NAIM ALAM
WeIcome to the worId of tech
14/11/2025
আফিয়ার পৃথিবীতে আসার গল্পটা অন্য সবার মতোই ছিল—ভালোবাসা, স্বপ্ন আর নতুন জীবনের আশায় ভরা। কিন্তু সেই রঙিন কল্পনা জন্মের পরেই ম্লান হয়ে গেল। তার গায়ের রঙ একটু ফর্সা, বিদেশীদের মতো। আর সেই ছোট্ট পার্থক্যই বাবার মনে সন্দেহ জাগিয়ে তুলল। এক মুহূর্তে ভেঙে গেল বিশ্বাস, ভালোবাসা আর সংসারের সব বন্ধন। স্বামী মোজাফফর স্ত্রীকে তালাক দিয়ে, নিজের রক্তের সন্তানকে ফেলে চলে গেল দূর প্রবাসে। অপরাধ একটাই—মেয়ের গায়ের রঙ।
যে ঘরে প্রতিদিন বাবার কোলে হাসার কথা ছিল, সেই ঘরে এখন শুধু নীরব কান্না আর না বলা অভিমানের প্রতিধ্বনি। ছোট্ট আফিয়া, মাত্র তিন বছর বয়স, দুরন্ত আর খেলতে ভালোবাসে, কিন্তু বাবার কথা জিজ্ঞেস করলেই চুপ হয়ে যায়। তার মা মনিরা খাতুন, একসময় স্বপ্ন দেখেছিলেন বিয়ের পর নতুন করে সুখের জীবন শুরু হবে। কিন্তু সেই আশা আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
মনিরা এখন একা। প্রতিবেশীদের সামান্য সহানুভূতি আর অল্প সাহায্য নিয়ে দিন কাটান। তিনি বলেন, “বাপ যে বাইচাটা আমি একটু কোলে নিই, আমারই তো সন্তান ভাই। তাই কোনদিন কোলে নিইনি।” তার চোখে জমে থাকা ব্যথা আর কষ্টের স্মৃতি যেন পাথরের মতো ভারী। মোজাফফর তালাক দেওয়ার পরই বিদেশ চলে গেছেন, আর কোনো যোগাযোগ রাখেননি। স্থানীয় সালিশে সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার কথা উঠলেও, সেই পাষণ্ড বাবা কোনো গুরুত্ব দেননি।
ডাক্তাররা জানিয়েছেন, আফিয়ার অবস্থা এলবিনিজম নামক বিরল রোগের কারণে হয়েছে—একটি রোগ যার চিকিৎসা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তার চামড়া সূর্যের আলোতেও পুড়ে যায়, দৃষ্টি ক্ষীণ, আর শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা অনুভব করে। এই ছোট্ট শিশুটির জীবনে এখন একমাত্র আশা হলো সঠিক যত্ন আর প্রেমময় সমর্থন।
জেলা প্রশাসন এই ঘটনার কথা জানতে পেরে মনিরা ও আফিয়ার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু তাদের এখন প্রয়োজন আপনাদের হৃদয়ের উষ্ণতা, একটু সহানুভূতি, এবং প্রয়োজনে আর্থিক সহযোগিতা। আফিয়ার হাসি ফিরিয়ে আনতে, মনিরার একাকী লড়াইকে শক্তিতে পরিণত করতে, দয়া করে এগিয়ে আসুন।
আফিয়ার ছোট্ট হাতগুলো আজও বাবার কোলে যাওয়ার অপেক্ষায়, কিন্তু সেই অপেক্ষা যেন আর দীর্ঘ না হয়। আপনাদের একটু ভালোবাসা, একটু সাহায্য—এই ছোট্ট জীবনের আলো হয়ে উঠতে পারে। 🙏
Click here to claim your Sponsored Listing.
