Mahdi HS

Mahdi HS

Share

Assalamualaikum wa Rahmatullah. This is Mahdi HS, Nasheed artist. Jazakumullahu khairan for join.

14/04/2026

“রাত তিনটার পর…”
পর্ব ৬: কণ্ঠটা কার?

“…শুনতে পাচ্ছো?”

শব্দটা কানের একদম কাছে শোনার পর রাহাত ঝট করে উঠে বসলো। তার বুক দ্রুত উঠানামা করছে। চোখ বড় বড় করে চারপাশে তাকাচ্ছে। ঘরে কেউ নেই, দরজা বন্ধ, জানালা বন্ধ - সব আগের মতোই। কিন্তু একটা ব্যাপার এখন নিশ্চিত— সে একা না। রাহাত ধীরে ধীরে নিজের কানে হাত দিলো। মনে হলো, এখনো যেন সেই ফিসফিসটা ভেতরে বাজছে।
“শুনতে পাচ্ছো…”

এই চারটা শব্দই তার মাথার ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে। সে ভাবলো — ঘুমের ঘোরে শুনেছে। কিন্তু তার শরীর অন্য কিছু বলছে। হাত ঠান্ডা হয়ে গেছে। গলা শুকিয়ে গেছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সে দেখলো—৩:১২। সময় এগোচ্ছে। কিন্তু যেন প্রতিটা মিনিট টেনে টেনে যাচ্ছে। রাহাত এবার বিছানা থেকে নামলো। সে ঠিক করলো—
ঘরের সবকিছু আরেকবার চেক করবে। প্রথমে দরজার কাছে গেল। হাত দিয়ে ধাক্কা দিলো - বন্ধ। তালা লাগানো না, কিন্তু ভেতর থেকে আটকানো। সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো। তার মনে হচ্ছিল— এই দরজার ওপাশেই কেউ দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কোনো শব্দ নেই। তারপর সে জানালার কাছে গেল। পর্দা সরালো। বাইরে আগের মতোই অন্ধকার। কিন্তু এবার একটা জিনিস আলাদা— মনে হলো, বটগাছটার নিচে কিছু একটা নড়লো। রাহাত চোখ কুঁচকে তাকালো। কিছু নেই, সব স্থির। ফিরে আসার সময় আবার তার চোখ পড়লো আয়নায়, সে থেমে গেল। এইবার সে ইচ্ছা করেই আয়নার সামনে দাঁড়ালো। নিজের দিকে তাকিয়ে রইলো। একদম স্থির। তারপর ধীরে ধীরে হাত তুললো। আয়নার ভেতরের হাতও উঠলো। সব ঠিক। কোনো সমস্যা নেই। সে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। ঠিক তখনই— আয়নার ভেতরের রাহাত এক সেকেন্ডের জন্য হাসলো। কিন্তু বাস্তবে রাহাত হাসেনি।
রাহাতের শরীর জমে গেল। তার চোখ আয়নায় আটকে আছে। সে নিশ্চিত— সে হাসেনি। কিন্তু সে দেখেছে ওটা হাসছিল এক সেকেন্ডের জন্য। তারপর আবার সব স্বাভাবিক। আয়নায় এখন শুধু তারই মুখ। গম্ভীর, ভয় পাওয়া। “না… এটা সম্ভব না…” — সে ফিসফিস করে বললো। তার গলা কাঁপছে। সে ধীরে ধীরে পিছিয়ে এলো। তার মাথায় এখন একটা প্রশ্নই ঘুরছে— যদি ওটা সে না হয়… তাহলে ওটা কে? ঠিক তখনই—
ঘরের বাতাস হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল। আগের চেয়েও ঠান্ডা। এই ঠান্ডাটা স্বাভাবিক না… একটা অদ্ভুত, হাড়ে ঢুকে যাওয়ার মতো ঠান্ডা। রাহাত কাঁধ জড়িয়ে ধরলো।
তার নিঃশ্বাস চোখে দেখা যাচ্ছে প্রায়।
হঠাৎ— টক… দরজায় শব্দ হলো। রাহাত থেমে গেল। তার চোখ আবার দরজার দিকে। টক… টক… এইবার পরিষ্কার। দরজার ওপাশে কেউ আছে। সে নিঃশ্বাস আটকে রইলো। তার মাথায় কুদ্দুস মিয়ার কথা ঘুরছে— “কেউ ডাকলেও না…” ঠিক তখনই— দরজার ওপাশ থেকে খুব ধীরে… একটা কণ্ঠ ভেসে এলো— “রাহাত…” সে চমকে উঠলো। এই কণ্ঠটা সে চেনে। খুব ভালো করে চেনে। এটা তার বাবার কণ্ঠ।
চলবে… (পর্ব ৭)

10/04/2026

“রাত তিনটার পর…”
পর্ব ৫: ভেতরের শব্দ

ঘরের ভেতর থেকে ফিসফিসের মতো শব্দটা আসার পর রাহাত আর নড়তে পারলো না। সে সোজা হয়ে বসে আছে, চোখ দুটো ধীরে ধীরে ঘরের চারপাশে ঘুরছে। তার নিজের শ্বাসের শব্দটাই এখন অস্বাভাবিক লাগছে। কিছুক্ষণ আগে যে শব্দটা সে শুনেছে, ওটা কি সত্যিই ছিল? নাকি তার নিজের কল্পনা? সে কান পেতে রইলো। কোনো শব্দ নেই। একদম নিঃশব্দ। এতটাই নিঃশব্দ যে মনে হচ্ছে এই নীরবতার ভেতরেই কিছু লুকিয়ে আছে। রাহাত ধীরে ধীরে বিছানার পাশ থেকে মোবাইলটা তুলে নিলো। স্ক্রিন জ্বালাতেই ঘরের ভেতরে হালকা আলো ছড়িয়ে পড়লো। সবকিছু আগের মতোই। দরজা বন্ধ। জানালা বন্ধ। আলমারি একই জায়গায়। কিছুই বদলায়নি। সে ভাবছিলো - হয়তো বাইরে থেকে আসছিল। কিন্তু এই সময় শব্দ ভেসে আসতে পারে? তার ভেতরে আরেকটা প্রশ্ন ঘুরছে— যদি বাইরে থেকেই আসতো, তাহলে এত কাছ থেকে শোনা গেল কেন?সে চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড বসে থাকলো। তারপর আবার খুললো।

হঠাৎ তার মনে হলো— জানালার দিক থেকে একটু ঠান্ডা বাতাস আসছে। সে তাকালো, পর্দাটা খুব হালকা নড়ছে। রাহাত ভ্রু কুঁচকালো। জানালা তো বন্ধ, সে উঠে দাঁড়ালো। ধীরে ধীরে জানালার দিকে এগিয়ে গেল। হাত বাড়িয়ে পর্দাটা সরালো। বাইরে আগের মতোই অন্ধকার। গাছগুলো স্থির, কোনো নড়াচড়া নেই। সে হাত বাড়িয়ে জানালার কাঁচে ছুঁয়ে দেখলো— বন্ধ। পুরোপুরি বন্ধ। তবুও ভেতরে বাতাস ঢুকছে কেন? সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো। তার মনে হচ্ছিল— এই অন্ধকারের ভেতরে তাকিয়ে থাকলে কিছু একটা দেখা যাবে। কিন্তু কিছুই দেখা গেল না। রাহাত আবার ঘড়ির দিকে তাকালো। ৩:০৭, সময়টা এগোচ্ছে…কিন্তু খুব ধীরে। ফিরে আসতে আসতে তার চোখ পড়লো ঘরের কোণের ছোট আয়নাটার দিকে। সে থেমে গেল। আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছে। সব স্বাভাবিক। তবুও…কিছু একটা যেন অস্বাভাবিক লাগছে। সে একটু কাছে গেল। নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো। একটু ক্লান্ত, একটু টেনশনে। হঠাৎ তার মনে হলো— সে যত দ্রুত নড়ছে… প্রতিচ্ছবিটা যেন এক সেকেন্ড দেরিতে নড়ছে। রাহাত সাথে সাথে পিছিয়ে এলো।

“না… এটা সম্ভব না…” সে আবার তাকালো। এইবার সব স্বাভাবিক। একদম ঠিক। রাহাত আবার বিছানায় এসে বসলো। তার মাথা একটু ভারী লাগছে। এই কয়েক মিনিটেই সে অদ্ভুতভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। সে ধীরে ধীরে শুয়ে পড়লো। লাইট এখনো জ্বলছে। চোখ বন্ধ করার আগে সে শেষবারের মতো ঘরটা দেখে নিলো। সব ঠিক, হ্যাঁ সব একই,কোনো সমস্যা নেই। ঠিক তখনই — খুব ধীরে… খুব নিচু স্বরে… তার কানের একদম কাছে কেউ ফিসফিস করে বললো— “শুনতে পাচ্ছো?” রাহাতের চোখ সাথে সাথে খুলে গেল। সে উঠে বসলো। ঘর ফাঁকা, কেউ নেই। কিন্তু এবার সে নিশ্চিত— এই শব্দটা… কল্পনা ছিল না।
চলবে… (পর্ব ৬)

05/04/2026

“রাত তিনটার পর…”
পর্ব ৪:

খস… খস… খস…
শব্দটা থামছে না। রাহাত বিছানায় বসে আছে, শরীরটা একদম শক্ত হয়ে গেছে। তার চোখ দরজার দিকে, কিন্তু সে নড়ছে না। শব্দটা এখন আর দূরে নেই।
মনে হচ্ছে… ঠিক বাড়ির সামনে। কাঁচা মাটির ওপর দিয়ে কেউ হাঁটলে যেমন শব্দ হয়, ঠিক তেমন। সে নিঃশ্বাস আটকে শুনতে লাগলো।

খস…
কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর আবার -
খস… খস…
এবার শব্দটা যেন থেমে গেল। একদম থেমে গেল। এই হঠাৎ থেমে যাওয়াটাই বেশি অস্বস্তিকর। রাহাত ধীরে ধীরে শ্বাস নিলো। তার মনে হলো যেই হোক এখন দাঁড়িয়ে আছে ঠিক বাইরে। রাহাতের চোখ দরজায় আটকে আছে। দরজার নিচ দিয়ে হালকা ছায়া পড়েছে। বাইরের আলো খুব কম, তবুও বোঝা যায় কিছু একটা আছে। সে চোখ সরাতে পারছে না। সময় যেন আটকে গেছে। এক সেকেন্ড… দুই সেকেন্ড…
তারপর— কিছুই না। কোনো শব্দ নেই। কোনো নড়াচড়া নেই। শুধু নীরবতা। “হয়তো কেউ পথ দিয়ে যাচ্ছিলো মনে করলো কিন্তু, এই সময়েও কেউ থাকতে পারে? কিন্তু তার নিজের কথাতেই তার বিশ্বাস হলো না।
কারণ এই গ্রামের সবাই তো সন্ধ্যার আগেই ঘরে ঢুকে যায়। তাহলে এখন… কে? রাহাত ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নামলো। পা মাটিতে পড়তেই হালকা ঠান্ডা অনুভব করলো। সে এক পা… দুই পা… করে জানালার দিকে এগোলো। তার মাথায় ঘুরছে—
দেখবে? না দেখবে না? কুদ্দুস মিয়ার কথা আবার মনে পড়লো— “রাত বেশি হলে বাইরে যাইয়েন না…”
সে থেমে গেল। জানালার সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্দা সরালো না। সে আবার ঘড়ির দিকে তাকালো। বাজে, ২:৪১। সময়টা অস্বাভাবিকভাবে ধীরে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে—এই রাত শেষই হবে না। রাহাত হঠাৎ খেয়াল করলো— ঘরের ভেতরের বাতাসটা বদলে গেছে। আগে যেটা ঠান্ডা ছিল, এখন সেটা কেমন ভারী লাগছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে না… কিন্তু অস্বস্তি হচ্ছে। ঠিক তখনই—
টিক…
সে চমকে উঠে পেছনে তাকালো। শব্দটা এসেছে আলমারির দিক থেকে। সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো।
কিছু না। সব স্থির। রাহাত ধীরে ধীরে আবার বিছানায় ফিরে এলো। এইবার সে শুয়ে পড়লো না, সোজা বসে রইলো। তার মনে হচ্ছিল, ঘুমানো ঠিক হবে না। কিছুক্ষণ পর সে খেয়াল করলো শব্দটা আর নেই। বাইরে আবার আগের মতো চুপচাপ। যেন কিছুই হয়নি। কিন্তু এই “কিছুই হয়নি”টাই তাকে বেশি ভাবাচ্ছে। হঠাৎ তার চোখ ঘড়িতে গেল। ২:৫৯, রাহাত অজান্তেই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রইলো। সময় বদলালো— ৩:০০, ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরের ভেতরের বাতাসটা যেন আরও ঠান্ডা হয়ে গেল। একটা অদ্ভুত শীতলতা ছড়িয়ে পড়লো। রাহাতের বুকের ভেতর কেমন যেন চাপ লাগলো। সে নিঃশব্দে বসে আছে। একদম স্থির, কিছুই হচ্ছে না। এক সেকেন্ড… দুই সেকেন্ড… তারপর, দূরে কোথাও, খুব আস্তে… খুব ধীরে… মনে হলো কেউ ফিসফিস করে কিছু বললো। শব্দটা এতই ক্ষীণ যে বোঝা গেল না কী। কিন্তু একটা ব্যাপার পরিষ্কার শব্দটা বাইরে থেকে আসেনি। মনে হলো ঘরের ভেতর থেকেই এসেছে।
চলবে… (পর্ব ৫)

03/04/2026

“রাত তিনটার পর…"
পর্ব ৩:

রাহাত বিছানায় বসে ছিল কিছুক্ষণ। বাইরে একদম নিস্তব্ধ। এতটাই নিস্তব্ধ যে নিজের নিঃশ্বাসের শব্দও অস্বস্তিকর লাগছে। সে একবার দরজার দিকে তাকালো। তারপর জানালার দিকে। সব বন্ধ। সব ঠিকঠাক। তবুও তার মনে হচ্ছিল — এই “ঠিকঠাক” এর ভেতরেই কিছু একটা ঠিক নেই।

ঘড়িতে তখন প্রায় সাড়ে দশটা।
রাহাত লাইট বন্ধ করে শুয়ে পড়লো। মোবাইলটা পাশে রেখে চোখ বন্ধ করলো। প্রথম কয়েক মিনিট ঠিকই ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তার মনে হতে লাগলো — সে যেন পুরোপুরি একা না। এই অনুভূতিটা অদ্ভুত। কেউ কিছু করছে না, কোনো শব্দ নেই। তবুও মনে হচ্ছে—কেউ “আছে”। সে চোখ খুলে ফেললো। অন্ধকারে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ।
“অতিরিক্ত ভাবছি…” — নিজেকে বোঝালো।

সময়: ১১:৪৭
রাহাত আবার ঘড়ির দিকে তাকালো। সময় যেন এগোতে চাইছে না। সে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো।
ঠিক তখনই — তার মনে হলো, ঘরের ভেতরে খুব হালকা একটা শব্দ হলো।
টিক…
সে সাথে সাথে চোখ খুললো। কিছু না। সব চুপ।

জানালার পাশে কয়েক সেকেন্ড পর আবার—
টিক… টিক…
এবার শব্দটা একটু স্পষ্ট। মনে হলো… জানালার দিক থেকে আসছে। রাহাত ধীরে ধীরে উঠে বসলো। তার বুকের ভেতর অকারণেই ধড়ফড় করছে। সে নিজেকে বোঝালো - "গাছের ডাল লাগছে হয়তো…”
ধীরে ধীরে সে জানালার দিকে এগিয়ে গেল। প্রতিটা পদক্ষেপে মেঝে হালকা শব্দ করছে। জানালার সামনে গিয়ে সে থামলো। একটু দ্বিধা। তারপর পর্দাটা সরালো। বাইরে অন্ধকার। পুরো অন্ধকার না—আকাশে হালকা চাঁদের আলো আছে। কিন্তু সেই আলোয় কিছুই স্পষ্ট দেখা যায় না। গাছগুলো স্থির দাঁড়িয়ে। কোনো বাতাস নেই। কোনো নড়াচড়া নেই। রাহাত কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। তার মনে হচ্ছিল — সে একা তাকিয়ে নেই… কেউ যেন ওদিক থেকেও তাকিয়ে আছে। হঠাৎই সে পর্দা ছেড়ে দিলো। বাজে ভাবনা মনে করে আবার ওনিজেকে বললো। সে আবার বিছানায় ফিরে এলো। এইবার লাইট জ্বালিয়েই শুয়ে পড়লো।
মনে মনে ঠিক করলো — আজ আর লাইট বন্ধ করবে না। কিছুক্ষণ পর ক্লান্তিতে তার চোখ লেগে এলো।

সে ঠিক কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল বুঝতে পারেনি। কিন্তু হঠাৎ সে নিজেকে দেখতে পেল — একই ঘরে দাঁড়িয়ে আছে। সবকিছু একই… দরজা, জানালা, বিছানা।
কিন্তু একটা জিনিস আলাদা — ঘরটা ফাঁকা। একদম ফাঁকা। তার নিজের কোনো জিনিস নেই। সে ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগোলো। দরজাটা একটু খোলা।
ভেতর থেকে হালকা বাতাস আসছে। সে দরজাটা ঠেলে খুললো— ঠিক তখনই তার ঘুম ভেঙে গেল। রাহাত হঠাৎ উঠে বসল। ঘর আগের মতোই আছে। লাইট জ্বলছে। সব ঠিক। সে গভীর শ্বাস নিলো। স্বপ্ন মনে করে নিজেকে বুঝ দিলো।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সে দেখলো—২:২৬। তার আর ঘুম আসছিল না। সে বিছানায় বসে রইলো। চারপাশে আবার সেই নীরবতা। কিন্তু এবার সেই নীরবতা আগের চেয়ে ভারী। ঠিক তখনই দূরে কোথাওখুব হালকা একটা শব্দ হলো। মনে হলো, কেউ হাঁটছে।
ধীরে… খুব ধীরে…
খস… খস…
রাহাত স্থির হয়ে গেল। শব্দটা স্পষ্ট না, কিন্তু নিয়মিত।
আর সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার — শব্দটা ধীরে ধীরে তার বাড়ির দিকেই এগিয়ে আসছে।
চলবে… (পর্ব ৪)

01/04/2026

“রাত তিনটার পর…” (Mahdi HS)

পর্ব ২:
সন্ধ্যা নামতে না নামতেই চর কালিকাপুর গ্রামটা যেন বদলে গেল। বিকেলের সময় যে দু-একটা মানুষের আনাগোনা দেখা যাচ্ছিল, হঠাৎ করেই সব চুপচাপ হয়ে গেল। রাহাত বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল—দেখলো, পাশের বাড়ির একজন লোক তাড়াহুড়ো করে দরজা বন্ধ করছে। আরেকজন উঠোন থেকে জামা-কাপড় গুটিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল। মনে হলো… সবাই যেন একসাথে কোনো অদৃশ্য সংকেত পেয়েছে। রাহাত একটু অদ্ভুত লাগলেও বিষয়টা হালকা করে নিল। “গ্রামের মানুষ… তাড়াতাড়ি ঘুমায়,” — নিজেকে বোঝালো।

সন্ধ্যার আগেই সে একটু বাইরে বের হলো।
স্ট্যান্ডের পাশে যে ছোট্ট চায়ের দোকানটা দেখেছিল, ওখানে গিয়ে বসলো। দোকানদার, শুকনো গড়নের এক লোক, চুপচাপ চা বানাচ্ছিল। রাহাত বসতেই কয়েকজন তার দিকে তাকালো—কৌতূহল নিয়ে, কিন্তু কেউ কিছু বললো না।

“একটা চা দিবেন?” — রাহাত বললো।
লোকটা মাথা নেড়ে চা এগিয়ে দিলো।
কিছুক্ষণ পর পাশের বেঞ্চে বসা একজন জিজ্ঞেস করলো, “আপনি কি ওই পুরান বাড়িতে উঠছেন?” রাহাত একটু অবাক হলো।

“হ্যাঁ… কিভাবে জানলেন?”
লোকটা মুচকি হাসলো,
“এই গ্রামে নতুন কেউ আইলে খবর লুকায় না।”
আরেকজন তখন যোগ করলো,
“ওই বাড়িতে আগেও মানুষ আছিল…”
কথাটা বলেই সে থেমে গেল।
রাহাত আগ্রহ নিয়ে বললো, “তারপর?”
লোকটা চায়ের কাপের দিকে তাকিয়ে রইলো।
কোনো উত্তর দিলো না।
দোকানদার হঠাৎ বললো,
“রাত হইলে বাড়ি যান। এই সময় বাইরে থাকা ভালো না।”
রাহাত একটু বিরক্ত হলো। সবাই একই কথা বলছেন কেন? জিজ্ঞেস করার পরও কেউ উত্তর দিলো না। শুধু এক ধরনের চাপা নীরবতা নেমে এলো। ফেরার সময় রাস্তাটা যেন আগের চেয়ে অন্যরকম লাগছিল। একই রাস্তা… কিন্তু কেমন যেন ফাঁকা, ভারী। চারপাশে কোনো শব্দ নেই—না মানুষের, না পাখির। রাহাত নিজের ফোন বের করে দেখলো—নেটওয়ার্ক একদম নেই।হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তার মনে হলো— কেউ যেন দূর থেকে তাকিয়ে আছে। সে থেমে পেছনে তাকালো। কেউ নেই। শুধু কাঁচা রাস্তা আর অন্ধকার। বাজে ভাবনা মনে করে সে আবার হাঁটা শুরু করলো। বাড়িতে ঢুকেই সে দরজাটা ভালো করে বন্ধ করলো। কুদ্দুস মিয়ার কথাগুলো হঠাৎ মনে পড়লো— “দরজা-জানালা ভালো করে লাগায় রাখবেন…” রাহাত হালকা হেসে মাথা নাড়লো। তবুও অজান্তেই সে সব জানালা চেক করে নিলো। সব ঠিক আছে।

রাতের খাবার খেয়ে সে মোবাইল নিয়ে বসে ছিল।
সময় কাটছিল না। ঘড়ির দিকে তাকালো—৯:১০
কিছুক্ষণ পর আবার তাকালো— ৯:১২। মনে হলো সময়টা খুব ধীরে যাচ্ছে। সে উঠে ঘরের ভেতর একটু হাঁটাহাঁটি করলো। হঠাৎ খেয়াল করলো—বাড়িটার ভেতরে একটা হালকা ঠান্ডা ভাব আছে। বাইরে গরম, কিন্তু ভেতরে অদ্ভুত শীতলতা।

ঠিক তখনই… দূর থেকে ভেসে এলো একটানা কোনো শব্দ। মনে হলো… কেউ খুব ধীরে কিছু পড়ছে। রাহাত থেমে গেল। শব্দটা স্পষ্ট না… কিন্তু নিয়মিত। কখনো মনে হয় শুর… আবার কখনো মনে হয় বাতাসের শব্দ।
সে কান পেতে শুনলো। কয়েক সেকেন্ড পর… শব্দটা বন্ধ হয়ে গেল হঠাৎই। যেন কখনো ছিলই না। রাহাত দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। একটা অদ্ভুত দ্বিধা কাজ করছে— দরজা খুলে বাইরে দেখবে… নাকি থাকবে? তার মাথায় ঘুরছে একটা কথাই— “রাত বেশি হলে বাইরে যাইয়েন না…” সে শেষ পর্যন্ত দরজা খোলেনি। ধীরে ধীরে ফিরে এসে বিছানায় বসল। কিন্তু তার মনে হচ্ছিল— এই বাড়িতে সে একা না। কেউ আছে… কিন্তু ঠিক কোথায়— সেটা এখনো বোঝা যাচ্ছে না।
চলবে… (পর্ব ৩)

31/03/2026

“তিনটার পর কেউ ডাকলে…” (Mahdi HS)
পর্ব ১: নতুন জায়গা
ঢাকা শহরের ব্যস্ততা থেকে অনেকটা দূরে, নরসিংদীর ভেতরে ছোট্ট একটা গ্রাম—চর কালিকাপুর। এই গ্রামে খুব বেশি লোকজন থাকে না, আর যারা থাকে তারা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাইরের কেউ খুব একটা আসে না, আর এলেও বেশিদিন থাকে না। রাহাত এই গ্রামে আসছে প্রায় বাধ্য হয়েই। তার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর, গ্রামের পুরনো বাড়িটার দেখাশোনা করার দায়িত্বটা পড়ে তার ওপর। পরিবারের আর কেউ রাজি হয়নি।

ঢাকার ছেলে রাহাত। ব্যস্ত রাস্তা, বন্ধুবান্ধব, বিশ্ববিদ্যালয়—সব ছেড়ে হঠাৎ এমন এক গ্রামে আসা তার জন্য মোটেও সহজ না। বাস থেকে নামার পর চারপাশে তাকিয়ে সে একটু অস্বস্তি অনুভব করলো। স্ট্যান্ড বলতে ছোট্ট একটা টিনের ছাউনি, পাশে চায়ের দোকান, আর কয়েকজন লোক চুপচাপ বসে আছে। তাদের চোখে কেমন যেন কৌতূহল—যেন নতুন কাউকে দেখে মাপছে।
রাহাত ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, তখনই একজন মাঝবয়সী লোক এগিয়ে এলো।

“আপনি কি শহর থেকে আইছেন?” — লোকটা জিজ্ঞেস করলো।

রাহাত একটু অবাক হয়ে বললো, “জি… আপনি?”
লোকটা নিজের নাম বললো—কুদ্দুস মিয়া।
সে নাকি রাহাতের বাবাকে চিনে, আর তাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে এসেছে। রাহাত কিছুটা স্বস্তি পেল। অন্তত কাউকে তো পাওয়া গেল। গ্রামের পথে কুদ্দুস মিয়ার সাথে হাঁটতে হাঁটতে রাহাত খেয়াল করলো—গ্রামটা অদ্ভুত রকম শান্ত।
রাস্তা কাঁচা, দুই পাশে ধানক্ষেত, মাঝে মাঝে কিছু টিনের ঘর।

“এখানে নেটওয়ার্ক কেমন?” — রাহাত জিজ্ঞেস করলো।
কুদ্দুস মিয়া হালকা হেসে বললো, “থাকে… আবার থাকে না। সময় বুঝে আসে।”

উত্তরটা শুনে রাহাত একটু বিরক্ত হলো, কিন্তু কিছু বললো না। কিছু দূর যাওয়ার পর একটা পুরনো কবরস্থানের পাশ দিয়ে যেতে হলো। চারপাশে বড় বড় গাছ, আর ভেতরে অদ্ভুত নীরবতা। রাহাত হালকা গলায় বললো, “কবরস্থানটা অনেক পুরনো মনে হচ্ছে।”

কুদ্দুস মিয়া এবার থামলো না, হাঁটতেই হাঁটতে বললো,
“হ, অনেক আগের… গ্রামের সবচেয়ে পুরান জায়গা।”
তারপর একটু থেমে আবার বললো,
“এই রাস্তা দিয়া সন্ধ্যার পর না যাওয়াই ভালো।”
রাহাত ভ্রু কুঁচকালো। “কেন?”

লোকটা সরাসরি উত্তর দিলো না। শুধু বললো,
“গ্রামের নিয়ম আছে… মেনে চললে ভালো থাকবেন।”

প্রায় আধাঘণ্টা হাঁটার পর তারা পৌঁছালো বাড়ির সামনে। বাড়িটা আলাদা করে চোখে পড়ে। চারপাশে বড় বড় গাছ, আর একটু দূরে অন্য ঘরবাড়ি। মনে হয়, ইচ্ছা করেই যেন এই বাড়িটাকে একটু দূরে রাখা হয়েছে।

গেট খুলতে খুলতে কুদ্দুস মিয়া বললো,
“এই বাড়িতে অনেকদিন কেউ থাকে না… তাই একটু অগোছালো লাগতে পারে।”
রাহাত ভেতরে ঢুকে চারপাশে তাকালো।
ধুলো আছে, কিন্তু একেবারে ফেলে রাখা না।
যেন মাঝে মাঝে কেউ এসে দেখে যায়।
“আপনি একাই থাকবেন?” — কুদ্দুস মিয়া জিজ্ঞেস করলো।
“হ্যাঁ, আপাতত।”
লোকটা মাথা নেড়ে বললো,
“ঠিক আছে… দরজা-জানালা ভালো করে লাগায় রাখবেন। আর…”

সে একটু থামলো।

রাহাত তাকালো, “আর?”
কুদ্দুস মিয়া সরাসরি চোখে তাকালো না।
নিচের দিকে তাকিয়ে ধীরে বললো—
“রাত বেশি হলে বাইরে যাইয়েন না। কেউ ডাকলেও না।”
রাহাত হালকা হেসে বললো, “এই গ্রামেও এসব আছে নাকি?”
লোকটা এবার কোনো হাসি দিলো না।
শুধু বললো—
“সব জায়গাতেই কিছু নিয়ম থাকে।”

সন্ধ্যার আগমুহূর্তে কুদ্দুস মিয়া চলে যাওয়ার পর রাহাত একা দাঁড়িয়ে রইলো বাড়ির ভেতরে। চারপাশে অদ্ভুত নীরবতা। দূরে কোথাও পাখির ডাক, আর হালকা বাতাসে গাছের পাতা নড়ার শব্দ। সে নিজের ব্যাগটা নামিয়ে রেখে ভাবলো—
“কয়েকদিন থাকলেই হয়ে যাবে… তারপর আবার ঢাকায় ফিরে যাব।”
কিন্তু ঠিক তখনই তার মনে হলো—
এই গ্রামটা…
এতটা শান্ত হওয়ার কথা না।
কিছু একটা যেন আছে…
যেটা এখনো চোখে পড়েনি।
চলবে… (পর্ব ২)

20/03/2026

রমজান চলে যায় ঈদ আসে কিন্তু মনে ভেতর ঈদোর আনন্দ থেকে বেশি রমজানের বিদায় নেয়ার কষ্ট বেশি হয়। উ'হিব্বুকা ইয়া রমাদান ❤️।।

05/03/2026

ইসলামীক রাষ্ট্র কীভাবে আসা করবেন?

কারণ যদি কোনোভাবে দেশ সত্যি সত্যিই ইসলামের দিকে আগায় তাহলে হাত কাটা শুরু হবে, জানের বদলে জান, হাতের বদলে হাত, পায়ের বদলে পা, সমানে extra marital affair এর জন্য রজম হবে, সমানে ধর্ষকদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে। কিংবা কয়েকজনকে দিয়ে দিলে সারা দেশে এই সমস্ত অনৈতিক কার্যকলাপ করতে আপনাদের অসুবিধা হয়ে যাবে। এজন্যই আপনারা চান না যে একটা দেশ কখনও দ্বীনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কিংবা কুরআনের আইন অনুযায়ী চলুক। দিন শেষে তো বাস্তবতা এটাই, আল্লাহর দেয়া নিয়ম অনুযায়ী চলা কিংবা সেভাবে আইন প্রতিষ্ঠা হওয়া নিয়েই জবাবদিহি করতে হবে।

01/03/2026

IRAN CONFIRMS SUPREME LEADER AYATOLLAH ALI KHAMENEI HAS BEEN KILLED 😭

25/02/2026

যারা YouTube এ miss করেছেন তাদের জন্য Facebook এ উন্মুক্ত করা হলো। "Siyamer Din" - Mahdi HS (Cover).

19/02/2026

রিলিজ হলো "সিয়ামের দিন" এখনই দেখে নিন। Link: https://youtu.be/Ar1q6HzkkjU?si=jR5NdC3C6_dvjCL0

Photos from Mahdi HS's post 18/02/2026

Alhamdulillah first Taraweeh. Ramadan mubarak 🌙.

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address

Dhaka