TANHA আপু
TT: nadiya.quenn0
ig: nadiya.quenn0
FF:4691585293
⏤͟͟͞͞ ᴛᴀɴʜᴀᥫ᭡
আমার পরিক্ষা শেষ হবে ১৬ তারিখ আর ১৭ তারিখ থেকে রেগুলার আমি পার্ট গুলো দেবো চিন্তা করো না🐸। ভাবতেছি নাবিলা সৈয়দ আপুর মতো আমিও কাউকে টপকায় দেই🐸 যাইহোক এইটা পরের ব্যাপার এখন একটা চমক আসতে চলেছে তোমাদের জন্য 🫠
゚viralシ
゚viralシ
30/06/2026
𝐏𝐚𝐫𝐭:- 𝟏𝟓
দেখতে দেখতে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে গেল। বাড়ির ভিতরে উৎসবের আমেজ। এলেসা আর মিষ্টি দুজনে হাত ধরাধরি করে পুরো বাড়ি ঘুরে ঘুরে ডেকোরেশন দেখছে। বেলুন, লাইট, ফুল — সবকিছু এলেসার পছন্দমতো সাজানো। মিষ্টি লাফাতে লাফাতে বলছিল, “আপু, দেখো দেখো! এই বেলুনগুলো কী সুন্দর!”
এলেসা হাসতে হাসতে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। তারপর দুজনে বেসমেন্টের একটা গেমিং রুমে চলে গেল। রুমটা অত্যাধুনিক — অনেকগুলো গেমিং পিসি, বড় বড় স্ক্রিন, আরামদায়ক চেয়ার। এলেসা একটা পিসিতে বসে Mobile Legends: Bang Bang খেলতে শুরু করল। তার আইডি নাম 𝐌𝐍 𝐀𝐥𝐞𝐬𝐬𝐚। টিমের সবার নামের আগে 𝐌𝐍 থাকে। মিষ্টি চুপচাপ পাশে বসে তা দেখছিল। মাঝে মাঝে হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছিল।
এলেসা খেলতে খেলতে হাসছিল। তার চনচলে স্বভাবটা পুরোপুরি ফুটে উঠেছে। কিন্তু তার মাথায় একটা চিন্তা ঘুরছিল — আজ রাত ১২টায় তার ৫০০ বছর পূর্ণ হবে। কিন্তু সে কাউকে কিছু বলছে না।
রাত ১২টা বাজার অপেক্ষায় সবাই লিভিং রুমে জড়ো হয়েছে। মিহিদ, আভি, রিটস, হিরো, নেহাম, নেহা, মায়া, মিষ্টি, জোনাকি, দিপিকা — সবাই উপস্থিত। আভি মিহিদের ভাই তাই ও আছে এইখানে কিন্তু ও জানেই না আজ ওর জন্য বিশেষ একটা দিনে পরিনত হবে।
এলেসা সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসতেই সবাই তাকিয়ে রইল। সে পরেছে সেই লাইট পিংক গাউনটা। দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। তার চুল খোলা, গলায় ড্রাগন লকেট, চোখে একটা অদ্ভুত আলো।
আভি তাকে দেখে অবাক হয়ে গেল। মায়া হেসে এগিয়ে এসে বলল, “এলেসা, এ হলো আভি। মিহিদের ছোট ভাই। আভি, ও হচ্ছে এলেসা আমার বোন।”
এলেসা আভির দিকে তাকাল। কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। সে তাকে একদম ইগনোর করে নেহার সাথে কথা বলতে বলতে চলে গেল। আভি একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেল।
ঠিক ১২টায় কেক কাটা শুরু হলো। এলেসা কেক কেটে একে একে সবাইকে খাইয়ে দিল। রিটসকেও। রিটস চুপচাপ কেক খেল, কিন্তু তার চোখ এলেসার উপর স্থির।
এরপর গিফট খোলা শুরু হলো। সবাই কিছু না কিছু দিয়েছে — সবগুলোই দামি আর সুন্দর। এলেসা সব দেখে খুব খুশি হয়ে সবাইকে জড়িয়ে ধরল। শেষে রিটসের গিফট খুলল — সেই রেড ডায়মন্ডের নেকলেস। সবাই তার রিয়েকশন দেখার জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু এলেসা তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। শুধু একবার নেকলেসটা হাতে নিয়ে দেখল, তারপর সেটা টেবিলে রেখে দিল।
গিফট দেখা শেষ হলে সবাই সোফায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল। ঠিক তখন মিহিদ কয়েকটা টিকিট বের করে রাখল। সবাই দেখল — এটা আমেরিকা যাওয়ার টিকিট।
সবাই অবাক হয়ে গেল। মিহিদ হেসে বলল, “কাল রাত ১০টায় ফ্লাইট। আমরা খুব তাড়াতাড়ি একসাথে ফিরে যাচ্ছি… সেটার্নে।”
আভি তো একটু বেশিই খুশি। সে জন্মের পর থেকে পৃথিবীতে আছে। নিজের গ্রহে ফিরে যাওয়ার আনন্দ তার চোখে স্পষ্ট।
সবাই ঠিক করল — খাওয়াদাওয়া করে সবাই রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে। কাল সকাল থেকে সব গুছাতে হবে। আমেরিকা গিয়ে তারা একটা সিক্রেট জায়গায় যাবে। অনেক ড্রেস আর জিনিসপত্র নিয়ে যাবে।
এলেসা চুপচাপ সব শুনছিল। তার মনে অনেক কথা ঘুরছিল। কিন্তু সে কিছু বলল না। শুধু মিষ্টিকে কোলে নিয়ে রুমের দিকে চলে গেল।
────────────────────────────
দেখতে দেখতে রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে গেল। চৌধুরী বাড়িতে এখন একটা অন্যরকম ব্যস্ততা। সবাই নিজেদের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছে। কাপড়, গিফট, জরুরি জিনিস — সবকিছু সুটকেসে ভরা হচ্ছে। এলেসা তার রুমে বসে চুপচাপ জিনিস গুছাচ্ছিল। তার মুখে কোনো হাসি নেই। মিষ্টি তার পাশে বসে খেলনা গুছিয়ে দিচ্ছিল।
মিহিদ বারবার সবাইকে তাড়া দিচ্ছিল। “জলদি করো। সময় বেশি নেই।”
সন্ধ্যা হতেই সবাই বেরিয়ে পড়ল এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে। গাড়িতে উঠার সময় সবার মধ্যে একটা আলাদা আনন্দ। আভি তো খুব উত্তেজিত। সে জন্মের পর থেকে পৃথিবীতে আছে, এবার নিজের গ্রহে ফিরে যাচ্ছে। মায়া মিহিদের হাত ধরে বসেছে। হিরো আর নেহাম পিছনের গাড়িতে হাসাহাসি করছে। রিটস চুপচাপ ড্রাইভ করছে। তার চোখ ভিউ মিররে বারবার এলেসার দিকে চলে যাচ্ছে।
এলেসা জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। তার মনে অনেক কথা ঘুরছিল। “এত বছর পৃথিবীতে কাটিয়ে এখন ফিরে যাচ্ছি… কেমন লাগবে?” তার চোখে একটা অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি।
এয়ারপোর্টে পৌঁছে সবাই বোর্ডিং করল। ফ্লাইটে উঠে সবাই নিজের সিটে বসল। এলেসা জানালার পাশে বসেছে। মিষ্টি তার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে।
প্রায় ২০ ঘণ্টা পর ফ্লাইট আমেরিকায় ল্যান্ড করল। সবাই ক্লান্ত কিন্তু উত্তেজিত। এয়ারপোর্ট থেকে বের হতেই দেখা গেল রিটসের এসিস্টেন্ট অপেক্ষা করছে। সাথে অনেকগুলো গার্ড। তারা দুই ঘণ্টার জার্নি করে পৌঁছাল রিটসের বাংলোতে। বাংলোটা একটা জঙ্গলের কাছাকাছি — শান্ত, নির্জন, আর অত্যাধুনিক।
সবাই খুব টায়ার্ড। এলেসা মিষ্টিকে কোলে নিয়ে ভেতরে ঢুকল। তার পা ভারী হয়ে গেছে। রিটস সবার পিছনে চুপচাপ হাঁটছিল। তার চোখ এলেসার উপর।
বাংলোর ভিতরটা বিশাল। সবাই নিজ নিজ রুমে চলে গেল। এলেসা তার রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। সে বিছানায় শুয়ে পড়ল। কিন্তু ঘুম আসছিল না। তার মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরছিল। “ফিরে গিয়ে কী হবে? সবকিছু কি আগের মতোই থাকবে?”
রিটস তার রুমে বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। তার আঙুল আবার সেই রাগী রিদমে টোকা দিচ্ছিল। “এলেসা… এখনো আমাকে ক্ষমা করেনি।”
রাতটা নীরবে কেটে যাচ্ছিল।
─────────────────────
বাংলোতে কয়েক ঘণ্টার বিশ্রামের পর সবাই আবার উঠে পড়ল। রাত তখন গভীর। কেউ কোনো কথা বলছিল না। সবার মুখে একটা গম্ভীরতা। এলেসা মিষ্টির হাত ধরে বের হলো। সবাই বাংলোর পিছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে জঙ্গলের ভিতর প্রবেশ করল।
জঙ্গলটা ঘন আর অন্ধকার। কিন্তু সবাই যেন পথ চেনে। কিছুক্ষণ হাঁটার পর তারা একটা খোলা জায়গায় এসে থামল। মিহিদ সামনে এগিয়ে গিয়ে পাতা সরাতেই মাটিতে একটা বিশাল দরজা দেখা গেল। সে পাসওয়ার্ড দিতেই দরজা খুলে গেল।
ভিতরে ঢুকতেই সবাইকে স্ক্যান করা হলো। হাত-পা, চোখ, আঙুলের ছাপ — সবকিছু চেক হয়ে গেল। তারপর তারা একটা বিশাল রুমে ঢুকল। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে একটা অত্যাধুনিক স্পেসশিপ। পৃথিবীর মানুষ যা শুধু সিনেমায় দেখেছে, সেটা এখানে বাস্তব।
হিরো আর এলেসা সামনে এগিয়ে গিয়ে একটা কম্পিউটারে কিছু টাইপ করতেই স্পেসশিপটা অ্যাকটিভ হয়ে গেল। দরজা খুলে গেল। সবাই ভেতরে ঢুকে পড়ল। এলেসা আর হিরো কন্ট্রোল সিস্টেমের সামনে বসল। সামনে শুধু দুটো চেয়ার।
ওরা কয়েকটা সুইচ টিপতেই বিশাল রুমের সিলিং দুই ভাগ হয়ে খুলে গেল। স্পেসশিপটা ধীরে ধীরে উপরে উঠতে শুরু করল। সিলিং আবার বন্ধ হয়ে গেল।
এলেসা আর হিরো আরও কয়েকটা সুইচ টিপতেই স্পেসশিপটা আকাশের দিকে ছুটে চলল। মাত্র ১৯ সেকেন্ডের মধ্যে তারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে চলে এল।
হিরো একটা সুইচ টিপে সবার সিটবেল্ট খুলে দিল। সবাই মুক্ত হয়ে গেল। আভি সামনের বড় গ্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে বাইরের দৃশ্য দেখছিল। তার চোখে অবাক বিস্ময়। “কী সুন্দর…”
ওরা মাত্র ৪ মিনিটেরও কম সময়ে একটা গ্রহ পার করে ফেলল। দূরে শনি গ্রহ দেখা যাচ্ছে। তার বলয়গুলো জ্বলজ্বল করছে।
এলেসা জানালার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। তার মনে অনেক কথা ঘুরছিল। “এত বছর পর আবার ফিরে যাচ্ছি… কেমন লাগবে?” তার চোখে একটা অদ্ভুত আলো।
রিটস এক কোণে চুপ করে বসে ছিল। তার চোখ এলেসার উপর। সে কিছু বলছিল না, কিন্তু তার মাথায় অনেক কিছু চলছে।
মিহিদ সবাইকে দেখে হালকা হেসে বলল, “আর কিছুক্ষণ… তারপর আমরা বাড়ি।”
স্পেসশিপটা দ্রুত গতিতে শনির দিকে ছুটে চলেছে। ভ্যালুরিয়ার দিকে।
To be continued...
゚viralシ
Click here to claim your Sponsored Listing.
Website
Address
Gazipur
