Pro Nesh
World Info
হনুমানজির পিতা-মাতা সম্পর্কে বিস্তারিত:
# # মাতা অঞ্জনা (অঞ্জনী)
* পরিচয়: হনুমানজির মা হলেন [অঞ্জনা] যাকে অনেকে বা অঞ্জলি নামেও ডাকেন।
* অভিশপ্ত অপ্সরা: পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, তিনি পূর্বজন্মে পুঞ্জিকাস্থলা নামক এক স্বর্গের অপ্সরা ছিলেন। এক ঋষির (মতান্তরে পার্বতী দেবীর) অভিশাপে তিনি বানর হিসেবে মর্ত্যে জন্মগ্রহণ করেন। অভিশাপ ছিল যে, তিনি যখন এক রুদ্র অবতারের জন্ম দেবেন, তখন তিনি এই শাপ থেকে মুক্তি পাবেন।
* অঞ্জনপুত্র: তাঁর নামানুসারেই হনুমানজিকে 'অঞ্জনীয়' বা 'অঞ্জনা-পুত্র' বলা হয়।
# # পিতা কেশরী (বনরাজ কেশরী)
* পরিচয়: হনুমানজির পার্থিব পিতা হলেন [কেশরী] যিনি বানরদের শক্তিশালী রাজা ছিলেন।
* বংশ পরিচয়: কোনো কোনো বর্ণনায় তাঁকে দেবগুরু বৃহস্পতির পুত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সুমেরু পর্বতের অধিপতি ছিলেন।
* বীরত্ব: তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ধার্মিক যোদ্ধা ছিলেন, যিনি রাম-রাবণের যুদ্ধে শ্রীরামের সেনাদলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন।
* কেশরী নন্দন: পিতার নামানুসারে হনুমানজির এক নাম 'কেশরী নন্দন।
# # আধ্যাত্মিক পিতা পবন দেব (বায়ু দেব)
* জন্মের কাহিনী: [অঞ্জনা] মহাদেবের কঠোর তপস্যা করেছিলেন যাতে তাঁদের ঘরে পুত্রসন্তান আসে।
* পবিত্র পায়েস: রাজা দশরথ যখন পুত্রকামেষ্ঠী যজ্ঞ করেন, তখন যজ্ঞের অগ্নি থেকে প্রাপ্ত পবিত্র পায়েস বা প্রসাদের একটি অংশ বায়ু দেবের মাধ্যমে অঞ্জনার কাছে পৌঁছায়। সেই প্রসাদ গ্রহণের ফলে শিবের তেজে হনুমানজির জন্ম হয়।
* পবনপুত্র: যেহেতু বায়ু দেব মহাদেবের তেজ অঞ্জনার গর্ভে পৌঁছে দিয়েছিলেন, তাই তাঁকে হনুমানজির আধ্যাত্মিক পিতা বা পালক পিতা বলা হয় এবং হনুমানজিকে বলা হয় 'পবনপুত্র' বা 'মারুতি'।
হনুমানজিকে মূলত ভগবান শিবের ১১তম রুদ্র অবতার হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি মর্ত্যে শ্রীরামের সেবার জন্য অঞ্জনার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
08/05/2026
রামনামের মহিমা: যেখানে ভক্তিই শক্তি
একদিন মহাবীর হনুমান আকাশপথে পবনগতিতে উড়ে যাচ্ছিলেন তাঁর আরাধ্য প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের দর্শনের উদ্দেশ্যে। হঠাৎ নিচের এক ঘন অরণ্য থেকে তাঁর কানে ভেসে এল এক অতি মধুর ধ্বনি— “রাম... রাম... রাম...”।
রামনামের এমন সুধা শুনে হনুমানজি আর স্থির থাকতে পারলেন না। তিনি তো রামনামের পরম ভক্ত; যেখানেই এই পবিত্র নাম উচ্চারিত হয়, সেখানেই তাঁর হৃদয় ধাবিত হয়। কৌতূহলী হয়ে তিনি ধীরে ধীরে সেই নিবিড় অরণ্যে অবতরণ করলেন। [1]
ভূমিতে পা রাখতেই এক অভাবনীয় দৃশ্যে তিনি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেলেন। তিনি দেখলেন, জঙ্গলের প্রতিটি প্রাণী—বিশালকায় হাতি থেকে শুরু করে চঞ্চল হরিণ, বানর, এমনকি ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ ও পাখিরাও সমস্বরে জপ করছে, “রাম... রাম...”। চারদিকে যেন এক ভক্তির সমুদ্র উথলে উঠছে। বাতাসের ঝাপটায় গাছের পাতারাও যেন শ্রীরামের জয়গান গাইছে। অরণ্যের প্রতিটি কণা আজ রামময়!
বিস্মিত হনুমানজি বিনীতভাবে সকলকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে বনবাসীগণ! তোমরা সবাই এভাবে রামনাম জপ করছ কেন? এর রহস্য কী?”
তখন ভিড় থেকে এক বৃদ্ধ বানর সামনে এগিয়ে এল। সে করজোড়ে প্রণাম জানিয়ে বলতে শুরু করল— “প্রভু, এর পেছনে এক অলৌকিক ইতিহাস রয়েছে।”
সে বলতে লাগল, “বহু বছর আগে এই নির্জন অরণ্যে স্বয়ং মহাদেব ভগবান শিব তাঁর ইষ্টদেব শ্রীরামের আরাধনা করেছিলেন। পূজা শেষে ভোলানাথ যখন কৈলাসে ফিরে যান, তখন সেখানে একটি ক্ষুধার্ত হরিণ আসে। অজান্তেই সে পূজায় অর্পিত সেই পবিত্র ফুল ও প্রসাদ খেয়ে ফেলে। আর তখনই ঘটে আশ্চর্য এক ঘটনা! সেই হরিণটির মুখ দিয়ে আপনাআপনি বের হতে থাকে— ‘রাম... রাম... রাম...’। দিনরাত সে কেবল এই নামেই মত্ত হয়ে রইল।”
“একদিন এক নিষ্ঠুর শিকারি সেই হরিণটিকে লক্ষ্য করে তির ধনুক তুলল। কিন্তু মোক্ষম সময়ে সে শুনতে পেল হরিণের কণ্ঠের সেই ঐশ্বরিক রামনাম। শিকারি স্তব্ধ হয়ে গেল! তার পাষাণ হৃদয়ে কম্পন শুরু হলো। সে ভাবল— ‘যে অবলা প্রাণীর মুখে স্বয়ং ভগবানের নাম, তাকে আমি কীভাবে হত্যা করি?’ মুহূর্তেই তার মনের অন্ধকার দূর হয়ে গেল। সে অস্ত্র ত্যাগ করে হরিণটিকে মুক্ত করে দিল এবং নিজেও রামনামে দীক্ষিত হলো।”
বৃদ্ধ বানরটি আরও বলল, “সেদিন থেকেই আমরা বুঝেছি যে রামনামের শক্তি অসীম। এই নাম শুধু প্রাণই বাঁচায় না, ঘোর পাপিষ্ঠের হৃদয়ও গলিয়ে দেয়। সেই থেকে এই বনের প্রতিটি প্রাণী ভক্তিভরে এই নাম জপ করে আসছে।”
সব শুনে হনুমানজির দুচোখ বেয়ে ভক্তির অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তিনি গদ্গদ কণ্ঠে বললেন—
“সত্যিই, রামনামের মহিমা অনন্ত। যেখানে রামনাম, সেখানেই মুক্তি, সেখানেই পরম শান্তি।”
জয় শ্রী রাম! 🙏
-----------------------------
**মহাভারতের কাহিনী অনুসারে অর্জুনের রথের ধ্বজায় (পতাকায়) হনুমানজির স্থান হওয়ার পেছনের ঘটনা এটি:**
ত্রেতাযুগের রামায়ণের ঘটনার পর দ্বাপরযুগে, একবার অর্জুন রামেশ্বরমে (রামেশ্বরম) গিয়ে সেতুবন্ধের স্থান দেখেন। সেখানে তিনি হনুমানজির সঙ্গে দেখা করেন। অর্জুন নিজের তীরন্দাজির গর্বে বলেন যে, তিনি যদি সেতু বানাতেন তাহলে বানর সেনার পাথরের পরিবর্তে শুধু তীর দিয়েই আরও শক্তিশালী সেতু বানাতে পারতেন।
হনুমানজি তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেন। অর্জুন তীর দিয়ে একটি সেতু বানান, কিন্তু হনুমানজি সেই সেতুর ওপর পা দিতেই তা ভেঙে পড়ে। অর্জুন লজ্জায় ও অপমানে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন (চিতায় উঠতে প্রস্তুত হন)।
ঠিক সেই মুহূর্তে **শ্রীকৃষ্ণ** (ভগবান বিষ্ণুর অবতার) সেখানে উপস্থিত হন। তিনি অর্জুনকে অহংকারের জন্য বোঝান এবং হনুমানজিকেও বলেন যে অর্জুনকে এভাবে অপমান করা উচিত হয়নি।
হনুমানজি লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চান এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে, **কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি অর্জুনের রথের ধ্বজায় (পতাকায়) বসে থেকে পুরো যুদ্ধে রক্ষা করবেন**। তাঁর উপস্থিতিতে অর্জুনের রথ অজেয় হয়ে উঠবে এবং শত্রুদের মনে ভয় সৃষ্টি হবে। শ্রীকৃষ্ণ এতে সম্মতি দেন।
এ কারণে অর্জুনকে **কপিধ্বজ** (কপি = বানর/হনুমান, ধ্বজ = পতাকা) বলা হয়। হনুমানজির এই উপস্থিতি পাণ্ডবদের জয়ের প্রতীকও ছিল।
# # # অতিরিক্ত তথ্য:
- যুদ্ধের পর অর্জুনের রথটি আগুনে পুড়ে যায়, কারণ যুদ্ধ চলাকালীন কৃষ্ণ ও হনুমানজির দৈবী উপস্থিতির কারণে এটি টিকে ছিল। তাঁরা চলে যাওয়ায় রথ ধ্বংস হয়।
- হনুমানজি ভীমের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন এবং পাণ্ডবদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এটি মহাভারতের একটি জনপ্রিয় কাহিনী, যা অহংকারের বিরুদ্ধে বিনয় ও ভক্তির গুরুত্ব শেখায়।
05/05/2026
**হিন্দু পুরাণে অষ্ট চিরঞ্জীবী (আট চিরঞ্জীবী)** হলেন এমন আটজন মহাপুরুষ, যাঁরা বিশেষ বর বা অভিশাপের কারণে কলিযুগের শেষ পর্যন্ত (অথবা এক কল্পকাল পর্যন্ত) জীবিত থাকবেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তাঁরা পুরোপুরি অমর নন, তবে অত্যন্ত দীর্ঘায়ু এবং যুগের শেষে কল্কি অবতারের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন বলে কথিত।
সাধারণত উল্লিখিত **আট চিরঞ্জীবী** হলেন:
1. **অশ্বত্থামা**
2. **মহাবলী (বলি)**
3. **বেদব্যাস (ব্যাসদেব)**
4. **হনুমান**
5. **বিভীষণ**
6. **কৃপাচার্য (কৃপ)**
7. **পরশুরাম**
8. **মার্কণ্ডেয়**
নিচে প্রত্যেকের সংক্ষিপ্ত কাহিনি ও চিরঞ্জীবী হওয়ার কারণ বিস্তারিত দেওয়া হলো।
# # # ১. অশ্বত্থামা
মহাভারতের দ্রোণাচার্যের পুত্র। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের শেষে রাতে পাণ্ডব শিবিরে ঢুকে নিদ্রিত পাণ্ডবপুত্রদের হত্যা করেন এবং উত্তরার গর্ভস্থ সন্তান (পরীক্ষিৎ) ধ্বংস করার চেষ্টা করেন। ভগবান কৃষ্ণ তাঁকে অভিশাপ দেন যে, তিনি কলিযুগের শেষ পর্যন্ত পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াবেন, ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে (মাথায় ঘা, রক্তপাত ইত্যাদি) এবং কারও সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এই অভিশাপের কারণেই তিনি চিরঞ্জীবী।
# # # ২. মহাবলী (বলি)
অসুর রাজা, প্রহ্লাদের নাতি। তিনি অত্যন্ত দানবীর ও ধার্মিক ছিলেন। তাঁর যজ্ঞে দেবতারা ভয় পেয়ে বিষ্ণুকে বামন অবতার রূপে পাঠান। বলি তিন পদভূমি দান করেন। বামন বিষ্ণু তাঁকে স্বর্গ ও মর্ত্য দিয়ে পাতালে পাঠিয়ে দেন। বিষ্ণু তাঁকে বর দেন যে, তিনি চিরকাল জীবিত থাকবেন এবং প্রতি বছর ওনাম উৎসবে তাঁর প্রজাদের দেখতে আসতে পারবেন।
# # # ৩. বেদব্যাস (কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস)
মহাভারতের রচয়িতা এবং বেদের বিভাগকারী। তিনি মহর্ষি পরাশর ও সত্যবতীর পুত্র। পুরাণ অনুসারে তিনি বিভিন্ন যুগে বেদ, পুরাণ, মহাভারত ইত্যাদি রচনা করেন এবং জ্ঞানের প্রচার করেন। তিনি কল্পের শেষ পর্যন্ত জীবিত থেকে জ্ঞান রক্ষা করবেন। তিনি হিমালয়ের গুহায় ধ্যানরত অবস্থায় আছেন বলে বিশ্বাস।
# # # ৪. হনুমানজি
রামায়ণের অমর নায়ক, পবনপুত্র। রামচন্দ্রের পরম ভক্ত। যুদ্ধে তাঁর অসীম শক্তি প্রকাশ পায়। রাম তাঁকে বর দেন যে, যতদিন রামকথা পৃথিবীতে থাকবে ততদিন তিনি জীবিত থাকবেন। তিনি চিরযৌবন লাভ করেন এবং এখনও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে (বিশেষ করে হিমালয়, গন্ধমাদন পর্বতে) রামনাম জপ করেন বলে কথিত।
# # # ৫. বিভীষণ
রাবণের ছোট ভাই, রাক্ষস কুলের। তিনি ধার্মিক ছিলেন এবং রামের পক্ষে যোগ দেন। রাম তাঁকে লঙ্কার রাজা করে দেন এবং বর দেন যে, তিনি কলিযুগ পর্যন্ত জীবিত থাকবেন এবং ধর্ম রক্ষা করবেন। তিনি লঙ্কায় বা হিমালয়ে অবস্থান করেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
# # # ৬. কৃপাচার্য (কৃপ)
মহাভারতের শান্তনু রাজার মন্ত্রী গৌতমের পুত্র (দ্রোণাচার্যের শ্যালক)। তিনি কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে কৌরবপক্ষে যুদ্ধ করেন কিন্তু ধার্মিক ছিলেন। যুদ্ধের পর তিনি পাণ্ডবদের গুরু হন। তিনি ব্রহ্মার বরে চিরঞ্জীবী হন এবং কলিযুগে ধর্ম প্রচার করবেন।
# # # ৭. পরশুরাম
বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার। জমদগ্নি ঋষির পুত্র। ক্ষত্রিয়দের অত্যাচার দেখে তিনি ২১ বার পৃথিবী নিঃক্ষত্রিয় করেন। তিনি অমর এবং অক্ষয় অস্ত্রধারী। পুরাণ বলে, তিনি মহেন্দ্র পর্বতে বাস করেন এবং কল্কি অবতারের গুরু হবেন।
# # # ৮. মার্কণ্ডেয়
প্রাচীন ঋষি, ভৃগু বংশীয়। তাঁর বাবা মৃকণ্ডু ঋষি শিবের কাছে পুত্র কামনা করলে শিব বলেন— হয় স্বল্পায়ু কিন্তু প্রতিভাবান, নয় দীর্ঘায়ু কিন্তু মূর্খ। তিনি প্রথমটি বেছে নেন। মার্কণ্ডেয় ১৬ বছর বয়সে যমের কাছে যাওয়ার সময় শিবলিঙ্গ আঁকড়ে ধরেন। যমের ফাঁস লিঙ্গে লাগলে শিব ক্রুদ্ধ হয়ে যমকে দণ্ড দেন এবং মার্কণ্ডেয়কে চিরজীবনের বর দেন। তিনি শিব ও বিষ্ণুর মহান ভক্ত।
এঁরা সবাই বিভিন্ন পুরাণ, মহাভারত ও রামায়ণে উল্লেখিত। অনেকে বিশ্বাস করেন, এঁরা এখনও পৃথিবীর বিভিন্ন গুপ্ত স্থানে (হিমালয়, গন্ধমাদন, পাতাল ইত্যাদি) বাস করেন এবং ধর্মরক্ষায় সাহায্য করেন। কল্কি অবতার আসার সময় এঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
এই কাহিনিগুলো পুরাণভিত্তিক এবং বিভিন্ন গ্রন্থে সামান্য ভিন্নতা থাকতে পারে। এগুলো ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ।
আজকের দিনটি (৫ মে ২০২৬, মঙ্গলবার) বজরংবলী (হনুমানজি)-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি **প্রথম বড়া মঙ্গল** (বা বুড়োয়া মঙ্গল)।**
# # # বড়া মঙ্গল কী?
বড়া মঙ্গল হলো জ্যেষ্ঠ (জেঠ) মাসের মঙ্গলবারগুলোতে পালিত একটি বিশেষ উৎসব, যা বিশেষ করে উত্তর ভারত (যেমন লক্ষ্ণৌ, কানপুর, বারাণসী) এবং হনুমান ভক্তদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। এই দিনগুলোতে **বজরংবলীর** বিশেষ পূজা, সুন্দরকাণ্ড পাঠ, হনুমান চালিসা জপ, চোলা-ভোগ অর্পণ এবং ভণ্ডারা (সম্প্রদায়িক ভোজ) করা হয়। ভক্তরা শক্তি, সাহস, সুরক্ষা এবং সংকটমোচনের জন্য প্রার্থনা করেন।
# # # ২০২৬ সাল কেন বিশেষ?
- এই বছর **অধিক মাস** (অতিরিক্ত জ্যেষ্ঠ মাস)-এর কারণে জ্যেষ্ঠ মাস লম্বা হয়েছে (প্রায় ৫৯ দিন)।
- ফলে সাধারণত ৪-৫টির বদলে **৮টি বড়া মঙ্গল** পড়ছে (৫ মে থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত প্রতি মঙ্গলবার)।
- এটি ১৬-১৯ বছর পর একবার হয়, তাই অত্যন্ত দুর্লভ ও শক্তিশালী বলে মানা হয়।
**প্রথম বড়া মঙ্গল আজ (৫ মে)** থেকে শুরু হচ্ছে, যা বছরের শুরুতে হনুমানজির আশীর্বাদ নিয়ে নতুন শক্তি ও সুরক্ষা আনার প্রতীক।
# # # কী করবেন আজ?
- হনুমান মন্দিরে যান, লাড্ডু/চোলা ভোগ দিন।
- হনুমান চালিসা পড়ুন বা শোনান।
- উপবাস/ব্রত রাখুন (সম্ভব হলে)।
- দান-ধ্যান করুন।
জয় বজরংবলী! 🙏🟠 আজকের এই শুভ দিনে হনুমানজি আপনাকে শক্তি, সাহস ও সুরক্ষা দিন।
03/05/2026
**মহাদেব (শিব) অর্ধনারীশ্বর রূপ ধারণ করেছিলেন মূলত সৃষ্টির রহস্য বোঝানোর জন্য এবং পুরুষ-প্রকৃতি (শিব-শক্তি)-এর অবিচ্ছেদ্য ঐক্য প্রকাশ করতে।** এটি শিব পুরাণসহ বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত। এই রূপে শিবের ডান অংশ পুরুষ (শিব) এবং বাম অংশ নারী (পার্বতী/শক্তি)।
# # # প্রধান পৌরাণিক কাহিনি (শিব পুরাণ অনুসারে)
সৃষ্টির শুরুতে ব্রহ্মা জীব সৃষ্টি করেন, কিন্তু সেগুলো শুধু পুরুষ (মানসপুত্র)। ফলে সৃষ্টি বৃদ্ধি পায় না, জীব সংখ্যা বাড়ে না এবং সবকিছু কালক্রমে লয় পায়। ব্রহ্মা চিন্তিত হয়ে পড়েন কীভাবে স্থায়ী সৃষ্টি সম্ভব। তিনি শিবের তপস্যা করেন।
তপস্যায় প্রসন্ন হয়ে **মহাদেব ব্রহ্মার সামনে অর্ধনারীশ্বর রূপে আবির্ভূত হন**। এই রূপ দেখিয়ে তিনি ব্রহ্মাকে বোঝান:
- সৃষ্টির জন্য পুরুষ ও নারী (শক্তি) উভয়েরই সমান প্রয়োজন।
- পুরুষ ও নারী অভেদ, একে অপরের পরিপূরক।
- মৈথুন (প্রজনন) এর মাধ্যমেই সৃষ্টি চক্র চলবে।
এরপর শিব থেকে শক্তি পৃথক হয়ে যান এবং পরবর্তীতে দক্ষের কন্যা রূপে (সতী/পার্বতী) জন্ম নেন। এভাবে মৈথুনী সৃষ্টির সূচনা হয়।
# # # অন্যান্য তাৎপর্য ও কাহিনি
- **শিব-শক্তির অবিচ্ছেদ্যতা**: শিব বলেন যে তাঁর অর্ধেক শরীরই শক্তি (পার্বতী)। এটি পুরুষ (পুরুষতত্ত্ব) ও প্রকৃতি (নারীতত্ত্ব)-এর ঐক্যের প্রতীক। এক ছাড়া অন্য অসম্পূর্ণ।
- **পার্বতীর অনুরোধ**: কোনো কোনো কাহিনিতে পার্বতী শিবের সঙ্গে লীন হয়ে থাকতে চান, ফলে এই রূপ।
- **ব্রিঙ্গি ঋষির গল্প**: ঋষি শুধু শিবের পূজা করতেন, পার্বতীকে অগ্রাহ্য করতেন। শিব তখন এই রূপ ধারণ করেন যাতে ঋষি উভয়কেই পূজা করতে বাধ্য হন।
- **দার্শনিক অর্থ**: এটি শিবের সর্বব্যাপী প্রকৃতির প্রতীক। সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের মূলে পুরুষ-প্রকৃতির সমন্বয়।
# # # সারাংশ
অর্ধনারীশ্বর রূপ শুধু একটি মূর্তি নয়, বরং **সৃষ্টির মূল দর্শন** — পুরুষ ও নারী এক, অবিচ্ছেদ্য এবং পরস্পর নির্ভরশীল। এই রূপের পূজা শিব ও পার্বতী উভয়কে সন্তুষ্ট করে এবং জীবনের সাম্য ও সম্পূর্ণতার শিক্ষা দেয়।
এটি হিন্দু দর্শনে পুরুষ-প্রকৃতি (শিব-শক্তি) তত্ত্বের অন্যতম সুন্দর প্রতীক। বিভিন্ন মন্দিরে এই মূর্তি দেখা যায় এবং এর গভীর দার্শনিক তাৎপর্য রয়েছে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Chittagong
4000, 4100, 42XX
