Lamia hossain Books
I am a book lover and story lover woman...
06/06/2026
#হৃদ_মাঝারে_নীল_সমুদ্র
Lamia hossain Books
্ব
🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🚫কঠোরভাবে প্রাপ্ত মনস্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত।
___________________________________________
তুরনা আর তুরাগ সকাল থেকে তার আম্মির পিছনে ঘুর ঘুর করছে শুধু একটা পারমিশন নেওয়ার জন্য। কিন্তু তাদের আম্মি সেই কথা কানে নিয়েও নিচ্ছেন না। তাই মন খারাপ করে দুই ভাই বোন সন্ধ্যা বেলা গালে হাত দিয়ে ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছে পিলো কোলে নিয়ে। কিচেন থেকে তৃপ্তি সিনহা দুই ভাই বোনের অবস্থা দেখে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কিচেন থেকে বেরিয়ে আসলেন। তারপর দুই ভাইবোনের সামনে সিঙ্গেল সোফায় বসে বললেন, ' তোমাদের কি মনে হইতেছে না তোমরা অযথাই মন খারাপ করিয়া বসিয়া আছো??? তোমাদের তো বলা হইয়াছে আয়লা আম্মা তোমাদের ভাইজানের পরিচয় জানে না। আর না তোমাদের ভাইজান তাহাকে এতো তাড়াতাড়ি তাহার পরিচয় জানাতে চায়। আম্মা ভীষণ অসুস্থ। তাই তাহাকে এই মুহূর্তে কোনো কিছু নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা ঠিক হইবে না। তোমাদের দুই জনকেই আম্মা চিনেন। দেখলে চিনতে সময় লাগিবে না। আর তোমরা আম্মাকে দেখিবার জন্য ভাইয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়া যাহিতে চাহিয়াতেছো??? বলি বোধবুদ্ধি কি হাটে বেচিয়া খেয়েছো দুইজন?????' তৃপ্তি সিনহার কথায় দুই ভাইবোনের মুখ চুপসে যায়। তুরাগ মন খারাপ করে বলে, ' আম্মিজান আপনার আয়লা আম্মা তো ঐবার আমাকে চিনতে পারেনি এখনো পারবে না। তুরনাকেও চিনতে পারবে না ..... প্লিজ পারমিশন দিন। আমরা শুধু তাদের সাথে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটাতে চাই আম্মিজান।' তুরাগের কথা শুনে তৃপ্তি সিনহা কিছুক্ষন ওদের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবে। তারপর গম্ভীর স্বরে বলে, ' আমি তোমাদের ভাইজানের সাথে কথা বলিয়া তারপর তোমাদের সাথে কথা বলিতেছি।' বলেই বসা থেকে উঠে চলে যায়। আর তুরাগ আর তুরনা উচ্ছাসিত হয়ে ' yes ' বলে উঠে।
************************************************
সন্ধ্যা ৭:৪৮মিনিট ফেরিহা রাতুলদের সাথে আর তারপর সাত পাপা মাম্মার সাথে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার হোটেল রিয়েলমতে প্রবেশ করে। রিয়েলমের আঙিনায় বিশাল বড় পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।ফেরিহা রাতুলদের সাথে সেখানে উপস্থিত হতেই কোথার থেকে যেন কোম্পানির চারজন মহিলা স্টাফকে নিয়ে একটা ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে ফেরিহার সামনে দাঁড়িয়ে শাহীন হাসি মুখে বলে, ' Welcome!!!Ma'am, welcome to our event today!! ' ফেরিহা আর রাতুলরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে শাহীনের দিকে। ফেরিহা কিছুক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে বলে, ' ভাইয়া আপনি এখানে???' শাহীন রাতুলদের আর ফেরিহার অবাক হয়ে যাওয়া মুখ দেখে ভড়কে যায়। কিন্তু তারপরও নিজেকে সামলে নিয়ে ফুলের তোড়াটা ফেরিহার হাতে ধরিয়ে দিয়ে আমতা আমতা করে বলে, ' জি ম্যাম..... আপনি আসুন ভিতরে.... ওরা আপনাকে আপনার নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দিবে। আমার একটা কাজ আছে আমি আসছি।' বলেই কারো উত্তরের অপেক্ষা না করে সেখান থেকে কেটে পরে। শাহীনকে ওভাবে চলে যেতে দেখে রাতুলরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। তাই ফেরিহারা একসাথে বলে উঠে, ' কি হলো??? সব মাথার উপর দিয়ে গেল....' বলেই ফেরিহারা স্টাফ চারজনকে অনুসরণ করে যেতে থাকে।
***********************************************
দীর্ঘ ২০মিনিট যাবৎ ফেরিহারা বসে আছে কিন্তু T. F. K কোম্পানির মালিকের পার্টিতে উপস্থিত হওয়ার নাম নিশানা নেই দেখে ফেরিহা হতাশ হয়ে বলে, ' এই কোম্পানির সিইও মনে হয় আজ আসবেন না রে....চল না রুমন আমরা পাপা মাম্মাদের বলে চলে যাই। বিগ ব্রোকে আমি পরে সব বুঝিয়ে বলবো.... আমার এখানে এতো চাকচিক্যের মাঝে ভীষণ বিরক্ত লাগছে।'ফেরিহার কথা শুনে রুমন রাতুলরা ফেরিহার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। যুথি বলে, ' আর একটু অপেক্ষা কর রিহা... এখানে তোর কোম্পানির সম্মান জড়িয়ে আছে বোন। এখানে উপস্থিত হয়েও এই কোম্পানির মালিকের সাথে দেখা না করে গেলে খারাপ দেখায়। একটু ধৈর্য্য ধর।' ফেরিহা যুথির কথা শুনে সবার দিকে একবার অসহায়ের মতো তাকিয়ে চুপচাপ বসে থাকে।এদিকে ফেরিহাদের থেকে একটু দূরে এতক্ষন একজন গার্ড দাঁড়িয়ে ওদের সবার কথাই শুনছিল। গার্ডটা কিছুক্ষন ফেরিহাদের দিকে তাকিয়ে থেকে ব্লুটুথের মাধ্যমে কারো সাথে কানেক্ট হয়ে কিছু কথা বলে কানেক্ট বিচ্ছিন্ন করে আবার চুপচাপ আগের মতো দাঁড়িয়ে থাকে।এদিকে রাতুলদের আব্বু আম্মু ওদের থেকে অপজিট সাইডে বসছে। ওদের তাদের দূরত্ব বেশ ভালোই। ফেরিহা একবার সেদিকে তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বেশ অস্বস্তি অনুভব করতে থাকে। কারণ ওর সিক্সসেন্স কিছু একটার আভাস ঠিকই পেয়েছে। বার বার ফেরিহার মনে হচ্ছে কেউ ওর দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে।ফেরিহা ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখছে। কিন্তু কাউকে দেখতে পাচ্ছে না।ফেরিহাকে এদিক ওদিক ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতে দেখে মাহি কপালে ভাজ ফেলে বলে উঠে, ' কি হয়েছে???' ফেরিহা মাহির কথায় মাহির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে বোঝায় কিছু না।ঠিক সেই মুহূর্তে হোটেল রিয়েলমের সামনে একসাথে ১৬টা গাড়ি এসে থামে।সবাই চমকে সেদিকে তাকায় এবং বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়।ফেরিহারা সবাইকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে কৌতূহলবশত নিজেরাও দাঁড়িয়ে যায়।আর সেই সময় ১০টা গাড়ি থেকে গার্ড বের হয়ে নিজেদের পজিশন নিয়ে দাঁড়ায় আর আরেকটা গাড়ি থেকে ৫জন বের হয়ে বাকি ৫ গাড়ির কাছে যেয়ে দরজা খুলতেই সেখান থেকে বের হয়ে আসে ৬জন। যাদের দিকে তাকিয়ে ফেরিহারা ৪৪০ ভোল্টের ঝাটকা খায়। ফেরিহারা একসাথে অস্পষ্ট স্বরে বলে উঠে, ' তুরহান ফায়াজ খান!!!!!সিরিয়াসলি!!!!'
************************************************
সুমন কাইয়ান পিহু জিহান মুহিদ ওরা গাড়ি থেকে নেমে এক সাইডে দাঁড়ায়। প্রত্যেকেই আগা থেকে গোড়া কালো পোশাকে পরিহিত। মাঝের গাড়ি খুলতেই সেখান থেকে নেমে আসে তুরহান। মুখে ব্ল্যাক মাস্ক চোখে সানগ্লাস ব্ল্যাক শার্ট ব্ল্যাক সুট ব্ল্যাক প্যান্ট ব্ল্যাক শু..... হাতে সেই চিরচেনা ওয়াচ রোলেক্স।আজ মাথার চুলগুলো জেল দিয়ে সেট করা।তুরহানের এই রুপ দেখে যেকোনো মেয়ের বুকে ঝড় উঠতে বাধ্য। কিন্তু তুরহান তা থোড়ায় কেয়ার করে। পার্টিতে উপস্থিত প্রায় সকল মেয়ের আর লেডি বিজনেস পার্টনারদের বুকে ঝড় উঠিয়ে তুরহান পকেটে দু হাত গুজে ডোন্ট কেয়ার মুড নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।এদিকে ফেরিহারা তুরহানদের এখানে দেখে যতটা না অবাক হয়েছে তার থেকেও ওদের একই ড্রেসআপ দেখে আরও বেশি অবাক হয়েছে। অনিক বলে, ' এদেরকে কোনো গ্যাংষ্টার থেকে কম লাগছে না।' অনিকের কথায় সবাই একসাথে মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়। আর তুরহান ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন কোম্পানির সিইও এমডিরা এগিয়ে এসে হাই! হ্যালো! এবং কৌশল বিনিময় করতে থাকে সাথে বিভিন্ন কথাবার্তরাও বলে। তাদের রেখে দুকদম এগিয়ে আসতেই ফেরিহার সাত পাপা মাম্মার সাথে তুরহানদের সাক্ষাৎ হয়। তাদের সাথে কথা বলার মাঝেই মাহির আব্বু মাহিদ হোসেন শান্ত স্বরে বলেন, ' কিছু মনে না করলে একটা কথা বলবো ইয়াংম্যান......' মাহিদ হোসেনের কথায় রাতুল যুথি অনিক রুমন হিমু ঋতুর আব্বু আম্মুরা উৎসুক দৃষ্টিতে মাহিদ হোসেনের দিকে তাকায়।তুরহান কিছুক্ষন মাহিদ হোসেনের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে, ' Tell me what you want to say???(বলুন কি বলতে চান???)' তুরহানের কথা শুনে মাহিদ হোসেন মৃদু হেসে বলেন, ' আজ নয় কাল বিকালে যদি তোমার সময় হয়... তবে রাতুলকে কোথায় দেখা করতে পারবে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দিও। আমি সবাইকে নিয়ে উপস্থিত হবো।' মাহিদ হোসেনের কথায় তুরহান কিছুক্ষন ভেবে উত্তর দেয়, ' ওকে।' কিন্তু এদিকে মাহিদ হোসেনের কথায় বাকিরা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে মাহিদ হোসেনের দিকে তাকিয়ে থাকে। তুরহান সবার দিকে তাকিয়ে ব্যাপারটা বুঝতে পেরে পার্টি ইনজয় করতে বলে সেখান থেকে সরে আসে।
************************************************
ফেরিহা রাতুলদের সাথে দাঁড়িয়ে কোনো এক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলো ঠিক তখন ফেরিহার পিছনে দাঁড়িয়ে কেউ গম্ভীর স্বরে বলে উঠে, ' Is the CEO of A.S.F. too busy?(A.S.F কোম্পানির সিইও কি বেশি বিজি নাকি??? )' ফেরিহা নিজের পিছনে হঠাৎ পরিচিত কোনো কণ্ঠস্বর শুনে চমকে উঠে। রাতুলরাও উৎসুক নয়নে ফেরিহার পিছনে উঁকি দিয়ে তাকায়। ফেরিহাও আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজের পিছনে তুরহানকে দেখে অস্বস্তিতে পড়ে যায়।রাতুলরা তুরহান সুমন জিহান মুহিদ কাইয়ান আর পিহুকে দেখে করমর্দন করে কথা বলতে থাকে। কিন্তু ফেরিহা তুরহানকে দেখে সেই যে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে হাত কচলাতে শুরু করেছে তা আর থামার নাম নেই। তুরহান তা দেখে পকেটে হাত গুজে দুকদম এগিয়ে এসে ফেরিহার সামনে দাঁড়ায়।তুরহান যে ফেরিহার অনেক কাছে এসে দাঁড়িয়েছে তা ফেরিহা বুঝতে পেরেছে।তাই মাথা নিচু করে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলছে এদিক ওদিকে। তুরহান ফেরিহার অবস্থা বেশ বুঝতে পারছে সাথে ইনজয়ও করছে ফেরিহার অবস্থা। মাস্কের আড়ালে বাঁকা হেসে তুরহান বলে, ' A. S. F কোম্পানির সিইও কি ম্যানারস জানে না নাকি??' তুরহানের কথায় ফেরিহা ফট করে তুরহানের দিকে মাথা উচু করে তাকায়। আর সাথে সাথেই ফেরিহার সাথে তুরহানের চোখাচোখি হয়ে যায়।ফেরিহা কিছুক্ষন তুরহানের চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ নামিয়ে নিচু স্বরে আমতা আমতা করে বলে, ' আ....সলে স্যা...ররর আমি মানে..... বুঝতে পারছিলাম না..... কি বলবো???? কোনোদিন কোনো কোম্পানির পার্টিতে এটেন্ড করিনি তো..... আমি দুঃখিত.... যদি আমার ব্যবহারে কোনো কষ্ট পেয়ে থাকেন।আসলে.... আমি কি বলবো???? বুঝতে পারছি না.... আমি খুবই দুঃখিত.....' আর কিছু বলার আগে তুরহান হাত উচু করে ফেরিহাকে থামিয়ে দেয়। এদিকে সুমন রাতুলরা এতক্ষন ফেরিহার কথা শুনছিল আর কান্ড দেখছিলো।তুরহান ফেরিহার কথা থামিয়ে দিতেই ওরা একসাথে বলে উঠে, ' Confused again......' ওদের একসাথে বলা কথায় ফেরিহা বোকার মতো ওদের দিকে একবার তাকায় তো একবার তুরহানের দিকে তাকায়। তুরহান ফেরিহার মুখ নেকাবের আড়ালে ঢাকা থাকলেও বুঝতে পারে ফেরিহা ভড়কে গিয়েছে। তাই মাস্কের আড়ালে মৃদু হাসে।তারপর কিছু না বলে ফেরিহাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। আর ফেরিহা বোকার মতো দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকে এতক্ষন কি হলো????
************************************************
অনেকক্ষন বসে থাকতে থাকতে ফেরিহা ভীষণ বিরক্তবোধ করছে। তাই ঋতুকে ফেরিহা বলে, ' তুই থাক আমি একটু ওয়াশরুম থেকে মুখ চোখে পানি দিয়ে আসি। ভালো লাগছে না আমার।' ফেরিহার কথা শুনে ঋতু বলে, ' আমিও আসি তাহলে তোর সাথে...' ফেরিহা ঋতুর কথা শুনে বলে, ' না... তু্ই এখানেই থাক।একসাথে দুইজন গেলে ওরা জানবে না আমরা কোথায় গিয়েছি??? খুঁজেও পাবে না শুধু শুধু চিন্তা করবে। ওরা এখানে এলে আমি কোথায় বলে তারপর যাস আমার কাছে। আর আমি যাব আর আসবো। চিন্তা করিস না।' ফেরিহার কথা শুনে ঋতু মাথা নাড়িয়ে সায় জানাতেই ফেরিহা বসা থেকে উঠে একজন গার্ডের কাছে ওয়াশরুম কোথায় জিজ্ঞাসা করে সেদিকে চলে যায়।ফেরিহা ওয়াশরুমে যেয়ে নেকাব উঠিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে পাশ থেকে টিস্যু নিয়ে মুখ মুছে আবার নেকাব ঠিক মতো বেঁধে নেয়।তারপর একটা স্বস্তির শ্বাস ছেড়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতে যাবে ঠিক তখনই ওয়াশরুমের লাইট বন্ধ হয়ে যায়। ফেরিহা ওয়াশরুমের লাইট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে অবাক হয়। তাই দাঁড়িয়ে ব্যাগের চেইন খুলে ফোন বের করবে এমন সময় ফেরিহার কানের কাছে কেউ হাস্কি স্বরে বলে উঠে, ' Lotusssss......My dear Lotusssss....' নিজের পিছনে কানের কাছে এমন অযাচিত ডাক শুনে ফেরিহা ভয়ে চমকে উঠে সাথে সাথে ফেরিহার হাত পা কাঁপতে শুরু করে। নিঃশ্বাস ভারী হয় ফেরিহার। ফেরিহা আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়াতেই ওয়াশরুমের লাইট জ্বলে উঠে। ওয়াশরুমের লাইট জ্বলতেই ফেরিহা যাকে দেখতে পায় তাকে দেখে ফেরিহার কলিজা শুকিয়ে যায়। ভয়ে ফেরিহা দু কদম পিছিয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে, ' কিকিইইই... রণ.... ভাই!!!' ফেরিহা যে সামনের ব্যক্তিকে চিনতে পেরেছে তাতে সামনের ব্যক্তিকে আনন্দে মাথা দুলয়ে অদ্ভুত ভাবে হেসে বলে, ' আমার Lotus আমায় চিনতে পেরেছে..... কি ভাগ্য আমার???? তাহলে মানতেই হয় আমার Lotus আমায় ভীষণ ভালোবাসে.... আমার Lotus শুধুই আমার Lotus....' ফেরিহা কিরণের কথা শুনে ভয়ে কাঁপতে থাকে। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায় ফেরিহার। আরও দুকদম পিছিয়ে যেতেই কিরণ এক কদম এগিয়ে এসে বাঁকা হেসে বলে, ' ভয় কেন পাচ্ছিস Lotus???? আমি কি তোকে মেরেছি??? বকেছি??? রাগ করেছি??? টর্চার করছি??? কোনটাই তো করিনি.... আমি তোকে আগের মতোই পাগলের মতো ভালোবাসিরে Lotus.... আয় আমার কাছে আয়... কতদিন তোর ওই চাঁদ মুখখানা দেখি না..... আমি আসতে আসতে তু্ই আবার ওই ছাতার মাথা দিয়ে মুখ ঢাকলি... মুখটাও ঠিক মতো দেখতে পেলাম না। কত বড় হয়ে গেছিস তু্ই Lotus!!!সেই ছোট Lotusকে রেখে আমি বিদেশে এসেছিলাম। এখন আমার Lotus কত বড় হয়ে গেছে!!!একদম আমাকে সামাল দেওয়ার মতো বড় হয়েছিস Lotus.... এখন থেকে তু্ই আমার কাছে থাকবি....অনেক পাখির মতো আকাশে উড়েছিস এখন আমার খাঁচায় বন্দী হওয়ার পালা। আয় আমার কাছে আয়.... আমার সাথে যাবি তু্ই....' বলেই ফেরিহার কাছে কিরণ যেতে গেলে ফেরিহা চার কদম পিছিয়ে যেয়ে চিৎকার করে অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে কিরণের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে, ' খবরদার কিরণ ভাই এগোবেন না!!!ওখানেই থেমে যান..... আমি আপনাকে ভীষণ ঘৃণা করি.... ঘৃণা করি আপনাকে.... দূরে থাকুন আমার থেকে আপনি.....' ফেরিহার কথা শুনে কিরণ দাঁড়িয়ে যেয়ে হো হো করে হেসে বলে, ' তোর ঘৃণা করা আমি আমার গায়ে মেখেছি খুব দেখ দেখ.... আর তোর থেকে দূরে থাকা তো দূরের কথা তোকে আমি এখন থেকে দূরেই রাখবো না আমার কাছে আমার খাঁচায় রাখবো।' বলেই কিরণ দ্রুত কদমে ফেরিহার কাছে এগিয়ে যেতে গেলে ফেরিহা উল্টো ঘুরে দৌড়াতে শুরু করে। একদৌড়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দিকবেদিক ভুলে তিনতলায় উঠে যায় দৌড়ে। ফেরিহার পিছন পিছন কিরণও দৌড়াতে শুরু করে। ফেরিহা দৌড়াতে দৌড়াতে পিছু ঘুরে তাকিয়ে দেখে কিরণ ফেরিহার থেকে কতদূরে আছে। তিনতলার করিডর দিয়ে দৌড়াচ্ছে ফেরিহা আর কাঁদছে। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনের দিকে তাকাতে তাকাতে হঠাৎ ফেরিহা কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে গেলে। তৎক্ষণাৎ একটা শক্তপোক্ত হাত ফেরিহার কোমড় জড়িয়ে ধরে। এতে করে ফেরিহা পড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।ফেরিহা সামনের মানুষটাকে না দেখেই কাঁদতে কাঁদতে আর হাত দিয়ে সামনের মানুষটির বুকে আঘাত করতে করতে বলে, ' ছেড়ে দিন আমাকে.....Please free me from a beast like you.(দয়া করে আমাকে আপনার মতো জানোয়ারের কাছ থেকে মুক্তি দিন।)আমাকে আমার মতো থাকতে দিন...... ছেড়ে দিন আমাকে.... আল্লাহর নাম শপথ করে বলছি কিরণ ভাই আপনার এই স্পর্শ করার জন্য আমি নিজেকে শেষ করে ফেলবো.....' কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে ফেরিহা আর সামনের ব্যক্তিকে আঘাত করতে থাকে চোখ বুজে। ঠিক তখনই শান্ত কণ্ঠে ফেরিহাকে ধরে দাঁড়ানো মানুষটি বলে, ' এই মেয়ে!!!Open your eyes... What happened to you??? Are you scared of something???(চোখ খোলো... কি হয়েছে তোমার??? ভয় পেয়েছো কোনো কিছুতে???)' বলেই ফেরিহার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মানুষটি। ফেরিহা পরিচিত কণ্ঠ শুনতে পেয়ে কান্না থামিয়ে চোখ খুলে সামনে তাকিয়ে তুরহানকে দেখতে পায়। তুরহান অবাক হয়ে ফেরিহার লাল হয়ে যাওয়া চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। আর ফেরিহা তুরহানকে দেখতে পেয়ে ঠোঁট উল্টিয়ে কেঁদে তুরহানের বুকে কপাল ঠেকিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে উঠে, ' প্লিজ স্যার আমাকে বাঁচান.... ওই জানোয়ারটার হাত থেকে বাঁচান স্যার.... আমাকে তুলে নিয়ে যেতে এসেছে ও.. স্যার আমি..... আমি কোনো মতে পালিয়ে এসেছি।' বলেই ফেরিহা কান্নায় ভেঙে পড়ে।আর ফেরিহার কথা শুনে তুরহান থমকে যায়। তুরহানের চতুর মস্তিস্ক ঠিকই খারাপ কিছু আন্দাজ করে ফেলে।
#চলবে
[যদি গল্পে কোনো বানান ভুল থাকে মাফ করবেন আপু ভাইয়ারা। কারণ টাইপের সময় অনেক ঝামেলা হয়। গল্প পড়ে ভালো লাগলে বেশি বেশি কমেন্ট আর লাইক দিয়ে আমাকে গল্প লিখতে সহায়তা করুন 🥰🥰🥰🥰🥰]
20/05/2026
#হৃদ_মাঝারে_নীল_সমুদ্র
Lamia hossain Books
্ব
🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🚫কঠোরভাবে প্রাপ্ত মনস্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত।
____________________________________________
অন্ধকার এক রুমে একজন বসে আছে একটা সোফায়। পা দুটো টি - টেবিলের উপর দিয়ে। চোখ বুজে সোফায় মাথা এলিয়ে সিগারেট খাচ্ছে। সিগারেটের ধোঁয়ায় সারা রুম ভরে গিয়েছে। ঠিক তখনই দরজা খুলে কেউ একজন প্রবেশ করে মাথা নিচু করে বলে, ' বস সুফিয়া ম্যাম যেই মেয়েটিকে আমাদের কাছে সেল করতে চেয়েছিল এই তার ছবি।' বলেই টেবিলের উপর একটা ছবি রাখে লোকটি। সোফায় বসা মানুষরূপী শয়তানটা চোখ খুলে পাশের টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে ছবিটির দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলে, ' এটা কি ধরনের ছবি??? এর তো ফেস দেখা যাচ্ছে না...' লোকটি মাথা নিচু করে বলে, ' এই ছবির মেয়েটির কখনো ফেস কেউ দেখেনি বস... মেয়েটি মুসলিম ধর্মের রীতি নীতি ভীষণ মেনে চলে।' ছেলেটি কথাগুলো শুনে শয়তানি হেসে ছবির দিকে একদৃষ্টিতে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলে , ' চোখ দুটো তো দেখা যাচ্ছে....!!!' বলেই অট্টহাসিতে মেতে উঠে ছেলেটি।
************************************************
সেদিনের পর কেটে গেছে ছয়দিন। তুরহান সেদিন ফেরিহাকে পৌঁছে দিয়ে সুমনদের নিয়ে চলে যায়। আর সেদিন রাতেই ইমার্জেন্সি কাজের জন্য তুরহানকে অস্ট্রেলিয়া ফিরে যেতে হয়। আকাশ আর তৃপ্তি সিনহা ও হামীম খান মাঝে মাঝেই ফেরিহার সাথে দেখা করতে যেত।গতকাল তৃপ্তি সিনহা এবং হামীম খান দেশে ফিরে গিয়েছেন।আর এই কয়েকদিনে ঘটে গেছে আরেক কাহিনী.... ফেরিহার কাছে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো চিঠি আসছে। না হুমকির না প্রেমপত্র না অন্য কিছু।শুধু সাদা কাগজ যার মাঝে শুধু লাভ শেপ আঁকা। ফেরিহা প্রথম দিকে জিনিসটা কারো দুস্টুমি ভাবলেও প্রতিদিন একই জিনিস আসাতে ভীষণ চিন্তায় পরে গিয়েছে। আজকেও ঠিক ওর রুমের বারান্দায় একই চিঠি এসেছে। একটা ছোট পাথরের সাথে মুড়িয়ে। তবে আজ কিছুটা ভিন্নতা আছে চিঠিতে।আজ চিঠিতে লাভ শেপের পাশে লিখা আছে ' Lotus! Lotus! Lotus! See you soon.....' ফেরিহা লিখাটুকু পরে স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষন বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে। এতদিন রাতুলদের এই বিষয়ে কিছু জানায়নি। ওরা এমনি ওকে নিয়ে সবসময় টেনশনে থাকে। তারপর এবার এই তুচ্ছ বিষয় শুনলে কে এই কাজ করছে তার তল্লাশিতে নেমে যাবে ওরা। আজ রাতে ফেরিহাদের আবার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার ফ্লাইট। তাই ফেরিহা প্রথমে বিষয়টা নিয়ে ঘাবড়ে গেলেও রাতে ফ্লাইটের কথা মনে করে আপাতত চিঠির বিষয়টা মাথার থেকে ঝেড়ে ফেলে।
************************************************
অস্ট্রেলিয়ার এক বিশাল এরিয়া জুড়ে ডুপ্লেক্স বাড়ির গার্ডেনে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে তুরহান। কানে ইয়ারপ্যাড গুজে বসে বসে ফোন স্কোলিং করছে। ওর ঠিক সামনেই কাইয়ান আর সুমন বসে আছে একরাশ বিরক্তি নিয়ে।কাইয়ান আর সুমন গত ৩০মিনিট যাবৎ একইভাবে বসে আছে। কিন্তু তুরহানের কোনো হেলদোল নেই। তাই কাইয়ান বিরক্ত হয়ে বলে উঠে, ' সমস্যা কি ভাই এভাবে বসিয়ে রেখেছিস কেন আমাদের???? কোনো কাজের বিষয়ে কথা থাকলে বল।' তুরহান কাইয়ানের কথা শুনে ফোন থেকে চোখ তুলে ওদের দিকে তাকায়। তারপর কিছু না বলে সামনে টি টেবিলের উপরে থাকা আইপ্যাডটা নিয়ে কিছু একটা বের করে ওদের দিকে আইপ্যাডটা এগিয়ে দেয়।কাইয়ান আইপ্যাডটা হাতে নিতেই সুমনও এগিয়ে এসে দেখে তুরহান কি দেখতে দিয়েছে?? আইপ্যাডে কাইয়ান আর সুমন চোখ রাখতেই ওদের চোখ বড় বড় হয়ে যায়।কাইয়ান আর সুমন শুকনো ঢোক গিলে। সুমন ভীত স্বরে বলে, ' তু্ই এখনো চুপ আছিস কেন?' সুমনের কথা শুনেও তুরহান কিছু না বলে আগের মতোই চুপচাপ বসে ফোন স্কলিং করতে থাকে। তাই কাইয়ান সিরিয়াস হয়ে গম্ভীর স্বরে বলে, ' ফায়াজ সবসময় তোর এই নির্লিপ্ত ভাব ভীষণ বিরক্তিকর। একটা সিরিয়াস বিষয় জানতে চাওয়া হচ্ছে তোর কাছে। কিন্তু তু্ই তার উত্তর না দিয়ে তোর মতো আছিস। তাহলে আমাদের কেন এখানে ডেকে এনেছিস?' তুরহান কাইয়ানের কথায় ফোন থেকে চোখ সরিয়ে কাইয়ানের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে, ' I called you because I'm organizing a party the day after tomorrow... on the occasion of the company's 8th anniversary. And I want all the CEOs of companies from home and abroad to be invited to this party.(ডেকে এনেছি কারণ পরশুদিন একটা পার্টির এরেঞ্জ কর..... কোম্পানির ৮বছর পূর্তি উপলক্ষে।আর এই পার্টিতে যেন দেশ বিদেশের সব কোম্পানির সিইওরা ইনভাইট থাকে।)' তুরহানের কথা শুনে সুমন বলে, ' আমরা যা জানতে চাইলাম তার উত্তর তু্ই যা বললি তা না..... কথা না কাটিয়ে যা জানতে চাইছি তা বল।' সুমনের কথায় ওদের দুজনের দিকে তুরহান কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বাঁকা হেসে বলে, ' মাকড়সা জাল বুনতে পছন্দ করে এটাই তোদের উত্তর।' সুমন আর কাইয়ান তুরহানের কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে তুরহানের দিকে তাকিয়ে বসে থাকে।
************************************************
রাত ৮:০০ ফেরিহারা সবাই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে প্লেনে উঠেছে।প্লেনের উইন্ডোর পাশে ফেরিহা বসে আছে। ফেরিহার পাশেই মাহি আর মাহির পাশে রাতুল বসেছে। পিছন থেকে হিমু আর যুথি বলে উঠে, ' রিহা ঠিক আছে তো রাতুল????' রাতুল একবার ফেরিহার দিকে তাকিয়ে দেখে চোখ বুজে সিটের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। তাই রাতুল বলে, ' ঠিক আছে রিহা। তোরা চিন্তা করিস না মাহি আর আমি আছি তো।' রাতুলের কথায় হিমুরা শান্ত হয়ে বসে। আর ফেরিহা নেকাবের আড়ালে মুচকি হাসে।ওর জন্য ওর বন্ধুদের এমন কেয়ার ওর ভীষণ ভালো লাগে। কথায় আছে আপনের চেয়ে পর ভালো, পরের চেয়ে আপন ভালো। ফেরিহা ক্ষেত্রেও হয়েছে প্রথম প্রবাদটুকু সত্য।
************************************************
পরেরদিন বিকাল ৫:৪০ ফেরিহারা প্লেন থেকে নেমে এয়ারপোর্টের ভিতরে সমস্ত ফর্মালিটি শেষ করে বের হতেই দেখতে পায় ওদের বাবারা তিনটা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে ওদের নিয়ে যাওয়ার জন্য। রাতুলরা যে যার বাবাকে দেখে এগিয়ে যেয়ে জড়িয়ে ধরে।ফেরিহা নিজের ট্রলি হাতে নিয়ে কয়েকহাত দূরে দাঁড়িয়ে বন্ধু নামক ভাইবোন আর তাদের পিতাদের দেখে চলেছে। ফেরিহার কাছে সামনের দৃশ্যটা ভীষণ ভালো লাগছে। তাই ওদের দিকে তাকিয়ে নেকাবের আড়ালে মৃদু হাসছে। এদিকে অনেকদিন পরে ছেলে মেয়েদের দেখে অতিরিক্ত আনন্দে ওদের সাথে গল্প শুরু করে দিয়েছে। ফেরিহা তা দেখছে চোখ ভরে। আর ভাবছে আজ যদি ওর বাবার সাথে একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকতো তাহলে হয়তো আজ সামনের দৃশ্যতে ফেরিহাও থাকতো। তা ভেবেই ফেরিহার চোখের কোণে জল জমে। হাত দিয়ে চোখের কোণের জলটুকু মুছে ওদের থেকে একটু দূরে নিরিবিলি প্লেসে যেয়ে দাঁড়ায় ফেরিহা।রাতুল হঠাৎ ফেরিহাকে ওদের মাঝে না দেখে কপালে ভাজ ফেলে মাহিকে উদ্দেশ্য করে বলে, ' মাহি রিহা কোথায়?'রাতুলের কথায় মাহিরা সবাই চমকে আশেপাশে তাকায়। ঠিক তখনই রাতুলের আব্বু রাহাত শেখ বলে উঠেন, ' ঐ তো রিহা দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু অতো দূরে যেয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেন মেয়েটা????' রাতুলসহ সবাই রাহাত শেখের কথা শুনে তার দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকাতেই দেখতে পায়। ফেরিহা সবার থেকে অনেক দূরে যেয়ে দাঁড়িয়ে সামনের রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে।রাতুল এগিয়ে যায় ফেরিহার দিকে। ফেরিহার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলে, ' কি রে তু্ই আমাদের সবার থেকে এতো দূরে এসে দাঁড়িয়ে আছিস কেন???' ফেরিহা হঠাৎ পিছন থেকে রাতুলের কথা শুনে চমকে যায়। তাই পিছু ঘুরে রাতুলের দিকে তাকিয়ে বলে, ' হঠাৎ অনেক মানুষের মাঝে অস্বস্তি হচ্ছিল তাই একটু ফাঁকা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি।' রাতুল ফেরিহার কোথায় শুনে ফেরিহার দিকে ভালো করে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে তারপর ওর হাত থেকে ট্রলিটা নিজের হাতে নিয়ে অন্য হাতে ফেরিহার এক হাত ধরে সেখান থেকে নিয়ে মাহিদের কাছে আসে। অনেকদিন ফেরিহাকে দেখে ফেরিহার সাত পাপা ফেরিহাকে ভীষণ স্নেহ করেন। তারপর ওরা যে যার যার গাড়িতে উঠে চলে যায় নিজেদের গন্তব্য।
************************************************
এরই মাঝে কেটে গেছে একদিন.... ফেরিহাকে মাহির বাবা আর রাতুলের বাবা ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ডাক্তার কাছে নিয়ে যেয়ে বিভিন্ন টেস্ট করিয়েছে সাথে হাতে এবং ঘাড়ে থেরাপি দিয়ে এনেছে।থেরাপি দিয়ে এসে ভীষণ ক্লান্ত থাকায় ফেরিহা রাতে কোনো রকম রাতুলের আম্মুর কাছে একটু খেয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছে। পরেরদিন ঘুম থেকে উঠে ফেরিহা সবার সাথে নাস্তা করে তার সাত পাপা মাম্মা আর রাতুলদের সাথে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার বিখ্যাত জাদুঘরে ঘুরতে যায়। জাদুঘরে ঘুরতে ঘুরতে দুপুর হয়ে যাওয়ার কারণে সবাই মিলে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে লাঞ্চ করতে। সবাই টেবিলে বসে কিছু না কিছু অর্ডার দিয়ে গল্প করার মাঝে ফেরিহার ফোন বেজে উঠে। ফেরিহা ব্যাগ থেকে ফোন বের করতেই দেখতে পায় আকাশ ফারুকী ফোন দিয়েছে। ফেরিহা ফোন রিসিভ করে সালাম দিতেই আকাশ ফারুকী সালামের উত্তর দিয়ে বলে উঠেন, ' রিহু বাচ্চা কেমন আছিস?কেমন এনজয় করছিস?' ফেরিহা আকাশ ফারুকীর কথায় মৃদু হেসে সবার দিকে একবার তাকিয়ে বলে, ' আল্লাহর রহমতে ভালো আছি বিগ ব্রো.... আর ভীষণ আনন্দ করছি বিগ ব্রো।' ফেরিহার কথায় আকাশ ফারুকী মৃদু হাসে। তারপর বলে, ' যাক ভালো মতো এনজয় করে ফিরে এসো। তোমার এই আনন্দে সামান্য ব্যাঘাত ঘটাই বাচ্চা কিছু মনে করিস না। T. F. K কোম্পানির ৮বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ রাতে একটা পার্টি আছে। তোমাকে সেখানে কোম্পানির সিইও হওয়ার জন্য উপস্থিত থাকতে হবে। তোমার কাছে ইনভাইটেশন কার্ড অনলাইনে চলে গিয়েছে। হয়তো চেক করতে ভুলে গিয়েছো। তাই প্লিজ সেখানে এটেন্ড করো বাচ্চা। প্রয়োজন হলে তোমার ফ্রেন্ডদের নিয়ে যেও।' ফেরিহা আকাশ ফারুকীর কথা শুনে ঠোঁট উল্টে বলে, ' ওকে।' বলেই ফোন রেখে দেয়। রাহাত শেখ ফেরিহার দিকে তাকিয়ে কপালে ভাজ ফেলে বলে, ' কি ব্যাপার আম্মা তুমি ঠোঁট উল্টে বসে আছো কেন??? কোনো প্রবলেম হচ্ছে।' রাহাত শেখের কথায় সবাই ফেরিহার দিকে তাকায়। ফেরিহা বলে উঠে, ' পাপা রাতে T. F. K কোম্পানির একটা পার্টিতে এটেন্ড করতে হবে কোম্পানির সিইও হওয়ার সুবাদে। তাই ভাবছি আজ হয়তো আর ঘোরা হবে না।' অনিকের আব্বু আনোয়ার সাহেব বলে উঠেন, ' ভালোই হলো আম্মা আমাদেরও ব্যবসার সুবাদে ওখান থেকে ইনভাইটেশন এসেছে। তো একসাথে যাওয়া যাবে।' আনোয়ার সাহেবের কথায় সবাই মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়। শুরু হয় আবার টুকটাক কথা। তাদের কথার মাঝেই খাবার দাবার আসতেই সবাই খাওয়া দাওয়া শুরু করে। সবার খাওয়া শেষ হওয়ার আগে ফেরিহার খাওয়া শেষ হয়। কারণ ফেরিহা খুব সীমিত খেয়েছে তাই। তাই ফেরিহা সবাইকে বলে ওয়াশরুমে যায়। ওয়াশরুমে হাত ওয়াশ করে পাশে থাকা টিস্যু বক্স থেকে টিস্যু নিয়ে হাত মুছতেই ফেরিহার ফোনটা আবার বেজে উঠে। ফেরিহা ফোনের দিকে তাকাতেই দেখতে পায় আননন নাম্বার।কপালে ভাজ ফেলে ফোন রিসিভ করে কানের কাছে ধরে হ্যালো বলে সালাম দেয়। কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ কথা বলে না। তাই ফেরিহা কতক্ষন হ্যালো হ্যালো করে ফোনটা যেই কেটে দিতে যাবে ঠিক তখন ওপাশ থেকে বলে উঠে, 'Lotusssss! My dear soft lotus!!' ফোনের ওপাশের ব্যক্তির কথা শুনে ফেরিহা জমে যায়। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে। কোনো কথা না বলে ফেরিহা চুপ থাকে। কিন্তু ফোনের ওপাশের ব্যক্তি আবার বলে উঠে, ' আমাকে নিশ্চয়ই ভুলে যাওনি Lotus!!জানি তুমি আমাকে মনে রেখেছো। কত খুঁজেছি তোমায় Lotus... কিন্তু পাইনি...নজরে আটকে ছিলে তুমি... কি করে তোমাকে না খুঁজে থাকি বলো?? তাই খুঁজতে খুঁজতে আবার পেয়ে গেছি তোমাকে... হা হা হা হা।' ফেরিহা জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে ফোনের ওপাশের ব্যক্তির কথা শুনে। তারপরও নিজেকে শক্ত করে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলে, ' ভালো হতে পয়সা লাগে না ভালো হয়ে যান। আমাকে আমার মতো বাঁচতে দিন।'ফোনের ওপাশের ব্যক্তি হো হো হো করে অট্টহাসি দিয়ে হাস্কি স্বরে বলে 'My dear lotus.....
একবার যেদিকে আমার নজর পরে সেখান থেকে আর সরে না....' ফেরিহা এই কথা শুনে রেগে বলে উঠে,
' তোকে আমি অভিশাপ দিলাম...তোর মতো জানোয়ারের নজর সরাতে ধ্বংস আসবে......'
ফেরিহার অভিশাপ শুনে ফোনের ওপাশের ঠোঁটের কোণে শয়তানি হাসি টেনে গেয়ে উঠে,
' আমার সর্বনাশে যেন স্বর্গ হাসে,
আমি বাঁচি তোমারি অভিশাপে।
আমার হাতের আঙ্গুলের প্রতি ভাজে,
জানি তোমারি তো নাম লেখা আছে.......'
#চলবে
[যদি গল্পে কোনো বানান ভুল থাকে মাফ করবেন আপু ভাইয়ারা। কারণ টাইপের সময় অনেক ঝামেলা হয়।গল্প পড়ে ভালো লেগে থাকে তবে বেশি বেশি কমেন্ট আর লাইক দিয়ে আমাকে গল্প লিখতে সহায়তা করুন 🥰🥰🥰🥰🥰]
সম্মানিত ভাইয়ারা এবং আপুরা আমি ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি আর গল্প লিখবো না..... 😔😔😔😔আমার গল্প হয়তো আপনাদের ভালো লাগেনি বা মন ছুতে পারেনি.... তাই কেউ রিভিউ তো দূরের কথা ঠিক মতো কমেন্ট বা লাইকও দেন না.... 😔😔😔আমি ব্যর্থ লেখিকা তাই লেখালেখি বাদ দিয়ে দিচ্ছি.... বড্ড কষ্ট পেয়েছি আমি..... ৫০টা রিয়েক্টও আসে না আমার গল্পে.... তাই আমি বিদায় নিচ্ছি সবার কাছ থেকে ভালো থাকবেন।।। 😔😔😔🥺🥺🥺
05/05/2026
#হৃদ_মাঝারে_নীল_সমুদ্র
Lamia hossain Books
্ব
🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🚫কঠোরভাবে প্রাপ্ত মনস্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত।
_______________________________________
ভোর ৬:১০মিনিট আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। কাঁচের আস্তরণগুলো পেরিয়ে সকালের আলো ফেরিহার চোখে লাগতেই পিট পিট করে চোখ খুলে তাকায় ফেরিহা।চারিদিকে তাকিয়ে নিজের অবস্থান বোঝার ট্রাই করে ফেরিহা। হঠাৎ চারপাশে ফুলগাছের সমাহার দেখতেই ফেরিহা শোয়া থেকে লাফ দিয়ে উঠে বসে। উঠে বসতেই দোলনাটা দুলে উঠে। চারিদিকে তাকিয়ে ফেরিহার মুখে ফুটে উঠে প্রাণবন্ত হাসি। কারণ এরকম একটি ভিন্ন রকম সকাল হোক ফেরিহার জীবনে তা ফেরিহার অনেক দিনের ইচ্ছে। কিন্তু নিজের ইচ্ছেটা এতো তাড়াতাড়ি পূরণ হবে তা ফেরিহা ভাবতে পারেনি।হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই মনটা আবার খারাপ হয়ে যায়। ফুরফুরে মনে নেমে আসে মেঘের ঘনঘটা। চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের হাতে অক্সিজেনের মিনি বোতলটা নিয়ে দোলনা থেকে নেমে চলে যায় নিচে নিজের রুমে। রুমে ঢুকে নিজের হেজাব আর অক্সিজেন নালটা খুলে খাটের উপর রেখে একটা গাউন সেট নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পরে। ফ্রেশ হয়ে এসে পিঙ্ক কালারের একটা হেজাব এর নেকাব পরে তারপর নিজের টোটো ব্যাগে অক্সিজেনের মিনি বোতলটা ভরে নেকাবের ভিতরে নিজের নাকে অক্সিজেন পাইপ সেট করে নিয়ে স্বস্তির শ্বাস ফেলে বের হয়ে যায় রুম থেকে।
************************************************
কানাডার একটি স্বনামধন্য হোটেলের একটি রুমে আয়বান সিদ্দিক বেডের সাথে চোখ বুজে হেলান দিয়ে বসে আছে। ঠিক তখনই নীল রুমে ঢুকে বাবার দিকে তাকায়। তারপর রুমের ডিভানে যেয়ে বসে মুখ থেকে মাস্ক খুলে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আয়বান সিদ্দিক গম্ভীর স্বরে বলে উঠে, ' সুফিয়ার এখন কি অবস্থা???' নীল দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ' বেশি ভালো না আব্বু... বাম পা আর ডান হাত ভেঙে গেছে। মাথায় ভালোই আঘাত পেয়েছে। তারপর আবার ড্রাঙ্ক ছিল। তাই ওর কন্ডিশন তেমন একটা ভালো নয়।' আয়বান সিদ্দিক চাপা শ্বাস ছেড়ে বলেন, ' সুফিয়া যে রিহুকে দেখতে পারে না রিহুর ক্ষতি চায় তা কি তুমি আগের থেকে জানতে???' নীল বাবার মুখে ফেরিহার কথা শুনে অবাক হলেও তা প্রকাশ না করে শান্ত স্বরে বলে, ' না আমি তা কিছুই জানতাম না.... ২বছর আগে অল্প কিছু শুনেছিলাম। ও নাকি রিহুর হাতে গুলি মেরেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন বিষয়টা ঠিক গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু একবছর আগে তার সঠিক প্রমান পেয়েছি।' আয়বান সিদ্দিক এবার চোখ খুলে ভারী স্বরে বলেন, ' আমাকে জানাওনি কেন??' নীল তাচ্ছিল্যের সাথে হেসে বলে, ' তুমি কখনো ওর সমন্ধে কথা উঠালে শুনতেই চাওনি তো বলবো কি করে???' আয়বান সিদ্দিক কিছুক্ষন চুপ থেকে বলেন, ' ওর তো তোমার মামার বাসায় থাকার কথা.... তাহলে এখানে কি করছে???' নীল আজ ফেরিহার প্রতি বাবার কৌতূহল দেখে ভীষণ অবাক হচ্ছে। অবাক চোখে বাবার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে নীল যা জানে সবকিছু খুলে বলে। নীলের মুখে রিহুর সম্পর্কে শুনে আয়বান সিদ্দিক থ মেরে কতক্ষন বসে থেকে শান্ত স্বরে বলেন, ' ও কষ্টে থাক এটা আমি চাইনি কখনো নীল। শত হলেও জন্মদাতা পিতা আমি। তোমার মায়ের মৃত্যুর পর ওকে সহ্য করতে না পারলেও নিজের দায়িত্বের অবহেলা করিনি। ওর জন্য ঠিক মতো টাকা পাঠিয়েছি আমি তোমার মামার কাছে।' নীল আয়বান সিদ্দিকের কথা শুনে উদাস স্বরে বলে, ' আব্বু বাবার দায়িত্ব আর কর্তব্য শুধু টাকা দিয়ে হয় না।আরও অনেক কিছু লাগে। যা তুমি রিহুকে দিতে চাওনি। আর আমি তোমার কথা চিন্তা করে ওর কাছে ছুটে যাইনি।আর তোমার পাঠানো টাকা কখনো রিহুর জন্য খরচ করা হয়নি। সব মামীর ভোগ বিলাসিতায় খরচ হয়েছে আব্বু। যাই হোক একটা জিনিস খুব ভালো হয়েছে জানো আব্বু রিহু একটা পবিত্র নরম ফুল। সেই পবিত্র ফুল আমাদের মতো মানুষের কাছ না থেকেই ভালো আছে।' কথাগুলো বলেই নীল বসা থেকে উঠে আয়বান সিদ্দিকের রুম থেকে বের হয়ে যায়।আয়বান সিদ্দিক টলমল চোখে ছেলের প্রস্থান দেখেন।
***********************************************
সকাল ৯:০০টা রাতুল রুমন মাহি অনিক যুথি হিমু ঋতু সোফায় মাথা এলিয়ে ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে বসে আছে।অনিক ঘুম ঘুম কণ্ঠে বলে উঠে, ' আজও প্রত্যেকবারের মতো উধাও রিহা। এই একটাদিন কেন যে নিজের মতো কাটাতে চায় রিহা কে জানে?????' মাহি অনিকের কথা শুনে ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে বলে, ' শরীরটা এমনি ভালো নেই রিহার। তারপর আবার একা একা বাইরে যাওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত হলো??? রাতুল রুমন তোরা কিছু কর.....' রাতুল ওদের দিকে তাকিয়ে রিলেক্স মুডে বসে বলে, ' আমি কাল রাতেই ওর পিছনে গার্ড ঠিক করে রেখে ছিলাম। তাই চিন্তা করিস না। ও কখন কোথায় কিভাবে আছে???? কি করছে সব জানতেও পারবি দেখতেও পারবি।' হিমু বলে, ' থাক একটা দিন ওকে ওর মতো কাঁটাতে দে ইয়ার।হয়তো নিজের অতীত জীবনের স্মৃতি থেকে পালাতে প্রতি বছর এভাবে কাটায়।' হিমুর কথায় সবাই মাথা নাড়িয়ে সায় জানিয়ে বলে ' হয়তো। ' এরই মাঝে কলিংবেলের শব্দে ওরা সবাই দরজার দিকে তাকায়। ঋতু বলে উঠে, ' এতো সকালে কে আসলো???' রাতুল বলে,' আমি দেখছি।' বলেই উঠে যেয়ে দরজা খুলতেই রাতুল অবাক হয়ে বলে উঠে,' আপনারা।'
************************************************
হামীম খান চুপচাপ বসে আছেন তুরহানের রেন্ট হাউসের বারান্দায়। ঠিক সেই সময় তৃপ্তি সিনহা এসে হামীম খানের পাশে একটা সোফায় বসে বলে উঠেন, ' আপনি কি কোন বিষয় নিয়া চিন্তায় রইয়াছেন হানের আব্বি?' তৃপ্তি সিনহার কথা শুনে হামীম খান তৃপ্তি সিনহার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ' কাল আপনার আয়লা আম্মাকে দেখার পর থেকে আমার ভালো লাগছে না বিবিজান। কেন যেন আমার মনে হচ্ছে মেয়েটাকে আমার কিছু কথা বলার স্নেহ করার পাশে থাকার উচিত ছিল। কিন্তু কোনো এক জড়তার জন্য আমি মেয়েটার সাথে একটা শব্দ পর্যন্ত বলতে পারিনি। মেয়েটার জীবনটা কতটা ঝুঁকিতে আছে জানার পর খারাপ লাগছে। বিশেষ করে আপনার ছেলের চোখে মুখে আমি মেয়েটার জন্য আলাদা কিছু দেখেছি বিবিজান। তাই ভাবছি মেয়েটাকে আর দূরে রাখা হয়তো ঠিক হচ্ছে না। এবার আপনার ছেলের কাছে তাকে এনে দেওয়া উচিত।' হামীম খানের মুখে এমন কথা শুনে তৃপ্তি সিনহা মুচকি হেসে বলেন, ' আমার যতটুকু করিবার ছিল হানের আব্বি আমি করিয়াছি। এখন বাকিটা আপনার পুত্রই করিবে। আমার আম্মা একবার আমার কাছে এলে তখন আপনিও তাকে আম্মা বানাইয়া নিয়া স্নেহ করিয়েন। বাবার অভাব পূর্ণ করিয়া দিয়েন। তাহলে হইবে। এখন মন খারাপ করিবেন না।' তৃপ্তি সিনহার কথায় হামীম খান মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়।
************************************************
রাতুল তুরহানদের সকাল সকাল ওদের বাসায় দেখে দরজায় অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে সুমন বলে উঠে, ' আরে ভাই দরজা থেকে সরে দাড়া ..অন্তত ভিতরে তো ঢুকতে দে.....' সুমনের কথায় রাতুল অবাকতার রেশ কাটিয়ে দরজা থেকে সরে দাঁড়াতেই তুরহানরা ভিতরে ঢুকে। তুরহানরা ভিতরে ঢুকতেই দেখে মাহিরা সবাই সোফায় বসে হেলান দিয়ে ঘুমে ঝিমছে। তুরহান কারো দিকে না তাকিয়ে সিঙ্গেল একটা সোফায় যেয়ে বসে।পিহু সবার অবস্থা দেখে অবাক হয়ে বলে, ' বেলা ৯টা বাজে আর এখনো তোমাদের ঘুম ভাঙেনি!!' রুমনরা ঘুম ঘুম চোখে তুরহানদের দেখে। তারপর আবার চোখ বুজে ফেলে। যুথি ঘুম ঘুম কণ্ঠে বলে, ' যে আমাদের ঘুম ভাঙাবে সে বাসায় নেই আপু। তাই আমাদের ঘুমও আজ চোখ থেকে ছুটছে না। শুধু রাতুলের বকার ভয়ে এখানে সবাই বসে আছি।' যুথির কথায় তুরহানদের ভ্রু কুঁচকে যায়। ততক্ষনে রাতুল এসে দাঁড়ায় ড্রয়িংরুমে। তুরহান রাতুলের দিকে ঘাড় কাত করে তাকায়। রাতুল তুরহানের তাকানোর মানে বুঝতে পেরে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সুমনদের বসতে বলে নিজে একটা সোফায় বসে বলে, ' আসলে রিহা বাসায় নেই।' তুরহান কপালে ভাজ ফেলে রাতুলের দিকে তাকিয়ে থাকলেও সুমনরা জোরে বলে উঠে, ' হোয়াট??' রাতুল কিছু না বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। আর এদিকে সুমনদের জোরে হোয়াট বলার মাহিরা ধড়ফড় করে উঠে বসে হতভম্ব হয়। মাহিরা সবার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। তুরহান ওদের দিকে না তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে, ' বাসায় নেই মানে কি??? অসুস্থ অবস্থায় কোথায় গিয়েছে???' তুরহানের কথা শুনে রুমন হাই দিতে দিতে বলে, ' আজ রিহার জন্মদিন।বছরে এই একটি দিন ও কারো সাথে কাটায় না।বাসায়ও থাকেও না। কোথায় যায়? আমরা নিজেরাও জানি না। অনেক ভোরে উঠে কোথায় যেন যায়.... আর ক্লান্ত পাখির মতো সন্ধ্যা হলে ঘরে ফিরে।' রুমনের কথা শুনে সুমনরা অবাক হলেও তুরহানের অভিব্যক্তি বোঝা দায়। কাইয়ান অবাক স্বরেই বলে উঠে, ' কিন্তু রিহা তো অসুস্থ!!!' রাতুল কাইয়ানের কথায় আবার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ' এইজন্যই কাল রাতে কয়েকজন গার্ডদের বলে রেখেছিলাম যাতে আজ ফজরের পর বাসার সামনে সিভিল ড্রেসে দাঁড়িয়ে থাকে। রিহা বাসার থেকে বের হতেই যেন ওর পিছু নেয়। আর সারাদিন ওকে আড়াল থেকে যেন ফলো করে। একটু ওয়েট করুন দেখছি রিহা কোথায়???' বলেই পকেট থেকে ফোন বের করে একটা গার্ডের নম্বরে ফোন দেয়।গার্ড ফোন রিসিভ করতেই রাতুল বলে, ' ড্রোন ক্যামেরা অন করো। রিহাকে দেখতে চাই। রিহা এখন কোথায় আছে? কি অবস্থা ওর?' গার্ডটি বলে, ' ছোট স্যার ম্যাম এখন অটোয়া নদীর তীরে একটা ব্রেঞ্চে বসে আছে। আর পাশেই বসে আছে একটা ১৪বছরের কানাডিয়ান ছেলে।এছাড়াও আরও অনেক ছেলে মেয়ে আছে যারা সবাই এতিম ছোট স্যার।' রাতুল গার্ডের কথা শুনে অবাক হয়। তাই গার্ডকে বলে ড্রোন ক্যামেরা অন করতে। গার্ড জি বলে ফোন কাটতেই রাতুল বসার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে একটা ছোট এন্টিনা টিভির সাথে সেটা করে টিভি অন করতেই যা দেখে তাতে সবাই অবাক হয়ে যায়।
************************************************
চোখ বুজে ফেরিহা ওর পাশে বসা ছেলেটার গিটারের টুং টাং শব্দ শুনছে।হঠাৎ কানাডিয়ান ছোট ছোট এতিম ছেলে মেয়েগুলো ওদের ভাষায় ফেরিহাকে বলে একটা গল্প শুনাতে। ফেরিহা প্রথমে মানা করলেও তারপর ওদের অনেক অনুরোধে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ' ঠিক আছে... বাংলা ভাষায় তোমাদের আমি গল্প শুনাবো।' ছোট বাচ্চাগুলো না বুঝেই হুররেএএএএ বলে উঠে। ফেরিহা তারপর ওর পাশে বসা ছেলেটার কাছে গিটারটা চাইতেই ছেলেটি গিটারটা ফেরিহার দিকে বারিয়ে দেয়। ফেরিহা গিটারটা নিয়ে সুর তুলে গেয়ে উঠে.....
একসাথে আছি তবু মনে হয় দূরে
কত কথা বলি তবু নেই যে সুরে
অভিমানে জমে থাকে অল্প
এটা আমাদেরই গল্প
হায় এটা আমাদেরই গল্প
হায় এটা আমাদেরই গল্প
এটা আমাদেরই গল্প
দূরে দূরে সুরে সুরে কাছে আসি ঘুরে ফিরে
পথে পথে পায়ে পায়ে ফিরে আসি এ ঘরে (২)
আমাদের গল্প গুলো অল্প থেকে ডানা ভেজায়
আমাদের ডানাগুলো বারান্দাতেই পালক শুকায়
এরপরে উড়তে গিয়ে
পায় না খুঁজে আকাশ
একসাথে আছি তবু মনে হয় দূরে
কত কথা বলি তবু নেই যে সুরে
অভিমানে জমে থাকে অল্প
এটা আমাদেরই গল্প
এটা আমাদেরই গল্প হায়
এটা আমাদেরই গল্প হায়
এটা আমাদেরই গল্প
দূরে দূরে সুরে সুরে কাছে আসি ঘুরে ফিরে
পথে পথে পায়ে পায়ে ফিরে আসি এ ঘরে (২)
এতক্ষন চোখ বুজে গানটা গাই ছিল ফেরিহা। গানটা শেষ হতেই চোখ খুলে তাকায়। তাতেই দেখা যায় ফেরিহার ভেজা চোখ। এতক্ষন ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সবাই ফেরিহার কণ্ঠে গানটা শুনেছে। পিহু মাহি হিমু যুথি ঋতুর চোখে পানি টলমল করছে। রাতুলরা এই প্রথম ফেরিহার কণ্ঠে গান শুনেছে।সবাই অবাক হয়ে টিভির পর্দায় তাকিয়ে আছে। তুরহান হঠাৎ বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত দিয়ে মেইন ডোরের দিকে যেতে গেলে পিছন থেকে সুমন বলে উঠে, ' তু্ই আবার কই যাচ্ছিস???' তুরহান সুমনের কথা শুনে পিছু না ঘুরেই শান্ত স্বরে বলে, ' নীল সমুদ্রে।' বলেই চলে যায়। আর তুরহানের কথা শুনে সবাই হতভম্ব হয়ে বসে থাকে। মাহি বোকা বোকা স্বরে বলে, ' অটোয়া শহরে আবার নীল সমুদ্র কোথায়???' পিহু ফিক করে হেসে বলে, ' ও তোমরা কেউ বুঝবে না। ও যেই নীল সমুদ্রে যাচ্ছে তা যেই সেই নীল সমুদ্র নয় গো... ও যেখানে যাচ্ছে সেটা ওর ব্যক্তিগত নীল সমুদ্র।' পিহুর কথা বুঝতে না পেরে সবাই বোকা বোকা চোখে পিহুর দিকে তাকিয়ে থাকে।
************************************************
ফেরিহা সামনের দিকে তাকিয়ে বিশাল বিশাল মালুস ফুল গাছের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। উদাস হয়ে গাছগুলোর দিকে তাকাতে তাকাতে। ঠিক তখনই একটা বাইক এসে ফেরিহার পথ আগলে থামে। ফেরিহা ভয় পেয়ে দুকদম পিছিয়ে যেয়ে ভ্রুকুঁচকে বাইকারের দিকে তাকায়। বাইকের মালিক তখন হেলমেট খুলে ফেরিহার দিকে তাকায়। ফেরিহা অবাক হয়ে তুতলিয়ে বলে উঠে, ' স্যা... স্যা..র আপ....নি এখানে!!!' ফেরিহার কথা শুনে তুরহান কিছুক্ষন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ফেরিহার দিকে তাকিয়ে থেকে ভারী স্বরে বলে, ' Why are you wandering around outside with a sick body???(অসুস্থ শরীরে নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করছো কেন???)' তুরহানের কথার ধরণে ফেরিহা বেশ ভয় পায়। তাই চুপ করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। ফেরিহাকে চুপ থাকতে দেখে তুরহান বেশ বিরক্ত হয়। তাই এবার ধমকে বলে উঠে, ' এই মেয়ে!!!কিছু জানতে চাইছি শুনতে পাওনি???' ফেরিহা তুরহানের ধমকে চমকে উঠে তুতলিয়ে বলে, ' বা....সায় ভা...লো লাগ...ছিল না স্যার।' তুরহান ফেরিহার কথা শুনে কিছুক্ষন চুপ করে ফেরিহার দিকে তাকিয়ে থেকে বাইকে বসা অবস্থায় বাম হাত বাড়িয়ে দেয় ফেরিহার দিকে। ফেরিহা তুরহানকে হাত ওর দিকে বাড়িয়ে দিতে দেখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তুরহানের দিকে তাকায় ফেরিহা। তুরহান ফেরিহাকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে চোখ দিয়ে ইশারায় নিজের হাত ধরতে বলে তুরহান।ফেরিহা তুরহানের ইশারা বুঝতে পেরে অস্বস্তিতে পড়ে যায়। দুই হাত কোচলাতে থাকে। আড় চোখে তুরহানের দিকে তাকায়। তাকিয়ে দেখতে পায় তুরহান ফেরিহার দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে। ফেরিহা তা দেখে শুকনো ঢোক গিলে কাঁপা কাঁপা ডান হাতটি দিয়ে তুরহানের বাম হাতটি ধরতেই তুরহান ফেরিহার হাতটি শক্ত করে ধরে টান দিতেই ফেরিহা হুড়মুড়িয়ে তুরহানের বুকের উপর আছড়ে পরে। আর তাতেই ফেরিহা জমে শ্বাস আটকিয়ে চোখ বুজে দাঁড়িয়ে থাকে। তা দেখে তুরহান মাস্কের আড়ালে বাঁকা হেসে ফেরিহার থুতনি ধরে উচু করে বলে, ' তাকাও আমার দিকে।' তুরহানের কথা কানে যেতেই ফেরিহা কাঁপা কাঁপা চোখে তাকাতেই তুরহানের চোখে চোখ পরে। তুরহান ফেরিহার চোখের দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বলে, ' এই আজ হাত বাড়িয়ে তোমার হাতটি শক্ত করে ধরলাম মেয়ে। এই হাত যদি জীবনে আর কখনো না ছাড়ি??? খুব কি ক্ষতি হবে???' ফেরিহা তুরহানের কথা শুনে তুরহানের চোখের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে ভেজা গলায় বলে, ' জীবনে চলার পথে কাউকে চাই না.....' তুরহান ফেরিহার কথা শুনে মাস্কের আড়ালে মৃদু হেসে বলে, ' Even if you didn't want it, someone has become a companion on your journey through life.(তুমি না চাইলেও কেউ তোমার জীবনে চলার পথের সঙ্গী হয়ে গিয়েছে।)'তুরহানের কথা শেষ হতেই ফেরিহা চোখ বুজে ঢোলে পরে তুরহানের বুকে। ফেরিহাকে নিজের উপর ভার ছেড়ে দিতে দেখে তুরহান দুহাতে আগলে নেয় ফেরিহাকে। তারপর ফেরিহার সেন্সলেস হয়ে পরার কারণ বুঝতে পেরে হো হো করে হেসে উঠে তুরহান। সেই হাসি যদি কেউ দেখতো বিশেষ করে ফেরিহা রাতুলরা আর সুমনরা তাহলে সবাই একসাথে হার্ট এট্যাক করত।
#চলবে
[যদি গল্পে কোনো বানান ভুল থাকে মাফ করবেন আপু ভাইয়ারা। কারণ টাইপের সময় অনেক ঝামেলা হয়।এবার গল্প লিখতে গিয়ে আমার অনেক প্যারায় পোর্টে হয়েছে। কতবার যে লিখা ডিলেট হয়ে গেছে হিসাব নেই। যাই হোক গল্প পড়ে ভালো লেগে থাকলে বেশি বেশি কমেন্ট আর লাইক দিয়ে আমাকে গল্প লিখতে সহায়তা করুন 🥰🥰🥰🥰🥰]
Click here to claim your Sponsored Listing.
