Dr. Md. Abdullah Ibne Enam
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr. Md. Abdullah Ibne Enam, Health/Beauty, Dhaka.
ডা. মো: আবদুল্লাহ ইবনে এনাম
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
পিজিটি (মেডিসিন)
সিসিডি (বারডেম)-ডায়াবেটিস
এফসিপিএস-শেষ পর্ব (গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজি)
আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO)
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর
08/08/2026
https://www.jagonews24.com/m/country/news/1145050
৩২ দিনে ৩১ রোগী সুস্থ / সাপে কাটা চিকিৎসায় দৃষ্টান্ত গড়লো বোচাগঞ্জ হাসপাতাল একসময় সাপে কাটলে গ্রামের মানুষ ছুটতেন ওঝা-কবিরাজের কাছে। ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-কবজ আর কুসংস্কারের কারণে চিকিৎসা পেতে দে...
05/08/2026
#উপজেলা_কথন
#কোটি_টাকার_তৃপ্তি: পর্ব ৪ (সাফল্যের ধারা অব্যাহত!)
সীমাবদ্ধ সম্পদের মাঝেও সঠিক সিদ্ধান্ত আর মজবুত টিমওয়ার্কের কাছে হার মানল আরও একটি বিষধর সাপের কামড়। পর পর তিনটি সফল যুদ্ধের পর, আজ বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমরা যুক্ত করলাম আরও এক প্রাণ বাঁচানোর গল্প—আমাদের ৪র্থ সাফল্য!
আজ এক তরুণী (ইয়াং ফিমেল) সর্প দংশনের শিকার হয়ে জরুরি বিভাগে আসেন। প্রথমে তিনি বা তাঁর স্বজনেরা সাপটি শনাক্ত করতে পারেননি। তবে হাসপাতালে আসার পর আমরা পরীক্ষা করে দংশন স্থানে স্পষ্ট 'বাইট মার্ক' (Bite mark) দেখতে পাই।
আমরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষধর সাপের বিষের চিরচেনা নিউরোলজিক্যাল লক্ষণগুলো (Neurological signs & symptoms) ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে। পরিস্থিতি অনুধাবন করে আমরা এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করিনি। প্রটোকল অনুযায়ী দ্রুত এন্টিভেনম প্রস্তুত করে পুশ করা হয়।
আমাদের পুরো টিমের দ্রুত ও প্রফেশনাল রেসপন্সের বদৌলতে এন্টিভেনম দেওয়ার পর দ্রুতই রোগীর অবস্থার উন্নতি ঘটতে শুরু করে। পরম করুণাময়ের অশেষ রহমতে তরুণীটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও বিপদ মুক্ত!
সাপ না চিনলেও বা না দেখতে পেলেও সময় নষ্ট না করে সরাসরি হাসপাতালে চলে আসাই ছিল আজ এই রোগীর প্রাণ বাঁচানোর সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
প্রতিটি নতুন প্রাণ বেঁচে যাওয়ার পর রোগীর স্বজনদের মুখের স্বস্তির হাসি আমাদের কাজের সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরো টিমের জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন এভাবেই আমরা সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারি।
16/07/2026
#উপজেলা_কথন
#কোটি_টাকার_তৃপ্তি: পর্ব ৩ (সাফল্যের হ্যাটট্রিক!)
জীবন বাঁচানোর এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আমাদের বোচাগঞ্জ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স।
গত ৪ জুলাই এবং ১০ জুলাইয়ের পর, আজ (১৫ জুলাই, ২০২৬) আবারও এক অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিতে হলো আমাদের পুরো টিমকে। মহান আল্লাহতা'আলার অশেষ রহমতে, ১২ দিনের ব্যবধানে আজ আমরা পূর্ণ করলাম বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে এন্টিভেনম দিয়ে রোগী সুস্থ করার এক অবিস্মরণীয় "হ্যাটট্রিক"!
আজ সন্ধ্যার ঘটনা। ডিউটিতে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় ও ব্রিলিয়ান্ট সহকর্মী ডা. শাকিল (Dr. Shakil Ahmmed । উনার জরুরি ফোন পেয়ে এক মুহূর্ত দেরি না করে দৌড়ে ছুটে গেলাম ইমার্জেন্সিতে।
সেখানে গিয়ে দেখি এক তরুণ যুবক, পায়ে সাপের কামড় নিয়ে এসেছে। ঘটনার বয়স মাত্র ১৫ মিনিট! সাধারণত সাপে কাটা রোগীরা ওঝা-বৈদ্যের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করে অবধারিত মৃত্যুর দিকে যায়, কিন্তু এই তরুণ ও তার পরিবার সচেতন হওয়ায় সরাসরি হাসপাতালে চলে এসেছে। এসে দেখি, পায়ের হাঁটুর উপরে শক্ত করে বাঁধন দেওয়া, দংশন স্থান থেকে তখনও তাজা রক্ত ঝরছে (Active bleeding) এবং কামড়ের জায়গাটি বেশ ফুলে গিয়েছে।
রোগী প্রচণ্ড আতঙ্কিত। আমরা প্রথমেই তাকে আশ্বস্ত করলাম, অভয় দিলাম। আমাদের মাথায় তখন ঘুরছে গোখরা সাপের সেই চিরচেনা Syndromic Approach (Syndrome 3)। যেহেতু মাত্র ১৫ মিনিট হয়েছে, তাই তখনও তার শরীরে বিষের কোনো নিউরোলজিক্যাল লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। আমরা তাই কড়া নজরদারিতে রেখে সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।
এরই মধ্যে রোগীর লোকজন একটি বস্তা নিয়ে হাজির। মুখ খুলতেই দেখা মিলল সাক্ষাৎ যমদূতের—এটি একটি বিষধর 'স্পেকটাকল কোবরা' (Spectacled Cobra), যাকে স্থানীয় ভাষায় সবাই 'গোমা সাপ' বা গোখরা বলে চেনে!
সাপটি নিশ্চিত হওয়ার কিছুক্ষণ পরই শুরু হলো আসল ঝড়। ধীরে ধীরে তরুণের শরীরে নিউরোটক্সিসিটির লক্ষণগুলো ডানা মেলতে শুরু করল। চোখের পাতা ভারী হয়ে আসা (Ptosis), শরীর ছেড়ে দেওয়া, তীব্র বমি ভাব এবং কামড়ের জায়গার ফোলা ও তীব্র ব্যথা ক্রমেই বাড়তে লাগল। আমরা বুঝলাম, বিষ শরীরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে, আর এক সেকেন্ডও নষ্ট করা যাবে না!
ডা. শাকিল আজ অসাধারণ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রোগীকে হ্যান্ডেল করছিলেন। দ্রুত আমাদের অভিভাবক UHFPO ডা. Bijoy Kumar Ray স্যারকে ফোনে পুরো পরিস্থিতি জানিয়ে এন্টিভেনমের পারমিশন নিয়ে নেওয়া হলো। এন্টিভেনমের মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Anaphylaxis) সম্পর্কে রোগীর লোকজনকে বিস্তারিত কাউন্সেলিং করে রিটেন কনসেন্ট নেওয়া হলো। রোগীর স্বজনরাও যথেষ্ট হেল্পফুল ও সমঝদার ছিলেন, যা আমাদের কাজকে সহজ করে দিয়েছিল।
প্রটোকল অনুযায়ী এন্টিভেনম দেওয়ার ঠিক পূর্বেই সাবকিউটেনিয়াস ইঞ্জেকশন এড্রিনালিন দিয়ে নেওয়া হলো। এরপর ১০ ভায়াল এন্টিভেনম প্রস্তুত করে পুশ করা শুরু হলো।
কিন্তু পথটা সহজ ছিল না। এন্টিভেনম চলাকালীন রোগীর শরীরে তীব্র রিঅ্যাকশন শুরু হলো—তার বমির বেগ প্রচণ্ড বেড়ে গেল, কন্ডিশন খারাপের দিকে যেতে লাগল। পুরো টিম তখন নার্ভাস না হয়ে চরম পেশাদারিত্ব দেখাল। আমরা দ্রুত এভিল (Avil), কটসন (Cortesone) সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য লাইফ-সেভিং ড্রাগস পুশ করলাম।
ধীরে ধীরে এন্টিভেনম শেষ হওয়ার সাথে সাথে যেন প্রকৃতি শান্ত হলো। ম্যাজিকের মতো রোগীর কন্ডিশন স্ট্যাবল হতে শুরু করল। ভারী চোখের পাতাগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে খুলল, বমি ভাব কেটে গেল, তরুণের চোখেমুখে ফিরে এল প্রাণের স্পন্দন! আলহামদুলিল্লাহ! আরও একটি তরুণ প্রাণ অকাল মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেল। তাকে আপাতত আমাদের ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও বিপদমুক্ত।
আজকের এই শ্বাসরুদ্ধকর বিজয়ের পেছনে পুরো টিমের অবদান অনস্বীকার্য। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা ডা. শাকিল ভাইকে, যার চমৎকার ও সাহসী ইনিশিয়েটিভ আজ টিমকে লিড করেছে। ধন্যবাদ আমাদের সাথে ডিউটিতে থাকা SACMO আতাউর সাহেব, নাজমা আপা সহ প্রতিটি নার্সিং স্টাফকে এবং আমাদের ওয়ার্ডবয়—যাদের দ্রুততম রেসপন্স ছাড়া এই অসাধ্য সাধন করা অসম্ভব ছিল।
পর পর তিনটি অসম্ভবকে সম্ভব করে বোচাগঞ্জ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স আজ প্রমাণ করেছে—সীমাবদ্ধ রিসোর্সের মাঝেও সঠিক 'ক্লিনিক্যাল ডিসিশন' এবং মজবুত 'টিমওয়ার্ক' থাকলে যেকোনো যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব।
দিনশেষে এই যে একজন সুস্থ তরুণের চোখের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলা—এর চেয়ে বড় কোটি টাকার তৃপ্তি একজন চিকিৎসকের জীবনে আর কী-ই বা হতে পারে!
সকল প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলার। বোচাগঞ্জের এই টিমটির জন্য সবাই দোয়া করবেন। ❤️
গত পরশুদিন নতুন ৩০ ভায়াল(৩ ডোজ) এন্টিভেনমের ব্যাবস্থা করে দেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বোচাগঞ্জ (মারুফ হাসান স্যার) কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
কিডনী রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা:
১.সাধারণত আমিষ জাতীয় খাবার কিডনী রোগীদের কম খেতে হবে।তবে।একেবারে বাদ দেয়া যাবে না।দৈনিক ০.৬-০.৮ গ্রাম/কেজি আমিষ উপকারী।
আমিষের উতস: মাছ বা মাংস বা ডিম
ঘনডাল(মুগ/বুটের ডাল),মটরশুঁটি,বাদাম,শিমের বীচি কম খাবেন।
ডাল জাতীয় খাবারেরতুলনায় মাছ বা মাংস খাওয়া ভালো।
যেমন:ওজন ৫০ কেজি হলে ৪০ গ্রাম আমিষ দৈনিক গ্রহণ করতে হবে।
৪০ গ্রাম আমিষ=মাঝারি আকারের ২ পিস মুরগির মাংস
৪০ গ্রাম আমিষ=মাঝারি আকারের ৪ পিস মাছ
২.দৈনিক ১ কাপ জাল দেয়া পাতলা দুধ খাওয়া যাবে এবং দৈনিক ১ কাপ চা খাওয়া যাবে।
৩.চর্বি জাতীয় খাবার(মাখন,ঘি,ভাজা-পোড়া,ফাস্ট ফুড,বার্গার,পিজ্জা)কম খেতে হবে।মাছ,বাদাম এগুলা থেকে চর্বি গ্রহণ করতে হবে।
দিনে ২-৩ টেবিল চামচ তেলের বেশি রান্নায় ব্যবহার না করাই ভালো।
৪.আলাদা করে পাতে লবণ খাওয়া যাবে না।সারাদিনের রান্না করা খাবারে ১ চা চামচের বেশি লবণ ব্যবহার করা যাবে না।
৫.শর্করা জাতীয় খাবার যেমন:সাদা চালের ভাত,রুটি,আলু ইত্যাদি ডায়াবেটিস না থাকলে প্রয়োজনমত খাওয়া যাবে।একজন ৬০ কেজি মানুষের দৈনিক স্বাভাবিক ১৮০-২৫০ গ্রাম শর্করা প্রয়োজন।
চার বাটি(মাঝারি সাইজ) ভাত=২৫০ গ্রাম
৩ টি মাঝারি আলু=২৫০ গ্রাম
১ পিস রুটি=১৫ গ্রাম শর্করা
৬.পানির পরিমাণ :পানি পানের পরিমাণ নির্ভর করে শরীরে পানির উপস্থিতির উপর।পায়ে পানি না জমলে দৈনিক ২-২.৫ লিটার পানি পান করা যাবে।যদি পা ফুলে যায়,শ্বাসকষ্ট হয় এবং শরীরে পানি বেশি থাকে তাহলে দৈনিক আধা লিটার -১ লিটার পানি খাওয়া যাবে।
প্রস্রাবের পরিমাণ +৫০০ মিলি লিটার=প্রতিদিনের পানির হিসাব
৭.কম পটাশিয়াম যুক্ত সবজি বেশি খাবেন:লাউ,চালকুমড়া,মিষ্টিকুমড়া, ঝিংগা,পটল,চিচিঙ্গা, লাউ,মুলা,শসা,শিম(বীচি ছাড়া),ধুন্দুল, ডাটা,লাউশাক,কলমি শাক,লালশাক খেতে পারবেন।
৮.যে সব সবজি সিদ্ধ করে পানি ফেলে রান্না করতে হবে-- মিষ্টিকুমড়া,আলু,কাঁচা পেঁপে,কাচাকলা,করলা,গাজর,টমেটো, মুলা।
৯..ফল:আপেল(অর্ধেকটা,পাকা পেঁপে(২টছোটটুকরা),নাসপাতি(অর্ধেকটা),পেয়ারা,আনারস,জাম্বুরা,জামরুল,বেল,কমলা(অর্ধেকটা)।
১০.চিনি,গুড়,মধু,মিষ্টি,দুধ জাতীয় খাবার,ডিমের সাদা অংশ,চাল,পাউরুটি,আটা,সুজি,সাবু খেতে পারবেন।তবে ডায়াবেটিস থাকলে পরিমিত পরিমাণে খাবেন।
১১.সম্ভব হলে প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটুন(সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন)।
১২.কিডনী রোগীকে ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোকক্কাল,হেপাটাইটিস বি,কোভিড-১৯,Tdap, হারপিস জোস্টারের টিকা দিতে হবে।
১৩.ডায়রিয়া হলে ওরাল স্যালাইন গ্রহণ করুন।পানিশূন্যতা/প্রস্রাবের ইনফেকশনজনিত ব্যাপারে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
১৪.ব্যথানাশক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সেবন নিষেধ। হোমিওপ্যাথি, কবিরাজি, হারবাল ওষুধ সেবন করবেন না।
১৬.ফসফেট বেশি হলে ঘন ডাল এবং ঘন দুধ খাবেন না।
কম খাবেন/নিষিদ্ধ :
আমিষ:
গরুর মাংস
খাসির মাংস
হাঁসের মাংস
কলিজা
মগজ
চিংড়ি মাছ
মাছের ডিম
সামুদ্রিক মাছ
শুটকি মাছ
সবজি:
সজনে
টমেটো
ঢেঁড়স
বরবটি
কচু এবং কচু জাতীয় সবজি
মিষ্টি আলু
পালংশাক
পুঁইশাক
ধনেপাতা
ফুলকপি
বাঁধাকপি
বেগুন
ফল:
পাকা আম
লিচু
আনার
পাকা কলা
আমড়া
কামরাংগা
বিলম্বি
আমলকি
ডাবের পানি
আংগুর
মাল্টা
লেবু
বড়ই
কাজুবাদাম
খেজুর
তাল
অন্যান্য:
বোতলজাত খাবার,চিপস,পপকর্ণ,বাদাম,আচার,কোমল পানীয়,সস,মুড়ি,চানাচুর,আইসক্রিম,কেক,ক্রিম কম খাবেন।
04/07/2026
#উপজেলা_কথন
#গোখরা_সাপ
#এন্টিভেনম
বোচাগঞ্জ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে কর্মরত আছি।ইন্ডোর, আউটডোর, ইমার্জেন্সিতে প্রচুর রোগীর চাপ। গতকাল নাইট ডিউটিতে ছিলাম ইমার্জেন্সিতে। এক রাতেই অন্যান্য অসংখ্য রোগীর পাশাপাশি তিন-তিনটি সাপের কামড়ের রোগী এসেছে। প্রথম দুটি রোগীর ক্ষেত্রে নির্বিষ সাপ হওয়ায়, হাসপাতালে অবজারভেশনে ভর্তি রেখেছিলাম তাদের। কিন্তু সর্বশেষ সকালের রোগী ছিলেন ব্যাতিক্রম।
সকালের দিকে আর্জেন্টিনা vs কেপ-ভার্দের খেলা শেষে ইমার্জেন্সিতে রোগী দেখার মাঝেই এক মধ্য বয়স্ক রোগীর প্রবেশ। হাত বাঁধা। রোগীর কাছে জানলাম যে, সাপ কামড় দিয়েছে। সাপের কথা জিজ্ঞেস করতেই বললেন, গোখরা। কামড় খাবার পর নিজেই সাপ মেরেছেন। কিছুক্ষণ পর উনার লোক মরা সাপ নিয়ে আসলেন, দেখি এটা গোখরা সাপই ছিল!! বিষধর গোখরা সাপ!!
হাত দেখলাম। কব্জির কাছে ফুলে গিয়েছে, বাইট সাইটে রক্ত লেগে আছে।
রোগীকে অবজারভেশনে রাখা হল। হাত ফোলা বাড়ে কিনা। চোখের পাতা ভারী হয় কিনা। গোখরা সাপের কথা মাথায় রেখেই Syndromic approach এর syndrome 3 মাথায় ঘুরছিলো। বিষধর গোখরার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র swelling+ neurotoxicity থাকবে, এখানে 20 min WBCT নেগেটিভ থাকবে!!! এটা নেগেটিভ হওয়াতেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্বিষ সাপের ট্যাগ দিয়ে দেয়।
তখনি 20 minute whole blood clotting test করে নিলাম। রক্ত জমাট বেঁধে গেল। নেগেটিভ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগীর আরো বমি ও ঘুম ঘুম ভাব। চোখের পাতা ভারী, চোখে ডাবল ভিশন হচ্ছে। হাতের ফোলা বাড়ছে। রোগী এখন আর ভালো নেই। ডিউটিতে আমি, সাথে সহকর্মী আতাউর সাহেব আর ওয়ার্ডবয় তুষার দা।অবশেষে আল্লাহর উপর ভরসা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, যা হবার হবে।এন্টিভেনম এখানেই দেওয়া হবে। এন্টিভেনমের রিএকশনেও ৫০% রোগী মারা যায়।তাই রোগীর অভিভাবকদের ডেকে পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে বললাম। এন্টিভেনমের রিএকশনের বিষয়ে কাউন্সেলিং করে কনসেন্ট নিয়ে ফেললাম আমরা। পুরো ডিসিশনটাই নেয়া হচ্ছে ক্লিনিক্যাল দিক থেকে। দ্রুত আমাদের UHFPO Bijoy Kumar Ray স্যারকে ফোন দিয়ে পুরো বিষয়টি জানিয়ে এন্টিভেনম এর অনুমতি নিয়ে রাখলাম।
দ্রুত নার্সিং স্টেশনে ফোনে কথা বলে উনাদের সাহায্য চাওয়া হলো। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তারা রেসপন্স করলেন।
এন্টিভেনম দেয়া হবে। ১০ টা ভায়াল। প্রতিটাতে ১০ মিলি পাতিত পানি দিয়ে দ্রবণ বানানো হবে। পুরো ১০ টার দ্রবণ পুশ করা হবে ১০০ মিলি নরমাল স্যালাইন এ। সহকর্মী নার্সদের সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এন্টিভেনম প্রস্তুত করা হলো। রোগীর শরীরে পুশ করা হল। ৩০ মিনিট ধরে যাবে। আগেই এড্রিন দিয়ে নেয়া হয়েছে।
ততক্ষণে মর্নিং ডক্টর ডা. Shakil Ahmmed ভাইও চলে এসেছেন। একটু পর আউটডোর থেকে ডা. Shifat Chowdhury ভাই ও ডা. তুবাও চলে এলেন ইমার্জেন্সিতে। ব্রিলিয়ান্ট সহকর্মীদের উপস্থিতিতে কনফিডেন্স আরো বেড়ে গেলো। সকলে মিলে রোগীর সকল ভাইটালস ও কোন রিএকশন হচ্ছে কিনা তা চেক করা হলো।
এখন রোগীকে কড়া চোখে নজরদারি। ধীরে ধীরে তার চোখ এর পাতার নড়াচড়া বাড়ছে। কথা একটু বাড়ছে। ভালো লক্ষণ। বমি ভাব ও কমে গিয়েছে। চোখেও এখন স্বাভাবিক দেখছেন।
১০.০০ টা বাজে। রোগী মোটামুটি স্টাবল। স্বাভাবিক কথা বলছেন। তবে ২ ঘণ্টার মধ্যে neurotoxicity ঠিক না হলে আবার এন্টিভেনম দেয়া লাগবে। তাই অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে পরামর্শ ও রোগীর লোকদের ইচ্ছাকে সম্মান করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হল। রোগীর লোকের চোখেমুখে কৃতজ্ঞতার ছাপ। ইমার্জেন্সি রুমে আমাদের পুরো টীম ও সন্তুষ্ট।
সকাল ১০.৩০ এর দিকে ডিউটি শেষে বাসায় ফিরলাম। রোগীর আত্মীয়ের নাম্বার রেখে দিয়েছিলাম।বিকালে ফোন দিলাম। ধরল। চিনল। দিনাজপুর মেডিকেলেই আছে তারা। সেখানে আর এন্টি ভেনম দেয়ার প্রয়োজন হয়নি। রোগী একদম সুস্থ তখন। রোগীকেই ফোন ধরিয়ে দিল। রোগী বলে, আমি এখন পুরোপুরি ভালো আছি স্যার।" একদম তরুণ তেজীয়ান কণ্ঠ।
ফোন রাখলাম। ভালোই লাগছে।
রাতে ১ ঘন্টা ঘুমও হয়নি....কিন্তু যে তৃপ্তির মাধ্যমে সকাল শেষ হয়েছে, সেটা কোটি টাকাতেও পাওয়া সম্ভব নয়।
সবশেষে বোচাগঞ্জ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত এন্টিভেনমের ব্যাবস্থা করার জন্য বোচাগঞ্জের সুযোগ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বোচাগঞ্জ (মো: মারুফ হাসান স্যারকে) অসংখ্য ধন্যবাদ।
24/06/2026
জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন এর অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা'২৬
সেতাবগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে পোস্টিং হওয়ার পর এতো বেশী কুকুরের কামড় দেয়া পেশেন্ট আর বিভৎস জখম দেখতে হয়েছে যে, আমি নিজেই এখন কুকুর দেখলে পাজলড হয়ে যাই। সেতাবগঞ্জ বাজারে একটি কুকুরের কামড়েই একদিনে ৯ জন মানুষের চিকিৎসা দিতে হয়েছে , যাদের প্রত্যেকের জখমের মাত্রা ছিল ভয়াবহ রকমের। সম্ভবত হাইকোর্ট থেকে কুকুর নিধনের নিষেধাজ্ঞা রিলেটেড একটি রায় হওয়ার পর থেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন এই বিষয়টি নিয়ে আর মাথা ঘামায় না। শহরে ইট-কাঠের পশু(কুকুর)প্রেমিকদের মেকি দরদ আর উপজেলা-গ্রাম পর্যায়ে বাস্তবতার বিস্তর ফারাক রয়েছে। প্রতিদিন কত-শত বাচ্চা যে কুকুরের হিংস্রতার শিকার হচ্ছে এটি হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিজে না দেখলে অনুধাবন করার মতো নয়। নিজ নিজ জায়গা থেকে এই বিষয়ে ভয়েস রেইজ না করলে, একদিন নিজে/ নিজের পরিবারের কাউকে কুকুরের দুই চোয়ালের মাঝে আবিষ্কার করবেন।
28/05/2026
কুরবানির মাংস কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত হাত/হাতের আঙ্গুল অথবা অন্য কোনো অঙ্গ/ অঙ্গবিশেষ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। কাজেই অধিকতর সতর্কতার বিকল্প নেই।
বিচ্ছিন্ন অঙ্গটি আধুনিক মাইক্রো/ সুপারমাইক্রো সার্জিক্যাল টেকনিক ব্যবহার করে পুনস্থাপন করা সম্ভব যাকে আমরা 'রিপ্লান্টেশন' সার্জারী বলি। এর পুর্ব শর্ত হচ্ছে বিছিন্ন হওয়া অঙ্গটি চিকিৎসার পুর্বে যথাযথ সংরক্ষন করা।
বিচ্ছিন্ন হওয়া অঙ্গটি কিভাবে সংরক্ষন করবেন?
১। প্রথমে বিছিন্ন হওয়া অঙ্গটি পানিতে বা সম্ভব হলে স্যালাইন দিয়ে ভাল ভাবে পরিস্কার করতে হবে।
২। এরপর স্যালাইন দিয়ে ভেজানো একটি পরিস্কার গজ বা কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে অঙ্গটি ভাল ভাবে মুড়িয়ে নিতে হবে।
৩। মোড়ানো অঙ্গটি এরপর একটি এয়ার টাইট ব্যাগে স্থানান্তর করতে হবে। এক্ষেত্রে পলিব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪। এরপর আরেকটি ব্যাগে কিছু বরফ নিতে হবে এবং পলিব্যাগে রাখা অঙ্গটি সবশেষে বরফের ব্যাগের ভেতর রাখতে হবে এবং ভালভাবে এয়ারটাইট করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনভাবেই অঙ্গটি সরাসরি বরফের সংস্পর্শে না আসে।
এভাবে সংরক্ষন করে দ্রুত মাইক্রো/সুপারমাইক্রো সার্জারী সেটআপ সমৃদ্ধ (মাইক্রোস্কোপ) হাস্পাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
নিম্নের সরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা পাবেন
১. জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট
২. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
২. শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৩. সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৪. চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৫. খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৬. রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৭. রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৮. ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
৯.কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতালে সার্জারী বিভাগে এক্সপার্ট থাকা সাপেক্ষে রিকন্সট্রাক্টিভ প্লাস্টিক সার্জারি হবে।
©
ছবিতে বিচ্ছিন্ন আঙ্গুল সংরক্ষনের পদ্ধতি দেখানো হয়েছে।
ডা. মো: আবদুল্লাহ ইবনে এনাম
এমবিবিএস, বিসিএস(স্বাস্হ্য)
পিজিটি(মেডিসিন), সিসিডি(বারডেম)
এফসিপিএস- শেষ পর্ব ( গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজি)
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ( RMO)
বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স, দিনাজপুর
27/05/2026
Category
Website
Address
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when Dr. Md. Abdullah Ibne Enam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.
