TwinkLight

TwinkLight

Share

Mobile Photographer
Stories
Art and Craft

23/10/2024

বদমেজাজি ভালোবাসা
পর্ব ৭

মাঝরাতে হুট করে স্নিগ্ধর ঘুম ভেঙে গেল, অন্ধকারে সে তেমন কিছু দেখতে পাচ্ছিল না তার খুব পিপাসা পাচ্ছিল, সাইট টেবিলে পানি খুঁজতে গিয়ে সে দেখলো যে তার ডান হাত ধরে পাশে কেউ একজন ঘুমিয়ে আছে প্রথমে সে ভাবলো হয়তো মামি , বাম পাশের সাইট টেবিলে ছোট ল্যাম্ব জ্বালাতে দেখতে অনেক অবাক হয়ে গেলো সে দেখলো মাটি তার হাত ধরে তার পাশে বসে ঘুমিয়ে পড়েছে ।
রাতে মাটিকে জড়িয়ে ধরে বলা প্রত্যেকটা কথাই স্নিগ্ধ স্পষ্ট মনে ছিল সে কখনো ভাবতেও পারিনি যে সে তার দুর্বলতা কখনো কোন মেয়েকে দেখাবে , সে একটি আতঙ্কিত হল আর ভাবতে লাগলো মাটি যদি তার এই দুর্বলতার কথা কাউকে বলে দেয় সে যদি তাকে নিয়ে মজা করে কারণ কোন মেয়েকে সে পছন্দ করতে পারে না বা কোন মেয়ের প্রতি সে বিশ্বাস আনতে পারে না, সেটা ডান হাতটা মাটির হাত থেকে ছাড়াতে গেলে মাটি জেগে যায় আর দিকে তাকিয়ে বলে
: উঠে গেছেন আপনি কিছু লাগবে আপনার
হালকা কন্ঠে বলে কথা যেন দেখতে হৃদয় ছুঁয়ে গেল , কিছুক্ষণ মাটির দিকে তাকায় থাকলো সে , কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে স্নিগ্ধ বাস্তবতাতে ফিরে এলো আর মাটিকে জিজ্ঞাসা করল
: তুমি এখানে কি করছ
উত্তরে মাটি বলল
: কালকে রাতে আপনার ভাই আপনার সাথে আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে পরে অনেক বৃষ্টি থাকার কারণে আপনার মামী আমাকে আর বাসায় ফিরতে দেয়নি রাতে আপনার মামীর আমকে কিছুক্ষণ এখানে আপনার দেখাশোনা করতে বলে তো আমি হয়তো তখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
: এগুলো করার কোনো দরকার ছিল না আমি তোমাকে কালকে রাতেই বলেছিলাম যে আমাকে একা ছেড়ে দাও।
মাটি চোখ নামিয়ে ফেললো , সে কোনো কথাই বললো না , তাই আবার স্নিগ্ধ বলল
: অনেক মজা পেয়েছো তাই না কালকে আমি তোমাকে আমার দুর্বলতা দেখিয়ে দিয়েছি তুমি হয়তো এখন ওগুলোই মানুষের কাছে বলবে আমার মজা নিবে।
তারই কথা শুনে মাটি চোখ কপালে তুলে আর বিছড়ি একটা নজরে স্নিগ্ধ দিকে তাকালো আর বলল
: ছি! আপনি কি সব মেয়েদের একই মনে করেন নাকি আপনি এটা কিভাবে ভাবতে পারলেন যে আমি আপনার দুর্বলতা নিয়ে আপনার সাথে মজা করবো, আসলে আপনি কিছুই বুঝেন না তাই না আপনি আমাকে আপনার কষ্টের কথা বলেছেন আর এখন আপনি এটা ভাবছেন যে আমি ওগুলো মানুষকে বলে বা ওগুলো নিয়ে আপনার মজা নেব।
মাটি এক দৃষ্টিতে স্নিগ্ধর দিকে তাকিয়ে থাকবে আর বলে
: আমার ভাবতেও ঘেন্না লাগতেছে যে আপনার মত একটা মানুষের সাহায্য করেছি আমার তো উচিত ছিল আপনাকে ওভাবে ফেলে রেখে চলে আসা।
স্নিগ্ধ তখন বলে
: দেখ মাটি
মাটি সাথে সাথে তার হাত তুলে স্নিগ্ধকে চুপ করিয়ে বলে ,
: আমার কথা এখনো শেষ হয় নি , আগে আমার কথা শুনেন, আমি জানি কিছু মেয়েদের কারণে আপনার অতীত ভালো যায়নি , কিন্তু আমার মা-বাবা কখনো আমাকে মানুষের সাথে অমানবিক হতে শিখায়নি সেজন্য আমি আপনাকে বৃষ্টির মাঝে অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখে আসেনি। কালকে আপনি যে কষ্ট পেয়েছেন আমার জন্য পেয়েছিলেন আমি না জেনে আপনার উপর প্রশ্ন করেছিলাম , সেটার জন্য আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছিলাম আর সেই সময় আপনি হয়তো আবেগের বসে আমাকে না বলতে চওয়া অনেক কথাই বলে ফেলেছিলেন। আর সেই কথা গুলো আমার মাঝেই থাকবে। আপনাকে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন, আপনার সাথে আমার কোন রকমের সম্পর্ক নেই না বন্ধুত্বের না অন্য কিছু সেজন্য আপনাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করার প্রশ্ন ওঠেনা। আমি এমনি চলে যেতাম আপনার মামী আমাকে থাকতে বলেছে আর বৃষ্টি অনেক ছিল দেখি আমি যেতে পারিনি। কাল সকালেই চলে যাব। আপনি আমার মুখ দেখবেন না বলেছিলেন এখন থেকে আমিই আপনাকে আর নিজের মুখ কখনো দেখবো আর এমনকি আপনার মুখ ও কোনোদিনও দেখবো না।

এই কথা বলে স্নিগ্ধকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে মাটি ঘর থেকে বের হয়ে যায়,
কিছুক্ষণ পর ঘরের মধ্যে আকাশ আসে আর স্নিগ্ধকে দেখে বলে
: তুই কি আসলেই মানুষ? এইভাবে একটা মেয়ের সাথে কথা বলবি তুই।
স্নিগ্ধ চোখ তুলে বলে
: তুই দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে আমাদের কথা শুনছিলি।
: না আমি তোকে দেখতে এসেছিলাম কারণ মা তো কখনোই ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে আর মাটির ঘরের দরজা খোলা তিনি তার ঘরে ছিল না তাই ভাবলাম হয়তো তিনি তোর দেখাশোনা করতেছে তাই আমি দেখতে এসেছিলাম।

: আকাশ আমার এখন কোনো কথা বলার ইচ্ছা নাই
:কিন্তু তোকে আমাকে কথা শুনতে হবে , তোর ঘরে এসে যেটা দেখলাম , এইভাবে উপকারের প্রতিফল দিলো তুই, আমি মানছি ওই মেয়েটাও তোকে আপমান করছে কষ্ট দিছে কিন্তু তুইও তো ঠিক ঐটাই করছিস তুই ওর হাতে গরম কফি ফেলে দিছিলি
: তুই কিভাবে জানলি একটা
: তুই কখন কি করিস সব খবরই আমার কাছে চলে আসে বড় ভাই আমি তোর।
: ওই একটা মেয়ের পক্ষ নিয়ে আমার সাথে ঝগড়া করতেছিস আকাশ।
: আমি ঝগড়া করতেছি না তোর সাথে, তোকে বাস্তবতা বলতেছি, ওই মেয়ে টা পারলে তোকে ওই ভাবে রাস্তায় ফেলে আসতে পারতো। ছিল তুই জানিস তুই ওকে জড়িয়ে ধরেছিলি ছাড়িস নাই আমি এত চেষ্টা করছি তারপরও তোকে ওর থেকে আলাদা করতে পারেনি,
তুই কি জানিস কিসের জন্য তোর পাশে তোর হাত ধরে বসে ঘুমিয়ে পড়েছিল কারন তুই তার ধরেছিল, আর সেটা এত শক্ত করে ধরেছিল সে ছড়াতে পারেনি বেশি জোর দিলে যদি তোর ঘুম ভেঙ্গে যায় সেজন্য সে তোর পাশেই বসে ছিল , ও তোর সাথে সব ঝগড়া ভুলে গিয়ে তোর দেখাশোনা করতে ছিল রাস্তায় তোকে ফেলে রেখে যায়নি এমনকি তোকে নিয়ে বাড়ি পর্যন্ত আসছে আর সেই মেয়েটার সাথে এরকম করলি তাকে এরকম একটা কথা বলেছিলি যে সে তোকে নিয়ে মজা নেবে আসলে স্নিগ্ধ! আমার আসলে আজকে অনেক আশ্চর্য লাগছে তোকে দেখে।
: আকাশ শোন
আকাশও স্নিগ্ধকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল,
স্নিগ্ধ কিছুটা গিলটি ফিল করতেছিল , তার মাটিকে এভাবে বলা একদমই ঠিক হয়নি সে তো আমার সাহায্য করছিল আর স্নিগ্ধ তার সাথে কি করলো, বিছানা থেকে নেমে স্নিগ্ধ মাটির খোঁজ করতে বেরিয়ে পড়ল সে দেখল মাটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে , সে মাটির পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো আর তাকে বলল
: আমার ভুল হয়ে গেছে আমার উচিত হয়নি তোমার সাথে এভাবে কথা বলার আমাকে মাফ করে দিও, তুমি আমার সাহায্য করছিলা আর আমি কিছু না জেনে তোমাকে অনেক কথা বলে ফেলেছি সরি। আমি কখনো কোন মেয়েকে সরি বলিনি তোমাকে বলছি
তার কথা শুনে মাটি বলল
: কখনো কাউকে প্রশ্ন করার আগে এটা ঠিক করে নিবেন যে প্রশ্নটা আপনি করছেন সেটা করাঠিক হবে কিনা, আমি কিছু মনে করিনি আর করবও না কারণ আপনার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই আমাদের পরিচয় শুধু এতটুকুই যে আমার ছোট্ট ফুলে দোকানের সামনে যে বড় কোম্পানিটা ওইটার মালিক আপনি এটুকুই আর ওইটার খাতিরে আমি আপনাকে ফেলে রেখে যেতে পারিনি, আপনাকে ঠিকমত আপনার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি, আমারও ভুল ছিল যে আমি শুধুমাত্র চোখে দেখে কোন কিছু বিবেচনা না করে আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম ওই জন্যই তখন আপনার কাছে মাফ চেতে গিয়েছিলাম
: যেহেতু এখন তুমি সব কিছুই জানো তো তোমার কাছে আর কোন কিছু লুকানোর কোন দরকার আমার নেই আমি অনেক ছোট থেকে একা ওভাবে বড় হয়েছে, আমি একটু বদমেজাজিও,
: একটু
: ঠিক আছে ঠিক আছে অনেক বদমেজাজি রুডি যাই বলো তুমি আমাকে
: ঠিক আছে আপনি বুজতে পেরেছে এটাই অনেক।
: আমি এটাই আশা করব যে তুমি কখন আমার দুর্বলতা নিয়ে আমাকে আঘাত করবা না
: কখনোই না , আপনি নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন
: শুয়ে পড়ো কালকে সকালে আমি তোমাকে তোমার বাসায় রেখে আসবো
: আমি কালকে সকালে আগে ফুলের দোকানেই যাব তাই ওখান থেকে পরে বাসায় ফিরব
: ঠিক আছে তাহলে আমি তোমাকে ফুলের দোকানেই নিয়ে যাব আমি যখন সকালে অফিসে যাব

তাদের মাঝখানে কথা বার্তা শেষ হয়ে স্নিগ্ধ তার ঘরে চলে যায় এই মাটি গেস্টরুমে।
পরের দিন সকালে মাটি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাহিরে গিয়ে দেখে সবাই ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে , স্নিগ্ধর মামী মাটিকে দে দেখে তাকে ডাক দেয় , টেবিলে আকাশ স্নিগ্ধ আর তার মামা বসে আছে।
মাটি গিয়ে স্নিগ্ধর পাশে বসলো, আকাশ মাটিকে জিজ্ঞাসা করলো
: রাতে ঘুমাতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো
উত্তরে মাটি
: না সব ঠিক ছিল
স্নিগ্ধর মামী এসে সবাইকে খবর বেড়ে দেয়। খাওয়া শেষ হলে মাটি আকাশ, মামা আর মামীর কাছ থেকে বিদায় নেয়
: আসি তাহলে আন্টি , ভালো থাকবেন
উত্তরে মামী
: আবার এসো মা, আমি অপেক্ষায় থাকবো
: কখনও সুযোগ হলে অবশ্যই আসবো
এই বলে মাটি গিয়ে স্নিগ্ধর গাড়িতে বসে কিছুক্ষণ পর স্নিগ্ধ চলে আসে , মাটি চোখ ভেজা ছিল, তার আসা পানি মুছতে দেখে স্নিগ্ধ বলে ,
: কাদছো কেনো, কিছু হয়েছে ??
উত্তরে মাটি বলে
: না কিছু হয়নি , আপনার বাসায় আমার খুব ভালো লেগেছে , আপনার মামী অনেক ভালো আমার মার কথা মনে পড়ে গিয়েছিল, মাকে নিয়ে বেশি স্মৃতি নেই আমার কারণ সে আর বাবা সবসময় কাজে ব্যস্ত থাকত কিন্তু যতটুকু সময় আমাকে দিতো খুব আদর করত , মা আমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দিত বাবা গল্পঃ শুনাতো, কিন্তু একদিন সব বন্ধ হয়ে গেলো , আর তুলে খাইতে দেয় নাই না গল্পঃ শুনাতো হুট করে সব শেষ হয়ে গেলো , কালকে দিনটা আমার থেকে আমার সব কিছু কেড়ে নিছিলো , আমাকে কেউ আপন করে নেয়নি না আমার দাদা বাড়ি না আমার নানা বাড়ি। অসহায় এতিম হয়ে গেছিলাম।
স্নিগ্ধর চোখে পানি চলে আসে আর সে বলে
: আমারও
মাটি কান্না চোখে স্নিগ্ধর দিকে তাকায় , স্নিগ্ধ বলতে থাকে
: আমাদের ভাগ্য কিছুটা একরকম তাইনা বলো , তোমারও কেউ নেই আমারও কেউ নেই
মাটি বলে
: আপনার আছে , মায়ের মত মামী আছে যে আপনাকে তার চোখের মণি করে রেখেছে , বাবার মতো মামা আছে আর আকাশের মতো ভাই আর বন্ধু আছে যাকে আপনি আপনার মনের সব কথা
বলতে পারেন ,আপনি এতিম না আপনি অনেক ভাগ্যবান একজন।
: তাই !
: জি ! আচ্ছা তুমি বললা তো মেনে নিলাম
: আমি না বললে মানতেন না
: না মানতাম তো অবশ্যই আর মানিও
: আমার অতীত কতটাই খারাপ হোক না কেন এদের জন্য আপনার বর্তমান আর ভবিষ্যৎ অনেক সুন্দর
: ঠিক বলেছো তুমি , চলো এইবার যাওয়া যাক , আমাদের দুজনেরই কাজ আছে।
: জি জি অবশ্যই চলেন
তার দুজন রওনা দিলো

অফিসের সামনে (পর্ব ৮)
Thank You For Reading 🩵

16/10/2024

বদমেজাজি ভালোবাসা
পর্ব ৬

কিছুক্ষণ পর হুট করে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায় , মাটি রিক্সার হুট তুলে দেয় যাতে সে ভিজে না যায়। ব্রিজ পার করার সময় সে দেখে স্নিগ্ধ ব্রিজের এক কোনায় দাঁড়ায় আছে , কিছুটা কাছে গেলে মাটি লক্ষ্য করে সে কাদছে। মাটি নিজেকে কিছুটা অপরাধী মনে করলো তাই সে রিক্সা দার করিয়ে স্নিগ্ধর কাছে যায় আর পিছন থেকে বলে

: বৃষ্টিতে এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে আপনার ঠান্ডা লেগে যাবে

উত্তরে স্নিগ্ধ বলে,
: যা অপমান করেছ তাতে কি তোমার মন ভরেনি আবার কেনো এসেছো, আমি তোমার মুখও দেখতে চাইনা আমি , দয়া করে চলে যাও। আমাকে একা থাকতে দাও।

: আমাকে ক্ষমা করে দিন প্লিজ , আমি আসলে জানতাম না , না জেনে আপনাকে অনেক কথা শুনিয়ে ফেলেছি। আমার আসলেই কোনো অধিকার নেই আপনাকে কোনো কিছু বলার। আমাকে মাফ করে দিন। আমি আর কখনও কারো সম্পর্কে কিছু না জেনে কথা বলবনা।

: তুমি যাও মাটি , এখন পর্যন্ত আমার জীবনে আশা কোনো মেয়ে এসে আমাকে কষ্ট দেয় নি এটা হয়নি , আমি মেয়েদের এই জন্যই পছন্দ করি না।

স্নিগ্ধ কান্নায় ভেঙ্গে পরে মাটি তার কাছে গিয়ে তাকে সামলানোর চেষ্টা করে , তখন স্নিগ্ধ তাকে জড়িয়ে ধরে আর বলতে শুরু করে

: আমার জীবনে কোনো মেয়ে আমাকে কষ্ট না দিয়ে যায়নি , প্রথমে মা , আমি মাত্র পাঁচ বছরের বাচ্চা ছিলাম মা আমাকে ছেড়ে চলে যায় আমি কি দোষ করছিলাম যে মা আমাকে এত বড় শাস্তি দিলো , পরে বাবা আমি মানা করার পরও আমকে সৎ মা এনে দিলো, সে আমাকে এত কষ্ট আর যন্ত্রণা দিছে, মাঝে মাঝে যখন আমি চোখ বন্ধ করি সেই সব যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি গুলো এখনো আমাকে তারা করে বেড়ায়।

স্নিগ্ধ জোরে জোরে কান্না শুরু করে মাটি তাকে সান্তনা দেয়

: আপনি শান্ত হন। এইভাবে ভেঙ্গে পড়বেন না , যা হয়েছে সব অতীত ছিল , এখন আর কেউ নেই যে আপনাকে কষ্ট দিবে

: তুমি জানো আমার স্কুলের একটা মেম ছিল আমি একদিন হোমওয়ার্ক করে নিয়ে যায়নি , উনি সেদিন আমার সুই হাতে পাঁচটা পাঁচটা করে বেত দিয়ে মারছিল আর আমাকে কান ধরে দাড়া করায় রাখছিল , আমি আর জীবনেও ওই স্কুলে ফেরত যায়নি মামা আমাকে বাহিরে পড়তে পাঠায় দেয়। তার পর ফিরে আমি আমার ব্যবসা শুরু করি , আমি কোনো মেয়ে এমপ্লয়ী রাখিনা কারণ কি জানো তারা যেকোনো ভাবে আমার সাথে খারাপ সম্পর্ক করতে চায় তাই আমি তাদেরকে বের করে দেই , তুমিও আসার পর থেকে আমার খালি অপমান আর কষ্ট দিছো। মেয়ে জাতি একদমই ভালো না।

মাটিকে স্নিগ্ধ অনেক জোরে জড়িয়ে ধরে, মাটি তাকে সান্তনা দিতে থাকে , মাটির কোলে স্নিগ্ধ বিলাপ করতে করতে ঘুমিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি কমে যায় আর মাটি খেয়াল করে স্নিগ্ধর ফোন কল আসছে , মাটি সে কল ধরে ফোনের ওই প্রান্তে আকাশ ছিল , মাটি তাকে সব বলে আর সে কোথায় আছে তাও বলে বিশ মিনিট পর আকাশ সেখানে চলে আসে।

: আপনি মাটি
: জি
: ধন্যবাদ আমার ভাইয়ের খেয়াল রাখার জন্য ,
: সমস্যা নেই আপনি এসে গেছেন অনেক ভালো হয়েছে
স্নিগ্ধ তখনও মাটিকে জড়িয়ে ধরে ছিল , আকাশ তাকে ধরে গেলে স্নিগ্ধ ঘুমের মধ্যেই বলে

: আমি কোথাও যাবো না মার কাছে থাকবো , আমাকে নিয়ে যেও না

স্নিগ্ধর কথা শুনে মাটি আর আকাশ দুই জনে ইমোসনাল হয়ে যায়, আকাশ তখন মাটিকে বলে

: আপনিও চলেন , আমার মনে হয়না স্নিগ্ধ আপনাকে ছাড়তে চাচ্ছে
মাটি কোনো কিছু না বলে রাজি হয়ে যায় আর স্নিগ্ধকে নিয়ে গাড়িতে বসে। যাওয়ার পথে আকাশ আর মাটি কোনো কথা বলেনি , আকাশ শুধু ব্যাক মিরর দিয়ে তাদের দুই জনকে দেখছিল, মাটি তার উড়না দিয়ে স্নিগ্ধর মুখে লাগা বৃষ্টির পানি মুছে দিচ্ছিল। তার গালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। আকাশ ভাবতেও পারেনি সে কখনও এমন দৃশ্যের সাক্ষী হবে। কিছুক্ষণ পর তারা বাড়ি পৌছে গেল , আকাশ ওদের নামতে সাহায্য করলো , তখনও আকাশের মা চলে আসলো আর বলল

: কি হয়েছে আমার বাচ্চাটার , ও চোখ খুলছে না কেনো , আর আমার বাচ্চাটা ভিজে গেছে কিভাবে
তার উত্তরে আকাশ বলে
: কিছু হয়নি মা , ও বৃষ্টিতে ভিজে গেছে শুধু আর জ্বর এসেছে তাই স্নিগ্ধকে ওষুধ দিয়েছি তাই ঘুমাচ্ছে।

আকাশের মা মাটির দিকে খেয়াল করলো সে দেখলো স্নিগ্ধ মাটিকে জড়িয়ে ধরে আছে , মাটিকে দেখে সে বলল,

: কে মা তুমি
: আমি মাটি! আন্টি , উনার অফিসে সামনেই আমার ফুলের দোকান, উনাকে আমি একা রাস্তায় পরে থাকতে দেখি তাই সাহায্যর জন্য চলে আসি (মাটি কবরস্থান আর তার পরে যা ঘটেছিল তা কিছুই মিনা বেগমকে বলেন নি আর আকাশকেও বলতে মানা করে)
: খুব ভালো করেছো মা, এখনকার যুগে কে কাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে , তোমার অনেক ধন্যবাদ মা
: না আন্টি আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবেন না , আমার এটা দায়িত্ব ছিল আমি কোনো মানুষ কে কখনো রাস্তায় ফেলে রেখে যাব না আর উনি আমার পরিচিত উনাকে ছেড়ে আসার কোনো প্রশ্নই উঠে না।
: আসো মা ভিতরে আসো

মাটি তাদের পিছনে ভিতরে যায় এই সোজা তাকে স্নিগ্ধর রুমে নিয়ে যায়, মাটি আর আকাশ মিলে স্নিগ্ধকে বেডে শুয়ে দেয়। মাটিকে দেখে আকাশের মা বলে

: আসো মা, তুমিও অনেক ভিজে গেছো তোমারও ঠান্ডা লেগে যাবে আমি তোমাকে আলাদা জামা দিচ্ছি
: না আন্টি এমনিতে অনেক দেরি হয়ে গেছে আমাকে বাসায় যেতে হবে
: বাহিরে অনেক বৃষ্টি এই সময় বের হওয়া ঠিক হবে না , আজকে রাতটা এখানে থেকে যাও।
: না আন্টি আমি চলে যেতে পারবো
: এই কঠিন বৃষ্টিতে তুমি কোনো কিছু পাবে না আমি আমার ছেলে বলতাম তোমাকে রেখে আসতে কিন্তু এই বৃষ্টিতে গাড়ি দিয়েই কিছু দেখা যাবে না , তুমি তোমার বাসায় একটা ফোন করে দাও কালকে সকালে আমার ছেলে তোমাকে ঠিক ভাবে রেখে আসবে।
: কিন্তু আন্টি
: না বলিও না মা , আমাকে অন্তত আজকে না বলো না থেকে যাও।
বাহিরে অনেক বৃষ্টির কারণে মাটি থাকতে রাজি হয়ে গেলো।

রাতে মাটি আকাশ , মিনা বেগমের সাথেই ডিনার করলো পরে সে স্নিগ্ধকে দেখতে তার রুমে গেলো। সে দেখলো মিনা বেগম স্নিগ্ধর কপালে জোর পট্টি দিচ্ছে, মাটিকে আসতে দেখে দে বলে
: ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো , ভিতরে আসো মা।
মাটি ভিতরে গেলো আর মিনা তাকে তার পাশে বসতে বলল , মাটি বেড কোনায় বসলো , মিনা বলল
: কোথায় থাকো মা তুমি
: এখানেই থাকি আন্টি কেরানীগঞ্জে , ঢাকার ছোট একটা ফুলের দোকান আছে।
: তোমার বাবা মা
: কেউ নেই আন্টি তারা অনেক আগেই মারা গিয়েছেন
: তোমার কোনো ভাই বোন বা কেউ
: কেউ নেই আন্টি , একজন মামা ছিল কিন্তু মামী আমার ভরণ পোষণের টাকা তাকে দিতে দিতো না তাই আমি মামা বাসা ছেড়ে দেই আর একটা এতিম খানায় কাজ শুরু করি তখন আমার সাথে লতিব আংকেল এর দেখা হয় তিনি আমাকে তার বাসায় কাজে রাখে আমাকে পড়াশুনা করায় একজন যজ্ঞ মেয়ে হিসেবে গড়ে তুলে , গত মাসে তার স্ত্রী মারা যান তাই সে তার সব সম্পত্তি তার ছেলে আর মেয়েকে ভাগ করে দিয়ে গ্রামে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন , যাওয়ার আগে আপনাদের অফিসের সামনে উনার ছোট ফার্নিচারের দোকান টা উনি আমাকে দেন আর ওইটা চালিয়ে আমাকে আমার বাকি জিবন কাটাতে বলেন।
: এই জন্য আমার অনেক প্রশ্ন এসেছিল যে হুট করে কেনো লতীব ভাই তার দোকান ছেড়ে দিলো
: জি আন্টি উনি এখন গ্রামে আছেন
: মা তুমি জানো তোমাকে দেখে আমার স্নিগ্ধর মার কথা মনে পড়ছে সেও তোমার মত ছিল একা কিন্তু তোমার মতই সাহসী সুন্দর আর আত্মসম্মানের অধিকারিণী ছিল, আমার স্নিগ্ধর জন্য আমি ঠিক এই রকমই মেয়ে খুচ্ছিলাম, তোমাকে দেখে অনেক আপন মনে হচ্ছে , এটা মনেই হচ্ছে না যে তুমি অন্য কেউ, এমন মনে হচ্ছে আমি অনেক আগে থেকে তোমাকে চিনি , কিছু মনে না করলে একটা প্রশ্ন করতাম মা
: জি আন্টি বলেন
:তোমার কি বিয়ে হতে গেছে মা
: না আন্টি আমার বিয়ে
(তার কথা শেষ করার আগেই)
: তাহলে কি তুমি আমার স্নিগ্ধর জীবনের অংশ হবে, তার জীবনে তোমার মত একজনকে দরকার
: না আন্টি আমার কথা ছিল যে আমার বিয়ে হয় নি কিন্তু হবে আগামী মাসে
: আগামী মাসে
: জি আন্টি আমার প্রিয় মানুষ আছে আর তার সাথেই আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে আগামী মাসে, লতীব আঙ্কেলও আসবে উনি আমাকে সম্প্রদান করবেন।
: তুমি যার ঘরে যাবা তার ঘর সমসময় আল্লাহ রহমতে ভরে থাকবে মা , তোমাকে দেখলে মনে হয় আল্লাহ অনেক রহমত বরকত দিয়ে তোমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে
মাটি মুচকি হাসি দেয় তখনই মিনা কে স্নিগ্ধর মামা ডাক দেয় আর মিনা মাটিকে কিছুক্ষনের জন্য স্নিগ্ধকে দেখতে বলে ,
মাটি ঘুমিয়ে থাকা স্নিগ্ধর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে আর ভাবে এত রাগ চেহারার পিছনে যে এত বড় কষ্ট লুকানো। মাটি স্নিগ্ধর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় , স্নিগ্ধ মাটির হাত ধরে বলে
: মা আমাকে ছেড়ে যেও না প্লীজ আমার সাথে থাকো আমি যে বড় একা
মাটি তার হাত ছড়াতে চায় কিন্তু স্নিগ্ধ তার হাত অনেক শক্ত করে ধরে থাকে আর বলে
: প্লীজ ছেড়ে যেওনা আমাকে প্লীজ
মাটি স্নিগ্ধর কাছে গিয়ে বলে
: আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না
স্নিগ্ধ কিছুটা শান্ত হয় আর মাটির হাত ধরেই ঘুমিয়ে পরে, মাটিও বসে থাকতে থাকতে বেড এর একপাশে মাথা রেখে ওখানেই ঘুমিয়ে পরে।

মাঝরাতে ........(পর্ব ৭)
Thank You For Reading 🩵

28/09/2024

বদমেজাজি ভালোবাসা
পর্ব ৫

সেদিন সকাল থেকেই স্নিগ্ধ অনেক ব্যস্ত ছিল, সঙ্গে ব্যস্ত ছিল তার মামা মামী আর আকাশ। সকালে সে দান করার জন্য আনা সব জামা কাপড়, খাবার আর যাবতীয় জিনিস এতিমখানা আর বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায় , সঙ্গে গরীবদেরও অনেক কিছু দান করে। সে মসজিদেও তার মায়ের আত্মার মাগফেরাত কামনায় জন্য দোয়া মাহফিল এর আয়োজন করে। সারাদিনের সব কাজ শেষে তার সব থেকে বেশি কষ্ট লাগে যখন সে দোয়া শেষে তার মায়ের কবর জিয়ারত করতে যায়, তখন ইচ্ছা করেও সে কান্না আটকায় রাখতে পারে না। তার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি আসতে থাকে। দিন শেষে সে ওই সময় সবথেকে বেশি দুর্বল। তার চিন্তায় এটাই থাকে আজকে যদি আর মা বেঁচে থাকত তাহলে তার ভবিষ্যৎ টা একদম আলাদা হতো তার বাবাকে দ্বিতীয় বিয়ে করা লাগতো না তার জীবনে কোনো সৎমা আসতো না। কিন্তু কেনো আল্লাহ তার কপাল টা এরকম করল এগুলো বলতে বলতে তার মায়ের কবরের পাশেই সে বসে থাকতো , সেদিনও সে এই ভাবেই বসে ছিল তখনি পিছন থেকে কেউ স্নিগ্ধর নাম ধরে ডেকে উঠল , সে পিছন তাকাতে গিয়ে দেখলো সেটা তার বাবা। আজকে প্রায় সাত বছর পর স্নিগ্ধ তার বাবাকে ইয়ামিনকে দেখলো শেষ বার যখন সে তার বাবাকে দেখেছিল সেদিন তার কলেজের শেষ দিন ছিল আর বাবা তাকে তাঁর সাথে বিদেশ নিয়ে যেতে এসেছিল কিন্তু স্নিগ্ধ তাকে অপমান করে পাঠিয়ে দেয় আর পর আজকে তার বাবার সাথে তার দেখা হলো। স্নিগ্ধকে দেখে তার বাবার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো আর সে বলল

: বাবা আমার , কেমন আছো তুমি? কতদিন পর আমি শেষমেষ আজকে তোমার দেখা পেলাম আমি কত খুঁজেছি তোমাকে কিন্তু তোমার মামা আমাকে তোমার সাথে দেখা করতে দেয় নি।

:দুঃখিত কে আপনি , আমি আপনাকে চিনি না , আপনাকে আগে কখনও দেখিনি। হুট করে আপনি আমাকে বাবা বলে ডাকছেন কেনো?

এইভাবেই স্নিগ্ধ তার বাবাকে চিনতে রাজি ছিল না সে ওই লোকটার মুখও কোনোদিন দেখতে চায় নি।

: কি বলছো তুমি , আমি তোমার বাবা , তুমি তোমার বাবাকে চিনছোনা, আমি বেশি বুড়ো হয়ে গেছি , দাড়ি সব পেকে গেছে দেখে চিনছোনা , কিন্তু আমি তোমাকে দেখেই চিনে গেছি বাবা।

: আপনার কথাও ভুল হচ্ছে , আমার মা বাবা কেউ নেই , মা ছোট থাকতেই আমাকে ছেড়ে চলে গেছে বাবা থেকেও নেই। আমি এতিম কিন্তু আপনার ছেলে না

: এখনো রাগ করে আছো আমার উপর তুমি, আমি কনাকে সেই দিনই তালাক দিয়ে দিছি, তার মুখও দেখিনি আমি তারপর থেকে, আমি কিছুদিন আগে ফিরেছি এসেই আমি তোমাকে খুজতে গিয়েছিলাম কিন্তু কেউ তোমার সাথে আমাকে দেখা করতে দেয় নি।

: আমি আপনাকে বার বার একটা কথাই বলছি যে আমি আপনার ছেলে না। আপনি চলে যান এখন থেকে।

: আমাকে মাফ করে দাও স্নিগ্ধ , আমি ভাবিনি আমার নেওয়া একটা ভুল সিদ্ধান্ত আমাদের জীবনটাকে এইভাবে তছনছ করে দিবে , আমাকে মাফ করে দেউ।

স্নিগ্ধর বাবা ওকে জড়িয়ে ধরতে যায় কিন্তু সে তাকে ধাক্কা দয়ে , তার বাবা পরে যেতে ধরলে পিছন থেকে একটা মেয়ে তাকে ধরে ফেলে , পিছন থেকে সামনে এগিয়ে আসলো আর স্নিগ্ধ তাকে দেখে একটু চমকে গেলো , কারণ মেয়েটা মাটি ছিল,

: আংকেল আপনি ঠিক আছেন , কোথাও লেগেছে কি আপনার ?

মাটি স্নিগ্ধর দিকে তাকালো আর বললো ,

: অনেক্ষন থেকেই আমি আপনাদের কথা গুলো শুনছিলাম , বাবা ছেলের মাঝখানে আসতে চাইনি কিন্তু আপনি আসলেই একজন অমানুষ , আপনি কিভাবে পারলেন একজন বৃদ্ধ মানুষকে এইভাবে ধাক্কা দিতে, আপনি তো নিজেই আমাকে বলেছিলেন আপনার মধ্যে মানবতা আছে তাহলে আপনি এইটা কিভাবে করতে পারলেন।

: চুপ করো ! তুমি কিছুই জানো না তাই তোমার কোনো অধিকার নেই কারো কথার মাঝখানে এইভাবে কথা বলার।

: আমি জানি আমি কিছু জানি না তাই শুরু থেকেই আমি এখানেই ছিলাম কিন্তু আপনাদের মধ্যে আসিনি কিন্তু আপনি মাত্রই যেটা করলেন সেটা দেখে আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনি। উনি কে সেটা আমি জানি না জানতে চাইও না কিন্তু আপনি কোনো বৃদ্ধ মানুষকে এইভাবে ধাক্কা দিতে পারেন না। আপনার লজ্জা লাগা উচিত।

স্নিগ্ধ তখন প্রচন্ড রেগে উঠলো সে অনেক জোরে বলে উঠলো

: তোমার সমস্যা কি কেনো আমার জীবন থেকে তুমি বের হয়ে যাচ্ছো না , কেনো আমি যেখানেই যায় সেখানে তুমি চলে আসো , আমি তোমাকে অনেক ঘৃনা করি এত ঘৃনা করি যে তোমাকে মুখও আমি দেখতে চাই না , তুমি চলে যায় এখান থেকে তোমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমি বাধ্য না ,

: আপনি বাধ্য , আপনাকে উত্তর দিয়েই হবে কেনো আপনি উনাকে ধাক্কা দিলেন কি করেছে উনি আপনার যে আপনার মধ্যের মানবিকতা টাও এইভাবে একজন বৃদ্ধকে আঘাত করতে আটকালোনা।

স্নিগ্ধ মাটির কাছে গেলো আর তার হাত গুলো চেপে ধরে বললো

: তাহলে শুনো , তুমি যেই স্নিগ্ধকে এখন দেখতেছো বদমেজাজি , রুডি, অমানুষ , অমানবিক এগুলো সব হয়েছেন এই বৃদ্ধ মানুষের জন্য আমার ছোটো বেলা নষ্ট হয়েছে এই লোকটার জন্য , আমার সুন্দর সাজানো ভবিষ্যৎ নষ্ট হইছে এনার জন্য , তাই তোমাকে আমি বলতেছি আমার বেপার থেকে দূরে থাকো , যেটা তুমি আসলেই জানো না সে নিয়ে কথা বলো না।

কথা গুলো যখন স্নিগ্ধ বলতেছিল তার চোখ দিয়ে পানি পরতেছিল , মাটি বলার মত আর কোনো ভাষা পাচ্ছিল না , ওই মুহূর্তে মাটি নিজেকে দোষী ভাবছিল কেনো সে একজনের ব্যাপারে কিছু না জেনেই তাকে প্রশ্ন করা শুরু করে , স্নিগ্ধ তাকে ছেড়ে দিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই ওখান থেকে চলে যায় , তার বাবা তাকে পিছন দিয়ে অনেকবার ডাকে কিন্তু সে গাড়ি ফুলস্পিডে দিয়ে চলে যায় , মাটি ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকে , সে দেখে স্নিগ্ধর বাবা সামনের কবরে হয়ে বসে ক্ষমা চাচ্ছেন আর বলছিলেন

: আমাকে মাফ করে দিও তুমি স্নিগ্ধ তো কোনো ভুল কথা বলেনি , দ্বিতীয় বিয়ে করা আমার নিজের সিদ্ধান্ত ছিল আমি ভেবেছিলাম আমি তোমার মত কাউকে নিয়ে আসব যে স্নিগ্ধকে অনেক ভালোবাসবে কিন্তু আমি ভুল ছিলাম মা শুধু একজনই হয় সৎ মা কখনোই মা হয় না , আমাকে মাফ করে দিও।

মাটি গিয়ে তার পাশে বসে আর বলে ,
:আপনি কি একবারও আপনার ছেলেকে জিজ্ঞাসা করেননি সে নতুন মা চায় কিনা , তার কি ইচ্ছা ছিল নতুন মার

: আমার ছেলে আমাকে না বলে, সে বলে তার শুধু বাবাকে চাই, কিন্তু আমি কাজের জন্য সব সময় দেশের বাহিরে থাকি, তাই আমার কাছে দ্বিতীয় বিয়ে করাটা ঠিক মনে হয়েছিল , কিন্তু তার পরিণাম যে এতটা খারাপ হবে আমি কখনই ভাবিনি। কামিনী মারা যাওয়ার সময় আমার হাত ধরে বলেছিল আমি যেনো আমাদের ছেলেকে কখনও একা না করি কিন্তু আজকে ও যা হয়েছে এর পিছনে সব দোষ আমার ছিল। তাই আমি আজও ক্ষমা ভিক্ষা চেয়ে বেড়াচ্ছি সবার কাছে যাদের কাছে আমি দোষী কিন্তু কেউ আমাকে ক্ষমা করছে না ।

মাটি সব শোনার পর বলল

: চেষ্টা কখনোই ছাড়বেন না , সে আজকে বুঝছে না কিন্তু একদিন সে অবশ্যই বুজবে আর তারাও বুজবে যারা আজকে আপনাকে সরিয়ে দিচ্ছে, আপনি বাবা তার আপনাকে আর কতদিন সে অবহেলা করবে একদিন সেও বুজতে পারবে , সময় দিন আর আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখেন। কোথায় আছে না সময় সব ঠিক করে দেয়।

মাটির মাথায় হাত বুলিয়ে তিনি বলেন

: কে মা তুমি , আসে পাশে এত মানুষ কেউ আসলো না তুমি এগিয়ে এলে , আর আমার ছেলে কেউ তুমি চেনো বলে মনে হচ্ছে।
: আমি মাটি আংকেল এখানেই থাকি আমার একটা ফুলের দোকান আছে আপনার ছেলের অফিসের সামনেই উনার সাথে ঐভাবেই পরিচয়। আমি অনেক্ষন থেকেই আপনদের দেখছিলাম আসলে আজকে আমারও প্যারেন্টসদের মৃত্যু বার্ষিকী আজ থেকে সাত বছর আগে তারা কার এক্সিডেন্ট এ মারা জান। আমি তাদের জন্য দুআ করতে এসেছিলাম।

: তুমি অনেক ভালো মেয়ে মাটি , আমি দোয়া করি আমার স্নিগ্ধর জীবনে যেনো ঠিক তোমার মত কোনো মেয়ে আসে , আর আসে তার জীবনে যেনো খুশিতে ভরিয়ে দেয়।

: আপনার বদমেজাজি ছেলের জন্য একটা বদমেজাজি মেয়ে দরকার আংকেল

: সে নাহয় তুমিই হোলা

ইয়ামিন সাহেবের এই কথা শুনে মাটি একটু চমকে গেলো
: আমি আংকেল
: হে তুমি , আমার ছেলের তোমার মত কাউকে না তোমাকেই দরকার, তুমিই পারবে তাকে ঠিক করতে তার মন থেকে সব বিষ বের করে একজন যজ্ঞ মানুষ করতে
: সেটা আমি কখনই হতে পারব না আংকেল
: কেনো মা !
: আমার ভালোবাসার মানুষ আছে আংকেল পরের সপ্তাহে তার সাথে আমার বিয়ে

কথাটা শুনে ইয়ামিন সাহেব একটু হতাশ হয়ে গেলেন , মাটি সাথে বলল
: চিন্তা করিয়েন না নিশ্চয়ই আপনার ছেলের জীবনে অনেক ভালো কেউ আসবে ইনশাল্লাহ ।

ইয়ামিন সাহেব মাটির মাথায় হাত রেখে বলল
: সুখী হউ মা , তোমার জীবনে সেই সব সুখ সমৃদ্ধি আসুক যার তুমি অধিকারী।

এটা বলে ইয়ামিন সেখান থেকে চলে যায় , মাটির কাঁনে স্নিগ্ধর বাবার কিছু কথা ভাসতে থাকে কিন্তু পরে আর এগুলা চিন্তা না করে সেও কবরস্থান থেকে চলে যায়।

হুট করে ...(পর্ব ৬)
Thank You For Reading

22/09/2024

বদমেজাজি ভালোবাসা
পর্ব ৪

সন্ধ্যায় কিছু কাজে স্নিগ্ধকে অফিসের বাহিরে যেতে হয় , যাওয়ার সময় সে ফুলের দোকানে খেয়াল করলে আর সেখানে মাটিকে দেখতে পায় না, বরং সেই জায়গায় সেই ছেলেটি আছে যার সাথে সে মাটিকে দেখেছিল, সে শুনতে পরে একজন বলছে

: মাটির হাত ঠিক আছে ,
উত্তরে
: হে, ও ঠিক আছে , আল্লাহ রহমত ওর হাতে কোনো ফোসা পড়েনি , ডাক্তার বলেছেন দুই তিন দিনে ওর হাত ঠিক হয়ে যাবে , এ আমি ওকে আজকে দোকানে আসতে মানা করেছি , কাল থেকে ও আসবে

শুনে স্নিগ্ধ ভাবতে লাগলো, কে এই ছেলে আর মাটির সাথে এর সম্পর্ক কি , এত সুন্দর করে সে মাটিকে ও করে ডাকছে , এরা কি স্বামী স্ত্রী। তখনই

: শুভ তুমি অনেক ভালো একটা ছেলে , মাটি অবশ্যই অনেক ভালো কিছু করেছে যার জন্য সে তোমাকে পেয়েছে , হুট করে তুমি তার জীবনে চলে এসে তার জীবনে এত খুশিতে ভরিয়ে দিয়েছে।
উত্তরে
: না মোটেও না , আমি ভাগ্যবান যে আমি মাটিকে পেয়েছি , সেই দিন যদি সে আমাকে না বাচতো তাহলে আমি আজকে তোমাদের সামনে থাকতাম না।

স্নিগ্ধ গাড়িতে বসে তাদের সব কথা শুনছিল , সে ধরেই ফেলেছে যে মাটি আর শুভ বিবাহিত , তখনই

: আচ্ছা শুভ তোমরা বিয়ে করছ কবে ,

স্নিগ্ধর সন্ধেহ দুর হলো , সে বুজতে পরলো কেনো ওরা একসাথে এত হেসে হেসে কথা বলে , পরে সে গুলোয় পাত্তা না দিয়ে গাড়ি স্টার্ট দেয় তখনই সে শুনে শুভ বলে
: এইতো পরের সপ্তাহে আমাদের কাবিন , দুই বছরের অপেক্ষার পর ফাইনালি ও আমার এক হয়ে যাবে।

স্নিগ্ধর ভিতর থেকে কেমন একটা অনুভুতি আসলো সে বুজলো না সেই অনুভূতি কি , সে আর সেখানে সময় নষ্ট না করে তার কাজ সারতে ধানমন্ডি যায় , কাজ শেষ করে সে অফিসে ফিরে আসে রাত ৯টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি আর তার গাড়ির ড্রাইভার নিয়ে যাওয়ার কারণে স্নিগ্ধকে অফিসের তার ড্রাইভারের আসার অপেক্ষা করতে থাকে কিন্তু অনেক বৃষ্টি জন্য সব রাস্তায় পানি উঠে যাওয়র কারণে তার ড্রাইভার আটকা পরে যায় , অফিসে এক্সট্রা কোনো গাড়িও ছিল না যেটা নিয়ে সে বাসায় যেতে পারত। তাই সে হতাশ হয়ে অফিসে বসে বৃষ্টি কমে যাওয়ার অপেক্ষা করতে থাকলো। স্নিগ্ধর অফিসে একটা বেডকাম সোফা ছিল , মাঝে মাঝে কাজ শেষ করতে দেরি হতো তাই স্নিগ্ধ আর বাসায় না গিয়ে অফিসেই ঘুমিয়ে পড়ত তাই আকাশ স্নিগ্ধকে ওই বেডকাম সোফাটা গিফট করে। রাত অফিসে কাটানো বেশি বড় বেপার না স্নিগ্ধর জন্য তাই সে সোফাটা খুলে সোয়ার প্রস্তুতি নেয় , হঠাৎ দমকা হাওয়ায় তার অফিসের জানালাটা খুলে যায় তাই সে সেটা বন্ধ করতে গেলে দেখে নিচে কে যেনো ফুলের দোকানের সামনে বৃষ্টিতে বসে আছে। একটু খেয়াল করে দেখলো যে মাটি বসে আছে , সে বুজতে পরলো না মাটি কেনো এখানে , ওর তো বাসায় থাকার কথা। স্নিগ্ধ কিছু চিন্তা না করে ছাতা নিয়ে নিচে গেলো , নেমে দেখলো মাটি আসলেই বৃষ্টিতে বসে আছে , অনেক অপরুপ লাগছিল মাটিকে প্রথমবার স্নিগ্ধর কাছে মাটিকে এত অপরুপ লেগেছে। পরে সে মাটি কাছে আসে তার মাথার উপর ছাতা ধরে , মাটি অবাক হয়ে উপর তাকালে সে স্নিগ্ধকে ছাতা নিয়ে তার মাথার উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো আর বলল
: আপনি কি করছেন এখানে ??
: এটা তো আমার তোমাকে জিজ্ঞাসা করা উচিত , তুমি কি করছ এখানে।
: আমি অপেক্ষা করছি
: কার জন্য
: সেটা আমি আপনাকে বলার প্রয়োজন মনে করছি না , আপনি আপনার কাজ করেন।
: আমারও এত শখ নাই যে তোমার সাথে এসে গল্পঃ করব , পিছনে তোমার দোকান আর তুমি বাহিরে বসে আছো , তাই ভাবলাম কিছু হয়েছে কিনা , কিন্তু এখন আর আমার কি বসে থাকো এই বৃষ্টি তে।

স্নিগ্ধ অফিসের ভিতরে ফিরে যেতে লাগলো তখনই মাটি বলল

: দোকানের চাবি আমি বাসায় রেখে চলে এসেছি
উত্তরে
: কি !!
: বললাম যে আমার দোকানের চাবি আমি বাসায় ফেলে এসেছি, আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ছিল তাই নিতে এসেছিলাম কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে আমি আটকা পরে গেছি।
: তো আমি কি করবো , ভিজো যতক্ষণ খুশি।
: সাহায্য চাচ্ছি না , বলছি আপনাকে , এখন আপনি আসতে পারেন

স্নিগ্ধ আর কোনো কথা না বলে অফিসের ভিতরে চলে গেলো , কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি আরো বেড়ে যেতে থাকে, স্নিগ্ধোর ভিতর একটু চিন্তা জাগলো কারণ মাটির সেখানে এখনো বসে আছে আর কিছু না করতে পেরে স্নিগ্ধ আবার নিচে গেল , মাটি এখনো সেখানেই বসে আছে
: তোমার অপেক্ষার পালা এখনো শেষ হয়নি
মাটি স্নিগ্ধর দিকে তাকালো
: আপনি আবার এখানে
: দেখো এটা সত্য কথা যে আমি মেয়ে জাতিকে পছন্দ করি না কিন্তু তার মানে এটা না যে আমি কাউকে বিপদে ফেলে চলে যাবো, মানবতা আমার মধ্যেও আছে তুমি আসো আমার অফিসের ভিতরে বৃষ্টি কমে গেলে আমি তোমাকে বাসায় পৌঁছায় দিব।

: আপনাকে কষ্ট করতে হবে না , বৃষ্টি থামলে আমি নিজেই চলে যেতে পারব , আপনার অফিসে গিয়ে আমি বসে থাকতে রাজি

মাটি আর কোনো উপায় ছিল না কারণ অনেকক্ষন বৃষ্টিতে বসে থাকার জন্য ওর ঠান্ডা লাগছিল।
স্নিগ্ধ মাটিকে তার অফিস রুমে নিয়ে গেল এটি ওকে একটা টাওয়াল দিলো ,
: মাথা মুছে ফেলো , (সঙ্গে সে মাটিকে একটা জামার সেট দিলো আর বলল) এটা চ্চেঞ্জ করে ফেলো ভেজা জামা বেশিক্ষণ পরে থাকলে তোমার ঠান্ডা লেগে যাবে।
টাওয়াল আর ড্রেসটা দিয়ে স্নিগ্ধ তার চেয়ারে বসে কাজ করতে লাগলো , আর মাটি ওই বেডকাম সোফাতে বসে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করতে লাগলো , কিছুক্ষণ পর মাটি ঘুমিয়ে পড়ল। বেশ কিছুক্ষন পর স্নিগ্ধ সেটা খেয়াল করলো , মাটিকে অনেক অপরুপ লাগছিল , স্নিগ্ধ কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থাকলো পরে সে তার কোট মাটির উপরে বিছিয়ে দিলো। মাঝরাতে বৃষ্টি কিছুটা কমলো , কিন্তু স্নিগ্ধ মাটিকে আর জাগালোনা , মাটি তার সোফাতেই ঘুমোলো আর স্নিগ্ধ তার চেয়ারে চোখ বন্ধ করলো, কিছুক্ষণ পর স্নিগ্ধ কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলো , চোখ খুলে দেখলো মাটি ঘুমের মধ্যেই কান্না করতেছে , স্নিগ্ধ তার হাত দিয়ে মাটির মাথা বুলিয়ে দেয় আর মাটি কান্না থামিয়ে ফেলে। স্নিগ্ধ রাতে অনেক্ষন মাটির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে পরে সেও চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে যায়।

পরের দিন সকালে রোদের আলোয় মাটির ঘুম ভাঙ্গে আর সে দেখে সে ওই বেডকাম সোফায় শুয়ে আছে আর স্নিগ্ধ তার সামনের চেয়ারে ঘুমাচ্ছে। মাটির পায়ের নূপুরের শব্দ শুনে স্নিগ্ধরও ঘুম ভেঙ্গে যায়। তখন মাটি তাকে জিজ্ঞাসা করে ,

: বৃষ্টি থামার পর আপনি আমাকে ডাকেননি কেন।

: তুমি ঘুমাচ্ছিলে আর অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল , আর আমি এতটাই খারাপ না যে কাউকে তার ঘুমের মধ্যে বিরক্ত করব।

: আমি একা চলে যেতে পারতাম ,

: তো এখন চলে যায় , সকাল হয়ে গেছে , বৃষ্টিও শেষ
মাটি কিছু বলার আগে বাইকের হর্ন শুনতে পায় , সে জানালা দিয়ে দেখে শুভ তার দোকানের সামনে দাড়িয়ে আছে , সে দৌড়ে নীচে যায় , আর নিচে গিয়ে শুভর সামনে দাঁড়ায় যা স্নিগ্ধ তার অফিসের জানালা দিয়ে দেখছিল।

মাটিকে দেখে শুভ বলে

: কেনো আমি মানা করার পরও তুমি দোকানে এসেছো আমি বলেছিলাম যে আমি আসবো তুমি রেস্ট করো , যদি দীপ আমাকে কল করে এটা না বলতো যে তুমি দোকানে গিয়েছ এখনো বাসায় আসোনি তাহলে তো আমি জানতেই পারতাম না।

: আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ছেড়ে গিয়েছিলাম , আর আমার হাত প্রায় ঠিক হয়ে গেছে , আর আমি ভেবেছিলাম শুধু ওই জিনিসটা নিয়েই চলে যাব কিন্তু তাড়াহুড়ায় আমি দোকানের চাবি বাসায় ছেড়ে আসি , আর হুট করে এত বৃষ্টি শুরু হয়ে যায় আর আমার ফোনের চার্জও শেষ হয়ে যায় তাই আমি আর করো সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি , সামনের অফিসের ওই লোকটা আমাকে সাহায্য করেছে, উনার অফিসে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমার চোখ একদম সকালে খুলে।

: তুমি তো অফিসের ফোন থেকে আমাকে একটা কল দিতে পারতে আমি কতটা টেনশনে ছিলাম তুমি জানো , সামনে আমাদের বিয়ে মাটি , তোমাকে আমি অনেক ভালবাসি , আমার জীবনটা বের হয়ে গেসিলো যখন আমি শুনি তুমি সারারাত বাসায় ফিরোনি।

: আমি বুজতে পেরেছি শুভ আর এমন কখনও হবে না , আমি সবসময় তোমাকে বলে আসবো।

: এর পরে আমি তোমাকে একা আর কোথাও যেতে দিবোই না। চলো

হঠাৎ শুভ মাটির পরণের জামাটা খেয়াল করলো আর বলল ,
: তুমি কালকে অন্য জামা পড়েছিলে এখন অন্য জামা পরে আছো
: ওই ভদ্রলোক আমাকে এটা দেয় আমি বৃষ্টিতে পুরো ভিজে গিয়েছিলাম।
: আচ্ছা বাকি কথা বাসায় হবে , চলো বাসায় মা তোমার জন্য অনেক টেনশন করতেছে।

: দাড়াও শুভ উনি আমাকে রাতে সাহায্য করেছে আর আমি উনাকে ধন্যবাদ না দিয়েই চলে এসেছি। তুমি দোকানের চাবি এনেছো

: হে আনছি
: দাও আমাকে

মাটি শুভর কাছ থেকে চাবিটা নিয়ে দোকানের ভিতর থেকে একটা সুন্দর ফুল সহ ফুলদানি নিয়ে স্নিগ্ধর অফিসে গেলো কিন্তু স্নিগ্ধ ওখানে ছিল না তাই হতাশ হতে মাটি একটা ছোট চিরকুটে Thank You লিখে ফুলদানি রেখে শুভর সাথে চলে যায়।
স্নিগ্ধ তার যাওয়ার পর অফিসে ঢুকে সে সবই দেখতেছিলো কিন্তু ইচ্ছা করেই আর মাটির সামনে আসেনি। সে ফুলদানির নিচে রাখা চিরকুটটা দেখলো সেখানে ধন্যবাদ ছাড়াও লিখা ছিল "ধন্যবাদ আমাকে সাহায্য করার জন্য , আপনি আসলেই অনেক ভালো মানুষ আমি আপনাকে ভুল বুঝেছিলাম। আমার পক্ষ থেকে ছোট একটা উপহার আপনার জন্য। আপনার টেবিল দেখে আমার মনে হয়েছিল যে এখানে একটা সুন্দর ফুলদানির দরকার এটা আপনার টেবিলে অনেক মানাবে।"
সিগ্ধ চিরকুটটা তার টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দেয়। তারপর দেখতে দেখতে স্নিগ্ধর মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী দিন চলে আসে।

সেদিন......(পর্ব ৫)
Thank You For Reading 🩵

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Savar
Dhaka
DHAKA1216