Prime Time at Sixty
Welcome to “Prime Time At Sixty”! Explore, connect, and create memories that sparkle like stars🌟.
আমলকীর আঁটি ও একজন সাবেক ক্যাডার
—————————————————————-১
আমাদের দেশে রাজনীতির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো—এখানে মতাদর্শের মেয়াদকাল আমলকীর আঁটির চেয়েও দ্রুত শেষ হয়, কিন্তু অপরাধবোধের আয়ুষ্কাল অনেক সময় রাতারাতি বেড়ে যায়।
ভোটের আগে জাকিরুল পাড়ার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে বিনয়ের এমন এক অবতার সেজেছিল, যা দেখলে স্বয়ং ঋষি-মুনিরাও লজ্জা পেতেন। তখন ধানের শীষের জন্য ভোট চাওয়াটা তার কাছে ছিল দেশ উদ্ধারের একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব। সমস্যা হলো, নির্বাচনে জয়ের পর যখন দল ক্ষমতায় বসল, তখন তার চারপাশের ভাইয়েরা দেশ উদ্ধারের বদলে চাঁদাবাজি আর দখলদারিত্বের নতুন এক 'মহাকাব্য' রচনা করতে শুরু করল। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাতের ঝালমুড়িওয়ালা—সবাই যখন ক্ষমতার নতুন স্বাদ টের পেতে লাগল, তখন জাকিরুল আবিষ্কার করল, সে আসলে পরিবর্তনের অনুঘটক ছিল না, ছিল এক বিরাট অন্যায়ের অবৈতনিক সেলস্যান।
ক্ষমতা যখন পচে গন্ধ ছড়াতে শুরু করে, তখন তার সবচেয়ে বড় আঘাতটা গিয়ে লাগে নিচের তলার অনুতপ্ত কর্মীদের নাকে। জাকিরুলের মতো সাধারণ কর্মীরা তখন বোঝে, তারা রাজপথে রক্ত দিয়ে আসলে কয়েকজন নতুন মালিক তৈরি করেছে মাত্র। নিজের তৈরি সেই মালিকদের কীর্তিকলাপ দেখে এবং পাড়া-প্রতিবেশীর গালি শুনে অতিষ্ঠ জাকিরুল শেষমেশ ফেসবুকে শরণ নিল। অতি মানবিক এক আকুতি জানিয়ে সে লিখল, “যাদের কাছে ভোট চাইছি, তাদের কাছে মাপ চাই... একটা ভোটই তো চাইছিলাম, জায়গা-জমি তো চাইনি।” যে আঙুল দিয়ে সে ভোটের দিন সিল মেরেছিল, সেই আঙুল দিয়েই কান্নার ইমোজি চেপে সে রাষ্ট্র ও দলের কাছে নিজের নিঃশর্ত দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করল।
কিন্তু আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর মগজ এক অদ্ভুত উপাদানে তৈরি; সেখানে ভুল স্বীকার করাটা ক্ষমতার প্রতি চরম অ আনুগত্য হিসেবে গণ্য হয়। জাকিরুলের এই চাওয়া বা ক্ষমা প্রার্থনা দলের চোখে গণমানুষের প্রতি সহানুভূতি হিসেবে ধরা পড়েনি, ধরা পড়েছে 'সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ' হিসেবে। নয়াপল্টনের কার্যালয় থেকে এক টুকরো প্যাড নির্দ্বিধায় জারি হয়ে গেল, যেখানে লেখা হলো জামালপুর জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। নোটিশে সভাপতির নাম আছে, সাধারণ সম্পাদকের নাম আছে, এমনকি ফ্যাক্স নম্বরও আছে—শুধু যা নেই, তা হলো সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বোঝার মতো সামান্যতম অনুভূতির উপস্থিতি।
আমাদের দেশে রাজনীতিতে ঢোকার দরজাটা যতটা চওড়া, সত্য কথা বলে বের হওয়ার দরজাটা ততটাই সংকীর্ণ। ক্ষমতা যখন অন্ধ হয়ে যায়, তখন সে নিজের কর্মীদেরও শত্রু মনে করে, যদি তারা ভুল করে আয়না সামনে ধরে ফেলে। জাকিরুলের এই বহিষ্কারাদেশ আসলে কোনো শাস্তি নয়, বরং এটি একটি দলীয় স্বীকৃতি যে—তুমি অনুশোচনা করার মতো অপরাধ করে ফেলেছ!
ক্ষমতার এই অদ্ভুত সার্কাসে জাকিরুল হয়তো পদ হারাল, কিন্তু হয়তো বা বেঁচে গেল। শেষপর্যন্ত রাজনীতি মানুষকে দুটি জিনিস দেয়: ক্ষমতার অহংকার, অথবা ভুলের মাসুল। পদ খোয়ানোর পর অন্তত জাকিরুল নিশ্চিত হতে পারল—পরের নির্বাচনে কাউকে আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দায় অন্তত তার কাঁধে থাকবে না।
ষোলো বছরের মৌনতা ও এক রাতের ক্ষোভ
=================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
৬ অক্টোবর ২০২৬
———————————————————————
আমাদের জনমনে ধৈর্যের পরিমাপটা বড় অদ্ভুত। টানা ষোলো বছর ধরে চোখের সামনে হাজার হাজার কোটি টাকার পাচার, রাজনৈতিক হত্যা, গুম, নির্বিচারে হামলা আর প্রকাশ্য চাঁদাবাজি চলেও মানুষ চুপ করে বসে ছিল। রাষ্ট্র যখন মানুষের বাকস্বাধীনতা আর মৌলিক অধিকারগুলোকে একে একে নিঃশেষ করছিল, তখন নাগরিক সমাজ নীরবতার এক পরম আশ্রয় খুঁজে নিয়েছিল। কিন্তু আজ ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সামান্য কোনো নাগরিক অসন্তোষ বা দাবিদাওয়ার সামনে এসে যখন তথাকথিত সুশীল সমাজের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পড়ে, তখন নির্যাতনের শিকার সাধারণ মানুষ কেবল বিস্ময়ে বাক্রুদ্ধ হয়ে চেয়ে থাকে।
এই দ্বিমুখী মেজাজ সমাজের এক অস্বস্তিকর মানসিক রূপ উন্মোচন করে। যারা দীর্ঘ ষোলো বছরের একচ্ছত্র দুঃশাসন আর দুর্নীতিকে নীরবে সহনীয় ভেবে মেনে নিয়েছিল, তারাই আজ সামান্য নাগরিক অধিকারের চর্চাকে বিশৃঙ্খলা বলে গালি দিচ্ছে। যে মুখগুলো বছরের পর বছর অন্যায়ের সামনে সেলাই করা ছিল, ক্ষমতার হাতবদল হতেই সেই মুখগুলো থেকে হঠাৎ নীতি ও শৃঙ্খলার খৈ ফুটতে শুরু করেছে। এই যে আচমকা অনৈতিকতার বিস্ফোরণ এবং প্রতিপক্ষকে দানব বানানোর তাড়াহুড়ো—তা সাধারণ মানুষের কাছে নিছক পরিহাস ছাড়া আর কিছু মনে হয় না।
আসলে আমাদের দেশের আমলাতন্ত্র, সুবিধাবাদী গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের মূল সমস্যা হলো—তারা সত্যের চেয়ে সুবিধার পক্ষে অবস্থান নিতে বেশি ভালোবাসে। অত্যাচার যখন ক্ষমতাসীনরা করে, তখন তারা তাকে বলে ‘উন্নয়নের মূল্য’; আর ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ যখন ন্যায্য অধিকারের কথা বলে, তখন তাকে আখ্যা দেওয়া হয় ‘অস্থিরতা’। আশফাকের মতো সচেতন নাগরিকদের আকুতি এখানেই যে, এই ভণ্ডামি আর সুবিধাবাদের আবরণ ছেড়ে সমাজ এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার সংস্কৃতি যেন অবশেষে মানুষ হওয়ার মৌলিক চরিত্রটুকু অর্জন করে।
রাজনীতিতে ক্ষমতার মসনদ বদলায়, নতুন শ্লোগান আসে, কিন্তু মানসিকতার এই রূপান্তর না ঘটলে কেবল নামই বদলাবে—ব্যবস্থার কোনো বদল হবে না। যারা কাল অন্যায়ের সামনে চুপ ছিল আর আজ সত্যের বিরুদ্ধে চিৎকার করছে, তাদের আত্মপর্যালোচনা করা জরুরি। কারণ অন্যায়ের সঙ্গে সমঝোতা করে গড়ে ওঠা রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো দিন মানবিক হতে পারে না।
মানুষের ছদ্মবেশে রাজত্ব চালানো যায় ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে ইতিহাস মানুষের হিসাবটাই চায়। কোনো জাতি যদি ষোলো বছরের দাসত্ব ভুলে এক রাতের প্রতিবাদে উত্যক্ত হয়ে ওঠে, তবে সেই জাতির ভবিষ্যৎ আবারও নতুন কোনো দানবের পদতলেই পিষ্ট হতে বাধ্য।
নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
রম্য
02/10/2026
শুল্কমুক্ত বোতল ও রাজনীতির স্থায়ী তৃষ্ণা
=================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
২ অক্টোবর ২০২৬
———————————————————————
আমাদের দেশে আইনের নজরদারি অনেকটা হঠাৎ জেগে ওঠা পাহাড়ে নামা ঢলের মতো—কোথায় কখন হঠাৎ আছড়ে পড়বে, তা আগে থেকে বলা মুশকিল। বন্ড সুবিধার শুল্কমুক্ত মদ এনে চোরাবাজারে ছাড়ার অংকটা পুরনো, কিন্তু সেই অংকের খাতায় যখন নাম জুড়ে যায় কোনো আলোচিত মুখের আত্মীয়ের, তখন ঘটনা আর স্রেফ শুল্ক ফাঁকির গল্প থাকে না। রাজধানীর গুলশানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের 'টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড' নামক ওয়্যারহাউসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), শুল্ক গোয়েন্দা ও এসআরবির যৌথ দল সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে গুদাম সিলগালা করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সফটওয়্যারে মদ বিক্রি হয়ে গেছে দেখানো হলেও সরেজমিনে ভেতরে উদ্ধার হয়েছে ১৪৪ ক্যান বিয়ার, ১২ বোতল হুইস্কি ও ৬ বোতল ভদকা।
ডিজিটাল খাতায় পণ্য ‘নাই’, কিন্তু বাস্তবে থরে থরে সাজানো বোতল—এ যেন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থারই এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। খাতাপত্রে সব নিয়ম মেনে খালি দেখানো হলেও ব্যাকস্টেজে ঠিকই সাজানো থাকে লাভের গুড়। বন্ডেড ওয়্যারহাউসের আসল উদ্দেশ্য ছিল রপ্তানিমুখী বাণিজ্যকে সহায়তা করা, কিন্তু তা পরিণত হয়েছে একশ্রেণীর বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের কম দামে চড়া স্বাদের সুরা জোগানোর নির্ভরযোগ্য উনুন হিসেবে। কাগজের হিসাব আর রাজপথের হিসাবের মিল না থাকাটা এই ভূখণ্ডের পুরনো ব্যধি।
পর্দার পেছনের এই তরল বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও ক্ষমতার করিডোরে গুঞ্জন থেকেই যায়। মূল উৎস যদি একের পর এক বন্ধ হতে শুরু করে, তবে আড়ালের ক্রেতা ও তাদের রাজনৈতিক অনুসারীদের আবদার মেটানোর রসদ আসবে কোথা থেকে? আমাদের দেশের ক্ষমতার সংস্কৃতিতে দেখা যায়, মূল প্রতিপক্ষকে সরাসরি ঘায়েল করতে না পারলে তার আত্মীয়স্বজন বা সহযোগীদের উৎসে আঘাত হানাটা রাজনীতির বেশ পুরনো চাল। এতে একদিকে যেমন আইনের প্রয়োগ দেখানো যায়, অন্যদিকে প্রতিপক্ষকেও বার্তা দেওয়া যায় যে নাটাই এখনো অন্য কারও হাতে।
একটি ওয়্যারহাউস সিলগালা হওয়া হয়তো আইনি প্রক্রিয়ার অংশ, কিন্তু চোরাচালান ও চাঁদাবাজির যে চক্র এই পথ তৈরি করে, তা বহাল তবিয়তে রয়ে যায়। আমলাতান্ত্রিক সফটওয়্যার যতই আধুনিক হোক, ফাঁক গলে সুবিধা নেওয়ার মানসিকতা না বদলালে এক দরজায় তালা পড়লে অন্য দরজায় নতুন চাবি তৈরি হয়ে যায়।
আইন যখন সুবিধাভোগীদের রুচির ওপর নয়, বরং সবার জন্য সমানভাবে কঠোর হয়—কেবল তখনই ক্ষমতার এই বোতলজাত খেলা বন্ধ হওয়া সম্ভব। তা না হলে ক্ষমতার রং বদলাবে, ব্র্যান্ডের নাম বদলাবে, কিন্তু আড়ালের তৃষ্ণা আর অসাধু সিন্ডিকেট একই থেকে যাবে।
নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
27/09/2026
রাতের আঁধার ও ক্ষমতার স্বাভাবিক গতি
=================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
———————————————————————
আমাদের দেশে আইন আর নিয়মকানুন অনেকটা রাস্তার ফুটপাতের মতো—সবাই জানে ওটা পথচারীদের হাঁটার জন্য, কিন্তু সবাই ধরে নেয় ওটা দোকান বসানোর কিংবা বাইক চালানোর সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গা। কোনো স্থাপনা যদি অবৈধই হয় বা জমি নিয়ে বিরোধ থাকে, তবে তার সমাধান করার জন্য আদালত, পুলিশ আর আইনি নোটিশের একটা দীর্ঘ কাগজপত্রীয় পথ তৈরি করা ছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে টেবিল-চেয়ার গুড়িয়ে দেওয়াটাই যখন মীমাংসার একমাত্র পথ হয়ে ওঠে, তখন বুঝতে হবে বিচারব্যবস্থা এখন আর আদালতের এজলাসে নেই, চলে গেছে ক্ষমতাধরদের হাতুড়ির ঘায়ে।
গত ৫ আগস্টের পর দেশের তারুণ্য যখন রাজপথে এক নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর ছবি আঁকছিল, তখন ক্ষমতার বাস্তব রাজনীতি ব্যস্ত ছিল পুরানো সিন্ডিকেটগুলোর মালিকানা হস্তান্তরে। ক্ষমতার হাতবদল হলে সম্পত্তির মালিক বদলায়, কিন্তু দখলের ক্ষুধা আর চাঁদাবাজির পদ্ধতি বদলায় না। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। অভিযোগের তির যেদিকেই যাক—তা চাঁদা না দেওয়ার শাস্তি হোক কিংবা জমি দখলের তাগিদ—খোদ প্রধান উপদেষ্টা বা সরকারের কেন্দ্রবিন্দুর নাকের ডগায় বসে এমন কাজ করার দুঃসাহস কেবল রাজনৈতিক আস্কারাই দিতে পারে।
যে বিএনপি একসময় বিগত সরকারের নির্যাতন ও দখলের শিকার হয়েছিল, তাদেরই একাংশের ক্যাডাররা আজ সারাদেশে একই কায়দায় দখলদারিত্বের উত্তরাধিকার বহন করছে। ক্ষমতার এই সংস্কৃতিতে চেহারার বদল ঘটে, কিন্তু আচরণের কোনো সংস্কার হয় না। যে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট আগে এক পতাকার অধীনে চলত, তা এখন নতুন পতাকার নিচে আরও দ্বিগুণ উৎসাহে বহাল আছে। যারা কাল পর্যন্ত মজলুম ছিল, তারা আজ ক্ষমতার সামান্য স্পর্শ পেয়েই কীভাবে জালিম হয়ে উঠতে পারে—আমাদের রাজনীতি প্রতিনিয়ত এই পুরোনো নাটকেরই পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা হলো, এসব তাণ্ডব যখন ঘটে, তখন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। আইন যখন শক্তিশালী মানুষের ক্ষমতার কাছে মাথা নোয়ায়, তখন সাধারণ মানুষকে শুধু অসহায় হয়ে চেয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। পরিবর্তন বা নতুন বন্দোবস্তের যত মিষ্টি কথাই শোনানো হোক না কেন, সাধারণ নাগরিকেরা কেবল এক দল নতুন মালিকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে।
রাষ্ট্র কেবল দালানকোঠা বা সীমানা দিয়ে তৈরি হয় না, রাষ্ট্র বাঁচে আইনের সমান প্রয়োগে। যেদিন ক্ষমতার দাপট আর হাতুড়ির চেয়ে আইনের শাসন বড় হয়ে উঠবে, কেবল সেদিনই মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। নতুবা রাতের আঁধারে ভাঙচুর হওয়ার ভয় আর ক্ষমতার দাসত্বই আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে থাকবে।
নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
রম্য
27/09/2026
সাঁড়াশি আক্রমণ ও একটি হাসপাতালের মহাপ্রয়াণ
=================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
———————————————————————
আমাদের দেশে ‘সাঁড়াশি আক্রমণ’ শব্দবন্ধটি সাধারণত জঙ্গি দমন, আন্তর্জাতিক অপরাধী পাকড়াও কিংবা সীমানা রক্ষার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করার কথা। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক শক্তির অভিনব উদ্ভাবনী ক্ষমতায় এবার সেই কঠিন সামরিক কৌশল প্রয়োগ করা হলো শিশুদের জীবনদায়ী টিকা আর স্যালাইনের বোতলের বিরুদ্ধে। মিরপুরের রাড্ডা হাসপাতালের ওপর যেভাবে পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং বিএনপির দুই নারী এমপির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী চড়াও হলো—তা দেখে মনে হতে পারে, এই সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিল ওই হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাব আর ফার্স্ট এইড বক্স।
ক্ষমতা যখন অন্ধ এবং হিংস্র হয়, তখন তার কাছে কোনটা চিকিৎসালয় আর কোনটা যুদ্ধক্ষেত্র—সেই বোধটুকু বিলুপ্ত হয়ে যায়। রাজনীতির অনুসারী ও ক্যাডাররা যখন যৌথ বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানে ঢোকে, তখন তাদের লক্ষ্য নিরাময় নয়, বরং বিনাশ। রাড্ডা হাসপাতালে হামলা চালিয়ে যেভাবে মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধপত্র এবং শিশুদের ভ্যাকসিন লুটপাট করা হলো, তা কেবল ডাকাতি নয়; তা হলো ক্ষমতার নতুন দাবিদারদের চরম নৈতিক দেউলিয়াত্বের উন্মোচন। যে দলেরই নেতা বা এমপি হোক না কেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে তাদের এমন তাণ্ডব প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রব্যবস্থা এখন অপরাধীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
আমলাতন্ত্র আর পুলিশের কাজ ছিল আইনের শাসন নিশ্চিত করা। অথচ তারা হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ক্যাডারদের সহকারী। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কিংবা পুলিশের নাকের ডগায় বসে যখন লাইফ-সেভিং ওষুধ আর শিশুদের ভ্যাকসিন লুট হয়, তখন বুঝতে হবে আইনশৃঙ্খলা কোনো ব্যবস্থার নাম নয়—তা কেবল যার হাতে ক্ষমতা, তার নির্দেশিত হিংসার প্রতিশব্দ। এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রধান ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, যাদের মৌলিক চিকিৎসাসেবা কেড়ে নিয়ে রাজনীতি তার বিষাক্ত বিজয় নিশান ওড়ালো।
আমাদের এই জনপদে রাজনীতির চরিত্র বদলায়, কিন্তু লুটপাটের ক্ষুধা একই থাকে। যে দলই ক্ষমতার সুবাস পেতে শুরু করে, তারা হাসপাতালের সিসিইউ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের পকেট—সবকিছুর ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে। রাড্ডা হাসপাতালের এই ধ্বংসস্তূপ আসলে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতির আয়না, যেখানে সেবা আর মানবতা বলি হয় ক্ষমতার লোভের কাছে।
ভ্যাকসিন আর যন্ত্রপাতি হয়তো টাকার বিনিময়ে আবার কেনা যাবে, কিন্তু যে রাষ্ট্র নিজের শিশুদের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ রক্ষা করতে পারে না, সেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও নৈতিক ভিত্তি চিরতরে ভেঙে পড়ে।
নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
রম্য
26/09/2026
ভাগাড়ের নতুন পাহারাদার ও পুরানো বন্দোবস্ত
=================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
——————————————————————-
ক্ষমতার রদবদল হলে আমাদের দেশের মানুষ প্রায়ই ভেবে বসে—এবার বুঝি ইতিহাসের রূপকথা বাস্তব রূপ নিল। অথচ রাজনীতির ব্যাকরণে রূপকথা বলে কিছু নেই; সেখানে যা ঘটে, তা হলো শুধুই পাহারাদারের অদলবদল। ক্ষমতার চেয়ারে যে-ই বসুক না কেন, রাষ্ট্র চালনার মূল চালিকাশক্তি সেই একই আমলাতন্ত্র আর একই রাজনৈতিক স্বার্থচর্চা। গণ-অভ্যুত্থান বা বড় ধরনের পরিবর্তনের পর ক্ষণিকের জন্য নতুন ব্যবস্থার স্বপ্ন তৈরি হলেও, ভোটের হাওয়া গায়ে লাগতেই দেশ আবার তার পুরোনো কক্ষপথে ফিরতে বাধ্য হয়।
একটি নতুন সরকার কিংবা রাজনৈতিক শক্তি এসে পুরোনো অপরাধের বিচার করবে—এমন আশা করা আর কসাইয়ের কাছে গবাদিপশুর অধিকার রক্ষা আশা করা একই কথা। রাজনীতিবিদ ও উচ্চপদস্থ আমলাদের আচরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশপ্রেম তাদের কাছে এক ধরণের ঋতুভিত্তিক অলংকার। সুযোগ পেলে তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের করের টাকা লুটপাট করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেন। বিদেশে বেগমপাড়া গড়ে তোলা কিংবা পরিবারকে কোটি টাকার মালিক বানানোর এই যে উদগ্র বাসনা—তা থেকে স্পষ্ট যে, জনগণকে তারা স্বাধীন নাগরিক ভাবেন না, ভাবেন নিজ এস্টেটের প্রজা বা গোলাম।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) গতিপথ লক্ষ করলেই এই রাজনৈতিক সমীকরণের সত্যতা বোঝা যায়। অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার বিদায়ের পর থেকেই আইসিটির বিচারে হঠাৎ ধীরগতি চলে এসেছে। যেসব অপরাধী বিদেশে পালিয়ে আছে, তাদের অনুপস্থিতিতে চটজলদি ফাঁসির রায় দেওয়া হলেও, যারা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে বা রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছে, তাদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবশালী নেতারা এখন প্রকাশ্যে বা গোপনে তাদের বাঁচানোর জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। রাজনীতিতে শত্রুতার চেয়ে পারস্পরিক অপরাধ গোপন রাখার সুবিধা যে কত বেশি, এই তৎপরতা তারই প্রমাণ।
ইতিহাস আমাদের শেখায়, একটি ভাঙা রাষ্ট্র সংস্কার করার জন্য যে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন, তা নির্বাচনমুখী কাঠামোর ভেতর থাকে না। আমরা যখনই ভাবি একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসে সব সমস্যা দূর করে দেবে, ঠিক তখনই নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্নের মৃত্যু ঘটে। পুরোনো ব্যবস্থা টিকে থাকে কারণ, যারা ক্ষমতায় আসে তারা শাসনব্যবস্থা বদলাতে চায় না; তারা শুধু সেই শাসনব্যবস্থার সুবিধাভোগী হতে চায়।
ক্ষমতার রঙ বদলায়, কিন্তু শোষণের রূপ বদলায় না। যতক্ষণ না নাগরিকরা নিজেদের ভাগ্যের দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দেওয়া বন্ধ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পরিবর্তন কেবল একদল নতুন মালিক তৈরির চক্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
রম্য
বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং গণআদালতের ঝুঁকি
=========================================
লেখকঃ ফোরকান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রম্য লেখক
লুটন, যুক্তরাজ্য
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
—————————----------------————————————-
ময়মনসিংহে সম্প্রতি এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নবম শ্রেণিতে পড়া এক কিশোরকে বেঁধে রেখে তার মাকে ধর্ষণ করেছে তিন বখাটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ওই তিনজনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
এই ঘটনাটি আমাদের আইনি ও সামাজিক ব্যবস্থার এক গভীর ও অস্বস্তিকর সত্যকে সামনে নিয়ে আসে। যখন কোনো অপরাধের পর মানুষ নিজেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তখন তা কেবল ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ থাকে না; তা দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা হারানোর একটি বড় সংকেত হয়ে ওঠে। মানুষ যখন দেখে যে অপরাধের পর দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা প্রশাসনিক শিথিলতার কারণে সঠিক বিচার পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখনই গণআদালত বা নিজেদের মতো করে বিচার করার এই প্রবণতা তৈরি হয়।
তিনটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার মাধ্যমে ক্ষুব্ধ সমাজ হয়তো তাদের তাৎক্ষণিক ক্ষোভ মিটিয়েছে, কিন্তু এটি কোনো টেকসই সমাধান নয়। আগুন দেওয়া বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যেমন অন্যায়, তেমনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি হওয়াও বিপজ্জনক যেখানে মানুষ বিশ্বাস করে যে সরকারি আইনি প্রক্রিয়ায় ন্যয়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়।
রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব ছিল অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। বিচার প্রক্রিয়া যদি সচল, দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য হতো, তবে সাধারণ মানুষকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো না। ময়মনসিংহের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সমাজে অপরাধীদের ভয় যতখানি থাকা উচিত, তার চেয়ে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অবিশ্বাস অনেক বেশি তৈরি হয়েছে। একটি সুস্থ সমাজে বিচার আদালতে হওয়া উচিত, রাজপথে বা আগুনে পুড়িয়ে নয়।
নোটঃ এই লেখা রম্য ও ব্যঙ্গধর্মী সাহিত্য—বাস্তব ঘটনা বা তথ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
রম্য
27/07/2025
🌿 নীরব আর্তনাদ: ২৩ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু না বলা সত্য
=================================
আমি গত ২৩ বছর ধরে নানা বয়স, শ্রেণি ও পটভূমির মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি—সেবা দিয়েছি, সহানুভূতি দেখিয়েছি, পাশে দাঁড়িয়েছি। এই দীর্ঘ যাত্রায় আমি দেখতে পেয়েছি এমন অসংখ্য মানুষ, যারা সমাজের চোখে “নাজুক” — অথচ মানুষ হিসেবেই তাদের মূল্যায়ন করা হয় না।
এই মানুষগুলো বিভিন্ন জায়গায়, সময়ে ও পরিবেশে নানা ধরনের পীড়নের শিকার হন।
আর সবচেয়ে দুঃখজনক হলেও নির্মম সত্য হলো—এই পীড়নের পেছনে বহুক্ষেত্রেই দায়ী থাকে নিজস্ব পরিবার, যার কাছে তাদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল।
তাই আমি এখন লিখতে চাই, বলতে চাই, এই অব্যক্ত পীড়নের গল্প—যা হয়তো কেউ বলতে চায় না, আর কেউ শুনতেও চায় না।
❗ “পীড়ন” বলতে আমরা কী বুঝি?
পীড়ন মানেই কেবল গায়ে হাত তোলা নয়।
এটি হতে পারে ঠাণ্ডা অবহেলা, অপমানজনক কথা, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ কিংবা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া—সবই পীড়ন, যদি তা কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে, মর্যাদাকে পদদলিত করে বা তাকে দুর্বল ও নিয়ন্ত্রণাধীন করে তোলে।
পীড়ন মানে কারও স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর হস্তক্ষেপ—ইচ্ছাকৃত, ধারাবাহিক এবং ধ্বংসাত্মক।
💬 কেন “Abuse” এর বাংলায় “পীড়ন” শব্দটি ব্যবহার করছি?
ভাষার সৌন্দর্য ও কার্যকারিতার দিক থেকে “পীড়ন” শব্দটি অনেক বেশি উপযুক্ত। এটি শ্রুতিমধুর, সহজে উচ্চারিত ও দৈনন্দিন ব্যবহারে বেশি প্রচলিত। আমরা যেমন বলি “আর্থিক পীড়ন”, “মানসিক পীড়ন” বা “শারীরিক পীড়ন”—তেমনই এ শব্দগুলোতে অর্থের গভীরতা ও স্পষ্টতাও থাকে।
অন্যদিকে, “নিগ্রহ” শব্দটি কিছুটা পুরাতন সাহিত্যধর্মী ও জটিলতা বোধক, যা অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক আলোচনায় ভারী ও দূরত্ব তৈরি করে।
বিশেষ করে প্রবীণ পীড়ন বা পারিবারিক পীড়নের মতো প্রসঙ্গে “পীড়ন” শব্দের ব্যবহারই আজকের সমাজে বোধগম্য, প্রাসঙ্গিক ও মানবিক।
🔍 পীড়নের ধরন কত রকম?
আমরা অনেকেই ভাবি পীড়ন মানেই গায়ে হাত তোলা, চিৎকার করা বা যৌন হয়রানি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, পীড়নের অনেক রূপ আছে—যার অনেকগুলো আমাদের চোখের সামনেই ঘটে, কিন্তু আমরা তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
একজন প্রবীণ বাবা নিজের পেনশনের টাকা ছেলে নিয়ন্ত্রণ করলেও কিছু বলতে পারেন না।
একজন মা বারবার অনুরোধ করেন ওষুধ এনে দেওয়ার জন্য, কিন্তু বাড়ির কেউই তা গুরুত্ব দেয় না।
একজন বৃদ্ধা ঠাণ্ডা ভাত খেয়ে চুপচাপ বসে থাকেন—কারণ নাতির গেম চলতেছে বলে কেউ গরম করে দিতে চায় না।
এগুলো কি পীড়ন নয়?
🔦 কিছু পীড়নের ধরন, যেগুলো আমরা অনেক সময় বুঝিই না:
১। আর্থিক পীড়ন – প্রবীণদের আয় বা সম্পত্তি দখল করে রাখা, অথচ নিজের মতো ব্যবহার করা
২। মানসিক পীড়ন – কথা বললে “বয়স হয়েছে, চুপ থাকো” বলা
৩। সামাজিক পীড়ন – আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা
৪। চিকিৎসাগত পীড়ন – প্রয়োজনীয় ওষুধ বা চিকিৎসা না দেওয়া
৫। ভাষাগত পীড়ন – বারবার “তুমি কিছুই বোঝো না” বলা
৬। সাংস্কৃতিক পীড়ন – নিজস্ব পোশাক, ভাষা বা বিশ্বাস নিয়ে উপহাস করা
৭। তথ্য বা সিদ্ধান্ত থেকে বঞ্চিত পীড়ন – পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্রবীণদের মত নেওয়া হয় না
৮। ভবিষ্যৎ অস্বীকৃতি – “এই বয়সে আর কিছু হবে না, খামোখা চিকিৎসা কেন?”
৯। ভবিষ্যৎকে জোর করে তৈরি করা পীড়ন – “তুমি এখন থেকে এই ঘরে থাকবে, কোথাও যেতে পারবে না”
এই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। কারণ পীড়নের রূপ যতই বদলায়, তার মূল ঠিক একই রয়ে যায়—একজন মানুষকে তার স্বাধীনতা ও সম্মান থেকে বঞ্চিত করা।
✊ আমরা কী করতে পারি?
• প্রথম কাজ, চোখ খুলে দেখতে শেখা—নীরব পীড়নের সংকেতগুলো বুঝতে হবে।
• তারপর, ভাষায় এবং আচরণে মানবিক হওয়া—প্রতিদিনের কথায় যেন অপমান না থাকে।
• পরিবারে প্রবীণদের জন্য সময় রাখা, তাদের সম্মান দেওয়া, নিজের আচরণে পরিবর্তন আনা।
• রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে প্রবীণদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
🌱 শেষ কথা:
আমার এই লেখা, এই কথা বলা, এই প্রতিরোধ গড়ার প্রয়াস—এটি শুধু এক ব্যক্তির চিন্তা নয়।
এটি সেই অগণিত মুখের প্রতিনিধি, যারা প্রতিদিন পীড়নের শিকার হলেও চুপ থাকে।
যারা ধীরে ধীরে নীরব হয়ে যায়, মিশে যায় দেয়ালের সঙ্গে—কিন্তু বুকের ভিতর চিৎকার করে ওঠে।
আমি তাদের হয়ে লিখব, আমি তাদের হয়ে বলব।
কারণ পীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে শুধু অন্য কারও পাশে দাঁড়ানো নয়—বরং নিজেকেও আরও মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা।
🔔 আপনি যদি এই পথচলায় আমার সঙ্গী হন, তাহলে আমরা একসাথে অসংখ্য নীরব আর্তনাদকে আওয়াজ দিতে পারব।
চলুন, পীড়নের মুখোশ খুলে ফেলি।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Address
Luton
LU48FY
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when Prime Time at Sixty posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.
