Lamia hossain Books

Lamia hossain Books

Share

I am a book lover and story lover woman...

30/07/2026

#হৃদ_মাঝারে_নীল_সমুদ্র
Lamia hossain Books
্ব (সারপ্রাইজ পর্ব )

🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🚫 প্রাপ্তবয়স্ক এবং মুক্তমনস্কদের জন্য।

_______________________________________

রাত ১১টা ১৭বাজে কিরণ ইমরোজ পার্সোনাল গার্ডদের যেতে বলে বিক্ষিপ্ত মেজাজ নিয়ে নিজের মার্সিডিজ নিয়ে হাইওয়ের রোড দিয়ে ছুটে চলেছে। বিক্ষিপ্ত মনে শুধু বার বার ফেরিহার নীল চোখ জোড়া ভেসে উঠছে।হঠাৎ জোরে ব্রেক করে গাড়ি থামিয়ে সিটে মাথা এলিয়ে দিয়ে বির বির করে বলে উঠে, ' My Lotus... তু্ই কতদিন আমার থেকে পালিয়ে বেড়াস? তাই আমি দেখবো।তোর মুক্তি নেই আমার কাছ থেকে Lotus...' বলেই অন্যমনস্ক হয়ে একা একাই আরও কিছু বিরবির করতে থাকে। ঠিক সেই সময় কিরণের কানে টিক টিক জাতীয় শব্দ আসে। কপালে ভাজ ফেলে সোজা হয়ে বসে শব্দের উৎস খুঁজতে আশেপাশে তাকায়। কিন্তু কিছু খুঁজে পায় না। হঠাৎ মাথায় কিছু আসতেই দ্রুত সিটবেল্ট খুলে গাড়ির ডোর খুলে দৌড়ে দুকদম যেতেই গাড়িটা ব্লাস্ট হয়। গাড়ি থেকে বেশি দূরে যেতে না পারায় কিরণ ছিটকে হাইওয়ের পাশে একটা গাছের সাথে বারি খেয়ে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।আর দূরে কেউ একজন গাড়িতে বসে এই দৃশ্য ভিডিও করে কাউকে পাঠিয়ে দেয়।
******************************************
এদিকে ৪০১নাম্বার হোটেল রুমে তুরহান পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে। তুরহানের সামনেই বসে আছে মাহি রাতুলদের আব্বু আম্মুরা।রাতুল আর সুমনরা সবাই পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।তুরহান নীরবতা ভেঙে হঠাৎ গম্ভীর স্বরে বলে উঠে, ' All of you are my seniors... so without pretense... I have registered a legal marriage with Ayala Siddiq Feriha long ago without her and me being aware of it. My mother did this. I came to know about it a few days ago. But he doesn't know about this yet. I don't want to tell you for now.(আপনারা সবাই আমার বয়োজ্যেষ্ঠ... তাই কোনো ভনিতা না করে সরাসরি বলছি... আয়লা সিদ্দিক ফেরিহার সাথে আমার অনেক আগেই আইনত বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছে তার এবং আমার অগোচরেই। আমার আম্মিজান এই কাজটি করেছেন। আমি কিছুদিন আগেই কথাটা জানতে পেরেছি। কিন্তু সে এখনো এই বিষয়ে জানে না। জানাতে চাচ্ছিও না আপাতত।)' বলেই কিছুক্ষন চুপ থেকে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তুরহান আবার বলে উঠে, ' আমি আয়লা সিদ্দিক ফেরিহাকে আজ এই মুহূর্তে সজ্ঞানে ধর্মীয়ভাবে বিয়ে করতে চাচ্ছি। বেয়াদবি মাফ করবেন। কারো অনুমতি চাচ্ছি না আমি শুধু আমার সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ডেকেছি আপনাদের।' নিজের কথা শেষ করে তুরহান নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকিয়ে থাকে।যেন কিছুই বলেনি বা হয়নি।আর এদিকে তুরহানের কথা শুনে সুমনরা বাদে সবাই অবাক হয়ে থমকে বসে আছে।
******************************************
কাইয়ান আনমনে দোতালার সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় কারো সাথে ধাক্কা লেগে পরে যেতে গিয়েও রেলিং শক্ত করে ধরার কারণে বেঁচে যায়।কাইয়ান রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগেই সামনের ব্যক্তি বলে উঠে, ' কাই স্যার সরি!!সরি স্যার!!আসলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে আপনি যে উঠে আসছিলেন খেয়াল করিনি।' কাইয়ান সামনের ব্যক্তির কথা শুনে দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠে, ' কি এমন তাড়াহুড়ো করে মহান কাজ করতে যাচ্ছো শাহীন? যে চোখ চাঁন্দের দেশে রেখে রকেটের গতিতে ছুটছো.....' কাইয়ানের কথায় শাহীন বুঝতে পারে কাইয়ান ভীষণ চটেছে। তাই দাঁত কেলিয়ে হেসে বলে, ' তুরহান স্যারের এত রাতে বিয়ে করার ক্রেভিং উঠেছে কাই স্যার। তাই গার্ডেদের দিয়ে এই রাত ১১:৫০শে একজন হুজুর অনেক কষ্টে জোগাড় করেছি। তাকেই আনতে যাচ্ছি নিচে স্যার।' কাইয়ান শাহীনের কথা শুনে কপালে ভাজ ফেলে বলে, ' এই বিদেশের মাটিতে এতো রাতে তুমি হুজুর কোথায় পেলে?' কাইয়ানের কথায় শাহীন নিজের শার্টের কলার দুই হাত দিয়ে ভাব নিয়ে একটু উচু করে ভাব নিয়ে বলে, ' এই শাহীনের দ্বারা কোনো কিছুই অসম্ভব নয় স্যার.... খালি আপনারাই বিশ্বাস করতে চান না। এই শাহীন ইচ্ছে করলে ঐ চাঁদটা এনেও আপনাদের সামনের হাজির করতে পারে স্যার। একবার হুকুম করেই দেখুন।' কাইয়ান শাহীনের কথা শুনে বিরক্তির শ্বাস ছেড়ে বলে, ' প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কথা বলো তুমি শাহীন।' বলেই কাইয়ান শাহীনকে পাশ কাটিয়ে উপরে উঠে যায়। আর শাহীন হতভম্ব দাঁড়িয়ে থেকে মনে মনে বলে যাহ!!বাবা!!আমি আবার বেশি কি কথা বললাম.....।
******************************************
সবার অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকার মাঝেই রাতুলের আব্বু রাহাত শেখ হালকা কেশে বলে উঠেন, ' আমরাও কোনো ভনিতা করে কথা বলতে চাচ্ছিনা না ইয়ংম্যান..... রিহা আম্মুর ব্যাপারে আমরা বেশি কিছু না জানলেও আবার কিছু জানি এমন নয়। সে কি?কে? এগুলো নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। শুধু জানি সে আমাদেরই মেয়ে। কিন্তু মেয়েকে এভাবে আমরা বিয়ে দিতে পারি না ইয়ংম্যান??? তার উপর মেয়েটার জ্ঞান নেই...' রাহাত শেখের কথা শুনে তুরহান মাস্কের আড়ালে বাঁকা হেসে রাতুলের দিকে তাকিয়ে বলে, ' Mr. Ratul??????' তুরহান রাতুলের নাম ধরে ডাকতেই রাতুল চমকে তুরহানের দিকে তাকায়। আর তুরহানের চোখের দিকে তাকাতেই যা বোঝার বুঝে যায়। তাই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে রাতুল ওর আব্বু আম্মুদের দিকে তাকিয়ে বলে, ' আব্বু তোমরা ভাইয়ার কথায় রাজি হয়ে যাও। কেন রাজি হতে বলছি?? তা তোমাদের পরে বলবো।কিন্তু আপাতত শুধু এইটুকু জেনে রাখো রিহা যদি কারো কাছে নিরাপদ থাকে সেটা একমাত্র তুরহান ভাইয়ের কাছে।একটু আগেও ওর উপর দিয়ে বড় রকমের একটা বিপদ গিয়েছে। আমরা হাজার সচেতন হয়েও ওকে সেফ রাখতে পারছি না।তাই ভাইয়া যা বলে মেনে নেও।' রাতুলের কথা শুনে ফেরিহার সাত পাপা মাম্মার বুঝতে বাকি থাকে না যে কিছু একটা নিশ্চয়ই হয়েছে। নয়তো রাতুলের মতো বিচক্ষণ ছেলে কখনো তাঁদের এমন কথা বলতো না। তাই তারা একসাথে বলে উঠে, ' ঠিক আছে।' কিন্তু মাহির আম্মু মরিয়ম চিন্তিত স্বরে বলে উঠেন, ' রিহা কি রাজি হবে??? আর তাছাড়া ওতো এখন সেন্সলেস অবস্থায় পরে রয়েছে ।' সবাই মাহির আম্মুর কথা শুনে চিন্তায় পরে যায়। ঠিক তখন মাহিদ হোসেন ছোট একটা শ্বাস ছেড়ে বলেন, ' মাহি তোমার আম্মুদের নিয়ে রিহার কাছে যেয়ে ওকে চোখ মুখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরানোর ট্রাই করো।' মাহি মাহিদ হাসানের কথা শুনে মাহির আম্মু আর রাতুলদের আম্মুদের নিয়ে বেডের কাছে যায়।ঠিক সেই মুহূর্তে কাইয়ান রুমের ডোর খুলে ভিতরে ঢুকে সুমনের পাশে যেয়ে দাঁড়িয়ে তুরহানের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাকিয়ে মৃদু হাসে। তুরহান কাইয়ানের দিকে তাকিয়েও নির্লিপ্ত থাকে।
******************************************
মাহির আম্মু মরিয়ম ফেরিহার মুখে পানি ছিটা দিতেই ফেরিহা চোখ মুখ হালকা কুঁচকে ফেলে। মরিয়ম ফেরিহাকে চোখ মুখ কুচকাতে দেখে হাতের পানির গ্লাসটা টি টেবিলে রেখে গালে আলতো হাত রেখে মৃদু স্বরে বলে, ' রিহা আম্মু!!!রিহা আম্মু!!!চোখ খুলে দেখো তোমার মাম্মারা তোমার কাছে বসে আছে আম্মু.... তোমার জ্ঞান ফেরার অপেক্ষা করছে। তাকাও আম্মু...' মরিয়ম বেগমের ডাক ফেরিহার মস্তিষ্কে পৌঁছাতেই ফেরিহা পিট পিট করে তাকায়।কিছুক্ষন সবার দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠে বসে হু হু করে কেঁদে বেডের হেড বোর্ডের পাশে চেপে যেয়ে দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বিরবির করে বলে উঠে, ' ডাইনিটা আমাকে ঐ জানোয়ারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। ঐ জানোয়ারটা আমাকে জোর করে নিয়ে যাবে। আমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। কেউ না....' একনাগাড়ে বিরবির করতে থাকে ফেরিহা আর কানতে থাকে। এদিকে ফেরিহার অদ্ভুত আচরণ দেখে ফেরিহার সাত মাম্মা পাপা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। আর রাতুল আর মাহিদের চোখের কোণে পানি জমে। রাতুলের আম্মু এগিয়ে যেয়ে ফেরিহার পাশে বসে ফেরিহাকে জড়িয়ে ধরে বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে নরম স্বরে বলে, ' আম্মা শান্ত হও..... মাম্মারা আছি তো... কেউ তোমাকে নিয়ে যেতে পারবে না শান্ত হয়। এই যে মাম্মার বুকে আছো... নিরাপদে আছো আম্মা। শান্ত হও আমাদের লিটল বার্ড।' রাতুলের আম্মুর কথায় শান্ত না হয়ে বরং রাতুলের আম্মুর সাথে চেপে যেয়ে হেঁচকি দিয়ে কান্না করতে থাকে।এদিকে রাতুল আর রুমন বড় একটা কাপড় দিয়ে বেডের সমানে পর্দা দিয়ে রেখেছে। চাইলেও ফেরিহার কাছে যেতে পারছে না। শাহীন হুজুর নিয়ে আসার সাথে সাথে হুজুরকে সুমন সব ইনফরমেশন দিতেই হুজুর বিয়ের জন্য খুৎবা পাঠ করতে শুরু করেন। আর ওদিকে ফেরিহা একটা ট্রমার মধ্যে থাকার কারণে ওর কান পর্যন্ত কিছু পৌঁছাতে পারছে না। মাহিদ হোসেন সব কিছু চিন্তা ভাবনা করে সোফার থেকে উঠে রাতুলের পাশ দিয়ে বেডের কাছে যেয়ে ফেরিহার পাশে বসে রাতুলের আম্মুকে ফেরিহাকে ছাড়তে বলে ইশারায়। রাতুলের আম্মু ফেরিহাকে ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াতেই মাহিদ হোসেন কান্নারত ফেরিহার মাথায় হাত বুলিয়ে নরম কণ্ঠে বলেন, ' আমার আম্মা পাপার কাছে আসতো দেখি....' মাহিদ হোসেনের কথায় ফেরিহা মাহিদ হোসেনের কাছে আসে মাহিদ হোসেনের বুকে মাথা রেখে কান্না করতে করতে বলে, ' পাপা.... পাপা আমাকে বাঁচাও পাপা.... একটা খারাপ মানুষ আমাকে নিতে এখানে এসে গেছে। আমাকে কোথাও লুকিয়ে ফেলো। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে পাপা। কাউকে আমার কষ্টের কথা বলতে পারি না পাপা এখনো পারছি না পাপা। প্লিজ পাপ কিছু করে আমার কষ্ট কমিয়ে দেও।' ফেরিহার আকুতি ভরা কথায় সবার চোখে কোণে পানি চিকচিক করে।মাহিদ হোসেন দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে উঠেন, ' পাপাকে ভরসা করো তো আম্মা।' ফেরিহা মাহিদ হোসেনের কথায় কান্না করতে করতে মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়। মাহিদ হোসেন মৃদু হেসে বলে, ' যদি তুমি পাপাকে ভরসা করে থাকো তাহলে আমি বলবো আমাকে যেমন তুমি ভরসা করো তেমন তোমার সব পাপাদেরও ভরসা করো তো...' ফেরিহা ফের মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়। মাহিদ হোসেন তাই বলে উঠেন, ' তাহলে পাপারা তোমার যেটা ভালো হবে সেটাই তোমার জন্য করবে। সেই বিশ্বাসটা আছে তো আমাদের উপর আম্মা???' ফেরিহা কান্না করতে করতে হেঁচকি উঠে গেছে। তারপরও মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়। মাহিদ ফেরিহার থেকে পজিটিভ উত্তর পেয়ে আবার মৃদু হেসে বলে উঠেন, ' তাহলে এই পাপার উপর ভরসা করে কান্না থামিয়ে চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করো আম্মা । পাপার বুকে তার আম্মা ভীষণ নিরাপদে আছে। আম্মা চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করে তোমার সবচাইতে ভরসা হাত বাড়িয়ে দেওয়া একজন মানুষের চেহারা কল্পনা করবে ঠিক আছে।যাকে তোমার সবচাইতে আপন লাগে। তারপর তোমার কানে যেই সব পোঁছাবে তা বলবে ঠিক আছে। পাপার কথা শুনে দেখো আম্মা তোমার ভালো লাগবে।' ফেরিহা মাহিদ হোসেনের কথা শুনে মাহিদ হোসেনের বুক থেকে মাথা তুলে কান্না বন্ধ করে অবাক হয়ে মাহিদ হোসেনের দিকে তাকায়।মাহিদ হোসেন ফেরিহার তাকানো দেখে মৃদু হেসে চোখের ইশারায় ফেরিহাকে আস্বস্ত করে। ফেরিহা আর কোনো কিছু না ভেবেই মাহিদ হোসেনের বুকে মাথা রেখে চোখ বুজে বড় বড় শ্বাস নিয়ে নিজের সবচেয়ে আপন এবং কাছের কাউকে মনে করার চেষ্টা করে। ঠিক তখনি কিছু বছর আগের একটা এক্সিডেন্টে যেই ছেলেকে বাঁচিয়ে ছিল সেই ছেলের রক্তাক্ত মুখটা ভেসে উঠে। সেই ব্যথাতুর অথচ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা মুখটা ফেরিহার চোখের সামনের ভেসে উঠে। ঠিক তখনি ফেরিহার কানে কিছু শব্দ ভেসে আসতেই ফেরিহা কল্পনার জগতে থেকেই নরম অথচ কোমল স্বরে বলে, ' আলহামদুলিল্লাহ কবুল ' আলহামদুলিল্লাহ কবুল 'আলহামদুলিল্লাহ কবুল '। ফেরিহার বলা শেষ হতেই সবাই একসাথে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠতেই ফেরিহা কল্পনার মাঝ থেকে বের হয়ে আসে।মাহিদ হোসেনের বুক থেকে মাথা তুলে বোকা চোখে সবার দিকে তাকিয়ে দেখে সবাই মিট মিট করে হাসছে। তাই বোকা বোকা ভাবে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে বলে, ' ওরা হাসছে কেন পাপা???' মাহিদ হোসেন নিজেও মৃদু হেসে বলেন, ' আম্মা আপনার বিয়ে সম্পূর্ণ হয়েছে।' মাহিদ হোসেনের এই একটা কথা ফেরিহাকে বাকশুন্য করে দেওয়ার মতো যথেষ্ট ছিল। ফেরিহার বাকশুন্য হয়ে বসে থাকার মাঝেই তুরহান কাপড়ের পর্দা সরিয়ে ভিতরে বেডের কাছে এসে দাড়িয়ে নরম স্বরে বলে, ' "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু বেগম সাহেবা।' তুরহানের সালাম দেওয়া শুনে ফেরিহা অবাক হয়ে তুরহানের চোখের দিকে তাকিয়ে আনমনেই সালামের উত্তর দিয়ে বলে উঠে, ' পাপা আমার বিয়ে কি স্যারের সাথে হয়েছে????' মাহিদ হোসেন মুচকি হেসে বলেন, ' জি আম্মা।' ব্যাস এইটুকু কথায় ছিল ফেরিহার জন্য যথেষ্ট। ফেরিহা তুরহানের দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে মাহিদ হোসেনের বুকে ঢোলে পরে। ফেরিহার সেন্সলেস হওয়া দেখে সবাই ফিক করে হেসে দেয়। কিন্তু তুরহান বিরক্ত হয়ে বিরবির করে বলে, ' এই মেয়ে কত সেন্স হারাতে পারে আল্লাহ ভালো জানেন। '
******************************************
সবাই চলে গেছে। শুধু হোটেলরুমে রয়ে গিয়েছে তুরহান আর ফেরিহা। পিহুকে বলেছিল ফেরিহাকে চেঞ্জ করে দিতে। পিহু অচেতন ফেরিহাকে চেঞ্জ করে একটা সুতির মিষ্টি কালারের কামিজ সেট পড়িয়ে দিয়ে গেছে। তারপর থেকে তুরহান শাহীনকে দিয়ে আনিয়ে রাখা প্যাকেট থেকে একটা মেহেদীর কোণ বের করে ইউটিউব দেখে অচেতন ফেরিহার হাতে মেহেদী দিয়ে চলেছে। রাত ১:৩০দেওয়া শেষ করে এখন হাত দুটো আলতো করে ধরে বসে আছে শুকানোর জন্য। আধাঘন্টা পর মেহেদী শুকিয়ে গেলে তুরহান পকেট থেকে নিজের ফোন বের করে শাহীনকে ফোন দেয়।ফোনটা রিসিভ হতেই তুরহান গম্ভীর স্বরে বলে, ' চপার রেডি।' শাহীন তুরহানের কথা শুনে, ' জি বস।' বলতেই তুরহান ফোন কেটে দিয়ে ফেরিহার দিকে তাকিয়ে দেখে ফেরিহার মাথায় ওড়না হিজাবের মতোই বাধা আছে। তারপরও রিস্ক না নিয়ে ফেরিহাকে একটা চাদর দিয়ে পেঁচিয়ে পাঁজাকোলে তুলে নিয়ে ফেরিহার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বলে, ' স্বামীর বাড়ি বিয়ের পর প্রথম পা রাখবে। তাই দু হাতে মেহেদী দিয়ে দিয়েছি বেগমসাহেবা।' তুরহান তো বলেছে ফেরিহাকে উদ্দেশ্য করে কিন্তু অচেতন ফেরিহার কানে কি আধো সেই কথা গিয়েছে??? ভেবেই তুরহান মুচকি হেসে ফেরিহাকে নিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ায়।

#চলবে

[ভাইয়া এবং আপুরা গল্পে যদি কোনো বানান ভুল হয়ে থাকে। তারজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। কারণ টাইপ করার সময় অনেক ঝামেলা হয়। তাই ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন। আর গল্প পড়ে যদি ভালো লেগে থাকে তবে বেশি লাইক কমেন্ট করে আমাকে গল্প লিখতে উৎসাহিত করবেন 🥰🥰🥰🥰🥰]

13/07/2026

#হৃদ_মাঝারে_নীল_সমুদ্র
Lamia hossain Books
্ব

🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🚫কঠোরভাবে প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত।
_______________________________________

৪০১ নম্বর রুমের ভিতরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।সুমন কাইয়ান পিহু মুহিদ জিহান রাতুল রুমন অনিক হিমু যুথি ঋতু মাহি সবাই দাঁড়িয়ে আছে তুরহান আর ফেরিহার বসে থাকা সোফার সামনে।ফেরিহা সোফায় দুই হাঁটু উঠিয়ে মুখ গুজে আছে। ওদের উপস্থিতি টের পেলেও ফেরিহার মাঝে কোনো হেলদোল নেই। রাতুল আর সুমনরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ফেরিহার দিকে। রাতুল ফেরিহার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলে, ' রিহা তু্ই এখানে!!!আর আমরা সারা হোটেল জুড়ে তোকে খুঁজে চলেছি..... কি হয়েছে তোর???এভাবে বসে আছিস কেন??? তুরহান ভাইয়া বকেছে তোকে???' রাতুলের কথা শেষ হলেও ফেরিহার মধ্যে কোনো হেলদোল দেখা যায় না। কিন্তু তুরহান রাতুলের কথা শুনে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে গম্ভীর স্বরে বলে, ' ওকে আমি বকতে যাবো কেন???ভয় পেয়েছে এই মেয়ে.... ডোরের বাইরে যাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছ.... তাকে দেখে।' তুরহানের কথায় সবাই আরও একদফা অবাক হয়ে ফেরিহার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে। সুমন কপালে ভাজ ফেলে তুরহানকে বলে, ' মিস্টার কিরণ ইমরোজকে দেখে ভয় পাওয়ার কি আছে???? তাছাড়া ফেরিহা তো সেল্ফডিফেন্স জানে....' তুরহান কিছু না বলে শুধু সুমন কাইয়ান মুহিদ জিহান আর পিহুর দিকে শান্ত চোখে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে। তাতেই ওরা যা বোঝার বুঝে যায়। তাই পিহু এগিয়ে যেয়ে ফেরিহার একপাশে বসে ফেরিহার মাথায় হাত বুলিয়ে নরম স্বরে, ' কি হয়েছে কিউটিপাই??? এভাবে বসে কাঁদছো কেন???? অসুস্থ হয়ে পড়বে তো... আমাদের খুলে বলো তোমার সমস্যার কথা। আমরা তোমার সমস্যা সল্ভ করার ট্রাই করবো। তোমার ফ্রেন্ডরা তোমার অবস্থা দেখে ভীষণ ঘাবড়ে আছে দেখো মাথা তুলে। এভাবে হাঁটুর সাথে মুখ গুজে কেঁদো না ওরা ভীষণ অপরাধবোধ করছে তোমার ঠিক মতো খেয়াল রাখতে না পেরে।' পিহুর কথাগুলো বোধহয় ফেরিহার মাথায় ঢুকেছে। তাই আস্তে আস্তে মাথা তুলে কান্নারত চোখ তুলে সামনে রাতুলদের দিকে তাকালো। তাকাতেই রাতুলদের অপরাধবোধে ছেয়ে থাকা মুখগুলো দেখতে পেয়ে জোরে ঢুকরে কেঁদে উঠল ফেরিহা। রাতুলরা ফেরিহার কান্না দেখে আর স্থির থাকতে পারলো না। তাই দ্রুত কদমে এসে সবাই ফেরিহার সোফার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে মাথা নিচু করে একসাথে বলে উঠে, ' সরি রিহা!!!!তু্ই কি বেশি ভয় পেয়েছিস??? আমরা সত্যি তোর ঠিক মতো খেয়াল রাখতে পারিনি। যার জন্য তোর চোখে পানি... আমাদের মাফ করে দে বোন... আর কোনোদিন তোকে একা ছাড়বো না... আর কাঁদিস না বোন অসুস্থ হয়ে পড়বি। দরকার হলে আমাদের সবাইকে শাস্তি দে। তোর যা মন চায়।তারপরও তু্ই কান্না থামা।' বলেই সবাই অসহায় আর ছলছল দৃষ্টি নিয়ে ফেরিহার দিকে তাকিয়ে থাকে। ফেরিহা ওদের কথা শুনে কান্নারত অবস্থায় ভাঙা স্বরে বলে, ' তোদের কোনোদিন দোষ নেই.... সব আমার কপালের দোষ। ছোট থেকেই একটার পর একটা বিপদ আমার পিছু লেগেই থাকে।বিপদ আমার পিছুই ছাড়ে না। তাইতো আজ আবার নতুন বিপদ উদয় হয়েছে। ও ছাড়বে না আমাকে.....ঐ... ঐ জানোয়ারটা আমাকে জোর করে হলেও নিয়ে যাবে। কেউ বাঁচাতে পারবে না আমাকে..... আমাকে..... আমাকে.. আবার মেন্টাল টর্চার করবে..।' বলেই আবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে ফেরিহা।সবাই ফেরিহার কথা শুনে কৌতূহল নিয়ে ফেরিহার দিকে তাকায়। রাতুল এগিয়ে এসে ফেরিহার দুই হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নরম স্বরে বলে, ' রিহা কি হয়েছে ঘটনা খুলে বলতো??? কে উনি?? কি সম্পর্ক তোর ঐ লোকটার সাথে??? কি এমন করেছে যে তু্ই ভয়ে সিটিয়ে আছিস???' রাতুলের কথা শুনে ফেরিহা কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে, ' আমার কেউ হয় না ঐ অমানুষটা। সুফিয়া আপুর মামাতো ভাই। ছোটবেলায় প্রায় মামা বাড়িতে সুফিয়া আপুর ঐ মামাতো ভাই আসতো। কিরণ ভাই আর সুফিয়া আপু মিলে আমায় খুব টর্চার করত। মামা বাসায় না থাকলে কখনো ভাতের প্লেল্ট নিয়ে যেত মুখের সামনে থেকে তো কখনো মুখের ভিতরে ছাই ঢুকিয়ে দিত। কখনো কখনো আবার লাঠি দিয়ে ইচ্ছে মতো মারতো। কখনো আবার হাতে গরম পানি ঢেলে দিতো। আরও অনেক টর্চার করত। আমার সাথে এমন করে ওরা পৈচাশিক আনন্দ পেত। আর ভয় দেখাতো আমি যদি মামাকে বলে দেই তবে শাস্তি আরও ভয়ঙ্কর হবে। সাথে মামীকে দিয়ে মার খাওয়াবে। এই ভয়ে আমি সবসময় চুপচাপ ওদের অত্যাচার সহ্য করতাম। কিন্তু একদিন.....' বলে ফেরিহা জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে। তুরহান পাশের টি টেবিল থেকে পানির বোতলটা নিয়ে ক্যাপ খুলে আবার ফেরিহার মুখের সামনে ধরতেই ফেরিহা কোনোদিকে না তাকিয়ে তুরহানের হাতে পানি পান করে নেয়। সবাই ফেরিহার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গিয়েছে। পানি খেয়ে ফেরিহাকে একটু শান্ত হতে দেখে তুরহান বোতলটির ক্যাপ লাগিয়ে আবার যথা স্থানে রেখে দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে , ' Continue......' তুরহানের গম্ভীর স্বরের কথা শুনে ফেরিহা কেঁপে উঠে ভয়মিশ্রিত স্বরে বলে, ''একদিন আমি স্কুল থেকে ফিরতে ফিরতে রাত করেছিলাম। একটা কারণবশত আমার পরা বোরখায় অনেক রক্ত ভরে ছিল।আর সেদিন বাসায় মামা মামী সুফিয়া আপু কেউ ছিল না। তারা পাশের বাসার একটা অনুষ্ঠানে গিয়ে ছিল। কিরণ ভাই বাসায় একা থাকায় আমি বাসার উঠোনের ব্রেঞ্চে বসে ছিলাম। ওয়েট করছিলাম মামা আসার। হঠাৎ আমার পাশে কারো বসার শব্দে আমি ঘাড় ঘুরিয়ে পাশ ফিরে তাকাতেই দেখতে পাই কিরণ ভাই অদ্ভুত ভাবে ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ভয় পেয়ে একটু সরে বসি তার থেকে। ঠিক তখনই কিরণ ভাই বলে উঠে, ' Lotus!!!এতো দেরি করলি কেন স্কুল থেকে আসতে....???? আমার জানা মতে স্কুলে রাতে ছুটি হয় না রে...' আমি কিরণ ভাইয়ের কথা শুনে অনেক ভয় পেয়েছিলাম।তাই বলেছিলাম, ' কিরণ ভাই স্কুল থেকে আসার পথে দেখলাম একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে। আশেপাশে কেউ ছিল না যে এক্সিডেন্ট করা ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে.... তাই আমি তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে তারপর এসেছি তো.... তাই দেরি হয়ে গিয়েছে।' আমার কথাগুলো শোনা মাত্রই কিরণ ভাইয়ের চোখের রঙ বদলে যায়। বসা থেকে দাঁড়িয়ে যেয়ে খুব খারাপ ভাষায় আমায় গালাগালি করতে থাকে। আমি দৌড়ে ঘরে যেয়ে দরজা আটকাতে গেলে সে আমার হাত ধরে টেনে স্টোররুমে নিয়ে ইচ্ছে মতো মেরে বাইরে মুরগির ঘর থেকে দুটো মুরগি এনে আমার সামনেই এক হাত দিয়ে জবাই করে সেই রক্ত আমার গায়ে ছিটিয়ে দিয়ে রুম বাইরে থেকে লক করে চলে যায়। সেই ঘটনার পর থেকে আমি ভীষণ ট্রমার মধ্যে চলে যাই। ব্লাড থেকে আমার ফোবিয়া হয়ে যায়। আর মামা সব ঘটনা জানার পর আমায় নানুর বোনের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তারপর আর কিরণ ভাইয়ের সাথে আমার দেখা হয়নি। সে একটা মানুসিকভাবে অসুস্থ লোক সাথে একটা সাইকো। আজ আবার ফেরে এসেছে আমায় ওর খেলনা বানাতে বন্দী বানাতে। ওয়াশরুমে যেয়ে আমায় জোর করে তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। আমি ওখান থেকে কোনো রকমে পালিয়ে এসেছি। ঐ অমানুষটা বলছে আমায় নাকি ওর সাথে নিয়ে যাবে খাঁচায় বন্দী করে রাখবে। আমি নাকি বেশি উড়েছি....'' বলেই কাঁপা কাঁপা হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে হেঁচকি তুলে কেঁদে উঠে ফেরিহা। আর এদিকে ফেরিহার কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছে সবাই। সবার মুখের ভাষা হারিয়ে গেছে। পিহু অস্থির হয়ে ফেরিহাকে নিজের বুকের মাঝে টেনে নেয়। মাহি যুথি ঋতু হিমুর চোখ থেকে অনর্বরত পানি ঝরতে থাকে নিজের বান্ধবীর সাথে অস্বাভাবিক ঘটনার কথা শুনে।আর তুরহান তখন Continue বলার পর সোফায় হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে হাতের দুই আঙ্গুল দিয়ে যে কপাল ঘসে যাচ্ছে তা আর থামার নাম নেয়। সবার স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে এবং বসে থাকার মাঝেই রুমের ডোরে আবার জোরে জোরে ধাক্কানো আর কলিংবেলের শব্দ ভেসে আসতেই সবাই হুশে আসে। ফেরিহা তাতে ভয়ে পিহুর সাথে আরও সিটিয়ে যায়। কাইয়ান যেয়ে ডোরের ভিউ লুকিংয়ে চোখ রাখতেই কিরণকে ডোরের অপর পাশে দাঁড়ানো দেখতে পায়। তাই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তুরহানের দিকে তাকায়। তুরহান একইভাবে চোখ বন্ধ করে বসে থেকে হাত দিয়ে কিছু একটা ইশারা করতেই কাইয়ান তুরহানের ইশারা বুঝে সুমন আর পিহুকে কিছু ইশারা করে। সুমন আর পিহু তা বুঝতে পেরে সুমন রাতুলদের সবাইকে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে এবং সোফায় আর ডিভানে বসতে বলে। পিহু ফেরিহাকে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে তুরহানের সোফার পিছনে আড়ালে ফেরিহাকে বসিয়ে দিয়ে ওকে অভয় দিয়ে তুরহানের সোফার পিছনে ফেরিহাকে আড়াল করে সোফার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
************************************************
নিচে পার্টি হলে মাহিদ হোসেন আর রাতুলদের আব্বু আম্মুরা বসে আছে। ছেলে মেয়েদের অনেকক্ষন হলো দেখছে না। একটু টেনশন হলেও তা তারা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলছেন। কারণ ছেলে মেয়েগুলো এখন এডাল্ট। যথেষ্ট বড় হয়েছে তারা। তাই তাদের নিয়ে এখন নিশ্চিন্তে থাকা যায়। হঠাৎ রাতুলের আব্বু রাহাত শেখ বলে উঠেন, ' মাহিদ ভাই তু্ই তখন T. K. F এর সিইও কে কি কথা বলতে চাইলি??তাকে কি তু্ই পার্সোনালভাবে চিনিস???' রাতুলের বাবার কথায় অনিকদের আব্বু আম্মুরা সবাই মাহিদ হোসেনের দিকে কৌতূহলি দৃষ্টিতে তাকায়। মাহিদ হোসেন তখন দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মৃদু হেসে বলেন, ' রাতুল হয়তো তোদের বলতে ভুলে গেছে। বিষয়টা রিহা আম্মাকে ঘিরে।' মাহিদ হোসেনের কথায় সবার কৌতূহল বারে। তাই অনিকের আব্বু আনোয়ার সাহেব কপালে ভাজ ফেলে বলেন, ' বিষয়টা খুলে বলতো।' মাহিদ হোসেন মৃদু হেসে আশেপাশে একবার দেখে নিয়ে মাথা নাড়িয়ে সায় জানিয়ে তারপর রাতুলের আব্বু আম্মুদের সবকিছু বলতে শুরু করেন।
************************************************
কাইয়ান ডোর খুলে ডোরের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে কিরণের দিকে তাকিয়ে কপালে ভাজ ফেলে বলে, ' কি সমস্যা মিস্টার কিরণ ইমরোজ??? মাথার তার কি ঢিলা হয়ে গিয়েছে আপনার??? এভাবে বসের পার্সোনাল রুমে ঢোকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন কেন?' কিরণ কাইয়ানের কথায় কোনো পাত্তা না দিয়ে তাকে পাশ কাটিয়ে ভিতরে প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে দাঁড়িয়ে পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে একবার তুরহানের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে রাতুলদের দিকে তাকিয়ে বলে, ' তোমাদের নাম জানি না। তাই কিছু বলে না ডেকে সরাসরি জানতে চাইছি তোমাদের সাথে যে আরেকটা মেয়ে থাকে সে কোথায়???' কিরণের কথায় রাতুল সোফার সাথে হেলান দিয়ে বসে আর রুমন ভ্রু কুঁচকে বলে, ' আপনি কার কথা মানে কোন মেয়ের কথা বলছেন???' কিরণ রুমনের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলে, ' আয়লা সিদ্দিক ফেরিহার কথা বলছি...' কিরণের কথায় রাতুল গম্ভীর স্বরে বলে, ' ওর কথা জানতে চাইছেন কেন আপনি?? কে আপনি???আর তাছাড়া ওকে দিয়ে কাজ কি আপনার??? ও তো অসুস্থ হয়ে পড়েছে দেখে চলে গেছে।' রাতুলের কথা শুনে কিরণ ভয়ঙ্কর রকমের একটা হাসি দেয়। যেই হাসির শব্দে ফেরিহার ভয়ে প্যানিক এট্যাক এসে যায়। কিন্তু তবুও নিজেকে সামলে রাখে। তুরহান এতক্ষন চুপ থাকলেও এবার চোখ মেলে কিরণের দিকে তাকিয়ে অতি গম্ভীর স্বরে বলে উঠে, ' Kiran Imroz...where are your boundaries? It would be better if you left this room before explaining that.(কিরণ ইমরোজ...আপনার সীমানা কোথায়?সেটা বুঝিয়ে দেওয়ার আগে এই রুম থেকে বের হয়ে গেলে ভালো হয়।)' তুরহানের কথায় কিরণ হাসতে হাসতে চোখের কোণে জমা পানিটুকু মুছে তুরহানের দিকে তাকিয়ে শান্ত কিন্তু অদ্ভুত স্বরে বলে, ' নিজের গন্ডি কোথায় সেটা আমি ভালো করে জানি। কিন্তু আপনি আপনার গন্ডির মাঝে থাকবেন প্লিজ। নয়তো... ' বলেই কিছুক্ষন চুপ থেকে মলিন হাসি দিয়ে বলে, ' Lotus... তু্ই যদি ভাবিস এতো সহজে আমার কাছ থেকে রক্ষা পাবি তবে তা তোর স্বপ্ন মাত্র। তোর জন্য শুধু মাত্র তোর জন্য আমি কোটি অভিশাপ মাথায় নিয়ে ঘুরি.... তু্ই যে আমার কি তা তু্ই নিজেও জানিস না??? তোর জন্য আমি সুফিয়াকে ১০কোটি টাকা দিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছি। তাই তোকে আমার হতেই হবে।' কিরণের কথা শেষ হতে দেরি কিন্তু অনিকের কিরণকে ঘুষি মারতে দেরি হয়নি। ঘুষি খেয়ে কিরণের মুখ অন্য দিকে ঘুরে যায়। রাতুল উঠে এসে কিরণের কলার ধরে টেনে কিরণকে রুমের বাইরে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে ডোর লাগিয়ে দেয়।ওদিকে ফেরিহা ভয়ে আর প্যানিক এট্যাক আসায় সেন্সলেস হয়ে পরে যেতে নিলে পিহু তাড়াতাড়ি করে হাঁটু গেড়ে বসে ফেরিহাকে ধরে ফেলে চিন্তিত স্বরে বলে, ' তুরহান ফেরিহা সেন্স হারিয়েছে।' সবাই তা শুনে উদিগ্ন হয়ে এগিয়ে যাওয়ার আগেই তুরহান সোফার পিছনে যেয়ে হাঁটু গেড়ে বসে ফেরিহাকে এক ঝাটকায় পাঁজাকোলে তুলে নিয়ে পাশের বেডে শুয়িয়ে কমফোর্ট টেনে দেয় ফেরিহার শরীরে। আর ঠিক তখনই রাতুল কিছুটা তেজি স্বরে তুরহানকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে, ' কি দরকার বলুন তো শুধু শুধু এমন ওর প্রতি আলগা দরদ দেখিয়ে??? ওর কপালে যা আছে তা তো ঘটবেই। আপনি উপর উপর থেকে আর মায়া দেখবেন না ওর জন্য। বোনটা আমার অলরেডি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে আপনার প্রতি। না ওকে নিজের কাছে নিচ্ছেন না ওকে দূরে ঠেলে দিচ্ছেন । কোনোটাই করেছেন না। খালি সামনে পেলে নিজের দায়িত্ব আর কর্তব্যর খাতিরে ওর কেয়ার করছেন। আর করবেন না প্লিজ। ঐ যে হারামিটা বলে গেলে ও সুফিয়াকে রিহার জন্য টাকা দিয়েছে। তারমানে সুফিয়া ঐ পশুটার কাছে ওকে বিক্রি করে দিয়েছে। যেকোনো সময় আমাদের কাছ থেকে রিহাকে কেড়ে নিয়ে যাবে। শেষ করে দিবে রিহাকে। তখন তো আর ওর পাশেও থাকবেন না রিহাকে সেভ করতেও পারবেন না। তাই চুপ হয়ে যান। আর উপরে উপরে দরদ দেখবেন না। ওর প্রতি যদি সত্যি ভালোবাসা আর দরদ থাকতো আপনার , তবে ও আপনার বউ হয় জেনেও এতো দিন এভাবে ওকে নিজের কাছ ছাড়া করে রাখতেন না।আসলে আপনার ক্ষমতায় নেই ওর মাথার উপরে বৃক্ষের ছায়া হওয়ার।' রাতুলের কথা শুনে সুমনরা হতবাক হয়ে যায়। আর মাহি যুথি হিমু ঋতু চোখের পানি ফেলে। তুরহান রাতুলের মুখে এতো কথা শুনেও ফেরিহার বেডের কাছে দাঁড়িয়ে ফেরিহার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।সুমন রাতুলের কথার জবাবে কিছুটা রাগ নিয়ে বলে উঠে, ' মাথা খারাপ হয়ে গেছে ছেলে তোমার?? কি বলছো হিসাব করে বলছো তো??তুরহান ফায়াজ খানের ক্ষমতা সম্পর্কে যদি জানতে তাহলে আজ তুমি রাতুল এতগুলো কথা বলতে না........' রাতুল সুমনের কথায় মৃদু হেসে বলে, ' জানতেও চাই না তার ক্ষমতা সম্পর্কে । শুধু চাই এবার অন্তত সে যেন স্বামী হিসাবে রিহাকে নিজের ছত্রছায়ায় নেয়.....' সবাই অবাক হয়ে যায় রাতুলের কথায়। মাহি সোফা থেকে দাঁড়িয়ে চোখের পানি মুছে বলে , ' ভাইয়া রিহা নিজেকে যতই শক্ত দেখাক না কেন??? ও আসলে ভীষণ দুর্বল আর সরল মনের একটা মেয়ে। আজ ঐ লোকটাকে আমাদের কারোই সুবিধার লাগেনি সাথে রিহার মুখে যা শুনলাম তাতে আমরা যথেষ্ট ভয় পাচ্ছি রিহাকে নিয়ে।' রুমন চিন্তিত স্বরে বলে, ' একটা বিপদ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেকটা বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে মেয়েটা। ' যুথি বলে উঠে, ' আজকের এই রেস কতদিন পর্যন্ত থাকবে তার ঠিক নেই। রিহা ভীষণ ভয় পেয়েছে।' ঋতু বলে, ' এই ভয় ওর ভিতর থেকে সহজে হয়তো যাবেও না।' তুরহান ওদের কথা শুনে পকেটে একহাত ঢুকিয়ে ফোন বের করে কিছু একটা টাইপ করে তারপর কাইয়ানের দিকে তাকিয়ে কিছু ইশারা করতেই কাইয়ান বাঁকা হেসে বলে, ' হয়ে যাবে বস।' বলেই কাইয়ান ডোর খুলে রুমের বাহিরে চলে যায়। আর তুরহান এবার রাতুলদের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে উঠে, ' তোমরা সবাই শান্ত হয়ে বসো তোমাদের আব্বু আম্মুরা কিছুক্ষনের মাঝেই উপরে আসছেন।' বলেই সিঙ্গেল সোফায় যেয়ে পায়ের উপর পা তুলে বসে তুরহান।রাতুলরা তুরহানের কথায় কিছুটা ভড়কে যায়।আর মুহিদ জিহান পিহু সুমন তুরহানের দিকে তাকিয়ে তুরহানের মনোভাব বোঝার ট্রাই করে। জিহান কিছুক্ষন তুরহানের দিকে তাকিয়ে থেকে কিছু একটা মাথায় আসতেই তুরহানের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলে উঠে, ' Fayaz, are you serious???... ' তুরহান জিহানের কথা শুনে মাস্কের আড়ালে বাঁকা হেসে ঘাড় সামান্য কাত করে বলে, ' I was always serious, Jin..' তুরহানের কথা শুনে সুমন মুহিদ পিহু চোখ কপালে তুলে তুরহানের দিকে তাকিয়ে থাকে। আর রাতুলরা ওদের কথার কিছু বুঝতে না পেরে ফ্যাল ফ্যাল করে ভ্যাবলাদের মতো ওদের দিকে তাকিয়ে থাকে।

#চলবে

[যদি গল্পে কোনো বানান ভুল থাকে মাফ করবেন আপু ভাইয়ারা। কারণ টাইপের সময় অনেক ঝামেলা হয়।গল্প পড়ে যদি ভালো লেগে থাকে তবে বেশি বেশি কমেন্ট আর লাইক দিয়ে আমাকে গল্প লিখতে সহায়তা করুন 🥰🥰🥰🥰🥰]

13/07/2026

কিরণ ভাই বলে উঠে, ' Lotus!!!এতো দেরি করলি কেন স্কুল থেকে আসতে....???? আমার জানা মতে স্কুলে রাতে ছুটি হয় না রে...' আমি কিরণ ভাইয়ের কথা শুনে অনেক ভয় পেয়েছিলাম।তাই বলেছিলাম, ' কিরণ ভাই স্কুল থেকে আসার পথে দেখলাম একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে। আশেপাশে কেউ ছিল না যে এক্সিডেন্ট করা ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে.... তাই আমি তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে তারপর এসেছি তো.... তাই দেরি হয়ে গিয়েছে।'

#হৃদ_মাঝারে_নীল_সমুদ্র
(আসন্ন পর্বের অংশ..... রাত ১২টা কি ১২:৩০টার দিকে গল্প পেয়ে যাবেন আপু ভাইয়ারা। )

18/06/2026

#হৃদ_মাঝারে_নীল_সমুদ্র
Lamia hossain Books
্ব

🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🚫কঠোরভাবে প্রাপ্ত মনস্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত।
___________________________________

রাতুলরা ওদের আব্বু আম্মুর সাথে কথা বলে নিজেদের জায়গায় ফিরে আসতেই দেখে ঋতু একা বসে আছে ফেরিহা নেই ঋতুর সাথে। ওদের সবার কপালে ভাজ পরে ফেরিহাকে না দেখে। তাই ঋতুকে রাতুল জিজ্ঞাসা করে, ' তু্ই একা বসে কেন??? রিহা কোথায়????' রাতুলের কথা শুনে ঋতু বলে, ' রিহা তো ওয়াশরুমে গিয়েছে...... ওর খুব অস্বস্তি হচ্ছিল তাই চোখ মুখে পানি দিতে গিয়েছে...' ঋতুর কথা শুনে অনিক বলে, ' তু্ই ওকে একা যেতে দিলি???? তু্ই সাথে যেতে পারলি না????' অনিকের কথা শুনে ঋতু নিচু স্বরে বলে, ' আমি যেতে চেয়েছিলাম.... কিন্তু ওই আমাকে সাথে নেয়নি সাথে বলল তোরা আসলে একসাথে দুজনকে না দেখলে টেনশন করতে পারিস। তাই বলেছে তোদের কাছে বলে ওর কাছে যেতে। আর তাছাড়া রিহা বলল যাবে আর আসবে। তাই আরকি......' ঋতুর কথা শুনে রুমন বলে উঠে, ' তাই আরকি তুইও ওর কথা মেনে নিলি????? তাই তো..... গাধী একটা.... তু্ই জানিস না ওর থেরাপি চলছে??? এসময় ওর শরীরটা ভীষণ দুর্বল থাকে....যেকোনো সময় ওর মাথা ঘুরতে পারে বা ও অসুস্থবোধ করতে পারে। কি করে ওকে একা ছাড়লি তু্ই???' ঋতু ওদের কথা শুনে নিজের ভুলটা বুঝতে পেরে মন খারাপ করে বসে থাকে।ওর অবস্থা দেখে মাহি আর হিমু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ' থাক ও বুঝতে পারেনি অতো....আমরা যাচ্ছি রিহার কাছে তোরা বস এখানে।' মাহি আর হিমুর কথায় রাতুলরা মাথা নাড়িয়ে সায় জানাতেই মাহি আর হিমু চলে যায় ফেরিহাকে খুঁজতে ওয়াশরুমে।মাহিরা ওয়াশরুমের দিকে যেতেই রাতুলরা সোফায় বসে টুকটাক কথাবার্তায় মেতে উঠে। ঠিক সেই সময়ই মাহি আর হিমু হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ে এসে রাতুলদের সামনে দাঁড়িয়ে চিন্তিত স্বরে বলে, ' রাতুল রিহা ওয়াশরুমে নেই.... এবং কি আশেপাশের কোথাও রিহা নেই.....ওকে ওয়াশরুমে না পেয়ে আশেপাশের সব জায়গায় খুঁজে এসেছি কিন্তু পাইনি রিহাকে।' মাহি আর হিমুর মুখে এমন কথা শুনে রাতুলদের মাথায় আকাশ ভেঙে পরে। ওরা সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে বলে উঠে, ' হোয়াট??????' ঋতু এবার কান্নায় ভেঙে পরে। তারপর বলতে থাকে, ' আমার ভুল হয়েছে আমি যে কেন ওর সাথে গেলাম না???? সব আমার দোষ। হয়তো ও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে তাই কোথায় গিয়েছে আল্লাহ জানে..... সব আমার দোষ.... ' বলেই কান্না করতে থাকে। রাতুলরা একদিকে ফেরিহার জন্য চিন্তা করছে তার মধ্যে আবার ঋতুর কান্নায় ভীষণ বিরক্ত হয়। তাই রাতুল বলে উঠে, ' তু্ই একটু চুপ কর তো.... এমনি রিহাকে নিয়ে টেনশন হচ্ছে.... ' বলেই কিছুক্ষন চুপ থেকে সবাইকে ফেরিহাকে খোঁজার কথা বলে নিজেও চলে যায় ফেরিহাকে খুঁজতে।
************************************************
তুরহান এখনো থমকে দাঁড়িয়ে আছে ফেরিহার কোমড় জড়িয়ে ধরে। ফেরিহা এখনো তুরহানের বুকে কপাল ঠেকিয়ে কেঁদেই যাচ্ছে সমানে।কাঁদার দরুন ফেরিহার ছোট্ট শরীরটা বার বার কেঁপে কেঁপে উঠছে। তুরহান তা খুব ভালো ভাবেই টের পাচ্ছে।নিজের হুশে এসে নরম কিন্তু গম্ভীর স্বরে বলে, ' কি হয়েছে???এভাবে কাঁদছো কেন??? ভয় পেয়েছো??? কেউ তোমাকে ভয় দেখাচ্ছে বা খারাপ আচরণ করেছে?? Tell me.....' তুরহানের কথায়ও ফেরিহার কোনো হুশ নেই শুধু কেঁদেই যাচ্ছে। ঠিক তখনই তুরহানের কানে ভেসে আসে কারো বুটের শব্দ সাথে কথা। কিরণ ঠোঁটের কোণে শয়তানি হাসি ঝুলিয়ে ফেরিহাকে খুঁজতে খুঁজতে আসছে আর বলছে, ' Lotus, where are you??????? Come in front of me.... Look, if I have to find you, it will be bad for you.... So if you want your own good, come in front of me yourself, Lotus.(Lotus কোথায় তু্ই?????? সামনে আয় আমার.... দেখ আমার যদি তোকে খুঁজে পেতে হয় তবে কিন্তু তোর জন্য সেটা খারাপ হবে.... তাই নিজের যদি ভালো চাস তো নিজে থেকে আমার সামনে আয় Lotus।)' কিরণের কণ্ঠ স্বর ফেরিহার কানে আসতেই ফেরিহা কান্না বন্ধ করে দিয়ে শক্ত হয়ে যায়। ভয়ে কাঁপতে থাকে। তুরহান কিছু একটা আঁচ করতে পেরে ফেরিহার কোমড় পেঁচিয়ে ধরে সামান্য উচু করে তুরহানের পাশে থাকা রুমে ফেরিহাকে নিয়ে ঢুকে পড়ে রুমের ডোর লক করে দিয়ে পাশের দেওয়ালের সাথে ফেরিহাকে নিয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়।একদিকে কিরণ করিডর দিয়ে আস্তে আস্তে হাঁটছে আর Lotus.... Lotus... বলে ডাকছে। তুরহান কিছুক্ষন নিজের বক্ষের সাথে মিশে থাকা ফেরিহার দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বলে, ' Is the boy looking for you???(ছেলেটি কি তোমায় খুঁজছে???)' তুরহানের কথা শুনে তুরহানের বক্ষে কাঁপতে থাকা ফেরিহা তুরহানের বুক থেকে মাথা তুলে তুরহানের দিকে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকায়। ফেরিহার অশ্রুসিক্ত কাজল কালো নীলমণিযুক্ত চোখের সাথে তুরহানের চোখের মিলন হতেই তুরহানের বুকের বাম পাশ কেঁপে উঠে। তুরহানের গলা শুকিয়ে আসে।নিজের ভিতরের ঝড় নিজের ভিতরে রেখে মাস্কের আড়ালে গম্ভীর চোখ মুখ নিয়ে ফেরিহার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ফেরিহা কিছুক্ষন তুরহানের চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে, ' জি স্যার..... ওই মানুষ নামক পশুটা আমায় খুঁজছে। একবার আমায়.... আমায় খুঁজে পেলে জোর করে তুলে নিয়ে যাবে স্যার... আমায় ..... আমায় .... আবার অনেক টর্চার করবে।' বলেই ফেরিহা ডুকরে কেঁদে উঠে।তুরহান ফেরিহার কথা শুনে কপালে ভাজ ফেলে গম্ভীর স্বরে বলে, ' ছেলেটি সাথে তোমার সম্পর্ক কি??? মানে বলতে চাইছি কি করে চিনো ছেলেটিকে???' ফেরিহা তুরহানের কথা শুনে কিছুক্ষন চুপ থেকে তারপর ভাঙা স্বরে বলে, ' সুফিয়া আপুর মামাতো ভাই...... আমার কেউ নয় সে.... কিন্তু আমায় খুব........' অর্ধেক কথা বলেই জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে ফেরিহা। তুরহান ফেরিহাকে অস্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে দেখে বিচলিত হয়ে যায়।ফেরিহাকে নিয়ে সোফায় বসে। তারপর টি টেবিলের উপর থেকে পানির বোতলটা নিয়ে বোতলের ক্যাপ খুলে ফেরিহার দিকে এগিয়ে দেয়। ফেরিহা নিজের সামনে পানির বোতল দেখে জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে কাঁপতে থাকা হাতটা উঠিয়ে বোতলটা হাতে নিতে যেয়েও ব্যর্থ হয়। তাই ফেরিহা সোফায় হেলান দিয়ে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজে থাকে। তুরহান ফেরিহার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে কিছু একটা ভেবে ফেরিহার দিকে ঘুরে বসে ফেরিহার নেকাবটা একহাতে আলতো করে খুলে ফেরিহার মাথার নিচে হাত দিয়ে মাথাটা একটু উচু করতেই ফেরিহা ফট করে চোখ মেলে বিস্ময় হয়ে তাকায় তুরহানের দিকে। তুরহান ফেরিহার দৃষ্টি উপেক্ষা করে ফেরিহার মুখের সামনে পানির বোতল একটু উচু করে ধরতেই ফেরিহা তুরহানের দিকে তাকিয়ে থেকেই হা করে তুরহানের হাত থেকে দু ঢোক পানি খাই। ফেরিহার পানি খাওয়া শেষ হতেই তুরহান আবার ফেরিহার মাথা আগের মতো রেখে হাত সরিয়ে নেয়। তারপর বোতলের ক্যাপ লাগিয়ে আগের জায়গায় বোতলটা রেখে। ফেরিহার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে, ' Don't you feel like you need to let someone into your life for your safety????(তোমার কি মনে হচ্ছে না তোমার সেফটির জন্য তোমার জীবনে কেউকে প্রবেশ করতে দেওয়ার প্রয়োজন????)' ফেরিহা তুরহানের কথা শুনে ধীর স্বরে বলে, ' জীবনের শুন্য খাতায় পূর্ণতা আনতে চাইছি না.......' ফেরিহার কথা শুনে তুরহান ফেরিহার দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে বলে, ' পূর্ণতা আল্লাহ কর্তৃক আসে....... কেউ নিজের জীবনের পূর্ণতা নিজে দিতে পারে না... এটা অন্তত তোমার আমার থেকে ভালো জানার কথা......' তুরহানের কথা শুনে ফেরিহা তুরহানের দিকে তাকিয়ে থাকে। তুরহানের চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বোঝার চেষ্টা করে.... কিন্তু কেন যেন বুঝেও বুঝে না ফেরিহা।তুরহান ফেরিহা দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকার মাঝেই খুব জোরে দরজা ধাকানোর শব্দ পাওয়া যায়।রুমের দরজা ধাকানোর শব্দে ফেরিহা আর তুরহান দুজনই হুশে এসে একসাথে দরজার দিকে তাকায়।ঠিক তখনই দরজার ওপাশ থেকে ভেসে আসে তুরহান আর ফেরিহার কানে কিরণের কণ্ঠ স্বর। ফেরিহা কিরণের গলা শুনেই ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে।
************************************************
রাতুলরা পাগলের মতো পুরো হোটেলের উপরতলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত ফেরিহাকে খুঁজে চলেছে। কিন্তু কোথাও খুঁজে না পেয়ে ভীষণ চিন্তায় পড়ে যায়।এদিকে নিজেদের বাবা মাকেও কিছু জানায়নি এখন পর্যন্ত।মাহি হিমু যুথি ঋতুর চোখ থেকে অনর্বরত টপ টপ করে পানি পড়ছে ফেরিহাকে খুঁজে না পেয়ে।রুমন অস্থির আর চিন্তা মিশ্রিত স্বরে বলে, 'এখন কি হবে?? কোথায় গেল রিহা??? কোথাও তো খুঁজে পাচ্ছি না ওকে???' রুমনের কথা শেষ হতেই রাতুল কিছু একটা ভেবে বলে, ' চল হোটেলের সি সি ক্যামেরা ফুটেজ টিভি রুমে যাই। দেখি হোটেলের ম্যানেজারকে বলে সি সি ফুটেজগুলো দেখতে দেয় কিনা????তাহলে হয়তো রিহা কোথায় আছে জানতে পারবো....' বলেই ঘুরে দোতলা থেকে নিচে নামতে যাবে ঠিক তখনই সুমনরা উপরে উঠে আসে আর রাতুলদের এখানে দেখে সবার কপালে ভাজ পরে। তাই কাইয়ান কপালে ভাজ ফেলে বলে উঠে, ' কি ব্যাপার তোমরা পার্টি ছেড়ে এখানে কি করছো????' কাইয়ানের কথায় অনিক চিন্তিত স্বরে বলে, ' আসলে ভাইয়া একটা প্রবলেম হয়েছে তাই আমরা এখানে।' সুমন অনিকের কথা শুনে এক ভ্রু উচু করে বলে, ' কি প্রবলেম হয়েছে??? খুলে বলো দেখি। আমরা কোনো হেল্প করতে পারি কিনা দেখি।' সুমনের কথা শুনে রাতুল সুমনের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে শান্ত কণ্ঠে বলে, ' রিহা খুঁজে পাচ্ছি না। ৪০মিনিট যাবৎ খুঁজে চলেছি উপরতলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত কিন্তু কোথাও ওকে পাওয়া যাচ্ছে না?' রাতুলের কথা শুনে সুমনরা একসাথে বলে উঠে, ' হোয়াটটটটট....???' সুমনরা অবাক হয়ে যায়। কাইয়ান কিছু না বলে পকেট থেকে ফোন বের করে কন্টাক্ট নাম্বার থেকে একটা অতিপরিচত নাম্বার বের করে তাতে কল দিয়ে চিন্তিত কণ্ঠে বলে উঠে, ' ফেরিহাকে পাওয়া যাচ্ছে না.... রাতুলরা অনেকক্ষন যাবৎ খুঁজছে ফেরিহাকে পুরো হোটেলে। কিন্তু কোথাও পাচ্ছে না.....' কাইয়ানের কথার পরিপেক্ষিতে ফোনের ওপাশ থেকে কি বলে??তা কেউ শুনতে পায় না। কাইয়ান ফোনের ওপাশের কথা শুনে শুধু বলে, ' Ok....' বলেই ফোনটা কানের থেকে নামিয়ে রাতুলদের সুমনদের দিকে তাকিয়ে বলে, ' চলো সবাই আমার সাথে।' বলেই সামনে দুকদম এগোতেই রাতুল কৌতূহল নিয়ে বলে, ' কোথায় যাবো আমরা???' কাইয়ান চলন্ত পা থামিয়ে ওভাবেই দাঁড়িয়ে বলে, ' গেলেই দেখতে পাবে....' বলেই পকেটে হাত গুজে আবার হাঁটতে শুরু করে। রাতুলরা আর সুমনরাও বাধ্য হয়ে তীব্র কৌতূহল নিয়ে কাইয়ানের পিছু পিছু চলে যায়।
************************************************
রাতুলরা আর সুমনরা উঠতে উঠতে তিনতলায় কাইয়ানের পিছু পিছু উঠে গেল। তারপর করিডর দিয়ে কাইয়ানের পিছু পিছু হাঁটতে হাঁটতে ৪০১নাম্বার রুমের কাছাকাছি আসতেই দেখতে পায় সেই রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কেউ ইচ্ছা মতো দরজা ধাক্কাচ্ছে আর কি যেন বলছে??? কাইয়ান পিছু ঘুরে সুমনদের ইশারায় কিছু বুঝিয়ে তারপর রাতুলদের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে চুপ থাকতে বুঝিয়ে তারপর সামনে ঘুরে দুই কদম এগিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে উঠে, ' কে আপনি??? এভাবে তুরহান ফায়াজ খানের পার্সোনাল রুমের ডোর ধাকাছেন কেন?' কাইয়ানের কথা শুনে দরজা ধাক্কানো ব্যক্তিটি পিছু ঘুরে কাইয়ানের দিকে তাকাতেই কাইয়ান অবাক হওয়ার ভান করে বলে, ' আরে কিরণ ইমরোজ যে!!!আপনি এখানে কি করছেন???' কাইয়ানের কথায় সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে কিরণের দিকে তাকায়। ঠিক তখনই কিরণ অদ্ভুত দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে, ' আমি জানতাম না এটা তুরহান ফায়াজ খানের পার্সোনাল রুম। আমি আসলে একজনকে খুঁজছিলাম... ভেবেছিলাম এই রুমে হয়তো আছে.... তাই দরজায় নক করছিলাম।' কিরণের কথা শুনে এবার সুমন বলে উঠে, ' আপনি তো দরজায় নক করেননি.... রীতিমতো দরজা ভেঙে ফেলার ট্রাই করছিলেন.... ' সুমনের কথা শেষ হতেই পিহু ভ্রু উচিয়ে বলে, ' অভদ্রের মতো দরজা না ধাক্কিয়ে ডোর বেল তো টিপতে পারতেন..... আর তুরহান ফায়াজ খান কখনই তার রুমে অতিপরিচিত মানুষ ছাড়া অন্যকোনো মানুষকে এলাউ করে না। বিশেষ করে তার রেস্টের টাইমে তো আরও না। আপনার এই অস্বাভাবিক কাজের জন্য কি হতে পারে জানেন কি????' কিরণ পিহুর কথায় ভীষণ রেগে যায়। কিন্তু নিজের রাগটা দাঁতে দাঁত চেপে গিলে ফেলে গম্ভীর স্বরে বলে, ' সরি! আমি আসলে বুঝতে পারিনি।' বলেই পিছু ঘুরে সেই স্থান ত্যাগ করে।

#চলবে

[যদি গল্পে কোনো বানান ভুল থাকে মাফ করবেন আপু ভাইয়ারা। কারণ টাইপের সময় অনেক ঝামেলা হয়।গল্প পড়ে ভালো লাগলে কিন্তু বেশি বেশি কমেন্ট আর লাইক দিয়ে আমাকে গল্প লিখতে সহায়তা করুন 🥰🥰🥰🥰🥰]

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Savar?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Savar