Natural Life Style
Natural Lifestyle Management. This is an awareness page for health concern people.
without taking any medicine, just following the natural Lifestyle management we can maintain good health.
07/05/2025
লাইফস্টাইল রোগ ও প্রতিরোধ ও নিরাময় উপায়
লাইফস্টাইল (Lifestyle) রোগ কী?
লাইফস্টাইল রোগ বলতে এমন সব রোগ বোঝায়, যা মূলত আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অনিয়ম, খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব, ধূমপান-অ্যালকোহল গ্রহণ এবং মানসিক চাপের কারণে হয়ে থাকে।
প্রধান লাইফস্টাইল রোগসমূহ:
১. ডায়াবেটিস (Diabetes)
২. উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension)
৩. মোটা হওয়া (Obesity)
৪. হৃদরোগ (Heart Disease)
৫. স্ট্রোক (Stroke)
৬. ফ্যাটি লিভার (Fatty Liver Disease)
৭. ক্যান্সার (Cancer) - বিশেষত ফুসফুস, স্তন ও কোলন ক্যান্সার
৮. নিদ্রাহীনতা (Insomnia)
৯. দুশ্চিন্তা ও ডিপ্রেশন (Anxiety & Depression)
১০. কিডনি রোগ (Kidney Disease)
১১. হাড়ের রোগ (Osteoporosis & Arthritis)
লাইফস্টাইল রোগ প্রতিরোধে করণীয়:
১. সঠিক খাদ্যাভ্যাস গঠন
শাকসবজি, ফলমূল, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ করুন।
প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণ-চিনি ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
২. নিয়মিত শরীরচর্চা
প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা, ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৩. ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার
ধূমপান ও অ্যালকোহল বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের কারণ। এগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি।
৪. স্ট্রেস (Stress) কমানো
পর্যাপ্ত ঘুম (৭-৮ ঘণ্টা) নিশ্চিত করুন।
মেডিটেশন, যোগব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তি চর্চা করুন।
৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ইত্যাদি নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
লাইফস্টাইল রোগ নিরাময়ে করণীয়:
✅ ডায়াবেটিস → নিয়মিত ব্যায়াম, সুগার নিয়ন্ত্রণ, কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার।
✅ উচ্চ রক্তচাপ → লবণ কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রেস কমানো।
✅ হৃদরোগ → চর্বিযুক্ত খাবার কমানো, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম।
✅ স্ট্রোক → উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বন্ধ।
✅ ফ্যাটি লিভার → ওজন কমানো, ফাস্ট ফুড এড়ানো, নিয়মিত ব্যায়াম।
✅ ডিপ্রেশন ও নিদ্রাহীনতা → মেডিটেশন, মানসিক প্রশান্তি ও পর্যাপ্ত ঘুম।
সংক্ষেপে: স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখলেই বেশিরভাগ লাইফস্টাইল রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় করা সম্ভব।
05/05/2025
পাইলসে ভুগছেন!!তবে সারিয়ে তুলুন এক নিমিষেই?? টিপসটি জেনে নিন:
পাইলস বা হেমোরয়েড খুব পরিচিত একটি রোগ। প্রায় ঘরে এই রোগ হতে দেখা দেয়। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫% মানুষ এই রোগে ভুগে থাকেন।বিশেষত ৪৫ থেকে ৬৫ বয়সী মানুষেরা এই রোগে বেশি ভুগে থাকেন। বর্তমান সময়ে সব বয়সী মানুষের এই রোগ হতে দেখা দেয়। মলদ্বারে যন্ত্রণা, রক্ত পড়া, মলদ্বার ফুলে যাওয়া, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি পাইলসের সাধারণ সমস্যা।
পারিবারিক ইতিহাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, কম ফাইবারযুক্ত খাবার, স্থূলতা, শারীরিক কার্যকলাপ, গর্ভাবস্থায়, এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকা ইত্যাদি কারণে পাইলস দেখা দেয়।সাধারণত ওষুধ, অপারেশন পাইলসের চিকিৎসা হয়ে থাকে। এর সাথে কিছু ঘরোয়া উপায় এই সমস্যা সমাধান করা যায়।
যদি কনস্টিপেশন বা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে তবে সর্বপ্রথমেই এটা সারিয়ে নিন।
১। বরফ ঘরোয়া উপায়ে পাইলস নিরাময় করার অন্যতম উপায় হল বরফ। এটি রক্তনালী রক্ত চলাচল সচল রাখে এবং ব্যথা দূর করে দেয়। একটি কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ পেঁচিয়ে ব্যথার স্থানে ১০ মিনিট রাখুন। এটি দিনে কয়েকবার করুন।
২। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার একটি তুলোর বলে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার লাগিয়ে ব্যথার স্থানে লাগান। শুরুতে এটি জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করবে, কিছুক্ষণ পর এই জ্বালাপোড়া কমে যাবে।এটি দিনে কয়েকবার করুন। অভ্যন্তরীণ হেমোরয়েডের জন্য এক চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে নিন। এটি দিনে দুইবার পান করুন। এরসাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।
৩। অ্যালোভেরা বাহ্যিক হেমোরয়েডের জন্য অ্যালোভেরা জেল আক্রান্ত স্থানে ম্যাসাজ করে লাগান। এটি জ্বালাপোড়া দূর করে ব্যথা কমিয়ে দেবে। আভ্যন্তরীণ হেমোরয়েডের ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা পাতার কাঁটার অংশ কেটে জেল অংশটুকু একটি প্ল্যাস্টিকের প্যাকেটে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। এবার এই ঠান্ডা অ্যালোভেরা জেলের টুকরো ক্ষত স্থানে লাগিয়ে রাখুন। এটি জ্বালাপোড়া, ব্যথা, চুলকানি দূর করে দেবে।
৪। অলিভ অয়েল প্রতিদিন এক চা চামচ অলিভ অয়েল খান। এটি দেহের প্রদাহ হ্রাস করে এবং মোনোস্যাচুরেটেড চর্বি উন্নত করে থাকে। এছাড়া কিছু বরই পাতা গুঁড়ো করে অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে নিন। এটি আক্রান্ত স্থানে ম্যাসাজ করে লাগান। এটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।
৫। আদা এবং লেবুর রস ডিহাইড্রেশন হেমোরয়েডের অন্যতম আরেকটি কারণ। আদাকুচি, লেবু এবং মধু মিশ্রিত জুস দিনে দুইবার পান করুন। এটি নিয়মিত পান করুন। এটি শরীর হাইড্রেটেড করে পাইলস দূর করে দেয়। এছাড়া দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন।
তুলসী (ইংরেজি: holy basil, বা tulasī) ( বৈজ্ঞানিক নাম: Ocimum Sanctum) একটি ঔষধিগাছ। তুলসী অর্থ যার তুলনা নেই। তুলসী গাছ লামিয়াসি পরিবারের অন্তর্গত একটি সুগন্ধী উদ্ভিদ।
ওষুধের গুণে ভরা তুলসীর কদর সবার কাছে। তুলসীতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে। শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবেও দারুন ভূমিকা তুলসীর। ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণুনাশকের কাজ করে তুলসী পাতা। তাছাড়া শীত এলে শরীরে বাড়ে নানা রোগের উৎপাত। এই উৎপাত থেকে বাঁচতে তুলসীর তুলনা হয় না। আসুন জেনে নেয়া যাক, বহুগুণে গুণান্বিত এই তুলসীর আরো কিছু গুণ সম্পর্কে।
– নিয়মিত তুলসী পাতার রস খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহের মাত্রা ঠিক রাখে। লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
– তুলসীর রস হাড়ের গিঁটে ব্যথা দূর করে। শরীরের কাটাছেঁড়া দ্রুত শুকাতে অবদান রাখে এই তুলসী।
– শীতে বাচ্চাদের তুলসী পাতার রস খাওয়ালে কৃমি দূর হবে এবং মাংসপেশি ও হাড় হবে শক্তিশালী।
– জ্বর হলে পানির মধ্যে তুলসী পাতা, গোল মরিচ এবং মিশ্রী মিশিয়ে ভাল করে সেদ্ধ করে নিন। অথবা এগুলো দিয়ে বড়ি বানিয়ে দিনে তিন থেকে চারটা বড়ি খান। জ্বর খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাবে।
– কাশি হলে তুলসী পাতা এবং আদা একসঙ্গে পিষে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খান। এতে উপকার পাবেন।
– ডায়রিয়া হলে ১০ থেকে বারোটি পাতা পিষে রস খেয়ে ফেলুন, দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন।
– মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে দিনে ৪ থেকে ৫ বার তুলসী পাতা চিবাতে পারেন। দুর্গন্ধ দূর হবে।
– শরীরে কোনরকম ঘা হলে তুলসী পাতা এবং ফিটকিরি একসঙ্গে পিষে লাগান। উপকার পাবেন।
– শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে গেলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান, এতে জ্বালাপোড়া কমে যাবে। পোড়া জায়গাটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে এবং পোড়া দাগও ওঠে যাবে।
– ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য, ত্বকের বলীরেখা এবং ব্রণ দূর করতে তুলসী পাতা পিষে মুখে লাগান।
– প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর করতে হলে তুলসী পাতার রস, ২৫০ গ্রাম দুধ এবং ১৫০ গ্রাম পানির মধ্যে মিশিয়ে পান করুন।
মহিলারা লেখাটি অবশ্যই পড়বেন
সম্প্রতি স্তন ক্যান্সারে আমার এক বন্ধুর স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার অনুরোধে আমি এই গুরুত্বপূর্ণ লেখাটি সবার, বিশেষ করে মহিলাদের অবগতি ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য উপস্থাপন করছি।
স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হলেও এখনো বিশ্বে প্রতি ৬৯ সেকেন্ডে স্তন ক্যান্সারে একজন মহিলা মৃত্যুবরণ করে। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে স্তন ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা সহজ হয় ও বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে যায়। কারণ ক্যান্সার কোষ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়লে (Metastasis) ফুসফুস, লিভার, হার্ট, কিডনি, হাড় ও অন্যান্য অঙ্গ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তখন সার্জারি এবং/ বা রেডিয়েশন এবং/বা কেমোথেরাপির মতো জটিল ও মারণঘাতি চিকিৎসার দরকার হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরো স্তন কেটে বাদ দিতে হয়। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা ইদানীং মনে করছেন, স্তন ক্যান্সারের কোনো কারণ নির্ণয় সহজ নয়, এটা নিছক ভাগ্য দোষ। কে কখন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে, আর কে হবে না, তা কেউ বলতে পারে না। এই ধরুন, কোটি কোটি মহিলার মধ্যে কারো স্তন ক্যান্সার হয়, অনেকেরই কেন হয় না- তার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ আমরা দিতে পারি না। তারপরও বলব- আমাদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ভুল খাদ্যাভ্যাস, ভুল লাইফস্টাইল, ব্যায়াম না করা বা অলস জীবনযাপন, শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ক্যান্সার সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অল্প বয়সী মেয়েদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কম নয়। তাই তাদের প্রথম থেকেই সচেতন হতে হবে। স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, বছরে একবার ম্যামোগ্রাম(স্তনের এক্স রে)/এমআরআই(ম্যাগনেটিক রেজনেন্স ইমেজিং) করে আপনি ক্যান্সারে আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন। আপনারা কী জানেন, চিকিৎসক ছাড়াও ঘরে বসে নিজের স্তন আপনারা নিজেরাই পরীক্ষা করতে পারেন? প্রথমত, সুক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করে দেখুন স্তনে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে কি না। দুই স্তনের আকার-আকৃতিতে পরিবর্তন, অংশ বিশেষ বা পুরো স্তন ফুলে যাওয়া, রং পরিবর্তন, চামড়া মোটা বা খসখসে হয়ে যাওয়া, স্তনের বোঁটায় অস্বাভাবিকতা, বোঁটা দিয়ে রক্ত বা রক্তমিশ্রিত তরল পদার্থ নির্গত হওয়া, স্তনের যেকোনে স্থানে, বাহুমূল বা বগলে লাম্প বা শক্ত পিন্ড সৃষ্টি হওয়া স্তন ক্যান্সারের কিছু উপসর্গ। প্রায়শ স্তন ক্যান্সারে কোনো ব্যথা না থাকার কারণে অনেকেই ভ্রান্তভাবে মনে করেন- তারা নিরাপদ আছেন। আসলে তা নয়। স্তনে লাম্প বা পিন্ডের উপস্থিতি আপনি নিজেই ঘরে বসে পরীক্ষা করতে পারেন বা আপনার চিকিৎসক দিয়ে করাতে পারেন। প্রতি মাসের নির্দিষ্ট দিনে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাতের আঙ্গুলের তালু চাপ দিয়ে পুরো স্তনে চালিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন লাম্প/পিন্ড বা কোনো শক্ত কিছু আঙ্গুলের তালুতে অনুভুত হয় কিনা। স্তনে সাবান মেখে আঙ্গুল চালাতে সহজ হয় বলে গোসল করার সময় পরীক্ষাটা করা উত্তম। যদি কোনো লাম্প বা পিন্ড হাতের আঙ্গুলের তালুতে ধরা পড়ে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হোন। মনে রাখবেন- সব টিউমার ক্ষতিকর নয়। তবে কোন টিউমার ক্ষতিকর, আর কোনটি ক্ষতিকর নয় তা শুধু পরীক্ষার মাধ্যমে জানা সম্ভব। কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা না পড়লেও পরীক্ষার জন্য নিয়মিত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখা দরকার। মনে রাখবেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার ধরা পড়লে আপনার বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে যাবে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, এই সহজ কথাটি অনেক মহিলা জানে না। তাই অনেককেই পরবর্তীতে পস্তাতে হয়।...প্রফেসর মনির উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
17/11/2019
ঘাড় মাথা টানটান:
মানুষ উন্নত শ্রেণীর প্রাণী যার মস্তিষ্ক আছে, ভালো মন্দ চিন্তা করতে পারে অর্থাৎ বিবেক আছে। মানুষ মেরুদন্ডের উপরে ভর করে চলতে পারে।
কবি বলেছেন,
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
মেরুদণ্ডহীন প্রাণী কিন্তু মাটিতে গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যেমন কেঁচো।
মানুষের দেহের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল মস্তিষ্ক, যেটি দেহের সবচেয়ে উঁচু স্থানে এবং একটি হাড়ের কাঠামোর মধ্যে সুরক্ষিত থাকে। মস্তিষ্ক ও স্নায়ু রজ্জুকে বলা হয় কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম। মাথার খুলির মধ্যে মস্তিষ্ক ও মেরুদন্ডের ভেতরে
স্পাইনাল কর্ড বা স্নায়ুরজ্জু অবস্থান করে । মেরুদন্ডের স্নায়ুরজ্জু থেকে স্নায়ু বের হয়ে দেহের প্রান্তিক প্রতিটি অঙ্গে বিস্তৃত। অন্ধকার স্থানে পায়ে পিপড়া কামড় দিলেও ব্যথার অনুভূতিটা সাথে সাথে মস্তিষ্কে আসে এবং পা সরিয়ে নেয়া বা পিঁপড়া মারার সিদ্ধান্তটাও মস্তিষ্ক থেকে দ্রুত আসে।
আসল কথা হলো মস্তিষ্কের সাথে দেহের প্রতিটি অঙ্গের সংযোগ এই স্নায়ু দ্বারা রক্ষিত হয়। স্নায়ু সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বিঘ্নিত হলে ওই অঙ্গটি তখন অবশ্ বা প্যারালাইসিস হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আলোকসজ্জার বাড়িতে দুই-একটি বাতি যখন সংযোগ পায়না তখন সে জ্বলে না। ঘাড় মাথা টানটান রাখতে পারলে দেহ অধিকাংশ রোগ থেকে সুস্থ থাকে।
পজিটিভ চিন্তা করুন:
মানব দেহে এক ধরনের রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেম চালু আছে, যাকে বলা হয় হরমোন। পিটুইটারি গ্ল্যান্ড কে বলা হয় মাস্টার গ্ল্যান্ড যাহা মস্তিষ্কের ঠিক নিচে অবস্থান করে। ইহা অন্য হরমোন এবং দেহকোষের কিছু কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। দেহ কোষের বিভিন্ন ধরনের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণের জন্য এই হরমোন বা রস কাজ করে। মন যদি ভালো চিন্তা করে তাহলে পজিটিভ রস নিঃসৃত হয় এবং তা রক্তস্রোতের মাধ্যমে দেহ কোষে পৌঁছে যায়। মন যদি নেগেটিভ চিন্তা করে তাহলে খারাপ রস নিঃসৃত হয় এবং দেহ ক্রমান্বয়ে রোগাক্রান্ত হতে থাকে। তাই পজিটিভ চিন্তা করুন।
জয়েন্ট ও পেশীগুলো নড়াচড়া করুন:
আমাদের দেহে আছে একটি হাড়ের কাঠামো বা কঙ্কাল, এই কঙ্কাল কে ঘিরে আছে মাংসপেশী। মানব দেহে আছে 206 খানা হাড়। একটি হাড়কে আরেকটি হাড়ের সাথে যুক্ত করেছে এক ধরনের রশি যাকে বলা হয় লিগামেন্ট এবং হাড়ের সাথে মাংস বেশি যুক্ত আছে টেনডন এর মাধ্যমে। 2টি হাড়ের সংযোগস্থল কে আমরা বলি জয়েন্ট বা গিড়া। দেহের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ মাংসপেশি ও গিরা গুলি সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত ও পরিমিত ব্যায়াম অত্যাবশ্যক।
অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সঞ্চালন:
দেহের প্রতিটি কোষে রক্ত প্রবাহ সচল রাখার জন্য প্রধান অঙ্গ হৃদযন্ত্র কার্যকর এর সাথে আছে অসংখ্য শিরা-উপশিরা, ধমনী, কৈশিক জালিকা এবং বিভিন্ন প্রকার রক্তবাহী নালী। দেহের শ্বাস কাজের জন্য আছে আমাদের লাঙ্চ বা ফুসফুস। দম চর্চা বা প্রাণায়াম এর মাধ্যমে দেহে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করলে, হৃদযন্ত্র রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে সেই অক্সিজেন দেহের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেয়। পর্যাপ্ত অক্সিজেন পেয়ে দেহ কোষ সক্রিয় থাকে। দেহকোষে বেশি শক্তি তৈরি হয়। দেহ কোষ থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর সাথে টক্সিন (বর্জ্য) বের হয়ে যায়। রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির ফলে দেহ কোষ থেকে টক্সিন রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে কিডনির ছাঁকনির সাহায্যে পরিস্রাবণ হয়ে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। ফুসফুস ও হূদযন্ত্র একত্রে মিলে দেহে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখে। প্রাণায়াম এর ফলে হৃদযন্ত্র এবং ফুসফুস সক্রিয় এবং সুস্থ থাকে।এর ফলে সকল ধরণের হৃদরোগ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগ থেকে সুস্থ থাকা যায়।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন
অতিরিক্ত রিচ ফুড, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত প্রাণীজ আমিষ, দীর্ঘদিন ধরে ভক্ষণ করলে সে অনেক রোগ অর্জন করে।
1. সুস্থ থাকার জন্য সকল রিচ ফুড বর্জন করতে হবে। তৈলাক্ত খাবার বর্জন করুন। সময়মতো ও পরিমিত খাবেন শর্করা কম খাবেন।
2. তাজা সবুজ শাকসবজি ও পর্যাপ্ত পরিমাণে মৌসুমী ফল খেতে হবে।
3. নিয়মিত সালাদ খাবেন।
4. আঁশ জাতীয় খাবার খেতে হবে, ভুসিযুক্ত লাল আটা ও ব্রাউন রাইসের খাবার খাবেন।
5. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন খেতে হবে।
6. মিষ্টি খাওয়া বর্জন করুন,
7. কোমল পানীয় বর্জন করুন, ঠান্ডা পানি পান করা বর্জন করুন।
8. দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করুন।
9. সবুজ বাগানে প্রতিদিন সকালে ৩-৪ কিলোমিটার হাটুন।
আসসালামু আলাইকুম।
প্রাকৃতিক পরিবেশে, উন্মুক্ত আকাশের নিচে, সবুজের মাঝে, সূর্যালোকের উপস্থিতিতে প্রাতঃকালীন ব্যায়াম খুবই স্বাস্থ্যকর।
Early to bed and early to rise
makes a man healthy wealthy and wise
আমরা সবাই সুস্থ থাকতে চাই। কারণ আমরা সবাই স্বাস্থ্যসচেতন। স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস, পরিকল্পিত ব্যায়াম,
সুস্থ মানসিক ক্রিয়া আমাদেরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন 75 ভাগ রোগের কারণ মানসিক। তাই আমাদের দেহ ও মনের সুস্থতার জন্য যোগ ব্যায়াম একটি পরিকল্পিত ও কার্যকর প্রক্রিয়া। দেহ ও মনের সুস্থতায় যোগচর্চা একটি হাজার বছরের পরীক্ষিত ফর্মুলা।
শারীরিক সুস্থতার জন্য সুষম খাবার যেমন দরকার তেমনি দরকার নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পরিমিত রক্ত সঞ্চালনের জন্য পরিকল্পিত ব্যায়াম অত্যাবশ্যক। শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য এই পরিকল্পিত ব্যায়াম হলো যোগ ব্যায়াম বা ইয়োগা।
আমাদের দেহের হাড়ের কাঠামো কে ঘিরে আছে মাংসপেশি। একটি সুরক্ষিত হাড়ের কাঠামোর মধ্যে আছে আমাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গ মস্তিষ্ক।
২০৬ খানা হাড় দিয়ে মানব দেহ তৈরি। হাড়ের সাথে হাড়ের সংযোগ কে আমরা বলি জয়েন্ট বা গিড়া। এই জয়েন্ট গুলোর সুস্থতার উপরে আমাদের স্বাভাবিক চলাচল নির্ভর করে। আমাদের মাথার খুলি থেকে শুরু করে 33 টি হাড় দিয়ে আমাদের মেরুদণ্ড বা ভার্টিব্রা কলাম তৈরি। এই হাড় গুলো বিশেষ কলকব্জার মাধ্যমে একটার সাথে একটা সংযুক্ত। হারকে হাড়ের সাথে সংযুক্ত করে রাখে এক ধরনের শক্ত রশি বা লিগামেন্ট । মাংসপেশিকে হাড়ের সাথে সংযুক্ত করে রাখে টেনডন।
আমাদের দেহের ভাইটাল অরগান গুলো হলো:
মস্তিষ্ক, হার্ট, লাঙ্নস, লিভার, কিডনি। এছাড়া অন্য অঙ্গগুলো সেন্ট্রাল ও পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম, হর্মনাল সিস্তেম, রক্ত প্রবাহের জন্য ধমনী, শিরা-উপশিরা, বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাংসপেশি। এছাড়া আছে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র, প্যানক্রিয়াস, গলব্লাডার, জননাঙ্গ সমূহ ইত্যাদি।
1. দেহকে সচল রাখতে আমাদের নিয়মিত পুষ্টি গ্রহণ করা দরকার। এই পুষ্টি গ্রহণ পরিকল্পিত ও ন্যাচারাল হতে হবে। খাবার গ্রহণ ও পরিপাকের জন্য আছে আমাদের ডাইজেস্টিভ সিস্টেম বা পরিপাকতন্ত্র।
2. দেহ থেকে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য আমাদের দেহের আছে ৪ টি সিস্টেম। ডাইজেস্টিভ সিস্টেম দিয়ে আমাদের হেবি বজ্র্য দেহ থেকে নিঃসরণ হয়, কিডনি ইউরিনারি সিস্টেম এর মাধ্যমে রক্ত ফিল্ট্রেশনের মাধ্যমে দেহ থেকে তরলবর্জ্য প্রসাবের সাথে বের হয়। শ্বসন তন্ত্রের মাধ্যমে গ্যাসীয় বর্জ্য নিঃশ্বাসের সাথে বের হয়। এছাড়া ঘামের মাধ্যমে ত্বকের ছিদ্র দিয়ে দেহ থেকে বর্জ্য বের হয়।
যোগ ব্যায়ামের মাধ্যমে এসকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিমিত সঞ্চালন সম্ভব হয়। ফলে অঙ্গ-প্রতঙ্গ গুলো সক্রিয় থাকে। প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ হয়, কার্বন ডাই অক্সাইড ও বর্জ্য বের হয়, ফলে প্রতিটি কোষই সক্রিয় থাকে।
1. প্রাণায়াম: প্রাণায়াম বা দম চর্চা একটি শক্তিশালী ব্যায়াম। আমাদের দেহের হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস কে সক্রিয় করে সারা দেহের কোষগুলোকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে জীবন্ত করে তোলে। দেহকোষে প্রতিনিয়ত তৈরি বর্জ্য টক্সিন নিঃশ্বাসের সাথে বের করে দেয়, ঘামের সাথে বের করে দেয়। যত বেশি অক্সিজেন ততো বেশি এনার্জি, যত বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড কত বেশি ক্লান্তি, টক্সিন, বার্ধক্য। তাই বার্ধক্যকে জয় করতে সবাই নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করুন।
2. বিশ্বাস: সুস্থতার জন্য সর্বপ্রথম দরকার বিশ্বাস। পজিটিভ বিশ্বাস। পজিটিভ বিশ্বাস হলে দেহে পজিটিভ রস সেক্রেশন হয়, ফলে দেহের সকল অর্গান গুলো সঠিকভাবে কার্য সম্পাদন করতে পারে। তাই স্রষ্টার ইবাদত করুন, ধ্যান করুন, পজিটিভ চিন্তা করুন
সুস্থ থাকার জন্য প্রকৃতির কাছে আসুন
প্রাকৃতিক অভ্যাস চর্চা করুন
1. ফজরের নামাজ বা ইবাদতের মাধ্যমে দিন শুরু করুন
2. পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণের জন্য বাগানে হাঁটুন
3. উপযুক্ত শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম করুন
4. ঠিক খাদ্য খান, বেশি সবজি খান, মৌসুমি ফল খান
5. প্রাণীজ আমিষ বর্জন করুন
6. দৈনিক দুই থেকে আড়াই লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করুন
7. জাঙ্ক ফুড বর্জন করুন
8. চিনি বর্জন করুন
9. তৈলাক্ত খাবার বর্জন করুন
10. সকালে হাঁটার পরে ফিরে এসে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।
11. সকালে এক মুঠো অঙ্কুরোদগম সহ ছোলা বুট খাবেন।
12. ভুসিযুক্ত লাল আটা বা ব্রাউন রাইস এর খাবার খাবেন
13. তিন থেকে চার কিলোমিটার হাঁটুন অর্থাৎ 40 মিনিট হাঁটুন
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
House 46, Avenue 5, Section 6, Block:A, Mirpur-6, Dhaka-1216
Dhaka
DHAKA1216
