HashibulRoni
physician
জার্মানিতে ছোট বাচ্চারা ৫-৬ বছর বয়স থেকেই নিজের বিছানা নিজে গুছায়, নিজের স্কুল ব্যাগ নিজে রেডি করে? এমনকি অনেক অল্প বয়সেই তারা একাই স্কুলে যাওয়া শুরু করে। অভিভাবক বাচ্চাকে মনিটর করেন, কিন্তু কাজগুলো করে দেন না।
এবার আমাদের দেশের সিনারিও একটু কল্পনা করুন। আপনার বাচ্চার স্কুল ব্যাগ কে গুছিয়ে দেয়? টিফিন কে ভরে দেয়? হোমওয়ার্কের খাতা খুঁজে বের করে কে দেয়? যে হোমওয়ার্ক বাচ্চার নিজে করার কথা, সময় বাঁচাতে সেটা কে করে দেয়, পরীক্ষার আগের রাতে বইগুলো কে সাজিয়ে দেয়? আমরাই তো তাইনা? কারণ আমরা চাই না ও কষ্ট পাক, চাই না বকুনি খাক, চাই না ভুল করুক। আমরা মনে করি বাচ্চার সব কাজ করে দেয়া মানেই ওর জীবনটাকে সহজ করে তোলা! অথচ মনের অজান্তেই নিজের সন্তানের বিপদ ডেকে আনছি আমরা। এই বাচ্চাটা আপনার অনুপস্থিতিতে কিভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? যে কাজটা আজ সে শিখল না, কাল সেটা ওরই বোঝা হবে। ছোটবেলায় সব গুছিয়ে পাওয়া বাচ্চাটা ধীরে ধীরে ধরে নেয়—কাজ তো হয়ে যায়, আমাকে আলাদা করে ভাবতে হয় না। নিজের জিনিসের দায় তার মধ্যে তৈরি হয় না।
ধরুন, ক্লাস ফাইভের একটা ছেলেকে প্রতিদিন তার মা ব্যাগ গুছিয়ে দেয়। একদিন ভুলে মা একটা ইম্পর্ট্যান্ট খাতা দিতে ভুলে গেছে। স্কুলে সে বকা খেল। বাসায় এসে সে বলবে, “তুমি খাতা দাওনি কেন?” সে নিজের ভুলের দায়ও নিতে পারছে না, কারণ দায়িত্বটাই কখনো তার ছিল না। যে বাচ্চাকে আপনি নিজের হাতে খাওয়া শেখাননি সে বুঝবে কি করে, যে খাবারটা তার নিজের জন্যই দরকার?
এই ছেলেটাই যখন উচ্চতর পড়াশোনার জন্য মেস বা হোস্টেলে থাকবে, তখন শুরু হবে আসল সমস্যা। সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট, ময়লা কাপড় জমে থাকে, অ্যাসাইনমেন্টের ডেডলাইন মিস হয়ে যায়, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হারিয়ে যায়। সবকিছুই যেন তার কাছে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জের মনে হতে থাকে। তখন আমরা বলি, এত অগোছালো কেন? এত বড় হয়েছিস এখনো নিজের খেয়াল রাখতে শিখলিনা? অথচ শেখার এই যাত্রাটা শুরু হওয়ার কথা ছিল সেই ছোটবেলায়।
ঠিক এখানেই জার্মানি সহ মধ্য ইউরোপের দেশগুলো আমাদের চেয়ে ৫০ বছর এগিয়ে। তারা আবেগ ও যুক্তির ফারাকটা ভালো বোঝে। তারা জানে, কিভাবে ধাপে ধাপে সন্তানকে দায়িত্বশীল করতে হয়। তাইতো একটা জার্মান শিশু সলিড শুরুর পর থেকেই নিজের হাতে খাবার খেতে শেখে, ৩ বছর বয়সেই নিজের খেলনা নিজে গুছিয়ে রাখে, ৭ বছর বয়সে নিজের ব্যাগ চেক করে। ভুল হলে শিখবে, তবু কাজটা সে-ই করবে। এটাই ওদের সোশাল স্ট্রাকচার। দিনশেষে তারা শুধু চায় সন্তান একজন দায়িত্বশীল মানুষ হোক।
আমাদের বাস্তবতা আলাদা, নিরাপত্তাজনিত কিছু ইস্যু আছে, সামাজিক চাপ আছে। কিন্তু নিজের ঘরের ভেতরে তো আমরা শুরু করতে পারি। বাচ্চা সবসময় নিজের হাতে খাবে। লিখতে শিখলেই তাকে নিজের রুটিন লিখতে দিন। প্রতিদিন রাতে সে নিজে ব্যাগ গুছাবে। ভুল হলে পরদিন সেই অভিজ্ঞতা তার হবে। নিজের বিছানা নিজে ঠিক করা, টেবিল থেকে নিজের প্লেট সরানো, খেলনা-বইপত্র গোছানো—এই ছোট ছোট কাজগুলোই তার ভেতরে দায়িত্ববোধ তৈরি করবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে ধীরে করলে বিরক্ত হবেন না। নিখুঁত না হলে আবার শেখান। প্রয়োজনে বারবার চেষ্টা করতে বলুন। একবার আপনি কোন কাজে হাত লাগালে, পরেরবার সেটা তাকে একাই করতে বলুন।ভাববেন না যে আপনি কাজটা করে দিলে সে দ্রুত শিখবে!
আমরা সন্তানকে খুব ভালোবাসি। কিন্তু ভালোবাসা মানে সব কাজ করে দেওয়া নয়। ভালোবাসা মানে তাকে এমনভাবে বড় করা, যাতে একদিন সে আমাদের ছাড়া নিজের জীবনটা গুছিয়ে নিতে পারে।
08/02/2026
Category
Website
Address
1209
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when HashibulRoni posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.
