Revenue Analytics

Revenue Analytics

Share

This platform will help you to flourish legal knowledge regarding Revenue,Finance, VAT, Tax,Customs

07/04/2026

সচল হয়েছে টেকনাফ স্থলবন্দর

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে পুনরায় চালু করা হয়েছে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় নাফ নদীসংলগ্ন স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ ঘোষণা দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

তিনি জানান, ‘স্থলবন্দর পুনরায় সচল করতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করেছি। এ ছাড়া সিএন্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস, এনবিআরসহ সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে এই কার্যক্রম পুনরায় সচল করা হয়েছে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমেই সীমান্ত বাণিজ্য পরিচালিত হবে। সেই ভিত্তিতেই টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে।’

এ দিকে টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান, বন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকলেও কিছু নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল। তবে বর্তমানে পণ্য আমদানি-রফতানিতে আর বড় কোনো বাধা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুনরায় বন্দর কার্যক্রম সচল করা হয়েছে।

31/03/2026

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো টাকা পাচারকারীদের ধরে তাদের কাছ থেকে পুরো টাকা নিয়ে যায়। কিন্তু আমি চাই, এই টাকা তারা কর দিয়ে সাদা করে ফেলুক।
তিনি বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বিদ্যমান হারে কর দিয়ে আয়কর নথিতে দেখানো যায়। করদাতারা ৭টি সোর্স অব ইনকাম থেকে তাদের আয় দেখাতে পারেন।
বিবিধ খাতেও এই আয় দেখিয়ে তারা কালো টাকা সাদা করতে পারেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
আবদুর রহমান খান বলেন, ‘অনেকেই জানতে চান, নানা কারণে যেভাবে হোক গত কয়েক বছরে অনেক টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এখন তারা সেই টাকা দেশে আনতে চান, আয়কর নথিতে সেই টাকা প্রদর্শন করতে চান।

Photos from Revenue Analytics's post 31/03/2026

ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত জুলাই-ডিসেম্বর শেষে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ব্যাংকঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তার অর্ধেকের বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যাংকঋণসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার রাতে সরকারের ব্যাংকঋণের সর্বশেষ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে ব্যাংকঋণের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণও প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। এই খাত থেকে পুরো অর্থবছরে ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস সরকারের দায়িত্বে ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে এই ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে নেওয়া ঋণের পুরোটাই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে। ওই সময় সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি মন্থর ছিল। ফলে উন্নয়নের চেয়ে ঋণের বড় অংশই খরচ হয়েছে সরকারের পরিচালন ব্যয় বাবদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার ব্যাংক থেকে যে ঋণ নিয়েছে, তা আগের অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় প্রায় আট গুণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যা আট গুণ বেড়ে অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ আট গুণ বাড়লেও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আর্থিক খাত থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা কমেছে।

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ এখন মূলত ব্যাংকনির্ভর। একসময় সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিত। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমে যাওয়ায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। এ কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে খুব বেশি ঋণ নিতে পারছে না সরকার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্রের বদলে উচ্চ সুদে বিভিন্ন ধরনের বিল-বন্ড বিক্রি করে ঋণ নিচ্ছে সরকার। ভালো সুদ পাওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ মানুষও সরকারি-বিল বন্ডে বিনিয়োগ করছেন।

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগে একধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। এ কারণে সরকারি ব্যাংকঋণ বাড়লেও তাতে বেসরকারি খাত খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। কিন্তু বিনিয়োগে গতি ফিরলে সরকারের ব্যাংকঋণ বেসরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করবে। কারণ, বেসরকারি খাত তখন চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকঋণ পাবে না।

চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে মোট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক খাত মিলিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

30/03/2026

জ্বালানি কিনতে জুনের মধ্যে প্রয়োজন হবে বাড়তি ৩ বিলিয়ন ডলার

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ আর এলএনজির প্রায় ৮৩ শতাংশ। জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধের আগের ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ১০০ ডলারে উঠেছে।

আর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১০-১২ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০-২২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি ও জ্বালানি তেল কিনতে বাংলাদেশকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি না করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জুন পর্যন্ত সরকারের প্রয়োজন হবে বাড়তি ৩ বিলিয়ন ডলার। এ অর্থ জোগাড় করতে সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যানুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার টন পরিশোধিত এবং ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রাক্কলন রয়েছে। এ পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানিতে সংস্থাটির ব্যয় হবে ৯১ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। পেট্রোবাংলার তথ্যানুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দীর্ঘমেয়াদি ও স্পট মার্কেট থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিমাণ কার্গো আমদানিতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এরই মধ্যে দ্বিগুণ দামে কয়েক কার্গো এলএনজি কিনতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে কী পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছে অর্থ বিভাগ। এক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে অর্থাৎ আগামী জুন পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলারের মতো অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়ে গেছে। অপ্রতুল রাজস্ব আয়ের কারণে সরকারের পক্ষে বাড়তি অর্থ ব্যয় করার সুযোগ সীমিত। তাছাড়া জ্বালানি কেনার অর্থ পরিশোধ করতে হয় বৈদেশিক মুদ্রায়। সবদিক বিবেচনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। কেননা নিজেদের অর্থে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় মেটাতে গেলে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে। এ কারণে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাড়তি এ অর্থের সংস্থান করতে চাইছে। এক্ষেত্রে আইএমএফের কাছ থেকে দেড় বিলিয়ন ডলারের মতো সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার। তাছাড়া এডিবির কাছ থেকে বাড়তি ২৫ কোটি ডলার এরই মধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে চাওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির কাছেও বাজেট সহায়তা চাওয়া হবে। সামনের মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন অধিবেশনে এ বিষয়ে সংস্থা দুটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে (বিওপি) সমর্থন দিতে ২০০ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার চেষ্টা করছে সরকার। আইএমএফ এবং অন্য কয়েকটি উৎস থেকে এ ঋণ নেয়ার প্রাথমিক আলোচনা চলছে। গতকাল অর্থনীতিবিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ‘আমরা ২ বিলিয়ন ডলারের একটা বিওপি সাপোর্ট চেষ্টা করব’ উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে। অ্যাডিশনাল এ পরিমাণ ব্যালান্স অব পেমেন্টের জন্য। যাদের সঙ্গেই আলোচনা হয় তারাও দেখতে চায় যে কী হয়।’

সাপোর্টের উৎস প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘মূলত আইএমএফকেও বলেছি। ইআরডি আরো চেষ্টা করছে কয়েকটা সোর্স থেকে অ্যাডিশনাল কিছু পাওয়া যায় কিনা।’

নগদ অর্থের সংকট, বিশেষ করে ডলারের অভাবে বিগত সময়ে জ্বালানির দাম সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। এ অবস্থায় জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে গত বছর বিশ্বব্যাংকের দ্বারস্থ হয় তৎকালীন সরকার। দীর্ঘমেয়াদি ও স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির জন্য গত বছর সংস্থাটির কাছ থেকে বাংলাদেশ ৩৫ কোটি ডলারের ঋণ সুবিধা নিয়েছিল। সম্প্রতি এ ঋণ সুবিধা আরো ৩৫ কোটি ডলার বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

29/03/2026

রেমিট্যান্সের নতুন ইতিহাস

চলতি মাসের প্রথম ২৮ দিনে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ বা ৩.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

রোববার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চলতি মার্চের প্রথম ২৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর আগে বছরের মার্চে দেশে এসেছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা এতদিন ছিল দেশে আসা কোনো একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ৫০ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এদিকে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

16/03/2026

আগামী অর্থবছর সরকারের ঋণ গ্রহণ ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১১ দিনের মাথায় ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন এ যুদ্ধের ছায়া।

এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি মূল্যও বেড়ে গেছে। বাংলাদেশকেও বাড়তি দাম দিয়ে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণেও অর্থের প্রয়োজন। সামনে সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল দেয়ার ক্ষেত্রেও বাড়তি অর্থ লাগবে। সব মিলিয়ে সামনের দিনে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ আসতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আগামী অর্থবছর সরকারের নেয়া ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।

অর্থ বিভাগের তথ্যানুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে ২ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি ও বিদেশী উৎস থেকে ৯৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তাছাড়া চলতি অর্থবছরে দেশী-বিদেশী মিলিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের কথা রয়েছে। সরকারের ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আহরণ কম হওয়ার কারণে বর্তমানে ঋণ করে পরিচালন ব্যয়ের কিছু অংশ মেটাতে হচ্ছে। তাছাড়া ঋণ শোধ করতেও ঋণ নিতে হচ্ছে।

সরকারের বছরভিত্তিক ঋণ পরিশোধ পরিকল্পনা অনুসারে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণ শোধ করতে হবে। এর সঙ্গে পরিশোধ করতে হবে ঋণের সুদও। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩০ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করেছে সরকার। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বর্তমান সরকারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী দিনে ঋণের পরিমাণ বাড়লে সুদের পরিমাণও বাড়বে। সব মিলিয়ে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের পাশাপাশি পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে আগামী অর্থবছরে সরকারের নেয়া ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১০-১১ ডলারে কেনা হয়েছিল সেখানে বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি কিনতে হচ্ছে ২৪-২৮ ডলারে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়ার কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ সাড়ে ২৪ ডলার এবং গানভরের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ ডলার করে দুই কার্গো এলএনজি কিনেছে বাংলাদেশ। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এলএনজির দাম আরো বাড়বে এবং এতে এ খাতে সরকারের ব্যয়ও বেড়ে যাবে। এরই মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থ বিভাগের কাছে জ্বালানি কেনার জন্য বাড়তি অর্থ চাওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের প্রচারণায় ভোটারদের বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান; কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষী ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের কৃষক কার্ড প্রদান; হতদরিদ্র এতিম শিশুদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন; মূল্যস্ফীতির নিরিখে সামাজিক সুরক্ষা ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ অন্যতম। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণের জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতেও সরকারের ব্যয় বাড়বে।

জানতে চাইলে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো না। উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা যে অর্থনীতি পেয়েছি তার সব সূচকই নিম্নমুখী। দারিদ্র্য বাড়ছে, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমেছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে—সবদিক থেকেই অর্থনীতি নিম্নমুখী। রেমিট্যান্স বাড়ার কারণে অর্থনীতি নিম্ন পর্যায়ের একটি ভারসাম্যের মধ্যে এসেছে। এখান থেকে বের হওয়াটা বেশ কঠিন হবে। জ্বালানি সংকটের কারণে আমাদের উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে এবং এর কারণে বৈদেশিক মুদ্রা ও রিজার্ভের ওপর চাপ পড়ছে। এর সঙ্গে সার ও পরিবহন ব্যয়ের বিষয়টিও জড়িত এবং এতে পণ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করবে। উচ্চমূল্য সত্ত্বেও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আমদানি করতে হচ্ছে।’

অর্থ সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, ‘এর মধ্যেই আমরা চেষ্টা করছি কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর। কর ফাঁকি ও দুর্নীতি রোধ করে অর্থ সাশ্রয়ের চেষ্টা করছি। যেসব প্রকল্প নেয়া হচ্ছে সেগুলো ব্যয়ের দিক থেকে লাভজনক কিনা, রিটার্ন আসবে কিনা, কর্মসংস্থান তৈরি করবে কিনা সেগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিজস্ব বাজেটের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের সব কার্যক্রমকে এখন আমাদের ইশতাহারের কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করতে হচ্ছে। এসব কিছু নিয়েই আমরা এগোচ্ছি, দেখা যাক সামনে কী হয়।’

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের জন্য রেখে গেছে। পে কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য বছরে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি বাড়তি ব্যয় যোগ হবে। এক্ষেত্রে সরকার আগামী অর্থবছরে কর্মচারীদের জন্য পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে এ খাতেও বড় অংকের অর্থ ব্যয় হবে।

অতীতের সরকারের সময়ে অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য নেয়া ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের চাপও সামনে বাড়তে থাকবে। টাকার অংকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২০১৬ সালে প্রকল্পটি নেয়ার সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯১ হাজার কোটি টাকা রাশিয়ার এক্সিম ব্যাংকের ঋণ। সম্প্রতি টাকার অবমূল্যায়নসহ জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে এ প্রকল্পের ব্যয় ২৬ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঋণের কিস্তি ২০২৭ সালের মার্চে নির্ধারিত থাকলেও সম্প্রতি সেটি ১৮ মাস বাড়িয়ে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে এ ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে হবে বর্তমান সরকারকে।

রূপপুর ছাড়া যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের বেশকিছু বড় প্রকল্পের ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে। এর মধ্যে সবার আগে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের। প্রকল্পটির জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৯ হাজার ৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। ঋণ চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে বছরে প্রায় ৪২০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। ২০২৮ সালে কিস্তির পরিমাণ ৬৬০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে। এর সঙ্গে ২ শতাংশ সুদ আলাদা পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ শেষ হবে ২০৪৮ সালে।

বিগত সরকারের আমলে বাস্তবায়ন করা দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের আরেকটি বড় প্রকল্প উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল। মেট্রোরেলের জন্য জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কাছ থেকে নেয়া ঋণ ২০২৩ সালে পরিশোধ শুরু হয়েছে। মেট্রোরেল লাইন-৬ বাস্তবায়নের জন্য জাইকা ঋণ দিয়েছে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। ৩০ বছরে এ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ হিসাবে সুদ ব্যতীত বার্ষিক গড় কিস্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৫৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটির বিপরীতে জাইকা ঋণ দিয়েছে পাঁচ ধাপে। বর্তমানে প্রথম ধাপের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। মেট্রোরেলের ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২০৬১-৬২ অর্থবছর পর্যন্ত।

চীনের ঋণে বাস্তবায়ন করা হয়েছে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প। প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০ কোটি টাকা ঋণ। চুক্তি অনুযায়ী ঋণ পরিশোধে ১৫ বছর সময় পাবে বাংলাদেশ। এ হিসাবে সুদ ব্যতীত বছরে গড়ে ঋণ শোধ করতে হবে ৪০৫ কোটি টাকা। এ প্রকল্প থেকে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। চীনের ঋণে বাস্তবায়ন করা যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের আরেক প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য বলছে, ছয় বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণের সুদহার ২ শতাংশ। সার্ভিস চার্জ আরো দশমিক ২৫ শতাংশ।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেট ঘাট‌তি মেটাতে ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৫ কো‌টি টাকার দেশী-‌বিদেশী ঋ‌ণ নেয়া হয়েছিল। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাবেক অন্তবর্তী সরকারের সময়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯২২ কো‌টি টাকার ঋণ নিয়ে বা‌জেট ঘাট‌তি পূরণ করা হয়েছে। তাছাড়া আলোচ্য অর্থবছরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার দেশী-বিদেশী উৎস থেকে সব‌ মি‌লিয়ে ৩ লাখ ২৮ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান বাজেট কাঠামো ও আগের সরকারের নেয়া ঋণ পরিশোধের পূর্বনির্ধা‌রিত সময়সীমা বিবেচনা, যুদ্ধের কারণে জ্বালা‌নির উচ্চমূল্য, রাজনৈ‌তিক প্রতিশ্রু‌তি এবং পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকা‌রকে ৩ লাখ কো‌টি টাকার বে‌শি ঋণ নিতে হবে বলে মনে করছেন সং‌শ্লিষ্টরা।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জ্বালানির উচ্চমূল্য, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ের ফলে সৃষ্ট পে-স্কেলজনিত ব্যয়, বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিদেশী ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং ক্রমবর্ধমান সুদ ব্যয়—এসব একত্রে সরকারের রাজস্ব ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি সেই হারে হচ্ছে না। ফলে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী অর্থবছরে সরকারের ঋণ গ্রহণ ৩ লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করা অস্বাভাবিক হবে না, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ঋণনির্ভরতার প্রবণতা আরো দৃশ্যমান করে তুলতে পারে।’

তবে ঋণ বৃদ্ধি সবসময় নেতিবাচক নয় উল্লেখ করে ড. সেলিম রায়হান আরো বলেন, ‘এটি নির্ভর করে সেই ঋণ ব্যবহারের দক্ষতার ওপর। যদি অবকাঠামো উন্নয়ন, উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার মতো ক্ষেত্রে ঋণ ব্যবহার করা যায়, তাহলে তা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে বছরে কত পরিমাণ ঋণ নেয়া হবে তা নিয়ে একটি সুস্পষ্ট বার্ষিক পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।’

রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে যে আয় আসে সেটি থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যয় মিটিয়ে থাকে সরকার। যদিও প্রতি বছর যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হয় সেটি দিয়ে সরকারের পুরো ব্যয় তো দূরের কথা পরিচালন ব্যয়ই মেটানো সম্ভব হয় না। ফলে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নিতে হয় সরকারকে। বর্তমানে সরকারি ব্যয়ের বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে বেতন-ভাতা, পেনশন ও ঋণের সুদ পরিশোধে। গত পাঁচ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এর বিপরীতে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪২ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় আগামী অর্থবছরে বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা করবে সরকার। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতি বছর বাজেটের ঘাটতি মেটাতে মোটাদাগে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী উৎস থেকে কী পরিমাণ ঋণ নেয়া হবে সেটি বলা থাকে। তবে বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনায় বিষয়টি অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট হবে। এক্ষেত্রে বছরের কোন সময়ে কোন খাত থেকে কী পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করা হবে সেটি উল্লেখ থাকবে। বর্তমানে ব্যাংক খাত থেকে সরকার যে ঋণ নিয়ে থাকে সেটি অনেকটাই অ্যাডহক ভিত্তিতে প্রতি প্রান্তিকে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে তখন সেটির ভিত্তিতে প্রান্তিক ভিত্তিতে অকশন ক্যালেন্ডার করা হবে এবং বছরের কোন সময়ে সরকারের কী পরিমাণ ঋণ দরকার হবে সেটি আগে থেকেই জানা যাবে। ঋণ ব্যবস্থাপনা স্থিতিশীল থাকলে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও সুশৃঙ্খল থাকবে। বৈশ্বিক উত্তম চর্চা অনুসরণ করে সরকার এ বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা করতে চাইছে। বিভিন্ন দেশে এটি কীভাবে করা হয় সেই কারিগরি বিষয়গুলোতে সহায়তা করতে আগামী মে মাসে আইএমএফের একটি মিশন বাংলাদেশে আসছে। মিশন শেষে সংস্থাটির পক্ষ থেকে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দেয়া হবে এবং সেটির ভিত্তিতেই প্রতি বছর বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা করা হবে। সামনের অর্থবছরের বাজেটেই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে চাইছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার কত হবে, কী পরিমাণ ঘাটতি থাকবে এবং এজন্য কী পরিমাণ ঋণ নিতে হবে সেটি সামনের মাসে কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভায় ঠিক করা হবে। তখন সে অনুসারে বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনার বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তা গ্রহণ ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়ানোর মতো সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ঋণনির্ভরতা আরো বাড়ার ঝুঁকি থাকবে। এতে একটি বিপজ্জনক ঋণের ফাঁদে পড়ে যাওয়া আশঙ্কা থেকে যাবে। আমরা যেন এমন অবস্থায় না পড়ি সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। রাজস্ব আহরণ দ্রুত বাড়াতে স্বল্পমেয়াদে কর ও ভ্যাট ফাঁকি রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর মধ্যম মেয়াদে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সুশাসনের মাধ্যমে ব্যয় সাশ্রয়ের উদ্যোগ নিতে হবে। ঋণ তো আমাদের নিতে হবে কিন্তু সেটি কতটুকু নেয়া যায় এবং যতটা সম্ভব কম সুদে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে। আইএমএফ যদি এক্ষেত্রে একটি কাঠামো দাঁড় করায় তাহলে সেটি ঋণের ক্ষেত্রে একটি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যয় সাশ্রয় করা ছাড়া সরকারের কাছে কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন সাবেক অর্থ সচিব ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভৌত অবকাঠামো যেমন রাস্তা ও ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারের বড় ধরনের ব্যয় কাঁটছাট করতে হবে। আমার হিসাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ন্যূতম ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। এখানে যে অর্থ সাশ্রয় হবে সেটি দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে যে বাড়তি ব্যয় হবে সেটি মেটাতে হবে।’

16/03/2026

তামাকে ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব অর্জন সম্ভব

বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব আহরণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতিতে তামাক করনীতি আরও শক্তিশালী করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই তারা ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাকের ওপর কর বাড়ালে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে—এমন দাবির পক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই। বরং প্রস্তাবিত কর সংস্কার বাস্তবায়ন করা হলে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন সম্ভব, যা জনস্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। তাদের মতে, তামাকের দাম ও কর বৃদ্ধি করা হলে প্রায় চার লাখ কিশোর-কিশোরী শুরুতেই তামাকের আসক্তি থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) কার্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। এ সময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন এন শিমুল। প্রধান অতিথি ছিলেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় প্রস্তাবিত কর সংস্কারের মাধ্যমে সম্ভাব্য অতিরিক্ত রাজস্ব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন শাফিউন ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম এখনও তুলনামূলকভাবে কম। ফলে তামাকজাত পণ্য সহজলভ্য হওয়ায় এর ব্যবহারও বেশি।সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের সিগারেট বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম দামের সিগারেটের দখলে রয়েছে। এ কারণে এসব সিগারেটের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তামাকজনিত বিভিন্ন রোগের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্যব্যয় হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাকের ওপর কর বৃদ্ধি করা হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের জন্য তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর কাঠামোতে সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের ন্যূনতম মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং সিগারেটের সব মূল্যস্তরে সমানভাবে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা নির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

ড. শিমুল তামাক কর নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, তামাক কর বাড়ালে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে—এমন দাবির পক্ষে শক্ত কোনো প্রমাণ নেই। বরং প্রস্তাবিত কর সংস্কার বাস্তবায়ন হলে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন সম্ভব, যা জনস্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া কর বাড়ানো হলে প্রায় ৪ লাখ কিশোর-কিশোরী তামাকের আসক্তি থেকে শুরুতেই সুরক্ষিত থাকতে পারে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণকে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক নীতি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা উচিত। তামাক নিয়ন্ত্রণ মানে কাউকে নিষিদ্ধ করা বা ধূমপায়ীদের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং কর, বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ ও বিজ্ঞাপন সীমিতকরণের মতো নীতিগত উপায় ব্যবহার করে জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, এটি মূলত সংকীর্ণ মুনাফাকেন্দ্রিক স্বার্থ ও বৃহত্তর জনস্বার্থের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে সমাজকে জনস্বার্থের পক্ষেই দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিতে হবে। তিনি গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় জোর দিয়ে বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ একটি চলমান ধারণা ও বর্ণনার প্রতিযোগিতা। এই প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী তথ্য ও পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য না থাকলে তামাক নিয়ন্ত্রণ লড়াইয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়। করনীতি সরকারের অন্যতম কার্যকর নীতি-উপকরণ, যা একইসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাস্থ্যকর ও উৎপাদনশীল খাতের দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।

16/03/2026

ই-ভ্যাট জমার সময় আরও এক সপ্তাহ বাড়ল

অনলাইনে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রবিবার (১৫ মার্চ) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ করপর্বের রিটার্ন জমা দেওয়ার নতুন সময়সীমা আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনবিআর জানায়, ই-ভ্যাট সিস্টেমের ধীরগতির কারণে অনেক করদাতা সমস্যায় পড়ছেন। তাদের সুবিধার জন্যও এ সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা (১ক) অনুযায়ী এ অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানায় এনবিআর।

16/03/2026

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ৩৭৮ কন্টেইনার পণ্য নিলামে

চলতি মার্চ মাসে ই-অকশন বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোট ৩৭৮ কন্টেইনার পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, দুটি পৃথক আদেশের অধীনে এসব বিপুল পরিমাণ পণ্য নিলামে তোলা হচ্ছে। ই-অকশন-২/২০২৬–এর আওতায় ৪৯টি লটে মোট ১৮০টি কন্টেইনারের পণ্য বিক্রি করা হবে। এসব কন্টেইনারে কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ, আর্ট পেপার, বিটুমিন, ফেব্রিক্স ও গাড়ির যন্ত্রাংশ রয়েছে। অন্যদিকে ই-অকশন-৩/২০২৬–এর আওতায় স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ৭৪টি লটে মোট ১৯৮টি কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। এসব কন্টেইনারে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, যাত্রীবাহী এলিভেটর (লিফট), মেটাল স্ক্র্যাপ এবং ক্রাফট লাইনার পেপারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী রয়েছে।

নিলাম কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। আগ্রহীরা ঘরে বসেই কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন। তবে অনলাইনে বিড করার পাশাপাশি জামানতের পে-অর্ডার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে জমা দিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ই-অকশন-২ এর দরপত্র বাক্স আগামী ৩১ মার্চের দুপুর ২টায় এবং ই-অকশন-৩ এর দরপত্র বাক্স আগামী ৮ এপ্রিল তারিখ দুপুর ২টায় উন্মুক্ত করা হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানিনীতি আদেশ অনুযায়ী শর্ত পূরণ করে পণ্য খালাস করতে হবে। বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে অখালাস করা পণ্য বিক্রির এই ধারা ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

16/03/2026

বুড়িমারী স্থলবন্দরে ১১ দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ

পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে টানা ১১ দিন আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বুড়িমারী কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত বন্দরে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। পরে ২৮ মার্চ থেকে বন্দরের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম আবার শুরু হবে।

অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক এ এস এম নিয়াজ নাহিদের স্বাক্ষরিত চিঠি বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশন, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা কাস্টমস, ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং ভুটানের সংশ্লিষ্ট শুল্ক কর্তৃপক্ষসহ উভয় দেশের পরিবহন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে দেওয়া হয়েছে।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ১১ দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ২৮ মার্চ থেকে যথারীতি বন্দরের সব কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।

বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে। বুড়িমারী স্থলবন্দর পুলিশ অভিবাসন চৌকির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান জানান, ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের পারাপার অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক থাকবে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান বলেন, ব্যবসায়ীরা কাজ না করলে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ থাকে। বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার মুহাম্মদ মহি উদ্দিন জানান, ছুটির সময়ে কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলবে।

14/03/2026

ভ্যাট ফাঁকির নতুন কৌশল ‘শূন্য রিটার্ন’, গোয়েন্দা জালে ৯৫৩ প্রতিষ্ঠান

কর ছাড়ের বড় সুবিধা পাওয়ার পরও বছরের পর বছর ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার এক অভিনব কৌশল উন্মোচন করেছে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ভ্যাটযোগ্য পণ্য বিক্রি করেও তা গোপন রেখে ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দাখিল করেছে এমন ৯৫৩টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হুইলচেয়ার, কমোড চেয়ার ও পোর্টেবল চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে আমদানি পর্যায়ে কোনো শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয় না। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিপণনের ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রদানের বিধান থাকলেও তা বছরের পর বছর ফাঁকি দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের ক্রয়-বিক্রয় তথ্য যাচাই করে ভ্যাট ফাঁকির এই বিশাল চিত্র পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১টির বিরুদ্ধে ৫৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সুদ ও জরিমানা যোগ করলে এই ফাঁকির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জনবল সংকট ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ফাঁকির প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন, রাজস্ব আদায়সহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের ১২টি কমিশনারেট অফিসকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সবগুলো প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই শেষে ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ প্রায় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address

Dhaka
1209