Best Health Solution-Daily Tips
This page is dedicating to you & your family for leading happy & healthy life.
23/12/2023
নারীর শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে যে ৫ খাবার খাবেন-
শরীরে আয়রনের মাত্রা বজায় রাখা সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য, যারা মাসিকের রক্তক্ষরণ এবং গর্ভাবস্থার কারণে আয়রনের ঘাটতিতে ভুগতে পারে। আয়রনের ঘাটতি ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং মাথা ঘোরার কারণ হতে পারে। রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করতে এবং শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে খাবারের তালিকায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচটি খাবার সম্পর্কে যেগুলো আয়রনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে-
১. পালং শাক
আয়রনে সমৃদ্ধ পালং শাক সহজেই বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। এতে নন-হিম আয়রন রয়েছে, যা প্রাণিজ খাবারে পাওয়া হিম আয়রনের মতো শরীর দ্বারা সহজে শোষিত নাও হতে পারে। পালং শাক ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে, যেমন সাইট্রাস ফল বা বেল পেপার ইত্যাদির সঙ্গে খেলে তা আয়রন শোষণ বাড়ায়। প্রতিদিনের খাদ্যের অংশ হিসেবে পালং শাকের সালাদ, স্মুদি বা ভাজা পালংশাক রাখতে পারেন। এটি আয়রনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অবদান রাখবে।
২. মসুর ডাল
এই ডাল নারীর জন্য আয়রনের একটি দুর্দান্ত উৎস। এতে ফাইবার এবং প্রোটিনের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে নন-হিম আয়রন থাকে, যা পুষ্টির ঘাটতি পূরণে কাজ করে। মসুর ডাল নানাভাবে তৈরি করে খাওয়া যায়। স্যুপ, স্টু, সালাদ বা সুস্বাদু বড়া তৈরি করে খেতে পারেন। নিয়মিত মসুর ডাল খেলে তা শরীরে স্বাস্থ্যকর আয়রনের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. কুমড়ার বীজ
কুমড়ার বীজে প্রচুর আয়রন থাকে। এটি হালকা নাস্তা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। সালাদ, দইয়ের উপরেও ছিটিয়ে খেতে পারেন। কুমড়ার বীজে অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে, ফলে আয়রন বৃদ্ধির জন্য খেলেও এটি শরীরের জন্য আরও অনেক উপকার করে।
৪. চর্বিহীন মাংস
যারা প্রানিজ আমিষ খায় তাদের জন্য মুরগি, টার্কি এবং গরুর মাংসের মতো চর্বিহীন মাংস হিম আয়রনের চমৎকার উৎস, যা নন-হিম আয়রনের চেয়ে শরীর দ্বারা সহজে শোষিত হয়। চর্বিহীন মাংস নিয়মিত খেলে তা আয়রনের মাত্রার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটায়। অন্যান্য পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে এই মাংসের ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য।
৫. কুইনোয়া
এই শস্য শুধু প্রোটিন এবং ফাইবারের একটি দুর্দান্ত উৎসই নয়, এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রনও রয়েছে। কুইনোয়া নানাভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সালাদের জন্য একটি বেস হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, সাইড ডিশ হিসাবে পরিবেশন করা যেতে পারে বা সকালের নাস্তার বাটিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
23/12/2023
পানিফল কেন খাবেন?
ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-র প্রভাবে হাঁটি হাঁটি পা করে শেষপর্যন্ত দেশে নেমেছে শীতের আমেজ। এ শীতের সঙ্গে এসেছে শীতের সৌন্দর্য আর বৈচিত্রও। যার একটি হলো শীতকালীন ফল।
দেশে শীতের এই সময়টাতে অনেক মৌসুমী ফল বাজারে পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ফল হিসেবে ধরা যায় পানিফলকে।
এই ফলটি শীতকালের একটি জনপ্রিয় ফল। ফলটি খেতে অনেকেই ভালোবাসেন। কিন্তু ফলটি খেলে কী হয় তা কিন্তু অনেকেই জানেন না।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, পানিফল ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে এ ফলের।
এর নাম থেকেও গুণের বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। অন্যান্য ফলের তুলনায় পানিফলে পানির পরিমাণ অনেক বেশি। তাই পানির ঘাটতি মেটাতে যারা শীতের ঠান্ডা পরিবেশে বেশি পরিমাণে পানি খেতে পারেন না তারা খেতে পারেন এ ফলটি।
যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তারা এ ফলটি এখন থেকেই খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। কারণ পানিফল রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
যারা হজমের সমস্যায় ভুগছেন, কিংবা ওজন বেশি এমন ব্যক্তিরাও এ ফলটি নির্দ্বিধায় খেতে পারেন। লিভার ভালো রাখতে পানিফল খেতে পারেন। এছাড়া যাদের রাতে ঘুমের সমস্যা আছে, অনিদ্রায় ভুগছেন দীর্ঘ সময় ধরে তারাও এ ফলটি খেতে পারেন শীতের এই সময়টাতে।
23/12/2023
মেথি শাকের জাদুকরী গুণাগুণ!
চির তরুণ আর নীরোগ থাকতে ডায়েটে আজ থেকেই নিয়মিত খেতে শুরু করতে পারেন জাদুকরী গুণাগুণ সম্পন্ন মেথি শাক। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, এ শাকের রয়েছে নানা রকম ভেষজ গুণ।
প্রাচীনকাল থেকেই এ শাক ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কারণ হিসেবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, মেথিতে থাকা প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা করে তারুণ্য ধরে রাখে। যারা হতাশায় ভুগছেন কিংবা ডায়াবেটিসের রোগী, তারা নিয়মিত ডায়েটে মেথিশাক রাখলে উপকার পাবেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, ১০০ গ্রাম মেথিশাকে রয়েছে ৫০ ক্যালরি শক্তি। এ ছাড়াও প্রতি ১০০ গ্রাম মেথিশাকে ১.৫ গ্রাম (৭%) স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ৬৭ মিলিগ্রাম (২%) সোডিয়াম, ৭৭০ মিলিগ্রাম (২২%) পটাশিয়াম, ৫৮ গ্রাম (১৯%) কার্বোহাইড্রেট এবং ২৩ গ্রাম (৪৬%) প্রোটিন রয়েছে। ভেষজ এ শাকটি ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ৬, ক্যালশিয়াম, আয়রন এবং ম্যাগনেশিয়ামে ভরপুর।
তাই নিয়মিত সবারই মেথিশাক খাওয়া উচিত। আজকের আয়োজনে এক নজরে জেনে নিন মেথিশাকের জাদুকরী গুণাগুণ সম্পর্কে বিশেষ কিছু তথ্য–
১। ওজন কমায়:
মেথিশাকে থাকা হাই ফাইবার অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। যে কারণে এই শাক বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখে। ফলে ওজন কমে।
২। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ:
রক্তের লিপিড লেভেলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে মেথিশাক। এটি কোলেস্টেরলের এলডিএল এবং এইচডিএল-এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে।
৩। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:
মেথি শরীরের গ্লুকোজ মেটাবলিজমকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। রক্তে চিনির মাত্রাও বাড়তে দেয় না মেথিশাক। তাই যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তারা এই শাক খেলে উপকৃত হবেন।
৪। হার্টের সুরক্ষা:
মেথিশাক প্লেটলেট বৃদ্ধির গতিকে কমায়। যে কারণে হৃৎপিণ্ডে রক্ত জমে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক ঝুঁকি হ্রাস পায়। তাই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস এবং ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেথিশাক খেতে পারেন।
৫। লিভারের সুরক্ষা:
লিভারের সমস্যার ক্ষেত্রে মেথিশাক খুবই কার্যকরী। গ্যাসের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, ডায়রিয়া ও অন্ত্রের নানা সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করতে পারেন মেথিশাক।
৬। তারুণ্য ধরে রাখে:
ত্বকের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত খেতে পারেন মেথিশাক। নিয়মিত এই শাক খেলে অল্প বয়সে মুখে বলিরেখা কখনোই পড়বে না। সেই সঙ্গে মুখে ব্রণ, কালো বা ছোপ ছোপ দাগ দূর করতে জুড়ি নেই মেথিশাকের।
৭। চুলের যত্নে:
মেথিশাকে থাকা আয়রন ও ভিটামিন চুলের সব সমস্যার সমাধান করে। মাথায় খুশকি তো দূর করেই, সেই সঙ্গে অকালে চুল পেকে যাওয়ার মতো সমস্যাও কমায়। চুল ঘন ও প্রাকৃতিকভাবে রেশমি করে তুলতে মেথিশাক খাওয়ার পাশাপাশি ত্বক ও চুলে ব্যবহার করতে পারেন মেথি তেল।
23/12/2023
কোমর ব্যথার যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায় :
জীবনে কোমর ব্যথায় ভোগেননি এমন মানুষ পাওয়া খুব কঠিন। এই অসুখে বেশি ভোগেন বেশি বয়সীরাই। কিন্তু বর্তমান জীবনযাত্রা ও তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অল্প বয়সেও অনেকে এ রোগে আক্রান্ত হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোমরের প্রধান ৫টি হাড়ে সমস্যা কিংবা ক্ষয় শুরু হলে: হাড়ের ডিস্ক, মাংসপেশি, স্নায়ুর সামঞ্জস্য নষ্ট হলে, মেরুদণ্ডে টিউমার ও ইনফেকশন হলে কোমর ব্যথায় ভোগেন রোগীরা। একটানা বসে থাকার কারণেও কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হন কেউ কেউ।
চিকিৎসকরা বলছেন, বেশির ভাগ কোমর ব্যথারই প্রকৃত কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় ওষুধ আর ব্যায়ামের মাধ্যমে কোমর ব্যথায় আক্রান্ত রোগী সাধারণত তিন মাসের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।
কিন্তু এ কোমর ব্যথার সময় অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করেন রোগীরা। এ যন্ত্রণা কমাতে কিছু বিশেষ উপায় মেনে চলতে পারেন। যেমন:
১। হালকা গরম সেঁক:
কোমরের ব্যথাযুক্ত স্থানে হালকা গরম কাপড়ের সেঁক দিতে পারেন। গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়েও এ সেঁক দিতে পারেন। এতে যন্ত্রণা কমবে এবং আরামবোধ করবেন।
২। তেল ম্যাসাজ:
কালো জিরা, মেথি ও রসুন সরিষা তেলে ভেজে নিন। এই তেল একটি পাত্রে রেখে হালকা গরম থাকাবস্থায় কোমর ব্যথায় ম্যাসাজ করুন।
৩। খাবার:
কোমর ব্যথা কমাতে আদা খান। আদার পটাশিয়াম নার্ভের সমস্যা দূর করে। এতে কোমরের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
এ ছাড়া হলুদ, লেবু, অ্যালোভেরা খেলেও কোমরের ব্যথা কমে। ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামজাতীয় খাবার যেমন: দুধ, ঘি, পনির, ফল, শাকসবজি, বাদাম ইত্যাদি খেলেও কোমরের ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়।
23/12/2023
শক্তিশালী প্রাকৃতিক কীটনাশক ঢেঁকিশাক:
জানালায় ও বাগানে অযত্নে বেড়ে ওঠা ফার্নের (ঢেঁকিশাক) বেশ উপকারী একটি দিক আছে। জীববিজ্ঞানীরা জানতেন, ক্ষতিকর পোকামাকড় তাড়ানোর ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো উদ্ভিদের চেয়ে প্রাচীন এ উদ্ভিদের ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি। তবে কেন এ ক্ষমতা বেশি, তা বের জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।
সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে, ফার্নে এমন এক ধরনের প্রোটিন রয়েছে, যা কীটপতঙ্গ মেরে ফেলে বা কাছে ভিড়তে দেয় না। এ ধরনের প্রোটিন প্রাকৃতিক কীটনাশকেও বহুল ব্যবহৃত।
অবহেলায় বেড়ে ওঠা ঢেঁকিশাক হতে পারে কার্যকর প্রাকৃতিক কীটনাশক। ছবি: সংগৃহীতজানালায় ও বাগানে অযত্নে বেড়ে ওঠা ফার্নের (ঢেঁকিশাক) বেশ উপকারী একটি দিক আছে। জীববিজ্ঞানীরা জানতেন, ক্ষতিকর পোকামাকড় তাড়ানোর ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো উদ্ভিদের চেয়ে প্রাচীন এ উদ্ভিদের ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি। তবে কেন এ ক্ষমতা বেশি, তা বের জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।
সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে, ফার্নে এমন এক ধরনের প্রোটিন রয়েছে, যা কীটপতঙ্গ মেরে ফেলে বা কাছে ভিড়তে দেয় না। এ ধরনের প্রোটিন প্রাকৃতিক কীটনাশকেও বহুল ব্যবহৃত।
বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সায়েন্সের এক প্রতিবেদন অনুসারে, নতুন এ প্রোটিন ভবিষ্যতে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নক্সভিলে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির কীটতত্ত্ববিদ জুয়ান লুই জুরাত-ফুয়েন্তেস বলেন, ‘এ প্রোটিনগুলোর মধ্যে নতুন কার্যক্ষমতাবিশিষ্ট কীটনাশক গড়ে তোলার মতো ক্ষমতা রয়েছে।’
স্লোভেনিয়ার লুবলিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব রসায়নবিদ ক্রিস্টিনা সেপচিশ বলেন, কীটপতঙ্গের নির্দিষ্ট কিছু বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী ক্ষমতার বিরুদ্ধে এ প্রোটিন কার্যকর।
১৯৩০-এর দশকের শেষ দিক থেকে প্রাকৃতিকভাবে কীটনাশক তৈরির মূল উপাদান হিসেবে মাটিতে পাওয়া ব্যাকটেরিয়া ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস বা বিটি-এর প্রোটিন ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথমে এটি কীটনাশক স্প্রে হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পরে বিজ্ঞানীরা শস্যেও এ প্রোটিন উৎপাদনের জন্য জিন প্রকৌশলের আশ্রয় নেন। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী ১০ কোটি হেক্টরের বেশি জমিতে এ ট্রান্সজেনিক শস্য বা পরিবর্তিত জিনবিশিষ্ট শস্য চাষ করা হয়।
কৃষি রাসায়নিক প্রতিষ্ঠান কর্টেভা এগ্রিসায়েন্স অনুসারে, ব্যবহারের প্রথম দুই দশকেই জিনগতভাবে পরিবর্তিত ভুট্টা ও তুলা কৃষকদের প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলার মূল্যের শস্য ক্ষতি রক্ষা করেছিল। বিটি প্রোটিনের মাধ্যমে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি বাজারে আসার ফলে অর্গানোফসফেট বা অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার কমে আসে। এতে পরিবেশগত ক্ষতিও কমে আসে।
তবে ইদানীং এটি আর আগের মতো কার্যকর নেই বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। সাতটি দেশের ভুট্টা, আখ, তুলা, সয়াবিন ও অন্যান্য বিটি শস্যের ২৫ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করেছেন অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ব্রুস তাবাশ্নিক। তাঁর পর্যালোচনা অনুসারে, ১১ প্রজাতির কীট পতঙ্গের মধ্যে এ প্রোটিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। গত এপ্রিলে জার্নাল অব ইকোনমিক এনটোমলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে ব্রুস তাবাশ্নিক ও তাঁর সহকর্মীরা বলেন, মোট ৭৩টি ঘটনার মধ্যে ২০০৫ সালে তিনটি ঘটনায় কীটপতঙ্গের এমন প্রতিরোধী ক্ষমতা দেখা গিয়েছিল এবং ২০২০ সালে তা বেড়ে ২৬টিতে পৌঁছায়। এমন ঘটনা বেড়েই চলেছে বলে জানান জুরাত-ফুয়েন্তেস। তাবাশ্নিক এমন ১৭টি ঘটনা পেয়েছেন যেখানে কীটপতঙ্গরা বিটি প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব রসায়নবিদ ম্যারিলিন অ্যান্ডারসন বলেন, ‘এটা বেশ চিন্তার বিষয়। আমরা আবার সেই রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারের যুগে ফিরে যেতে চাই না।’
ম্যারিলিন ওই কমসংখ্যক বিজ্ঞানীর মধ্যে একজন, যিনি ফার্নের প্রোটিনকে কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে ভাবছেন। এখনকার শস্যের তুলনায় প্রাচীন এ উদ্ভিদের ওপর কীটপতঙ্গ সাধারণত কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।
১৯৯০-এর দশকে গবেষকেরা শস্যের ওপর ফার্নের নির্যাস স্প্রে করতেন। সাধারণত ফার্ন ও অন্যান্য অপুষ্পক উদ্ভিদকে কীটনাশক হিসেবে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। রস চোষা সাদা মাছির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ২০১৬ সালে একদল ভারতীয় গবেষক টেকটারিয়া গণের হালবের্ড ফার্নের একটি জিন তুলায় প্রবেশ করান। সিএসআইআর-ন্যাশনাল বোটানিকাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ জৈব প্রযুক্তিবিদ পি. কে. সিং বলেন, ‘এ পোকাটির বিরুদ্ধে অন্য কোনো প্রাকৃতিক কীটনাশক কখনো কাজ করেনি। তাই আমরা কীটনাশক হিসেবে অন্যান্য উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।’
হালবের্ড ফার্নের জিন তুলাকে সাদা মাছি ও অন্যান্য রস চোষা পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে। সিং এখন শুঁয়াপোকার মতো উদ্ভিদ চিবিয়ে খাওয়া পোকামাকড় থেকে রক্ষা পেতে ফার্ন থেকে এর অন্যান্য উপাদান আলাদা করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর দল এ জিনগুলোকে তুলায় প্রবেশ করিয়েছে এবং বেশ ভালো ফল পেয়েছে।
কীটনাশক হিসেবে ফার্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখেছেন মার্কিন কৃষি রাসায়নিক ও বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্টেভা ও ম্যারিলিন অ্যান্ডারসনের জৈব রাসায়নিক প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরাও। অ্যান্ডারসনের দল আট বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১০ হাজার উদ্ভিদের ওপর গবেষণা করে দেখেছেন। পরীক্ষাগারে এগুলোর নির্যাস পোকামাকড়ের বিরুদ্ধে কাজ করে কি না এবং পরিপাক এনজাইমের প্রভাবে সংশ্লেষিত হয় কি না, তা দেখা হয়েছে। পরিপাক এনজাইমের প্রভাবে সংশ্লেষিত হলে বুঝতে হবে, তা মানব অন্ত্রে সংশ্লেষিত হবে এবং তা শস্যে ব্যবহারের উপযোগী।
এদিকে কর্টেভা উত্তর আমেরিকার ও অন্যান্য স্থানের উদ্ভিদের ওপর পরীক্ষা চালায়। দুটি দলই এমন এক প্রোটিনের খোঁজ করছিল, যা বিটির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
২০১৯ সালে কর্টেভার প্রতিবেদনে বলা হয়, মেইডেনহেয়ার ফার্নের জিন থেকে পাওয়া প্রোটিন সয়াবিনকে সয়াবিন লুপার ও ভেলভেটবিন শুঁয়াপোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এ দুটি দলই কীটনাশক হিসেবে ফার্নের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল। এক বিবৃতিতে কর্টেভা বলে, ‘আমরা ফার্ন থেকে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রোটিন পেয়েছি।’ তবে এ প্রোটিন কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত জানেন না তাঁরা।
23/12/2023
শীতে প্রতিদিন গোসল করা কি ভালো না ক্ষতি, যা বলছেন বিশেষজ্ঞ -
শীতের শুরু থেকে সবাই ঠান্ডা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। ঠান্ডা আবহাওয়া যেমন ত্বককে শুষ্ক করে তুলে, একইভাবে শরীরের বিভিন্ন ক্ষতি করে। আর বিশেষ করে গোসল। এ সময় অনেকেই নিয়মিত গোসল করেন না। কেউ কেউ আবার কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করেন।
সাধারণত চাকরিজীবীরা সকালে বা বিকেলে বাসায় ফিরে গোসল করেন। সকাল কিংবা বিকেল যাইহোক, দুটি সময়েই গোসল করা কষ্টকর। কিন্তু যারা প্রতিদিন গোসল করেন না, তারা অবশ্য বলে থাকেন প্রতিদিন গোসলের প্রয়োজন আছে কি? এ নিয়ে অবশ্য নানা বিতর্ক রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন গোসল করলে ত্বকের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
শীতকালে প্রতিদিনের গোসল শরীরে বিভিন্ন ক্ষতি করে থাকে। এ ব্যাপারে বোস্টনের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রানেলা হির্শ বলছেন, নোংরা হওয়ার থেকে সামাজিক নিয়মের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা থেকেই প্রতিদিন গোসল করেন মানুষ। তবে গবেষণা বলছে, গোসল ছাড়াও বিভিন্নভাবে ত্বক পরিষ্কারের কার্যকর উপায় রয়েছে। যদি জিম না করেন বা আপনার কাজ যদি এমন হয় যে আপনি আচ্ছন্ন থাকেন, তাহলে পানি থেকে দূরে থাকতে পারেন।
শীতে কিছুটা উষ্ণতা ও আরামের জন্য দীর্ঘ সময় গরম পানিতে গোসল করলে উপকারের থেকে ক্ষতিই বেশি হয়। এতে ত্বক ফ্ল্যাকি ও শুষ্ক হতে পারে। তবে গোসলের প্রয়োজন হলে দশ মিনিটের মধ্যে শেষ করা ভালো। আর চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে আপনি দুই বা তিনদিনে একবার করে সীমাবদ্ধ করুন, আপনি কতবার গোসল করবেন।
এদিকে ফার্স্টপোস্টের এক প্রতিবেদেন প্রতিদিন গোসল করার প্রয়োজনীয়তায় বলছে, খাদ্য সংস্কৃতির মতো গোসলের রীতি সারা বিশ্বে আলাদা। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের একটি প্রতিবেদনে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, শরীরের গন্ধ নিয়ন্ত্রণের জন্য ও সকালে ঘুমভাব দূর করার জন্য গোসল করা ভালো। অতিরিক্ত গোসলের নেতিবাচক প্রভাবে রয়েছে।
এছাড়া অতিরিক্ত গোসলের কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। আবার ফাটলও দেখা দিতে পারে। এতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। ত্বকের নিজস্ব মাইক্রোবায়োটাও রয়েছে। অতিরিক্ত গোসলের কারণে PH মাত্রায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। আবার অতিরিক্ত গোসল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।
সতর্কতা, ভৌগলিক কারণে বিশ্বের সবদেশে আবহাওয়া এক হয়ে থাকে না। এজন্য শীতে ঠান্ডা বা গরম পানিতে গোসলে যদি কারও সমস্যা হয়, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।
23/12/2023
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সেরা ১০ খাবার :
ম্যাগনেসিয়াম আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক এক খনিজ। পেশী এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা, শক্তি উৎপাদন এবং হাড়ের স্বাস্থ্যসহ অসংখ্য শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে খনিজটি। সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য ডায়েটে ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ৩৬০ থেকে ৪১০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম খাওয়া উচিত। জেনে নিন কোন কোন খাবারে পাবেন ম্যাগনেসিয়াম।
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে কুমড়ার বীজ। ম্যাগনেসিয়ামের পাশাপাশি জিঙ্ক এবং আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ করে এই বীজ।
ম্যাগনেসিয়ামের পাওয়ার হাউস হচ্ছে আমন্ড বা বাদাম। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ফাইবারের মিশ্রণের সাথে প্রতি আউন্সে প্রায় ৭৬ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম সরবরাহ করে এটি। বাদাম হার্ট ভালো রাখে ও শক্তি সরবরাহ করে।
পালং শাকে ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ম্যাংগানিজ এবং ভিটামিন এ, সি, এবং কেসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মেলে। প্রচুর ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও সরবরাহ করে এই শাক।
চিনাবাদাম ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সরবরাহ করে। শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে এবং হার্ট ভালো রাখতে চিনাবাদাম রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। বাদাম ফাইবার এবং মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটের একটি ভালো উৎস এবং ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারে এটি।
ফোরটিফাইড সয়া মিল্ক হলো ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ পানীয়গুলোর মধ্যে একটি। এটি ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু ব্যক্তিদের জন্য বা যারা নিরামিষ বা নিরামিষ খাবার অনুসরণ করে তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার বিকল্প। সয়া দুধ ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টিও সরবরাহ করে।
ডার্ক চকোলেটে ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। আয়রন, কপার এবং ম্যাংগানিজও মেলে এটি থেকে। ডার্ক চকলেটে প্রিবায়োটিক ফাইবার থাকে যা অন্ত্রের জন্য উপকারী।
পটাসিয়ামের পাশাপাশি ম্যাগনেসিয়াম মেলে উপকারী ফল কলা থেকে। এছাড়াও কলা ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, ম্যাংগানিজ এবং ফাইবার সরবরাহ করে।
ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ দুগ্ধজাত পণ্য হচ্ছে দই। এতে প্রোবায়োটিক রয়েছে যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ম্যাগনেসিয়াম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ আরেকটি খাবার হচ্ছে ওটমিল। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং পরিপাক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে ওটস।
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সবজি ব্রকলি ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। খাবারে ব্রকলি অন্তর্ভুক্ত করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
13/12/2023
প্রতিদিন লেবু খান? জেনে নিন শরীরে কী ঘটে?
সুস্বাদু, রসালো এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবুকে একটি সুপারফুড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সুবিধা দিয়ে ধাতে। এই সাইট্রাস ফল বিশ্বের প্রতিটি রান্নাঘরের একটি প্রধান জিনিস। এই ফল উপভোগ করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। যদিও এর টক স্বাদের কারণে খালি খাওয়া যায় না। তবে কোনোকিছুর সঙ্গে যোগ করে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে প্রায় সবারই।
এক চিমটি লবণের সঙ্গে লেবু খেলে তা আপনার বমি বমি ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে। এই সাইট্রাস ফল একটি দুর্দান্ত স্বাদ বর্ধক। লেবু খেলে তা মুখের রুচি ফিরিয়ে দিতে কাজ করে। আপনি কি নিয়মিত লেবু খান? তাহলে লেবু খেলে শরীরে কী ঘটে তা জেনে নেওয়া জরুরি।
এই ছোট্ট ও সবুজ সাইট্রাস ফলটি সহজে পাওয়া যায়, উপকারে ভরপুর এবং এতে ক্যালোরি কম। লেবুতে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং জিঙ্ক। চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রতিদিন লেবু খাওয়ার উপকারিতা-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে -
টক স্বাদের ফল লেবু আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কাজ করে। লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে কাজ করে। সেইসঙ্গে সর্দি ও ফ্লুর লক্ষণ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধেও লড়াই করে। এক গ্লাস হালকা গরম পানির সঙ্গে সামান্য লেবুর রস ও এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। এই পানীয় সর্দি ও কাশি দূর করতে সাহায্য করবে।
কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় -
প্রতিদিন লেবু খাওয়ার অভ্যাস আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। জার্নাল অফ চিরোপ্রাকটিক মেডিসিন দ্বারা পরিচালিত একটি গবেষণা অনুসারে, ভিটামিন সি এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে কাজ করে। এছাড়া লেবুতে ফ্ল্যাভোনয়েডও রয়েছে, যা ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএল-এর মাত্রা কমাতে প্রমাণিত।
হজমের উন্নতি করে -
এই সাইট্রাস ফলের মধ্যে দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে যা নিয়মিত অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং হজমে সহায়তা করে। লেবুতে থাকা প্রধান ফাইবার পেকটিন, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে সহায়তা করে এবং চিনি ও স্টার্চের হজমের হারকে ত্বরান্বিত করে।
ওজন কমাতে সাহায্য করে -
এক গ্লাস পানিতে মধুর ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে তা শরীরের জন্য বিস্ময়কর ভাবে কাজ করে। লেবুতে থাকা ফাইবার খাওয়ার পরে প্রসারিত হয়, যা আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য তৃপ্ত রাখে। এটি আপনাকে অপ্রয়োজনীয় খাবার থেকে বিরত রাখবে, ফলে ওজন বৃদ্ধির ভয় থাকবে না।
কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ করে -
আপনি যদি কিডনিতে পাথরের সমস্যায় ভোগেন বা এ ধরনের কোনো ঝুঁকিতে থাকেন, তাহলে লেবু আপনাকে সেই সমস্যা থেকে বাঁচতে সাহায্য করতে পারে। এই সাইট্রাস ফলে প্রচুর সাইট্রিক অ্যাসিড উপস্থিত রয়েছে যা কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে। লেমনেড বা লেবুর রস মূত্রনালী সাইট্রেট গঠন করে যা পাথরের স্ফটিক বিকাশ রোধ করতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন কতটা লেবু খাওয়া নিরাপদ?
প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি লেবু (প্রায় চার থেকে ছয় টেবিল চামচ) খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্য সব খাবারের মতো এই সাইট্রাস ফলও পরিমিতভাবে খাওয়া উচিত। প্যান আফ্রিকান মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, অতিরিক্ত লেবু খেলে এর উচ্চ মাত্রার সাইট্রিক অ্যাসিডের কারণে এনামেল ক্ষয় হতে পারে। এছাড়া লেবুতে টাইরামিনও থাকে, যা মাইগ্রেনের রোগীর ক্ষেত্রে মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
24/11/2023
🟩 শীতে খুশকি থেকে বাঁচার উপায়ঃ
শীত এলেই বাড়ে ত্বকের নানা সমস্যা। সেসঙ্গে খুশকির দৌরাত্ম্যও বাড়তে থাকে। প্রথম থেকে গুরুত্ব না দিলে এই সমস্যা আর পিছু ছাড়ে না।
শীতে খুশকি থেকে দূরে থাকতে কিছু ঘরোয়া উপায় কাজে লাগাতে পারেন। চলুন বিস্তারিত জানা যাক-
🔹অলিভ অয়েল ও বেকিং সোডা-
অলিভ অয়েল আর বেকিং সোডা একসঙ্গে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি ভালো করে মাথার ত্বকে লাগিয়ে নিন। আঙুলের সাহায্যে আলতো করে মালিশ করুন। ২০ রেখে শ্যাম্পু করে নিন। খুশকি দূর হবে।
🔹পাতিলেবু ও বেকিং সোডা-
খুশকির অব্যর্থ দাওয়াই পাতিলেবু। এতে রয়েছে সাইট্রিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি ও ফ্ল্যাভনয়েড যা খুশকি দূর করতে বেশ উপকারী। বেকিং সোডার সঙ্গে দু’টো পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এটি মাথার ত্বকে ভালো করে মালিশ করুন। ঘণ্টাখানেক পর শ্যাম্পু করে নিন।
🔹অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ও বেকিং সোডা-
কিছুতেই খুশকি দূর হচ্ছে না? এ কাজে ভরসা রাখতে পারেন ভিনেগার। এই দুটো উপাদান ত্বকের পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অ্যাপেল সিডার ভিনেগারের সঙ্গে বেকিং সোডা মেশান। এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে খুশকির সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে।
24/11/2023
শীতকালে পা ফাটে প্রায় সবারই,তাই বাড়িতে নিজেই বানিয়ে ফেলুন ফুট ক্রিম -
শীতকাল এলে দেখা দেয় নানা স্বাস্থ্য জটিলতা। এসময় যে কেবল ঠান্ডা-কাশি হয় তা নয়। বেশিরভাগ মানুষের দেখা দেয় ঠোঁট ফাটা, গোড়ালি ফাটা সমস্যা। পায়ের গোড়ালি ফাটা সমস্যা রোধ করতে অনেকেই ভরসা রাখেন দামি ক্রিমে।
ফাটা গোড়ালির কারণে জুতা পরতে সমস্যা হয়। সমস্যা বাড়লে ব্যথা শুরু হয় গোড়ালিতেও। রান্নাঘরে থাকা কিছু ঘরোয়া উপাদান দিয়েই তৈরি করতে পারেন অসাধারণ ফুট ক্রিম। নিয়মিত এই ক্রিম ব্যবহারে দূর হবে গোড়ালির ফাটা সমস্যা। কীভাবে তৈরি করবেন, জানুন উপায়-
যা যা প্রয়োজন-
মোম
অ্যালোভেরা জেল- ২ চামচ
নারকেল তেল- ১ চামচ
সরিষার তেল- ১ চামচ
যেভাবে তৈরি করবেনঃ
প্রথমে, পিলার বা ছুরির সাহায্যে মোমবাতিটি কেটে নিন। এবার এক চামচ মোমবাতির টুকরো নিন। একটি ছোট প্যান নিন। এতে মোমবাতির টুকরোগুলো দিয়ে দিন। সঙ্গে মেশান এক চামচ সরিষার তেল এবং এক চামচ নারকেল তেল।
একটি অ্যালোভেরার পাতা কেটে জেল বের করে এই মিশ্রণে দিয়ে দিন। পাতা না থাকলে বাজার থেকে কেনা অ্যালোভেরা জেলও ব্যবহার করতে পারেন। এবার প্যানটি হালকা আঁচে গরম করুন। কিছুক্ষণ পরে, মোম-সহ সব উপকরণ গলতে শুরু করবে। দুই এক মিনিট গরম করেই আঁচ বন্ধ করে দিন।
চাইলে অ্যালোভেরা জেলের পরিবর্তে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করতে পারেন। এই মিশ্রণ ঠান্ডা হয়ে গেলে একটি এয়ার টাইট পাত্রে রাখুন। এবার পাত্রটি ঠান্ডা জলের পাত্রে রাখুন। চামচ দিয়ে মিশ্রণটি ভালো করে মিশিয়ে নিন। কিছুক্ষণ পরে, মিশ্রণটি জেলের মতো ভ্যাসলিন হয়ে যাবে।
যেভাবে ব্যবহার করবেন
সকালে গোসলের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে এই জেল পায়ে লাগান। দিনে দুইবার ব্যবহারে পায়ের ফাটা দাগ দূর হবে। নামমাত্র খরচে বানানো এই ফুট ক্রিম কিন্তু পায়ের জন্য বেশ উপকারি।
শীতে পায়ের যত্ন নিন। অযথা পা ফ্যাটা নিয়ে কষ্ট না পেয়ে ব্যবহার করুন ঘরোয়া ফুট ক্রিম।
19/11/2023
যারা খাবেন না ফুলকপি!
বাতাসে হিমেল বাতাস বইতে শুরু করেছে। চারদিকে শীতের আমেজ। ইতোমধ্যেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে শীতের সবচেয়ে প্রিয় সবজি ফুলকপি।
তরকারি কিংবা ভাজি অনেক ভাবেই এটি খাওয়া যায়। তবে পরিমাণে বেশি ফুলকপি খেলে গ্যাস ও হজমের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
ফুলকপিতে রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। এছাড়াও ভিটামিন এ, বি, সি ও পটাশিয়াম পাওয়া যায় এতে। একজন সুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য এসব পুষ্টিগুণ বেশ উপকারী।
তবে সুস্বাদু হলেও কিছু রোগীর ফুলকপি খাওয়া একদমই উচিত নয়। গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে ফুলকপি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। ভাপ দিয়ে খেলেও অনেক সময় গ্যস্ট্রিকের সমস্যা হয়ে যায়। তাই ঝুঁকি না নেওয়াই ভাল। এছাড়াও বেশ কিছু শারীরিক সমস্যায় ফুলকপি খাওয়া ঠিক নয় বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
ফুলকপির ক্ষতিকর দিক:
শীতকালীন সবজি হিসেবে প্রায় সব মানুষই ফুলকপি পছন্দ করে। ফুলকপিতে রাফিনোজ নামক একটি পদার্থ রয়েছে যা এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট। প্রাকৃতিকভাবেই এই কার্বোহাইড্রেট কিছু সবজিতে উপস্থিত থাকে। সমস্যা হলো এই কার্বোহাইড্রেট আমাদের শরীর ভাঙতে পারে না।
আপনি যখনই এই কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ সবজি গ্রহণ করবেন এরপর সেটি ছোট অন্ত্র থেকে বড় অন্ত্রে চলে যায়। যখন তারা বৃহৎ অন্ত্রে প্রবেশ করে, তখন সেখানে থাকা ব্যাকটেরিয়া এটিকে গাজনপ্রক্রিয়া শুরু করে। এর পরেই পেটে গ্যাস তৈরি হতে পারে। ফলে পেট ফুলে যায়।
কাদের ফুলকপি খেলে সমস্যা হতে পারে?
১. থাইরয়েডের সমস্যা যাদের আছে তাদের জন্য ফুলকপি ক্ষতিকর একটি সবজি। কারণ এতে টি-৩ এবং টি-৪ হরমোন বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।
২. ফুলকপিতে পটাসিয়াম বেশি থাকে। বেশি পরিমাণে খেলে রক্ত ধীরে ধীরে ঘন হতে থাকে। তাই যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করছেন তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ফুলকপি খাওয়া উচিত।
৩. যে মায়েরা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান, তারা ফুলকপি এড়িয়ে চললে ভালো হয়।
৪. যাদের পিত্ত থলি বা কিডনিতে পাথর থাকে তাদের জন্য ফুলকপি ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এই সবজিটি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। এটি খেলে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা বাড়তে পারে।
এছাড়া কখনো কাঁচা ফুলকপি খাবেন না। কারণ কাঁচা ফুলকপিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। হজমের সমস্যায় ভুগলে সব সময় রান্না করা ফুলকপি খাওয়ার চেষ্টা করুন। আবার ফুলকপি সিদ্ধ করলে এতে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রায় নষ্ট হয়ে যায়। তাই চিকিৎসকরা এই সবজিটি সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
18/11/2023
এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলেই মিলবে বহু সমাধান, আসুন জেনে নেওয়া যাক-
সুস্থতার জন্য স্বাস্থ্যকর ডায়েট গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য যে সব সময় দামি খাবার খেতে হবে, তাও নয়। হাতের কাছে যে উপাদান পাওয়া যায়, তাই দিয়েই সম্ভব সুস্থতার কাছাকাছি পৌঁছনো। সেরকমই একটি খাবার খেজুর-দুধ।
পুষ্টিবিদ অঞ্জলি সুদ বলেছেন, সারাবছর বিশেষ করে শীতে এই কম্বিনেশন খাওয়ার অর্থ সুস্থতা মুঠোবন্দি।
এনার্জির যোগান
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ আছে। দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরা থাকে। ঘন ঘন খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে।
ত্বকের যত্ন
নানা কারণে ত্বকে সহজেই বয়সের ছাপ পড়ে যায়। নির্ধারিত বয়সের তুলনায় বেশি বয়স লাগে। একগ্লাস গরম দুধের সঙ্গে খান ৪ খেজুর। এর ফলে মুখে রক্তপ্রবাহ সঠিক থাকে। বজায় থাকে ত্বকের উজ্বলতা।
পরিপাক ক্রিয়া
পেটের সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে হজমপ্রক্রিয়া মসৃণ করে দুধ ও খেজুরের গুণ।
প্রত্যেক খাবারের নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যগুণ আছে। সেইসঙ্গে আছে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও। তাই ডায়েটে দুধ খেজুর নিয়মিত করার আগেও ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Chittagong
4000
