Skip to content
Salons10
এলিয়েন

এলিয়েন

Murshidabad

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from এলিয়েন, Murshidabad.

20/08/2026

গভীর ভয়ংকর রাত যেন কাটতেই চায় না।
ঘরের চারপাশে গভীর নীরবতা।
শুধু জানালার বাইরে তুষার পড়ার ক্ষীণ শব্দ, আর মাঝেমধ্যে বাতাসে কাঠের জানালার পাল্লা কেঁপে ওঠার আওয়াজ।

শিয়া লিন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

তার বিছানার পাশে রাখা নিচু কাঠের আসনে শিয়া লিন এর হাত ধরে বসে আছেন সম্রাট।

ঘরের এক কোণে জ্বলতে থাকা প্রদীপের ক্ষীণ আলোয় মাঝে মাঝে শিয়া লিন এর মুখের অর্ধেকটা আলোয়, অর্ধেকটা ছায়ায় ঢাকা পড়েছিল।
তার নিঃশ্বাস কখনো ধীর, কখনো অস্থির হয়ে উঠছিল।

রাত আরও গভীর হলো।

একবার ঘুমের মধ্যেই শিয়া লিন অস্পষ্টভাবে কিছু বলল।

“না...”

সম্রাটের চোখ সঙ্গে সঙ্গে তার মুখের দিকে উঠল।

কয়েক মুহূর্ত তিনি নিঃশব্দে তাকিয়ে রইলেন।

তারপর খুব ধীরে হাত বাড়িয়ে শিয়া লিনের কপালের ওপর এসে পড়া চুল সরিয়ে দিলেন।

“ঘুমাও...”

_________________________________

পরদিন—
প্রাসাদের বাইরে বিকেলের আলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছিল।

ঠিক তখনই শিয়া লিনের ঘুম ভাঙল।

ঘুম থেকে উঠে শিয়া লীন এর
হঠাৎ তার শহরের কথা একমুহূর্তের জন্য মনের মধ্যে এসেও আবার মিলিয়ে গেল ।

তার চোখ যখন বাইরের দিকে গেলো কিছুক্ষন এর জন্য তার মনে হলে সে কোনো স্বর্গীয় রাজ্যে চলে এসেছে -

বাইরে তুষার পাত থেমে গিয়ে ,
প্রাসাদের বিশাল উঠোনজুড়ে নরম সোনালি আলো ছড়িয়ে পড়েছে। বরফে ঢাকা পাথরের ছাদগুলো সেই আলোয় যেন সাদা নয়, গলিত সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো মনে হচ্ছিল। দূরের উঁচু কারুকার্য করা ছাদের কিনারায় জমে থাকা বরফের ওপর সূর্যের শেষ রশ্মি পড়ে ছোট ছোট আলোর রেখা তৈরি করেছে—যেন আকাশ নিজেই প্রাসাদের মাথায় অসংখ্য রুপালি প্রদীপ জ্বেলে দিয়েছে।

পাথরের সিঁড়িগুলো নেমে গেছে প্রাসাদের বাগানের দিকে।
সিঁড়ির দুই পাশে সারি সারি লাল লণ্ঠন ঝুলছে।
দিনের আলোয় সেগুলো নিস্তব্ধ।
কিন্তু অস্তগামী সূর্যের আলো যখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে, তখন লাল কাগজের ভেতর দিয়ে জমে থাকা আলোটা এমনভাবে ফুটে ওঠে, যেন প্রতিটি লণ্ঠনের মধ্যে ছোট্ট কোনো আগুন ঘুমিয়ে আছে।

প্রাসাদের বাগানে বরফের সাদা চাদরের মাঝখান দিয়ে সরু পাথরের পথ চলে গেছে অনেক দূর পর্যন্ত।
পথের দুপাশে শীতের ফুল ফুটে আছে।
কোথাও গাঢ় লাল ক্যামেলিয়া।
কোথাও সাদা বরফের মতো ছোট ছোট ফুল।
আবার কোথাও নীলচে বেগুনি ফুলগুলো বরফের ফাঁক দিয়ে মাথা তুলে আছে।
তাদের পাপড়ির ওপর জমে থাকা ক্ষুদ্র বরফকণাগুলো সূর্যের শেষ আলোয় ঝিকমিক করছে।
মনে হচ্ছে—
কেউ যেন প্রতিটি ফুলের পাপড়ির ওপর খুব যত্ন করে কাঁচের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছে।
হালকা বাতাস বয়ে গেলে ফুলগুলো দুলে উঠছে।
আর সেই দোলার সঙ্গে বরফের ওপর পড়ে থাকা কয়েকটি পাপড়ি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।
দূরে একটি পাথরের সেতু।
সেতুর নিচে কালচে নীল জল।
শীতের কারণে পুকুরের কিনারাগুলোতে পাতলা বরফ জমে আছে, কিন্তু মাঝখানের জল এখনও স্থিরভাবে বয়ে চলেছে।
জলের ওপর ভাসছে কয়েকটি সাদা পদ্ম।
তাদের পাপড়িতে আলো এসে পড়েছে।

একটি ফুলের ওপর জমে থাকা বরফের ছোট্ট টুকরো হঠাৎ গলে জলের মধ্যে পড়ল।

টুপ—

শব্দটা মিলিয়ে যাওয়ার আগেই পেছন দিক থেকে মৃদু একটা শব্দ আসলো ।
একজন তরুণী দাসী মাথা নিচু করে ঘরে প্রবেশ করল। তার দুই হাতে ধরা ছিল সুগন্ধি ভেষজে ভরা একটি ছোট পাত্র।

সে কয়েক পা এগিয়ে এসে নরম কণ্ঠে বলল—
“ম্যাডাম... আপনার স্নানের জল প্রস্তুত।”

“স্নানের জল?”

দাসী মাথা নাড়ল।

শিয়া লিন কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বাইরে শেষবারের মতো তাকাল।
সূর্যের আলো তখন আরও ফিকে হয়ে এসেছে।
সাদা বরফের ওপর পড়ে থাকা সেই সোনালি আভা ধীরে ধীরে নীলচে সন্ধ্যার রঙে বদলে যাচ্ছে।

______________

শিয়া লিন তার দাসীর সঙ্গে স্নানকক্ষের দিকে এগিয়ে গেল।

দরজা পেরোতেই তার পা যেন আপনাআপনি থেমে গেল।
সামনের দৃশ্যটা এতটাই অপার্থিব যে কয়েক মুহূর্ত সে শুধু তাকিয়েই রইল।
বিশাল স্নানকক্ষটির মেঝে তৈরি করা হয়েছে মসৃণ সাদা পাথরে। পাথরের ওপর নীলচে ফুলের সূক্ষ্ম নকশা খোদাই করা।

চারপাশের দেয়ালে কাঠের কারুকাজ—পদ্ম, লতা আর পাখির নকশা একে অন্যের সঙ্গে মিশে গেছে।
দেয়ালের ছোট ছোট খোপে অসংখ্য তেলের প্রদীপ জ্বলছে।
হলুদাভ সেই আলো পাথরের দেয়ালে পড়ে নরম ছায়া তৈরি করেছে।
ঘরের মাঝখানে বিশাল সাদা পাথরের স্নানাধার।

তার ভেতর স্বচ্ছ উষ্ণ জল।
জলের ওপর ছড়িয়ে রয়েছে গোলাপের পাপড়ি, সাদা ক্যামেলিয়া আর ছোট ছোট পদ্মের পাপড়ি।
কোথাও আবার ভাসছে হালকা বেগুনি রঙের অচেনা ফুল।
উষ্ণ জলের ওপর থেকে ধীরে ধীরে বাষ্প উঠছে।

সেই বাষ্পে পুরো ঘরটা যেন কুয়াশার পাতলা পর্দায় ঢাকা পড়েছে।
চন্দন, গোলাপ আর শুকনো ভেষজের মিষ্টি গন্ধ বাতাসে মিশে আছে।

শিয়া লিন ধীরে স্নানাধারের কাছে গেল।
আঙুলের ডগা জলে ছোঁয়াতেই উষ্ণতার কোমল স্পর্শ শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল।
সে ধীরে ধীরে জলে নামল।
উষ্ণ জল তার শরীরকে ঘিরে ধরতেই চোখ দুটো আপনাআপনি বন্ধ হয়ে এল।

মনে হলো—
এতদিনের ক্লান্তি, ভয় আর অস্থিরতা যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য জলের নিচে ডুবে গেল।
দাসী তার চুল খুলে দিল।
দীর্ঘ চুলগুলো ধীরে ধীরে জলের ওপর ছড়িয়ে পড়ল।
কিছু চুল ভেসে রইল কাঁধের ওপর, কিছু জলের মধ্যে ডুবে গেল।
দাসী সুগন্ধি ভেষজ মেশানো জল তুলে ধীরে ধীরে তার চুলের ওপর ঢেলে দিল।
জলের সরু ধারা চুল বেয়ে নেমে এসে আবার স্নানাধারে মিশে গেল।

শিয়া লিন স্থির হয়ে বসে রইল।
বাষ্পে তার গাল দুটো হালকা গোলাপি হয়ে উঠেছে।
ভেজা চুল গাল ছুঁয়ে কাঁধের ওপর নেমে এসেছে।
চোখ বন্ধ থাকায় তার দীর্ঘ পাপড়িগুলো আরও স্পষ্ট দেখাচ্ছে।
প্রদীপের আলোয় তার মুখের কোমল রেখাগুলো কখনো উজ্জ্বল হয়ে উঠছে, কখনো বাষ্পের আড়ালে মিলিয়ে যাচ্ছে।
জলের ওপর ভাসতে থাকা একটি সাদা ফুল ধীরে ধীরে ভেসে এসে তার বাহুর পাশে থেমে গেল।

শিয়া লিন চোখ খুলে ফুলটির দিকে তাকাল।
তারপর খুব আস্তে আস্তে আঙুল দিয়ে ফুলটিকে সরিয়ে দিল।
জলের হালকা ঢেউ উঠল।
ফুলটি আবার ভেসে গেল।
দাসী এবার নরম কাপড়ে তার বাহু ও কাঁধ আলতো করে মুছে দিল।
তারপর সুগন্ধি তেল দিয়ে চুলগুলো ধীরে ধীরে আঁচড়াতে লাগল।
চুলের প্রতিটি গোছা যখন আঁচড়ের নিচে দিয়ে পিছলে যাচ্ছিল, তখন প্রদীপের আলোয় সেগুলো রেশমের মতো চকচক করছিল।

স্নানকক্ষের চারপাশে তখন শুধু কয়েকটি ক্ষীণ শব্দ—
জলের মৃদু ঢেউ।
প্রদীপের শিখার কাঁপন।
আর সুগন্ধি ধোঁয়ার ধীরে ধীরে ওপরে উঠে যাওয়া।
শিয়া লিন কিছু বলল না।
সে শুধু চোখ বন্ধ করে উষ্ণ জলের মধ্যে বসে রইল।
বাইরে তখন সন্ধ্যা আরও গাঢ় হয়ে এসেছে।
জানালার ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা বাতাসের সামান্য স্পর্শ ভেতরে এসে বাষ্পের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।

আর সেই মুহূর্তে—

বরফে ঢাকা প্রাসাদের গভীরে,
ফুলের পাপড়িতে ভরা উষ্ণ জলের মধ্যে,
শিয়া লিনকে সত্যিই মনে হচ্ছিল কোনো পুরনো রাজ্যের স্বপ্ন থেকে উঠে আসা এক অপরূপ চরিত্র।
যেন এই পৃথিবী তাকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিচ্ছে—
নরম জল দিয়ে,
ফুলের গন্ধ দিয়ে,
আর হাজার বছরের পুরোনো এক নীরবতার মধ্যে।

------------------

স্নান শেষে শিয়া লিন ধীরে ধীরে জল থেকে উঠে আসল ।

দাসী একটি বড়, নরম রেশমি কাপড় দিয়ে তার ভেজা শরীর জড়িয়ে দিল। কাপড়টির গায়ে হালকা ফুলের নকশা, ছুঁলেই যেন মসৃণ জলের মতো অনুভূতি হয়।
তার দীর্ঘ চুল তখনও ভেজা।
দাসী দুহাতে চুলগুলো তুলে নিয়ে নরম কাপড়ে আলতো করে পানি মুছতে লাগল।
জলের ফোঁটাগুলো চুলের ডগা থেকে গড়িয়ে পড়ে পাথরের মেঝেতে ছোট ছোট দাগ তৈরি করছিল।

আর সেই মুহূর্তে ঘরে সম্রাট প্রবেশ করলেন।

চন্দ্রকঙ্কন 🌙 - ৬

#চলবে
Writer: Alien | All Rights Reserved.
লেখকের অনুমতি ছাড়া গল্পের কোনো অংশ কপি, পুনঃপ্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না। ]

18/08/2026

চন্দ্রকঙ্কনের শেষ টুকরোটি মেঝেতে পড়তেই ঘরের সমস্ত আলো নিভে গেল।

আবার সেই অন্ধকার।

কিন্তু এবার শিয়া লিন ভয় পেল না।
কারণ সে অনুভব করতে পারছিল—সম্রাট এখনও তার হাত ধরে আছেন।

বরং আগের চেয়েও শক্ত করে।

যেন পৃথিবীর সমস্ত অন্ধকারের বিরুদ্ধে তাঁর একমাত্র অস্ত্র এখন এই হাতদুটো।

সম্রাট শিয়া লিন এর কাছে আরও এগিয়ে এলো ।

এত কাছে—
যে শিয়া লিন তার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা অনুভব করতে পারছিল।

শিয়া লিন পিছিয়ে যেতে চেয়েছিল।
কিন্তু কেন যেন তার পা নড়ল না।

বাইরে তুষার পাত কমে গিয়ে জানালা দিয়ে চাঁদ এর আলো আসছে।

“আমার দিকে তাকাও।” (সম্রাট বলল)
কণ্ঠটা খুব নিচু।
শিয়া লিন ধীরে চোখ তুলল।
সম্রাটের চোখে আজ কোনো রাজকীয় কঠোরতা নেই।
ছিল শুধু এক অদ্ভুত গভীরতা।

যেন অনেক বছরের অপেক্ষা সেখানে জমে আছে।
তিনি ( সম্রাট) হাত বাড়িয়ে তার গালের পাশে এসে থামলেন।
এক মুহূর্ত যেন দ্বিধা করলেন।
তারপর খুব আলতো করে তার মুখের পাশে নেমে আসা চুল সরিয়ে দিলেন।

শিয়া লিনের নিঃশ্বাস আটকে গেল।
“আপনি এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?”
সম্রাট মৃদুস্বরে বললেন,
“কারণ এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না যে তুমি সত্যিই আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছ।”

শিয়া লিনের বুকের ভেতর অদ্ভুত ব্যথা অনুভব হলো।

“আমি তো এখানেই আছি।”

“এইবার...”

সম্রাট তার হাত নিজের হাতে তুলে নিলেন।

“আমি তোমাকে এত সহজে হারাতে দেব না।”

তিনি তার কপালে ধীরে ঠোঁট ছোঁয়ালেন।
শিয়া লিন চোখ বন্ধ করল।

লিন আমার দিকে তাকাও ।

এরপর, সম্রাট এর ঠোঁট শিয়া লিন এর ঠোঁটে পড়লো। প্রথমে খুব ধীরে, একধরনের অপ্রত্যাশিত কোমলতা নিয়ে, তারপর এক মুহূর্তের মধ্যে চুম্বনটা গভীর হয়ে উঠলো। শিয়া লিন এর সারা শরীরের মধ্যে এক অদ্ভুত শিহরণ ছড়িয়ে পড়ছে।

শিয়া লিন অজান্তেই সম্রাট এর পোশাক আঁকড়ে ধরল।

সম্রাট সেটা অনুভব করলেন।

সম্রাট এর চোখে ক্ষীণ হাসি ফুটল।
“তুমি আমাকে ছাড়তে বলছ না।”
শিয়া লিন লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলল।

“আমি কিছু বলিনি।”
“তোমার হাত বলেছে।”

সম্রাট আবার তাকে নিজের কাছে টেনে নিলেন।

শিয়া লিনের মাথা এসে তার বুকে ঠেকল।
কিছুক্ষণ কেউ কথা বলল না।

শুধু হৃদস্পন্দন।
দুটো আলাদা হৃদয়—
কিন্তু যেন একই ছন্দে ধুকপুক করছে।

সম্রাট তার চুলে মুখ রেখে ফিসফিস করলেন,
“এই মুহূর্তটা মনে রেখো।”
“কেন?”
“কারণ সামনে যে অন্ধকার আসছে...”
তিনি থেমে গেলেন।
তার বাহু আরও শক্ত হয়ে উঠল।

সম্রাট স্থির হয়ে গেলেন।
তারপর তার চোখে এমন এক অনুভূতি ফুটে উঠল, যা কোনো রাজা তার প্রজার সামনে প্রকাশ করতে পারে না।

তিনি ধীরে শিয়া লিনের কপালে চুম্বন রাখলেন।
“আজ নয়।”
শিয়া লিন অবাক হয়ে তাকাল।
সম্রাট তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন—
“তোমাকে আমি শুধু একটি রাতের জন্য চাই না।”
তার আঙুল শিয়া লিনের হাতের ওপর ধীরে জড়িয়ে গেল।
“আমি তোমাকে সেই সমস্ত জীবনের জন্য চাই... যেগুলো আমাদের কাছ থেকে এখনও কেড়ে নেওয়া হয়নি।”
ঠিক তখনই—
দূরে আবার সেই অদৃশ্য ড্রাগনের গর্জন শোনা গেল।

--------------------------

শব্দটা এত গভীর ছিল যে প্রাসাদের পাথরের দেয়াল পর্যন্ত কেঁপে উঠল।

শিয়া লিন চমকে উঠলেও সম্রাটের বাহুর ভেতর থেকে সরে গেল না। বরং অজান্তেই তার পোশাকটা আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরল।

সম্রাট নিচে তাকালেন।

তার চোখে ক্ষীণ এক কোমলতা ফুটে উঠল।
“ভয় পেয়েছ?”
শিয়া লিন মাথা নাড়ল।
“না।”
“মিথ্যে বলছ।”
“আমি শুধু...
শব্দটা খুব কাছে মনে হলো।”
সম্রাট কিছু বললেন না। তিনি ধীরে ধীরে তার কাঁধের ওপর হাত রাখলেন।

জানালার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো এসে সম্রাটের মুখের ওপর পড়েছিল।
সেই আলোয় তার মুখটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল—তীক্ষ্ণ ভ্রু, গভীর কালো চোখ, সুগঠিত নাক, আর ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা সেই অদ্ভুত শান্ত হাসি।

রাজদরবারে যাকে সবাই ভয় পায় -----

সম্রাট তার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“কী দেখছ?”
শিয়া লিন একটু অপ্রস্তুত হয়ে চোখ সরিয়ে নিল।
“কিছু না।”
“আবার সেই ‘কিছু না’।”

“আপনি খুব বেশি প্রশ্ন করেন।”
“আর তুমি খুব বেশি লুকাও।”
শিয়া লিন মৃদু হেসে ফেলল।
সম্রাট সেই হাসির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।
তারপর ধীরে হাত বাড়িয়ে তার গালের পাশে এসে থামলেন।
“হাসলে তোমাকে অন্যরকম লাগে।”
“কেমন?”
“যেন এই প্রাসাদের সব অন্ধকার তোমার কাছে হার মানে।”

--------------------------------

সম্রাট তাকে নিয়ে জানালার কাছে গেলেন।
বাইরের দৃশ্য তখন বদলে গেছে।
তুষারের ওপর চাঁদের আলো পড়ে পুরো প্রাসাদটাকে রূপার মতো দেখাচ্ছে। দূরের পাথরের সিঁড়িগুলো সাদা আলোয় ঢাকা। লাল লণ্ঠনগুলো বাতাসে ধীরে দুলছে। বরফে ঢাকা বাগানের গাছগুলোকে মনে হচ্ছে কোনো প্রাচীন চিত্রশিল্পীর তুলিতে আঁকা।

শিয়া লিন মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।

“সুন্দর।”

সম্রাট তার দিকে তাকালেন।

“হ্যাঁ।”

শিয়া লিন বাইরের দিকে তাকিয়েই বলল,

“আপনিও দেখছেন?”

“আমি তো তোমাকেই দেখছি।”

সে সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে ফিরল।

সম্রাটের মুখে এবার স্পষ্ট হাসি।

“আপনি সত্যিই খুব বিরক্তিকর।”

“তবু তুমি হাসছ।”

“কারণ আপনি অদ্ভুত।”

শিয়া লিনের কথায় সম্রাট মৃদু হেসে উঠলেন।

--------------------------------

জানালার ফাঁক দিয়ে আসা ঠান্ডা বাতাস হঠাৎ ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ল। শিয়া লিনের চুলের কয়েকটি গোছা উড়ে এসে গালে লেগে গেল। সম্রাট হাত বাড়িয়ে সেগুলো সরিয়ে দিলেন।
বাইরে তখন প্রাসাদটা যেন অন্য কোনো জগতে পরিণত হয়েছে।

দিনের ব্যস্ততা কোথাও নেই।

দীর্ঘ পাথরের করিডোরগুলো চাঁদের আলোয় নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছাদের কারুকাজে জমে থাকা তুষার সাদা আলো প্রতিফলিত করছে। দূরের প্রহরী-দুর্গের আগুন মাঝে মাঝে বাতাসে দপদপ করে উঠছে। লাল লণ্ঠনগুলো ধীরে ধীরে দুলছে, আর তাদের আলো বরফের ওপর পড়ে ছোট ছোট রক্তিম ছোপ তৈরি করছে।
বাগানের মাঝখানে থাকা পুরনো পাথরের ঝরনাটি সম্পূর্ণ বরফে জমে গেছে। তার ওপর চাঁদের আলো পড়ে মনে হচ্ছে, কেউ যেন স্বচ্ছ রুপোর পর্দা টেনে দিয়েছে।

লিন জানালার কাছে আরও একটু এগিয়ে গেল।
“এত রাতে প্রাসাদটা এত শান্ত কেন?”
সম্রাট তার পাশে এসে দাঁড়ালেন।
“সব নীরবতা শান্তির নয়।”
শিয়া লিন তার দিকে তাকাল।
“তাহলে?”
সম্রাটের দৃষ্টি বাইরে স্থির।
“কখনো কখনো নীরবতা অপেক্ষা করে।”
“কিসের?”
তিনি উত্তর দেওয়ার আগে দূরের পাহাড়ের দিকে তাকালেন।

সেখানে তুষারের ওপর এক মুহূর্তের জন্য যেন কালো কোনো ছায়া নড়ে উঠল।
শিয়া লিন চোখ কুঁচকে তাকাল।
“ওটা কী?”
ছায়াটা আর নেই।
শুধু পাহাড়ের ঢালে বাতাসে উড়ে যাওয়া তুষার।

সম্রাট ধীরে বললেন,
“সম্ভবত কিছুই না।”
“আপনি ‘সম্ভবত’ বললেন কেন?”
সম্রাট এবার তার দিকে তাকালেন।

চাঁদের আলো তার মুখের এক পাশ ছুঁয়ে গেছে। তীক্ষ্ণ চোয়াল, গভীর কালো চোখ আর এলোমেলো কয়েকটি চুল—সেই মুহূর্তে তাকে রাজ্যের সম্রাটের চেয়ে বরং কোনো পুরোনো কিংবদন্তির চরিত্র বলে মনে হচ্ছিল।

শিয়া লিন কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।

“আপনি জানেন,” সে আস্তে বলল, “আপনাকে কখনো কখনো খুব রহস্যময় লাগে।”

সম্রাটের ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটল।

“আমাকে কী দেখে ভয় লাগে?"

শিয়া লিন কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে মাথা নাড়ল।
“না।”
সম্রাটের চোখে অদ্ভুত এক কোমলতা নেমে এল।
“ভালো।”
“কেন?”
তিনি উত্তর দিলেন না।
শুধু তার হাতটা নিজের হাতে নিলেন।

ঠিক সেই মুহূর্তে—
দূরের পাহাড়ের দিক থেকে আবার সেই গভীর গর্জন ভেসে এল।
এবার এত দূর থেকেও জানালার কাচ সামান্য কেঁপে উঠল।
শিয়া লিনের আঙুল অনিচ্ছায় সম্রাটের হাত আঁকড়ে ধরল।

সম্রাট তার হাত আরও শক্ত করে ধরলেন।
কিন্তু তার চোখ—
জানালার বাইরে সেই অন্ধকার পাহাড়ের দিকেই স্থির হয়ে রইল।

#চলবে

চন্দ্রকঙ্কন 🌙 - ৫

[ Writer: Alien | All Rights Reserved.
লেখকের অনুমতি ছাড়া গল্পের কোনো অংশ কপি, পুনঃপ্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না। ]

16/08/2026

🌙চন্দ্রকঙ্কন - 2

প্রাসাদের দীর্ঘ করিডোরের শেষ প্রান্তে এসে সম্রাট যখন ধীরে ধীরে তার হাত ছেড়ে দিলেন, শিয়া লিনের বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শূন্যতা তৈরি হলো।

মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য হাতটা তার হাতে ছিল।

তবু কেন মনে হচ্ছে—

এই উষ্ণতা সে বহুবার অনুভব করেছে?

কোনো এক ভুলে যাওয়া জীবনে?

নাকি কোনো অসমাপ্ত স্বপ্নে?

“কী হলো?”

সম্রাটের কণ্ঠে তার চিন্তা ভাঙল।

শিয়া লিন দ্রুত হাত সরিয়ে নিল।

“কিছু না।”

সম্রাট তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

“তুমি যখন ‘কিছু না’ বলো, তখন সাধারণত তোমার মাথার ভেতর অনেক প্রশ্ন ঘুরতে থাকে।”

শিয়া লিন মৃদু হাসল।

“তাহলে আপনি উত্তর দেবেন?”

“প্রশ্নটা শুনি আগে।”

সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

“আপনি আমাকে আগে থেকেই চিনতেন?”

সম্রাটের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।

করিডোরের প্রদীপের আলো তার চোখে পড়ে অদ্ভুত ছায়া তৈরি করল।

“কেন এমন মনে হলো?

“আপনি আমার সঙ্গে এমনভাবে কথা বলেন, যেন…”

সে থেমে গেল।

“যেন?”

“যেন আমি আপনার কাছে অপরিচিত নই।”

সম্রাট দীর্ঘক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর ধীরে বললেন—

“কিছু মানুষকে প্রথম দেখাতেই অপরিচিত মনে হয় না।”

“আপনার ক্ষেত্রেও?”

“আমার ক্ষেত্রে…”

তিনি সামান্য ঝুঁকে এলেন।

“কিছু স্মৃতি মনে করার জন্য চোখের দরকার হয় না।”

শিয়া লিনের বুক কেঁপে উঠল।

সে আরও কিছু জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিল।

কিন্তু সম্রাট ইতিমধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

“আজ রাতে ভালো করে ঘুমাও।”

“কেন?”

সম্রাট থামলেন।

পেছন ফিরে তাকালেন না।

“কারণ আজ রাতের পর হয়তো তোমার ঘুম আর আগের মতো থাকবে না।”

শিয়া লিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি চলে গেলেন।
_______________________________________

সেই রাত

জানালার বাইরে তুষার পড়ছিল।
প্রাসাদ নিস্তব্ধ।

শুধু দূরের কোনো অদৃশ্য মন্দির থেকে মাঝেমধ্যে ঘণ্টার ক্ষীণ শব্দ ভেসে আসছিল।

শিয়া লিন বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করল।
কিন্তু ঘুম আসছিল না।

সম্রাটের শেষ কথাটা বারবার মনে পড়ছিল।

“আজ রাতের পর হয়তো তোমার ঘুম আর আগের মতো থাকবে না।”

অবশেষে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল, সে নিজেও জানল না।

সে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল বরফঢাকা উপত্যকায়।

আকাশে চাঁদ নেই।

তার বদলে আকাশজুড়ে অসংখ্য নীল তারা।

সামনে একটা কালো পাথরের সিঁড়ি।

সিঁড়ির শেষে দাঁড়িয়ে আছে একটি প্রাচীন মন্দির।

মন্দিরের দরজায় খোদাই করা—
অর্ধচন্দ্র।

শিয়া লিন ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।

দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল।

ভেতরে কেউ নেই।

শুধু মাঝখানে একটি পাথরের বেদি।

বেদির ওপর রাখা একটি পুরনো কঙ্কন।

হুবহু তার নিজের চন্দ্রকঙ্কনের মতো।

শিয়া লিন হাত বাড়াল।

ঠিক তখনই পেছন থেকে একটি কণ্ঠ—
“ওটা ছুঁয়ো না।”
সে ঘুরে দাঁড়াল।
একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।
কালো পোশাক।
মুখটা কুয়াশায় ঢাকা।

“ কে আপনি ?”
আপনি কে ?

কোনো উত্তর নেই।

লোকটি হাসল।

সেই হাসিতে কোনো উষ্ণতা ছিল না।
বরং ছিল এমন এক অদ্ভুত নিশ্চয়তা—যেন শিয়া লিনের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সে জানে, অথচ ইচ্ছে করেই একটি শব্দও বলতে চায় না।

শিয়া লিন এক পা পিছিয়ে গেল।

“আপনি কে?”

লোকটি এবারও কোনো উত্তর দিল না।
তার বদলে ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
কুয়াশার আড়াল থেকে তার চোখদুটো দেখা গেল।

অস্বাভাবিক উজ্জ্বল।

একটি চোখ নীলাভ সাদা।
অন্যটি রক্তের মতো লাল।
শিয়া লিনের বুক কেঁপে উঠল।

“আপনার চোখ…”

লোকটি মৃদুস্বরে বলল,

“চোখ কখনো মিথ্যে বলে না।”

“তাহলে আপনার মুখটা আমাকে দেখতে দিচ্ছেন না কেন?”

“আমি কি আপনাকে চিনি?”

কোনো উত্তর নেই।

লোকটি ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এল।

সে কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু হঠাৎ দূরে বজ্রের শব্দ হলো।

আর........

কুয়াশার মধ্যে হঠাৎ বাতাস প্রচণ্ড জোরে বইতে শুরু করল।
মন্দিরের দেওয়ালে আঁকা ড্রাগনের চোখ জ্বলে উঠল।
তারপর একে একে সবগুলো ড্রাগনের চোখ।
লাল।
রক্তলাল।
শিয়া লিন পিছিয়ে গেল।
“এগুলো কী?”

লোকটি ফিসফিস করে বলল—

“তারা জেগে উঠছে।”

“কারা?”

মাটির নিচ থেকে যেন গর্জন শোনা গেল।
শিয়া লিনের পায়ের নিচের পাথর কেঁপে উঠল।
বিকট একটা আওয়াজ।

শিয়া লিন হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে বসে পড়ল।
তার বুক ধড়ফড় করছে।
ঘর অন্ধকার।
প্রদীপ নিভে গেছে।
সে রাত্রে শিয়া লিন আর ঘুমাতে পারলো না।

______________________

জানালার বাইরে তুষারপাত থেমে গেছে।
তবু অদ্ভুতভাবে মনে হচ্ছিল, পুরো প্রাসাদ যেন নিঃশ্বাস আটকে আছে।
সে বিছানায় বসে কবজির চন্দ্রকঙ্কনের দিকে তাকিয়ে রইল।

কঙ্কনটি নিস্তেজ।

কিছুক্ষণ আগেও যে অর্ধচন্দ্রের নকশা অদ্ভুত নীল আলোয় জ্বলছিল, এখন সেখানে কোনো আলো নেই।
শিয়া লিন ধীরে সেটাকে স্পর্শ করল।
ঠান্ডা।
বরফের থেকেও ঠান্ডা।

হঠাৎ—
টক।
সে চমকে উঠল।
আবার শব্দ হলো।
টক... টক...

জানালায় কেউ যেন নখ দিয়ে আঁচড় কাটছে।
শিয়া লিন ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
তার বুকের ভেতর অস্বস্তি জমতে লাগল।
“কে?”
কোনো উত্তর নেই।
সে জানালার কাছে গেল।
পর্দা সরাল।
বাইরে শুধু তুষার।
কেউ নেই।

কিন্তু জানালার কাঠে তিনটি গভীর আঁচড়।
একটি নিচে।
দুটি তার ওপরে।
শিয়া লিন হাত বাড়িয়ে আঁচড়গুলো ছুঁতেই—
তার আঙুলে হঠাৎ লাল রঙ লেগে গেল।

রক্ত?

সে দ্রুত হাত সরিয়ে নিল।
কিন্তু পরক্ষণেই বুঝল—

ওটা রক্ত নয়।
কালচে-লাল কোনো অদ্ভুত পদার্থ।
আর সেই গন্ধটা—
লোহার মতো।
পচা ধূপের মতো।
শিয়া লিনের শরীর শিউরে উঠল।
ঠিক তখনই করিডোরের বাইরে পায়ের শব্দ শোনা গেল।
একজন নয়।
অনেকজন।
প্রহরীরা দৌড়াচ্ছে।

সে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এল।
করিডোরে দুজন প্রহরী ছুটে গেল।
শিয়া লিন তাদের থামাল।
“কী হয়েছে?”
দুজনেই থেমে গেল।
তার মুখ দেখে একজন সঙ্গে সঙ্গে মাথা নত করল।
“ম্যাডাম, আপনাকে কক্ষে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।”
“কেন?”
“উত্তর প্রাসাদে... কিছু একটা ঘটেছে।”
“কী ঘটেছে?”

প্রহরী উত্তর দেওয়ার আগেই—

দূর থেকে আবার সেই শব্দটা এলো।
গর্জন।
এবার এত গভীর যে প্রাসাদের মেঝে পর্যন্ত কেঁপে উঠল।
শিয়া লিনের বুকের ভেতর ধক করে উঠল।

সে সেই শব্দ চিনতে পারল।
স্বপ্নে শুনেছিল।
কিন্তু স্বপ্নে সেটা অনেক দূর থেকে এসেছিল।
এবার—
শব্দটা যেন প্রাসাদের মাটির নিচ থেকেই উঠছে।
প্রহরী দুজনের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
একজন ফিসফিস করে বলল—
“অসম্ভব...”

শিয়া লিন তার দিকে তাকাল।
“কী অসম্ভব?”
প্রহরী উত্তর দিল না।
অন্যজন তার মুখ চেপে ধরল।
“চুপ।”
কিন্তু ততক্ষণে শিয়া লিন বুঝে গেছে—
ওরা কিছু জানে।
আর সেটা তার কাছ থেকে লুকানো হচ্ছে।

উত্তর প্রাসাদ

শিয়া লিন উত্তর দিকের দিকে এগিয়ে গেল।
যত এগোচ্ছিল, তত ঠান্ডা বাড়ছিল।
প্রাসাদের অন্য অংশে জ্বলতে থাকা লণ্ঠনগুলো এখানে এসে নিভে গেছে।
দেয়ালের ওপর পুরনো চিত্রকর্ম।
সবগুলোতেই একই প্রাণী।
একটি বিশাল ড্রাগন।
কিন্তু অদ্ভুত বিষয়—
প্রতিটি ছবিতে ড্রাগনের মুখ ঘষে মুছে ফেলা হয়েছে।
কোথাও চোখ নেই।
কোথাও শিং নেই।
কোথাও পুরো মাথাটাই কালো করে দেওয়া।
শিয়া লিন একটি ছবির সামনে দাঁড়াল।
তার বুক হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।
ড্রাগনের শরীরের নিচে একটি নারী দাঁড়িয়ে আছে।
নারীটির হাতে—
একটি চন্দ্রকঙ্কন।
হ্যাঁ চন্দ্রকঙ্কন।
শিয়া লিনের নিঃশ্বাস আটকে গেল।
সে আরও কাছে এগিয়ে গেল।
চিত্রটির নিচে প্রাচীন অক্ষরে কিছু লেখা।
সে পড়তে পারল না।
হঠাৎ
পেছন থেকে কণ্ঠ এলো—
“তুমি এখানে কী করছ?”
সে ঘুরে দাঁড়াল।
সম্রাট।

কিন্তু আজ তার মুখে সেই কোমলতা নেই।
চোখে কঠিন সতর্কতা।
তিনি দ্রুত তার কাছে এসে দাঁড়ালেন।
“আমি তোমাকে উত্তর প্রাসাদে আসতে নিষেধ করেছিলাম।”
“আপনি তো বলেননি—”
“সব নিষেধাজ্ঞার কারণ বলা হয় না।”
শিয়া লিন তার চোখের দিকে তাকাল।
“এখানে কী আছে?”

#চলবে ---------

Writer: Alien | All Rights Reserved.
লেখকের অনুমতি ছাড়া গল্পের কোনো অংশ কপি, পুনঃপ্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না। ]
#চন্দ্রকঙ্কন
এলিয়েন

"১. চন্দ্রকঙ্কন🌙[ Historical Fantasy Romance ]", প্রতিলিপিতে পড়ুন : 14/08/2026

"১. চন্দ্রকঙ্কন🌙[ Historical Fantasy Romance ]", প্রতিলিপিতে পড়ুন : Books, Stories and Poems

12/08/2026

অধ্যায় ১ — যে রাতে সময় থেমে গিয়েছিল........

#চন্দ্রকঙ্কন

বৃষ্টিটা🌧️ সেদিন অস্বাভাবিক ছিল।
শহরের আকাশজুড়ে কালো মেঘ।
রাস্তার আলো ভিজে পিচের ওপর কাঁপছিল।

আর সেই ভেজা রাস্তা ধরে ছুটছিল শিয়া লিন।
তার হাতে শক্ত করে ধরা ছিল একটি ছোট বাক্স।
বাক্সটি সে সেদিনই পেয়েছিল।

তার দিদিমার পুরনো জিনিসপত্রের মধ্যে।
দিদিমা মারা যাওয়ার পর বাড়ির পুরনো কাঠের আলমারি পরিষ্কার করতে গিয়েই সে বাক্সটা খুঁজে পায়।

বাক্সের ওপর কোনো নাম ছিল না।
শুধু একটি চিহ্ন --

অর্ধচন্দ্রের মধ্যে একটি পদ্ম।

বাড়িতে ফিরে বাক্সটা খুলতেই সে
দেখেছিল—
একটি রুপালি কঙ্কন।
অদ্ভুত সুন্দর।
এত পুরনো যে তার গায়ে সময়ের ক্ষীণ দাগ রয়েছে।
কিন্তু কঙ্কনের মাঝখানে খোদাই করা অর্ধচন্দ্রটি 🌙এখনও ঝকঝক করছে।
আর তার নিচে একটি ছোট পাথর।
নীলাভ।
ঠিক যেন রাতের আকাশের একটি টুকরো।
কঙ্কনের সঙ্গে একটি ছোট কাগজ ছিল।
মাত্র একটি বাক্য।

"যদি কখনো চাঁদের আলোয় এই কঙ্কন জ্বলে ওঠে, চোখ বন্ধ কোরো না।"

শিয়া লিন ভেবেছিল—

দিদিমার কোনো পুরনো কুসংস্কার।
কিন্তু সেদিন রাতে...

চাঁদ উঠতেই কঙ্কনটি জ্বলে উঠল।
প্রথমে মৃদু।

তারপর আরও উজ্জ্বল।

শিয়া লিন ভয় পেয়ে সেটি খুলতে গেল।
পারল না।

তারপর—

ঘরের বাতাস হঠাৎ থেমে গেল।
ঘড়ির কাঁটা থেমে গেল।

জানালার বাইরে পড়তে থাকা বৃষ্টির ফোঁটাগুলোও যেন মাঝ-আকাশে স্থির হয়ে গেল।

শিয়া লিন নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইল।

কঙ্কনের ভেতর থেকে একটি নারীকণ্ঠ ভেসে এল।

খুব মৃদু।

খুব দূর থেকে।

"ফিরে এসো..."

শিয়া লিন ফিসফিস করল—

"কোথায়?"

কোনো উত্তর এল না।

শুধু চোখের সামনে হঠাৎ একটি দৃশ্য ভেসে উঠল।

একটি প্রাসাদ। লাল দরজা। শত শত জ্বলন্ত লণ্ঠন। বরফে ঢাকা পাথরের সিঁড়ি।

আর একটি রহস্যময় ব্যক্তি --------

কালো রাজকীয় পোশাকে দাঁড়িয়ে আছে।

তার মুখ স্পষ্ট নয়।

কিন্তু তার চোখ...

শিয়া লিনের বুক হঠাৎ কেঁপে উঠল।

কারণ সেই চোখের দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো—

সে মানুষটিকে সে বহুদিন ধরে চেনে।
যদিও বাস্তবে কখনো দেখেনি।

তারপর একটি আওয়াজ ধীরে ধীরে বলল—

"তুমি অবশেষে ফিরে এলে।"

আলো বিস্ফোরিত হলো।🎆
শিয়া লিনের পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেল।

#চলবে
-----------------------------------
Writer : Alien



এলিয়েন 2026. This is a work of fiction.
Do not copy, reproduce or repost without the author's permission.`

11/11/2025

Behind every uniform lies a dreamer, fearless and destined for the skies!! 🫰🏻❤️

08/11/2025

💝✨

Photos from Cabin crew's post 18/06/2025

❤❤

09/06/2025

❤✈️

05/06/2025

🧚‍♀️👁✈️

Other Murshidabad beauty salons

Show All

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when এলিয়েন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Subscribe

We will notify you when anything happens in Murshidabad.