার ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেকেই তাদের অধীনস্ত নারীকে তা থেকে বঞ্চিত করে থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে নারীর ধর্মীয় অনুশাসন মানার ক্ষেত্রেও অনেক অন্তরায় সৃষ্টি করা হয়। যেমন নারীকে তার হিজাব পরিধানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য অনেক সেক্যুলার প্রতিষ্ঠান হিজাব পরিধান নিষিদ্ধ করে। এছাড়াও আমাদের দেশের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানে নারীকে পুরুষের সাথে একই কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে ইসলাম নারীকে নিজস্ব কর্মক্ষেত্রে কাজ করার যে অধিকার দিয়েছে তা চরমভাবে শুধু বিঘ্নিতই হয় নি, বরং পুরুষ সহকর্মীদের দ্বারা তারা অনেক সময়ই যৌন নির্যাতনের শিকারও হয়ে থাকেন।

(ঠ) তালাকের অপব্যবহার : স্বামী-স্ত্রীর সুন্দর সহাবস্থান সম্ভব না হলে ইসলাম তাদের পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য তালাকের বিধান দিয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে তালাক দেওয়ার অধিকার স্বামীর হাতে ন্যস্ত করেছে। অনেক স্বামীই তালাকের অপব্যবহার করে তাদের স্ত্রীদের প্রতি নির্যাতন করে থাকে। সে ক্ষেত্রে তালাক হয় নির্যাতনের একটি হাতিয়ার।

নারী নির্যাতন রোধে ইসলামের ভূমিকা
ইতঃপূর্বের বক্তব্যে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসলাম নারীর মান মর্যাদা ও ইজ্জত-আব্রু হেফাযতের ব্যবস্থাই শুধু করে নি, বরং নারী যাতে কোনোক্রমেই দৈহিক কিংবা মানসিকভাবে অত্যাচারিত ও নির্যাতিত না হয় সে রকম দিক-নির্দেশনা দিয়েছে এবং তদনুযায়ী নিয়ম-পদ্ধতি ও বিধান জারী করেছে। নিচে তার একটি ছোট্ট বিবরণ দেয়া হল:

১. ইসলাম নারীর সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করেছে। রাস্তায়, কর্মস্থলে ও যত্রতত্র নারীদেরকে হয়রানি করা তো দূরের কথা বরং ইসলাম নারীদের সৌন্দর্যের প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে অবনত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ বলেন,

قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِمۡ وَيَحۡفَظُواْ فُرُوجَهُمۡۚ ذَٰلِكَ أَزۡكَىٰ لَهُمۡۚ [النور : ٣٠

মুমিনদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং নিজদের লজ্জাস্থান হেফাযত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতম।’’ [সূরা আন-নূর: ৩০]

ইসলামের স্বর্ণযুগে দেখা যায়, নারীরা সুদূর বাগদাদ থেকে মক্কা নগরীতে একাকী গমন করলেও তাদেরকে কেউ উত্যক্ত করত না। কেননা এরকম নিরাপত্তাই ইসলামী সমাজে প্রত্যাশিত। যারা নারীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকী, ইসলাম তাদেরকে তাযীরমূলক শাস্তি দেয়ার পথ খোলা রেখেছে। আর কেউ যেন নারীকে হয়রানি না করে বরং বোনের দৃষ্টিতে দেখে সেজন্যে পুরুষকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

«إِنَّمَا النِّسَاءُ شَقَائِقُ الرِّجَال»

নারীরা পুরুষদের সহোদরা’’। [সুনান আবি দাউদ ১/২৯৯, হাদীস নং ২৩৬]
শুধু তাই নয় ইসলামে নারীকে ধর্ষণ করা কিংবা করার চেষ্টা করা ও নারীকে মিথ্যা অপবাদ দেয়ার শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ; যাতে খারাপ চিত্তের পুরুষগণ এসব অবাঞ্ছিত কাজ থেকে বিরত থাকে।

২. ইসলাম ব্যভিচার, দেহব্যবসা, নগ্নতা, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা ও দেহপ্রদর্শনীকে নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ বলেন,

وَلَا تَقۡرَبُواْ ٱلزِّنَىٰٓۖ إِنَّهُۥ كَانَ فَٰحِشَةٗ وَسَآءَ سَبِيلٗا ٣٢ [الاسراء:

আর তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। নিশ্চয় তা অশ্লীলতা ও খারাপ পথ।’’ [সূরা আল-ইসরা: ৩২]

আরো ইরশাদ হয়েছে,

وَلَا تَقۡرَبُواْ ٱلۡفَوَٰحِشَ مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَمَا بَطَنَۖ [الانعام: ١٥١

আর তোমরা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতার কাছাকাছি যেয়ো না।’’ [সূরা আল-আনআম: ১৫১]

অতএব ইসলামে বেশ্যাবৃত্তির কোনো স্থান নেই এবং নারীদেরকে পণ্য হিসেবে ব্যবহারেরও কোনো বিধান নেই। বরং এ সবই ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। ইসলামের এ অনুশাসন মেনে চললে এগুলোর কারণে নারী যে নির্যাতন ও অবমাননার মুখোমুখি হয় সে পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।

৩. ইসলাম নারীকে যে অধিকার দিয়েছে ইতঃপূর্বে তার কিছু বিবরণ দেয়া হয়েছে, সেসব অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করার কোনো বৈধতা ইসলামে নেই। ইসলাম নর-নারী উভয়কে উত্তরাধিকারের অংশ নির্ধারণ করে বলেছে,

فَرِيضَةٗ مِّنَ ٱللَّهِۗ [النساء : ١١

“এটা বাস্তবায়ন আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরয।” [সূরা আন-নিসা:১১] ইসলাম নারীদেরকে দায়িত্বভার অনুযায়ী কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি দিলেও অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বের পার্থক্য না থাকায় সমান সম্পত্তি দিয়েছে। যেমন পূর্বের আয়াতটিরই একাংশে বলা হয়েছে,

وَلِأَبَوَيۡهِ لِكُلِّ وَٰحِدٖ مِّنۡهُمَا ٱلسُّدُسُ [النساء : ١١

“বাবা-মা প্রত্যেকের জন্য রয়েছে এক ষষ্ঠাংশ।” [সূরা আন-নিসা : ১১]
নারীর মোহরানার অধিকার সম্পর্কে ইসলাম বলেছে,

قَدۡ عَلِمۡنَا مَا فَرَضۡنَا عَلَيۡهِمۡ فِيٓ أَزۡوَٰجِهِمۡ [الاحزاب

আমি জানি আমি তাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে কী (মোহরানা) ফরয করেছি।’’ [সূরা আল-আহযাব: ৫০]

নারীদেরকে যত অধিকার আল্লাহ দিয়েছেন তা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে তাদেরকে নির্যাতন করার এখতিয়ার কারো নেই।

এছাড়া নারীর গৃহাস্থলী কাজের স্বীকৃতি আমরা দেখতে পাই আমীরুল মু’মেনীন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনে। এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দৌরাত্মপনা সম্পর্কে অভিযোগ করার জন্য তার কাছে এসে দেখল যে, স্বয়ং উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী চেঁচামেচি করছে আর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু ধৈর্য ধরে চুপ করে আছেন। সে ব্যক্তি ভাবল উমারের অবস্থা তো দেখি আমার চেয়ে খারাপ। তাই কিছুটা বিফল মনোরথ হয়ে সে চলে যেতে থাকলে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তার আগমন ও প্রস্থান টের পেয়ে তাকে ডাকলেন এবং সবকিছু শুনে বললেন, দেখ আমাদের স্ত্রীদের অবদান আমাদের প্রতি অনেক বেশী। সুতরাং তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সহনশীল হওয়া উচিত।

৪. বাসা-বাড়ীতে কর্মরত কাজের মেয়ে এবং বুয়া ক্রীতদাসী নয়। ক্রীতদাস প্রথা আজ আর নেই। অথচ বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন কি ক্রীতদাস-দাসীদের প্রতিও সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন,

«أَرِقَّاءَكُمْ أَرِقَّاءَكُمْ أَرِقَّاءَكُمْ أَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ وَاكْسُوهُمْ مِمَّا تَلْبَسُون»

তোমাদের দাসদাসীদের ব্যাপারে সাবধান! তোমাদের দাসদাসীদের ব্যাপারে সাবধান! তোমাদের দাসদাসীদের ব্যাপারে সাবধান! তোমরা যা খাবে তাদেরকে তা খেতে দেবে এবং তোমরা যা পরবে তাদেরকে তা পরতে দেবে।’’ [মুসনাদ আহমাদ, হাদীস নং ১৬৪০৯, ২১৪৮৩, ২১৫১৫, আত-তাবাকাত আল-কুবরা ২/১৮৫]। সুতরাং তাদের প্রতি দূর্ব্যবহার করার কোনো স্থান ইসলামে নেই।

৫. নারীকে যে কোন ছুতোয় দৈহিকভাবে কিংবা মানসিকভাবে নির্যাতন করা শরীয়তে বৈধ নয়। স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের জীবনে তার কোনো স্ত্রী কিংবা কন্যার গায়ে হাত তোলেন নি।

৬. নারীকে অপবাদ দিয়ে মানসিক নির্যাতন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন,

وَٱلَّذِينَ يَرۡمُونَ ٱلۡمُحۡصَنَٰتِ ثُمَّ لَمۡ يَأۡتُواْ بِأَرۡبَعَةِ شُهَدَآءَ فَٱجۡلِدُوهُمۡ ثَمَٰنِينَ جَلۡدَةٗ وَلَا تَقۡبَلُواْ لَهُمۡ شَهَٰدَةً أَبَدٗاۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡفَٰسِقُونَ ٤ [النور : ٤]

“আর যারা সচ্চরিত্রা নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারপর তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে আসে না, তবে তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত কর এবং তোমরা কখনোই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। আর এরাই হলো ফাসিক।” [সূরা আন-নূর : ৪]

৭. স্বামী-স্ত্রীর অস্বস্তিকর জীবনের সুন্দর সমাধানের জন্য ইসলাম তালাকের বিধান রেখেছে। স্বামীর হাতে যদিও তালাকে প্রাথমিক অধিকার ন্যস্ত হয়েছে, কিন্তু সে অধিকার অন্যায়ভাবে প্রয়োগ করাও শরীয়তে আরেকটি অন্যায় ও গোনাহরূপে বিবেচিত। মূলত বিবাহ যেমন mutual understanding এর ভিত্তিতে হয়ে থাকে তেমনি তালাকও সেরকম বোঝাপড়ার মধ্যে সম্পন্ন হওয়াই ইসলামের নির্দেশ। এজন্যই সাংসারিক অশান্তি দেখা দিলে উভয়ের মধ্যে দুপক্ষের সালিস বসিয়ে একটি সমাধানে পৌছার ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,

وَإِنۡ خِفۡتُمۡ شِقَاقَ بَيۡنِهِمَا فَٱبۡعَثُواْ حَكَمٗا مِّنۡ أَهۡلِهِۦ وَحَكَمٗا مِّنۡ أَهۡلِهَآ إِن يُرِيدَآ إِصۡلَٰحٗا يُوَفِّقِ ٱللَّهُ بَيۡنَهُمَآۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرٗا ٣٥ [النساء : ٣٥]

“আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশংকা কর তাহলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন বিচারক এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন বিচারক পাঠাও। যদি তারা মীমাংসা চায় তাহলে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে মিল করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, সম্যক অবগত।” [সূরা আন-নিসা : ৩৫]

কোরানের spirit হচ্ছে দু’পক্ষ ব্যাপক আলোচনার ভিত্তিতেই একমত হয়ে তালাকের সিদ্ধান্ত নিবে। সালিসের পর করণীয় সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

فَإِمۡسَاكُۢ بِمَعۡرُوفٍ أَوۡ تَسۡرِيحُۢ بِإِحۡسَٰنٖۗ [البقرة: ٢٢٩

“অতঃপর বিধি মোতাবেক রেখে দেবে কিংবা সুন্দরভাবে ছেড়ে দেবে।” [সূরা আল-বাকারাহ : ২২৯]

রাগের মাথায় তালাকের বিধান মূলত ইসলামে সমর্থিত নয়। এজন্যই প্রায় সকল মুসলিম আলেম একমত যে, প্রচণ্ড রাগের মাথায় হিতাহিত জ্ঞানহারা হয়ে তালাক দিলে তালাক কার্যকর হবে না। এছাড়া তিন তালাক একসাথে দিলে ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ ও ইবনুল কাইয়েমসহ আরো অনেক মুসলিম স্কলারের মতে এক তালাকই পতিত হবে। এসব তথ্য জানা থাকলে তালাকের অপব্যবহার বহুলাংশে রোধ করা সম্ভব।

৮. আখেরাতের জবাবদিহিতা: যদি কেউ নারী নির্যাতন করে থাকে তাহলে আখেরাতে তাকে এজন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এ ব্যাপারে আয়াত ও হাদীসের সংখ্যা অত্যন্ত ব্যাপক। মূলত জবাবদিহিতা একজন মুসলিমকে উত্তম চরিত্রের মুসলিমে পরিণত করে।

উপসংহার

বস্তুত ইসলামই যেমন নারীকে দিয়েছে সকল ন্যায্য অধিকার, তেমনি তাকে হেফাযতের ব্যবস্থা করেছে সকল প্রকার নির্যাতন থেকে। কেননা ইসলামী বিধান তো সে মহান সত্ত্বার কাছ থেকে অবতারিত যিনি নারীর স্রষ্টা। সুতরাং নারী-নির্যাতন মুক্ত সমাজ বিনির্মাণ করতে হলে আমাদের জন্য ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। যদি প্রকৃতই ইসলাম মেনে চলা হয় তাহলে নারীর নির্যাতিত হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।

মূল : ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী

06/08/2020

পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে নিচের চারটি কাজ অবশ্যই বর্জন করুন 📷 ( লজ্জা নয়, বাঁচতে হলে জানতে হবে )
১। পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে ঠান্ডা জল, কোমল পানীয় এবং নারিকেল খাবেন না।
-
২। এইসময় মাথায় শ্যাম্পু ব্যাবহার করবেন না। কারণ পিরিয়ডের সময় চুলের গোড়া আলগা হয় ফলে লোমকূপ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।শ্যাম্পু ব্যবহার এসময় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী
মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
-
৩। এইসময় শশা খাবেন না। কারণ শশার মধ্যে থাকারস পিরিয়ডের রক্তকে জরায়ু প্রাচীরে আটকে দিতে পারে। যার ফলে আপনার বন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
-
৪। এছাড়াও লক্ষ্য রাখবেন, পিরিয়ডের সময় যেন শরীরে শক্ত কিছুর আঘাত না লাগে, বিশেষত পেটে। পিরিয়ডের সময়টায় জরায়ু খুব নাজুক থাকে ফলে অল্প আঘাতেই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। যার ফলে পরবর্তীতে জরায়ু ক্যান্সার, জরায়ুতে ঘাঁ কিংবা বন্ধ্যাত্যের ঝুঁকি থাকে।
-
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে ঠান্ডা জল পান করার ফলে পিরিয়ডের রক্ত বের না হয়ে জরায়ু প্রাচীরে জমাট বাঁধতে পারে। যা পরবর্তী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে জরায়ু টিউমার বা ক্যান্সারের আকার ধারণ করতে পারে। তাই কুসুম কুসুম গরম জল খাবেন।
-
দয়াকরে এই তথ্যটুকু আপনার স্ত্রী, মা, বোন, কন্যা সকলের কাছে পৌঁছে দিন যেকোন কিংবা কারো মাধ্যমে। আপনার মাধ্যমে যদি একজন নারীও উপকৃত হয় সেটাও পরম পাওয়া।
জরায়ু ক্যান্সার ও বন্ধ্যান্ত মুক্ত হোক আমাদের মা, বোনেরা। (শেয়ার করুন)📷

03/08/2020

কেন রোদের মত হাসলে না
আমায় ভালবাসলে না,
আমার কাছে ......
দিন ফুরালেও আসলে না

এই মন কেমনের জন্মদিন
চুপ করে থাকা কঠিন,
তোমার কাছে.....
খরস্রোতাও গতিহীন.

03/08/2020

কেন রোদের মত হাসলে না
আমায় ভালবাসলে না,
আমার কাছে ......
দিন ফুরালেও আসলে না

এই মন কেমনের জন্মদিন
চুপ করে থাকা কঠিন,
তোমার কাছে.....
খরস্রোতাও গতিহীন..

Website

Address

Dhaka
6600

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Onika Sawon Rattrika posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Subscribe

We will notify you when anything happens in Dhaka.