Jarif Billah

Jarif Billah

Share

Assalamualikum.welcome to my page

01/06/2026

মাশাআল্লাহ ❤️❤️

31/05/2026

উড়ো চিঠি পাঠিয়ে দিলাম পরে নিও❤️❤️

30/05/2026

যারা সাজেক গেছে তারা জায়গাটা চিনবে

30/05/2026

খুব সুন্দর ফুলগুলো

27/05/2026

Eid Mubarak ❤️❤️

19/05/2026

না পারলাম কারো চোখে ভালো মেয়ে হতে,
না পারলাম আদর্শ বোন হতে.....
স্ত্রী হিসেবেও হয়তো অপুর্নই রয়ে গেলাম,
মা হিসেবেও প্রতিদিন নিজেকেই প্রশ্ন করি।

তবু দিনের শেষে ক্লান্ত এই আমিটা শুধু একটু ভালোবাসা আর শান্তি খোজে 💔

18/05/2026

অসমাপ্ত অপেক্ষা

একটি অনুভূতির উপন্যাস

চরিত্র

মেহরীন — সাধারণ পরিবারের শান্ত স্বভাবের একটি মেয়ে

আরিয়ান — ধনী পরিবারের এক জেদি, গভীর ভালোবাসতে জানা ছেলে

---

প্রথম অধ্যায়

প্রথম দেখা

ছোট্ট এক শহরে মেহরীনের জীবনটা ছিল খুব সাধারণ। ছোট্ট টিনের ঘর, সংসারের টানাপোড়েন, স্কুলে যাওয়া আর বিকেলে মায়ের কাজে সাহায্য করা— এই ছিল তার পৃথিবী।

মেহরীন তখন ক্লাস এইটে পড়ে। বয়সটা এমন, যখন মেয়েরা আয়নায় নিজেকে একটু বেশি দেখে, বন্ধুদের সাথে হেসে কথা বলে, আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছোট ছোট স্বপ্ন দেখে। কিন্তু মেহরীন অন্যরকম ছিল। সে খুব শান্ত, নিজের মধ্যেই থাকতো।

সেই সময়ই প্রথম তার জীবনে আসে আরিয়ান।

আরিয়ান ছিল তাদের এলাকার সবচেয়ে ধনী পরিবারের ছেলে। বড় বাড়ি, গাড়ি, নামডাক— কিছুই কম ছিল না তাদের। ছেলেটা দেখতে খুব একটা সুন্দর না হলেও তার চোখে ছিল অদ্ভুত এক মায়া।

প্রথম দিন স্কুল ছুটির পরে মেহরীন বুঝতে পারে কেউ তাকে অনুসরণ করছে। ভয় পেয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখে আরিয়ান কিছু দূরে দাঁড়িয়ে আছে।

মেহরীন বিরক্ত হয়ে বলেছিল,

— “আমার পিছনে আসছেন কেন?”

ছেলেটা মাথা নিচু করে বলেছিল,

— “তোমাকে ভালো লাগে।”

মেহরীন চোখ উল্টে চলে গিয়েছিল।

তার কাছে বিষয়টা বিরক্তিকর ছিল। কারণ সে জানতো, ধনী ছেলেদের ভালোবাসা বেশিদিন থাকে না। আর সে নিজেও কখনো ভাবেনি এমন কারও সাথে সম্পর্ক করবে।

কিন্তু আরিয়ান থামেনি।

প্রতিদিন সকালে মেহরীন বাড়ি থেকে বের হলেই রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতো সে। মেহরীন স্কুলে যেত, আরিয়ান দূর থেকে হাঁটতো। বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আবার ফিরে যেত।

একদিন মেহরীন রাগ করে বলেছিল,

— “আপনার কোনো কাজ নেই?”

আরিয়ান হেসে বলেছিল,

— “আছে তো। তোমাকে দেখা।”

মেহরীন ভীষণ রেগে গিয়েছিল।

কিন্তু আশেপাশের মানুষজন মজা পেতে শুরু করলো। কেউ বলতো,

— “ছেলেটা তো একেবারে পাগল।”

কেউ আবার বলতো,

— “মেহরীন অনেক অহংকারী।”

মেহরীন এসব শুনে আরো গুটিয়ে যেত।

তবু আরিয়ান প্রতিদিন গাছের গায়ে মেহরীনের নাম লিখতো, রাস্তার ধুলোয় নাম আঁকতো, বন্ধুদের সামনে নির্দ্বিধায় বলতো,

— “আমি শুধু মেহরীনকেই বিয়ে করবো।”

সবাই হাসতো।

শুধু মেহরীন হাসতো না।

কারণ তার মনে ভয় ছিল।

গরিব মানুষের মেয়েরা স্বপ্ন দেখতে শিখে না।

তারা শুধু বাস্তবতা বুঝে বড় হয়।

---

দ্বিতীয় অধ্যায়

অদ্ভুত অনুভূতি

এভাবেই কেটে গেল কয়েকটা বছর।

আরিয়ান তখন এসএসসি দিয়ে ফেলেছে। একদিন হঠাৎ খবর এলো সে শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

মেহরীন সেদিন অদ্ভুত শান্তি পেয়েছিল। মনে হয়েছিল— “যাক, এবার মুক্তি।”

কিন্তু সে বুঝতে পারেনি, কিছু মানুষ দূরে গেলেও মায়া রেখে যায়।

কয়েক মাস পরে হঠাৎ একদিন ফোন এলো।

— “হ্যালো… মেহরীন?”

ওপাশের কণ্ঠটা চিনতে এক মুহূর্তও লাগেনি।

— “আপনি আবার ফোন দিলেন কেন?”

— “তোমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছিল।”

মেহরীন ফোন কেটে দিয়েছিল।

কিন্তু ফোন আসা বন্ধ হয়নি।

দিনের পর দিন, মাসের পর মাস আরিয়ান একইভাবে ফোন করতো। কখনো রাগ করতো না। কখনো জোর করতো না। শুধু কথা বলতে চাইতো।

এরই মধ্যে মেহরীন কলেজে উঠলো।

একদিন সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে ফোনে আরিয়ান বলেছিল,

— “তুমি যদি কখনো হারিয়ে যাও?”

মেহরীন হেসে বলেছিল,

— “আমি হারিয়ে গেলে আপনার কী?”

ওপাশে কিছুক্ষণ চুপ থেকে আরিয়ান বলেছিল,

— “আমার পুরো পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে।”
-- আমি পাগল হয়ে যাবো। "

আমার কেনো জানিনা মনে হচ্ছে তোমাকে সারাজীবনের মতো হারিয়ে ফেলতছি।
তুমি আমার হাতে বাইরে চলে যাচ্ছ।

সেদিন প্রথমবার মেহরীনের বুকটা কেঁপে উঠেছিল।
চোখের কোনে পানি চলে আসলো।

সে বুঝতে পারছিল না কেন ছেলেটার কথাগুলো তার এত ভালো লাগলো।

তিন বছর ধরে একটা মানুষ যদি একইভাবে কাউকে ভালোবাসে…

তাহলে হয়তো সবচেয়ে শক্ত মনটাও নরম হয়ে যায়।

মেহরীনেরও গেল।

সে ধীরে ধীরে প্রেমে পড়ে গেল। এর পরে তাদের ভালবাসার সুন্দর সৃতিময় দিনগুলো কাটতে লাগল....

---

তৃতীয় অধ্যায়

হারিয়ে যাওয়া

মেহরীন তখন এইচএসসি ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে।

ঠিক তখনই বিপদটা এলো।

আরিয়ানের পরিবার বুঝে গেল তাদের ছেলে সত্যিই মেহরীনকে ভালোবাসে।
তাই তারা ছেলেকে বিদেশে পাঠাবার সমস্ত বন্দোবস্ত করে ফেল্ল।

এক রাতে কাঁদতে কাঁদতে মেহরীন বলেছিল,

— “চলো বিয়ে করি। লুকিয়ে বিয়ে করে তুমি বিদেশ চলে যাও। আমি অপেক্ষা করবো।”

আরিয়ান অনেকক্ষণ চুপ ছিল।

তারপর শুধু বলেছিল,

— তারপরে বলেছিলো চলো তাইলে বিয়ে করি।
কিন্তু নানা অজুহাতে বিয়েটা আর করা হলোনা।

মেহরীন রেগে গিয়েছিল।

বলেছিলো আরিয়ান..

— “তোমাকে ছাড়া কি আমি সুখে থাকবো?”

কিন্তু আরিয়ান আর কিছু বলেনি।

কয়েকদিন পর সে না বলেই বিদেশ চলে গেল।

মেহরীনের পৃথিবীটা থেমে গেল।

সে রাতের পর রাত কাঁদতো। খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। নিজের হাত কেটে ফেলছিলে।

রেজাল্ট খারাপ হলো। জীবন এলোমেলো হয়ে গেল। এভাবে কয়েক মাস কেটে গেলে।

হটাৎ কয়েক দিন পর থেকে মাঝে মাঝে আরিয়ান ফোন করতো।

মেহরীন ধরতো না।

কারণ সে বুঝে গিয়েছিল—

যে মানুষকে পাওয়া যাবে না, তাকে বেশি ভালোবাসা মানে নিজেকে শেষ করে দেওয়া।

তারপর সময় বদলালো।

মেহরীনও বদলে গেল।

---

চতুর্থ অধ্যায়

নতুন জীবন

কয়েক বছর পরে মেহরীনের বিয়ে হলো।

স্বামী ভালো মানুষ ছিল। সংসার হলো। সন্তান হলো।

ধীরে ধীরে মেহরীন শিখে গেল দায়িত্ব নিয়ে বাঁচতে।

সে ভাবতো, আরিয়ান হয়তো তাকে ভুলে গেছে।

কিন্তু কিছু ভালোবাসা ভুলে যাওয়া যায় না।

একদিন হঠাৎ জানতে পারলো, আরিয়ান এখনো বিয়ে করেনি।

পরিবারের চাপে অসংখ্য সম্বন্ধ এলেও সে রাজি হয়নি।

মেহরীন অবাক হয়েছিল।

এত বছর পরেও কেউ একজন তাকে একইভাবে ভালোবাসতে পারে— এটা তার বিশ্বাস হচ্ছিল না।

অনেক ভেবেচিন্তে একদিন সে মেসেজ পাঠালো।

মুহূর্তের মধ্যে রিপ্লাই এলো।

আরিয়ান যেন আজও সেই আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে।

একই ভালোবাসা। একই অপেক্ষা। একই পাগলামি।

মেহরীন অনেক বুঝালো,

— “বিয়ে করো। সুখে থাকো। আমাকে মুক্তি দাও।”

আরিয়ান শুধু বলেছিল,

— “একবার দেখতে চাই তোমাকে… শুধু একবার।”

মেহরীনের বুকটা কেঁপে উঠেছিল।

তবু সে না বলেছিল।

কারণ সে জানতো, কিছু দেখা মানুষকে আবার ভেঙে দেয়।
এছাড়া সে তার স্বামীর বিশ্বাস ভাঙতে চায়নি।

---

শেষ অধ্যায়

অসমাপ্ত অপেক্ষা

হঠাৎ একদিন খবর এলো— আরিয়ান বিয়ে করছে।

বড় এক ধনী পরিবারের মেয়ের সাথে।

মেহরীন খবরটা শুনে চুপ হয়ে গিয়েছিল।

তার বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠেছিল।

তবু সে হাসলো।

আস্তে করে বললো,

— “আল্লাহ, ওকে সুখে রেখো।”

সেদিন রাতে ঘুমানোর আগে মেহরীন অনেকক্ষণ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

আকাশে চাঁদ উঠেছিল।

তার মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর কিছু ভালোবাসা কখনো পূর্ণ হয় না।

তবু তারা মরে যায় না।

চুপচাপ মানুষের বুকের ভেতর বেঁচে থাকে।

অপেক্ষা হয়ে।

স্মৃতি হয়ে।

অসমাপ্ত ভালোবাসা হয়ে।

---

সমাপ্ত

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Khagrachari?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Alutila, Khagrachari
Khagrachari
4400