Zafreen Beauty Box
We provide all Branded Quality product from UK. We take pre-order for any cosmetics & beauty product.
Sharing Some Baby Food chart & Recipe.
Good Food for Good Life.
✓✓ শিশুর বয়স 6-12 মাস :
কর্মরত মা, নতুন মা, একাকী মা বা মানসিক চাপে থাকা মায়ের জন্য কিছু সহজ (ফাকিবাজি) রেসিপি!
✓ 1. খিচুড়ি -
১/২ কাপ চাল, 1 টেবিল চামচ ডাল (মগ/মুসুর), যেকোনো ১/২ টা সবজি, 1/2 চা চামচ জিরা, ১টি(এলাচ), ১টি ছোট দারুচিনি।
= পদ্ধতি:
১ ঘন্টা চাল ডাল পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর ১ চা চামচ ঘী / তেল গরম করে। এর সাথে পেঁয়াজ ও রসুন ভেজে নিবেন৷ এরপরে ধুয়ে রাখা চাল, ডাল এলাচি,দারুচিনি যোগ করতে হবে। 1.5 কাপ পানি যোগ করুন. শাকসবজি যোগ করুন (একই দিনে গাজর এবং কুমড়া দেবেন না)। একটু হলুদ গুঁড়ো দিয়ে। খিচুড়ি সবগুলো উপকরণ রান্নার শেষ হয়ে আসলে। বাসায় থাকা ঘুটনি দিয়ে ঘুটে নিভেন আর জিরা গুরা দিবেন, অনেক সুন্দর একটি ঘ্রান আসবে। ৭ মাস বয়স থেকে দিতে পারেন। সপ্তাহে ২/৩ বার।
✓ 2. পিউরি :
নাশপাতি, আপেল, বিটরুট, কুমড়া, গাজর, কলা, ব্রকলি, মটরশুটি, মিষ্টি আলু, আলু। যেকোনো ১ ধরনের ফল বা সবজি নিতে হবে। বাষ্প বা সিদ্ধ করে। একটা ম্যাশ বা ঘুটনি দিয়ে ঘুটে দিলেই হবে।
✓ 3. সিরিয়াল :
যে কোনো রোলড ওটস, বার্লি, সুজি বাসায় গুরা করা এক মাসের তাজা থাকে। যেহেতু ঝটপট ওটস গরম পানি যোগ করলেই নরম হয়ে যাবে। এর সাথে দুধ ও ফর্মুলা মিল্ক দিতে পারেন।
✓ 4. পায়েশ :
১ ঘণ্টা পানিতে চল ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর চল তা গরম পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে। খেজুর পেস্ট, বুকের দুধ / ফর্মুলা মিল্ক খাওয়ার আগে এড করে, দিতে হবে।
✓ 5. পুডিং :
কারমেল না কোরে পুডিং খাওয়ানো ভালো এই বয়সে।
১ টি ডিম, ১ কাপ দুধ, ১/২ চা চামচ চিনি, ১ চিমটি দারুচিনি গুঁড়া (স্বাদের জন্য), শোব মিক্স কোরে চাকনি দিয়ে একটু স্ট্রেন কোরে কাপ এক বোশিয়ে ফয়েল দিয়ে ভালো করে ঢেকে দিতে হবে। পুডিং এর বাটি থাকলে আর ভাল হয়। পাতিল এ পানি গরম এ ফুটে উঠলে একদম কম তাপে ১০ মিনিট ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রান্না করতে হবে।
✓ 6. ভাত, ডাল, মুরগি, মাছ :
যে সব বাচ্চা খিচুড়ির মত করে খায় না... তারা ঘরের খাবার এ খাবে। কিন্তু মুরগি, মাছে মরিচ দেওয়া যাবে না। আর লবন কম দিতে হবে ১ বছরের কম হলে (লবন না দিলে সবচেয়ে ভালো বাচ্চার কিডনির জন্য)। রান্নার নিয়ম একই। ভাত জাউ ভাতের মতো বা খাবারটি নরম করলেই ভাল হবে।
✓ 7. আঙ্গুলের খাবার :
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, সিদ্ধ সবজি লম্বা কোরে কেটে দিলে নিজের হাতে খাওয়া শিখবে। বাবুকে চেষ্টা করবেন। বাবুর নাস্তাটা যেনও নিজ হাতে খেতে পারে।
*** "লবণ, চিনি ১ বছর সম্পূর্ণ হওয়ার পর খাওয়ানো ভালো। (যদি লবন দিতেই হয় তাহলে ১ চিমটির বেশি না, কখনোই না।) বিস্কুট দিতে চাইলে বেবি বিস্কুট দেওয়া উচিত, বাসায় নিজ হাতে তৈরি করা। চিপস, চকলেট, কেক, মিস্টি দেওয়া যাবেনা।
*** যে সব শিশুদের খাওয়ার অগ্রহো কম তাদের আঙুল খাবার দিয়ে খাওয়া শিখতে হবে। যতোই ময়লা করুক না ... তবুও হাতে এ খাবার ধরিয়ে দিবেন। 😄
এতে বাচ্চার খাবার চিনতে ও খাওয়া শিখতে আগ্রহ করে। পরিবারের সাথে ৩ বেলা বসিয়ে খাবার দিবেন।
🌞 আরও বিস্তারিত জানতে এই পেইজের সাথে থাকুন।
@ Zafreen Beauty Box
@ Zafreen Beauty Box UK
___ Collected information.
---------------------------- -----------
-
.
24/10/2023
✓ তারিখ: ১৫ জুলাই ২০২২ "আমার প্রথম কন্যা সন্তান এর জন্ম" এ যে আমার জীবনে কতো বড় পাওয়া, কত বড় নেয়ামত আল্লাহ আমাকে দান করেছেন। আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে কখনো শেষ করা যাবে না। সেই দিনের জন্য আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া। শোকর আলহামদুলিল্লাহ, শোকর আলহামদুলিল্লাহ।।
✓ হে আল্লাহ তুমি যেমন করে আমাকে খুশি করেছো, আমাকে ভালো রেখেছো, আমার ছোট ছোট চাওয়া-পাওয়া গুলো পূর্ণ করেছো - আমিও যেনো সেই ভাবে তোমাকে সব সময় স্বরণ করতে পারি, তোমাকে খুশি করতে পারি। আমাকে সেই তৌফিক দান করো। আমিন।।
সবাই আমাদের জন্য, আমার সন্তানের জন্য দোয়া করবেন। আসসালামু আলাইকুম - আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।।
---------------- 🌿🌿🌸🌿🌿 ----------------
.
24/10/2023
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
"তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।" কেউ যেন ঋণ পরিশোধে গড়িমসি না করে - সে জন্য নবি (স) বলেছেন, "ঋণ পরিশোধ না করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভূক্ত।" কিন্তু একান্তই যদি কেউ ঋণ পরিশোধে অপরাগ হয় তবে তার করণীয় কী? ঋণমুক্তিতে তিনি কখন কীভাবে আল্লাহর সাহায্য চাইবেন?
হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে একজন চুক্তিবদ্ধ গোলাম (ক্রীতদাস) তাঁর কাছে এসে বলে, "আমার চুক্তির অর্থ পরিশোধ করতে আমি অপরাগ হয়ে পড়েছি। আমাকে আপনি সহযোগিতা করুন।" তিনি বললেন, "আমি তোমাকে কি এমন একটি বাক্য শিখিয়ে দেব না যা আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিখিয়েছিলেন? যদি তোমার উপর সীর (সাবীর) পর্বত পরিমাণ ঋণও থাকে তবে আল্লাহ তাআলা তোমাকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেবেন।" তিনি বললেন, তুমি বল -
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
✓ উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তোমার হালালের মাধ্যমে আমাকে তোমার হারাম থেকে দূরে রাখ এবং তোমার দয়ায় তুমি ছাড়া অন্য কারো মুখাপেক্ষী হওয়া থেকেও আমাকে আত্মনির্ভরশীল (ঋণমুক্ত) করো।’ (তিরমিজি শরীফ)
ঋণমুক্তির নিয়তে সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, ঋণমুক্ত হওয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো, তবেই মহান আল্লাহ ওই বান্দাকে ঋণ থেকে মুক্ত করবেন ইনশাআল্লাহ।
শুধু তা-ই নয়, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় ভয়-চিন্তা-পেরেশানির পাশাপাশি ঋণ থেকে মুক্তি চাইতেন। তাই যারা ঋণগ্রস্ত; তাদের জন্য ঋণমুক্তিতে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া জরুরি। হাদিসে এসেছে -
হজরত আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন অবতরণ করতেন, তখন প্রায়ই তাকে এই দোয়া পড়তে শুনতাম -
اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
✓ উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি ওয়াল আঝযি ওয়াল কাসালি ওয়াল বুখলি ওয়াল ঝুবনি ওয়া দালায়িদ-দাইনি ওয়া গালাবাতির-রিঝালি।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে আশ্রয় চাই; অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আশ্রয় চাই; কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে আশ্রয় চাই; ঋণভার ও লোকজনের প্রাধান্য থেকে আপনার কাছে মুক্তি চাই।’ (বুখারি শরীফ)
বিশেষ করে দ্বিতীয় দোয়াটি ঋণ পরিশোধের নিয়ত ও প্রচেষ্টার পাশাপাশি নফল নামাজের দুই সেজদার মাঝে বসে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি করা, বিশুদ্ধ নিয়তে আল্লাহর কাছে ঋণমুক্তির আশ্রয় কামনা করলে মহান আল্লাহ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের তা থেকে মুক্ত করবেন ইনশাআল্লাহ।
___ সংগৃহীত ~🌿🌿🌿~
.
19/09/2023
আমার বড় মেয়ে তার কলেজে একটা কোয়েশ্চেনীয়ার জমা দেবে। সেখানে অনেকগুলি প্রশ্নের ভেতর একটা প্রশ্ন হচ্ছে – “তােমার প্রিয় ব্যক্তি কে?” সে লিখলো, ‘আমার মা’।
আমি ভেবেছিলাম সে লিখবে – বাবা।
আমার সব সময় ধারণা ছিল আমার ছেলেমেয়েরা আমাকে খুব পছন্দ করে। অন্তত তাদের মা’র চেয়ে বেশি তাে বটেই। করারই কথা, আমি কখনাে তাদের বকা-ঝকা করি না। অথচ তাদের মা এই কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করছে –
“বাথরুম ভেজা কেন?”
“সন্ধ্যা হয়ে গেছে, পড়তে বসনি। পড়তে বােস।”
“টুথপেস্টের মুখ লাগানো নেই, এর মানে কি?”
“বন্ধুর সঙ্গে এতক্ষণ টেলিফোনে কথা কেন?”
“ফ্রকে ময়লা কি ভাবে লাগলো?”
“মাছ তাে গোটাটাই ফেলে দিলে। বােন-প্লেট থেকে তুলে এনে খাও। তােল বলছি। তােল।”
এই সব যন্ত্রণা আমি তাদের দেই না। খাবার টেবিলে আমি ওদের সঙ্গে মজার মজার গল্প করি। ভিডিও ক্লাবে কোন ভাল ছবি পাওয়া গেলে সবাইকে নিয়ে এক সঙ্গে দেখি। তারচেয়েও বড় কথা, এমন সব কাণ্ড-কারখানা মাঝে মাঝে করি যা বাচ্চাদের কল্পনাকে উজ্জীবিত করবেই। যেমন শহীদুল্লাহ হল-এ যখন থাকতাম তখন ভরা জোছনার রাতে বাচ্চাদের খুম থেকে তুলে পুকুরে গােসল করতে নিয়ে যেতাম। বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে সবাইকে নিয়ে পানিতে ভেজা তাে আমার চিরকালের নিয়ম। সব সময় করছি। যে মানুষটি এমন সব কাণ্ডকারখানা করে সে কেন প্রিয় হবে না? আমার বড় মেয়ের কোয়েশ্চেনীয়ার দেখে হঠাৎ করে আমার মনে হল আমি কি এদের কাছ থেকে দূরে সরে গেছি? যদি দূরে সরে গিয়ে থাকি তাহলে তা কখন ঘটলো?
সারাদিন নানান কাজে ব্যস্ত থাকি। ইউনিভার্সিটির কাজ, নাটকের কাজ, লেখার কাজ। এর ফাকে ফাকে লোক আসছে। প্রকাশকরা আসছেন লেখার তাগাদা নিয়ে। এসেই চলে যাচ্ছেন না, বসছেন, গল্প করছেন। চা খাচ্ছেন। নাটকে অভিনয় করতে ইচ্ছুক তরুণ-তরুণীরা আসছে। যে ভাবেই হােক তাদের টিভি নাটকে সুযোগ দিতে হবে। আমার গল্প-উপন্যাস পড়ে খুশি হয়েছে এমন লােকজন আসছে। খুশি হয়নি এমন লােকজন আসছে। আসছে পত্রিকা অফিসের মানুষ। কেউ বুঝতে পারছে না, আমি ক্লান্ত ও বিরক্ত। আমার বিশ্রাম দরকার, নিরিবিলি দরকার। আমার অনেক দূরে কোথাও চলে যাওয়া দরকার। আমার সবটুকু সময় বাইরের লোকজন নিয়ে নিচ্ছে । আমার ছেলেমেয়েদের জন্যে, আমার স্ত্রীর জন্যে একটুও সময় আলাদা নেই।
তবু ক্ষীণ আশা নিয়ে একদিন মেঝে মেয়েকে আড়ালে ডেকে নিয়ে গেলাম। গলা নিচু করে কথা বলছি যেন অন্য কেউ কিছু শুনতে না পায়।
“কেমন আছ গো মা?”
“খুব ভাল, না মোটামুটি ভাল?”
“খুব ভাল।”
“এখন বল দেখি তােমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে ?”
“কোন প্রিয় মানুষ নেই বাবা।”
“না থাকলেও তাে এমন মানুষ আছে যাদের তােমার ভাল লাগে। আছে না?”
“মা তোমার সবচেয়ে প্রিয়?”
“হু–মা।”
“আর কেউ আছে?”
“আর ছােট চাচী।”
“আর কেউ?”
“শাহীন চাচা।”
আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম লিস্ট লম্বা হচ্ছে – কিন্তু সেই দীর্ঘ লিস্টে আমার নাম নেই। আমাকে সে হিসেবের মধ্যেই আনছে না। এ রকম কেন হবে। দু’দিন আমি খুব চিন্তা করলাম। ভেবেছিলাম ব্যাপারটা নিজের মধ্যেই রাখবো। আমার স্ত্রী গুলতেকিনকে জানাব না। এক রাতে তাকেও বললাম। সে বললো, “কি অদ্ভুত কথা বলছো? বাচ্চারা তােমাকে অপছন্দ করবে কেন? তুমি ওদের খুবই প্রিয়।”
“তুমি আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্যে বলছো?”
“মােটেই না। আমার ধারণা তােমার মত ভালো বাবা কমই আছে।”
“সত্যি বলছো?”
“হ্যা সত্যি। শীলার দুধ খাওয়ার ব্যাপারটা মনে করো। ক’জন বাবা এরকম করবে? শীলার দুধ খাওয়ার কথা মনে আছে?”
“আছে।”
আমার মেয়ের দুধ খাওয়ার গল্পটা বলি তার কাছে এই পৃথিবীর সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হল দুধ। দুধের বদলে তাকে বিষ খেতে দেয়া হলেও সে হাসিমুখে খেয়ে ফেলবে। সেই ভয়াবহ পানীয় তাকে রােজ বিকেলে এক গ্লাস করে খেতে হয়। আমি আমার কন্যার কষ্ট দেখে, এক বিকেলে তার দুধ চুমুক দিয়ে খেয়ে ফেললাম! তাকে বললাম, মাকে বলিস না আমি খেয়েছি। এরপর থেকে রােজ তার দুধ খেতে হয়। এক সময় নিজের কাছেও অসহ্য বােধ হল।
তখন দু’জন মিলে যুক্তি করে বেসিনে ফেলে দিতে লাগলাম। বেশিদিন চালানাে গেল না। ধরা পড়ে গেলাম বাবা হিসেবে আমি যা করেছি তা আদর্শ বাবার কাজ না। তবে শিশুদের পছন্দের বাবার কাজ তাে বটেই। গুলতেকিন আমার কন্যার দুধের গল্প মনে করায় আমার উদ্বেগ দূর হল। আমি মােটামুটি নিশ্চিত হয়েই ঘুমুতে গেলাম। যাক, আমি খারাপ বাবা নই একজন ভাল বাবা। তবু সন্দেহ যায় না।
পরদিন ছােটমেয়ে বিপাশাকে আইসক্রীম খাওয়াতে নিয়ে গেলাম। সে বিস্মিত, তাকে একা নিয়ে যাচ্ছি। অন্য কাউকে নিচ্ছি না। ব্যাপারটা কি ?
তাকে ডলসি ভিটায় কোন আইসক্রীম কিনে ফিস ফিস করে বললাম, “আচ্ছা মা বল তাে, কাকে তােমার বেশি পছন্দ ? তােমার মা’কে, না আমাকে?”
সে মুখভর্তি আইসক্রীম নিয়ে বললো, “তােমাকে”।
তার বলার ভঙ্গি থেকে আমার সন্দেহ হল। আমি বললাম, “তােমার মা শিখিয়ে দিয়েছে এরকম বলার জন্যে, তাই না?”
“হুঁ।”
“সে আর কি বলেছে ?”
“বলেছে–বাবা যদি তােমাদের জিজ্ঞেস করে কে সবচেয়ে প্রিয় তাহলে আমার নাম বলবে না, তােমার বাবার নাম বলবে। না বললে সে মনে কষ্ট পাবে। লেখকদের মনে কষ্ট দিতে নেই।”
সত্যকে এড়ানাে যায় না, পাশ কাটানাে যায় না। সত্যকে স্বীকার করে নিতে হয়। আমি স্বীকার করে নিলাম। নিজেকে বুঝালাম – আমার ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা যে কোন ব্যস্ত বাবার ক্ষেত্রেই ঘটবে। একদিন এই ব্যস্ত বাবা অবাক হয়ে দেখবেন এই সংসারে তার কোন স্থান নেই। তিনি সংসারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। সংসারও তার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এই এক আশ্চর্য খেলা।
___ এই আমি
___ হুমায়ূন আহমেদ ~~~
.
29/07/2023
আমার মা ছিলেন পরিবারের প্রথম সন্তান। শ্যামলা ধরনের একহারা গড়নের মেয়ে। নানার অতি আদরের মেয়ে। কেমন করে জানি সবার ধারনা হল, এই মেয়ে তেমন বুদ্ধিমতী হয়নি। তাঁকে বুদ্ধিমতী বানানোর জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হল বারহাট্টায়। বারহাট্টায় আমার মা'র মামাবাড়ি। মা'র নানীজান অসম্ভব বুদ্ধিমতী। তিনি যদি ট্রেনিং দিয়ে এই মেয়েকে কিছুটা মানুষ করতে পারেন।
•
তাঁর ট্রেনিং এ তেমন কাজ হল না। মা'র বুদ্ধি বিশেষ বাড়ল না। তবে ক্লাস টুতে তখন সরকারী পর্যায়ে একটি বৃত্তি পরীক্ষা হত। মা এই পরীক্ষা দিয়ে মাসে দু'টাকা হারে বৃত্তি পেয়ে চারদিকে চমক সৃষ্টি করে ফেললেন। "এ কি কান্ড! মেয়ে মানুষ সরকারী জলপানি কি করে পায়?" মা'র দূর্ভাগ্য, বৃত্তির টাকা তিনি পাননি। কারণ, তাঁকে উপরের কোন ক্লাসে ভর্তি করান হল না। মেয়েদের পরাশুনার দরকার কি! চিঠি লিখার বিদ্যা থাকলেই যথেষ্ট। না থাকলেও ক্ষতি নাই। মেয়ে মানুষ এত চিঠি লেখালেখিরই বা কি প্রয়োজন?? তারা ঘর-সংসার করবে। নামাজ-কালাম পরবে। এর জন্য বাংলা-ইংরেজী শেখার দরকার নাই। তারচে' বরং হাতের কাজ শিখুক রান্না বান্না শিখুক, আঁচার বানানো, পিঠা বানানো শিখুক। বিয়ের সময় কাজে লাগবে।
•
আমার মা পড়াশুনা বাদ দিয়ে এইসব কাজ অতি যত্নের সঙ্গে শিখতে লাগলেন। এই করতে করতে একদিন তাঁর বয়স হয়ে গেল পনেরো। কী সর্বনাশের কথা! পনেরো হয়ে গেছে, এখনো বিয়ে হয়নি! বারহাট্টা থেকে কঠিন সব চিঠি আসতে লাগল। যেন অবিলম্বে বিয়ের চেষ্টা করা হয়। চারদিকে সুপাত্র খোঁজা চলতে লাগল। একজন সুপাত্রের সন্ধান আনলেন মা'র দূর সম্পর্কের চাচা, শ্যামপুরের দুদু মিয়া। দুদু মিয়াও পাগল ধরনে মানুষ। বি. এ. পাশ করেছেন। দেশ নিয়ে মাথা ঘামান। কি করে অশিক্ষিত মূর্খ মুসলমানদের রাতারাতি শিক্ষিত করা যায়। নানাজান তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, "ছেলে কী করে?"
•
"কিছু করে না। ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে বসে সারাদিন বই পড়ে। দীর্ঘদিন তার সাথে কলকাতায় এক মেসে ছিলাম। বাড়ির অবস্থা শোচনীয়, আত্মীয়-স্বজন হত দরিদ্র। তবে ছেলের বাবা উলা পাশ। বড় মৌলানা—অতি সজ্জন ব্যক্তি।"
•
"অতি সজ্জন ব্যক্তি দিয়ে কাজ হবে না। রাতদিন যেই ছেলে বই পড়ে সে ঘর-সংসার চালাবে কি করে?"
ছেলে দেখতে রাজপুত্রের মত শুধু এ কারণেই নানাজান ছেলের বাবার সঙ্গে কথা বলতে রাজি হলেন। কথা বলে মুগ্ধও হলেন।
•
আমার দাদা মৌলানা আজিমুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা বলে মুগ্ধ হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আরবি-ফারসিতে তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল। অতি বিনয়ী মানুষ ছিলেন। ছেলের বাবার সঙ্গে কথাবার্তা বলে নানাজান একজন বেকার ছেলের সাথে বিয়ে দেবার প্রস্তুতি নিয়ে নিলেন। নানাজান কী মনে করে চলে গেলেন, মৈমনসিংহ। ছেলে নাটক-নভেল পড়ে, মেয়েকেও তার জন্য প্রস্তুত থাকা দরকার। নানাজান একটা নভেল কিনে এনে, সেই নভেল মা'র হাতে তুলে দিলেন। মা জীবনে এটাই প্রথম উপন্যাস। উপন্যাসের নাম— "নৌকাডুবি"। লেখক- শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রথম উপন্যাস পড়েই "মা" মোহিত। একবার, দু'বার, তিনবার পড়া হল, তবু যেন ভাললাগা শেষ হয় না। বাসররাতে বাবা মাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি কখনো বই-টই পড়েছ? এই ধর, গল্প-উপন্যাস?" মা লাজুক ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন।
•
-"দুই-একটা বইয়ের নাম বলতে পারবে?"
মা ক্ষীণ স্বরে বললেন, "নৌকাডুবি।"
গভীর বিস্ময়ে বাবা দীর্ঘসময় কথা বলতে পারলেন না। এই অজ পাড়াগাঁয়ের একটি মেয়ে কি-না রবীন্দ্রনাথের 'নৌকাডুবি' পড়ে ফেলেছে?
•
গ্রামের যে বোকা ধরনের মেয়ে বিয়ের পর শহরে চলে এল, আমার ধারণা, সে অসম্ভব বুদ্ধিমতী মেয়েদেরেই একজন। আমি এখনও তাঁর বুদ্ধির ঝলকে চমকে চমকে উঠি। মা শুধু যে বুদ্ধিমতী তাই না, অসম্ভব সাহসী ও স্বাধীন ধরনের মহিলা। ১৬ই ডিসেম্বরের পর আমার মা আমাদের ভাইবোন সবাইকে নিয়ে ঢাকায় চলে এলেন। হাতে একটি পয়সাও নাই। এই অবস্থায় পুরনো পল্টনে বাড়ি ভাড়া করলেন। আমাদের সবাইকে একত্রে করে বললেন, "তোরা তোদের পড়াশোনা চালিয়ে যা। সংসার নিয়ে কাউকে ভাবতে হবে না। আমি দেখব।" ঐ বাড়িতে আমাদের কোন আসবাবপত্র ছিল না। আমরা মেঝেতে কম্বল বিছিয়ে ঘুমাতাম। কেউ বেড়াতে এলে তাকে মেঝেতে বসতে হত। মা নানান সমিতিতে ঘুরেঘুরে সেলাইয়ের কাজ যোগাড় করলেন। দিনরাত মেশিন চালান। জামা-কাপড় তৈরি করেন। সেলাইয়ের রোজগারের সঙ্গে বাবার পেনশনের নগন্য টাকা যুক্ত হয়ে সংসার চলত। তিনি শুধু যে ঢাকার সংসার চালাতেন তাই না, মোহনগঞ্জে তাঁর বাবার বাড়ির সংসারও এখান থেকেই দেখাশোনা করতেন।
•
অনেক কাল আগে গ্রামের এই বোকা-বোকা ধরনের লাজুক কিশোরী মেয়েটি কখনো কল্পনাও করেতে পারেনি কি কঠিন সংগ্রাময় জীবন অপেক্ষা করছে তার জন্য। যুদ্ধ ক্লান্ত এই বৃদ্ধা মহিলা এখন কী ভাবেন আমি জানিনা। তাঁর পুত্র-কন্যারা নানান ভাবে তাকে খুশি করতে চেষ্টা করেন। তিনি তাদের সে সুযোগ দিতে চান না। আমার ছোট ভাই ড. জাফর ইকবাল আমেরিকা থেকে টিকেট পাঠিয়ে দিয়ে লিখল—
মা, আপনি আসুন, আপনাকে আমেরিকা এবং ইউরোপ ঘুরিয়ে দেখাব। আপনার ভাল লাগবে। মা বললেন, "যে জিনিস তোমার বাবা দেখে যেতে পারেন নি, আমি তা দেখব না।" আমি বললাম, "আম্মা, আপনি কি হজ্বে যেতে চান? ব্যবস্থা করি।"
- "না।"
- "ছোটবেলায় দেখেছি আপনি জরি দিয়ে— তাজমহল ছবি এঁকেছিলেন। তাজমহল দেখতে ইচ্ছে করে?"
- "না। আমি একা একা কিছু দেখব না।"
বাবার মৃত্যুর পর বাবার পছন্দের জিনিস কখনো বাসায় রান্না হয় নি। সেই সব খাবার হচ্ছে বুটের ডাল দিয়ে গরুর গোশত। আর একটি বরবটির চচ্চড়ি আহামরি কোন খাবার নয়। (* আমার ছেলেবেলা গ্রন্থটি প্রকাশিত হবার পর কী মনে করে জানি মা আমেরিকা যেতে রাজি হলেন। ছ'মাস সেখানে কাটিয়েও এসেছেন। তার কিছুদিন পর আমাকে বললেন, "হজ্ব করতে চান।")
•
আমি একবার বললাম, "আমাদের জন্য আপনার কি কোন উপদেশ আছে?"
তিনি খানিকক্ষন চুপ থেকে বললেন, উপদেশ নয়, "একটি আদেশ আছে। আদেশটি হচ্ছে— কেউ যদি কখনো তোমাদের কাছে টাকা ধার চায়, তোমরা 'না' করবে না। আমাকে অসংখ্যবার মানুষের কাছে ধারের জন্য হাত পাততে হয়েছে। ধার চাওয়ার লজ্জা এবং অপমান আমি জানি।"
•
(অপ্রসঙ্গিকভাবে বলি) মা'র অসাধারন ইএসপি বা অতিন্দ্রীয় ক্ষমতা ছিল। প্রায় সময় ভবিষ্যতে কি ঘটনা ঘটবে তা হুবুহু বলতে পারতেন। মা'র এই অস্বাভাবিক ক্ষমতা সম্পর্কে বাবা পুরোপুরি ওয়াকিবহাল ছিলেন। মা'কে তিনি ঠাট্টা করে ডাকতেন, 'মহিলা পীর'। মা'র এই ক্ষমতা বাবার মৃত্যুর পরপরই পুরপুরি নষ্ট হয়ে যায়।
____ হুমায়ূন আহমেদ
(আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই)
------------------ • -------------------
.
স্ক্রিন টাইম যে শিশুদের কোনো উপকার করে না– শুধু তাই না। এটা শিশুর ভাষা শিক্ষা, পড়তে পারার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শর্ট-টাইম মেমরি বা দ্রুত ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ায়। ইলেক্ট্রনিক স্ক্রিন শিশুর ঘুম এবং মনোযোগ নষ্ট করে।
---------- • ----------
Three steps to a happy life...
1. Don't stress yourself with useless people who don't even deserve to be an issue your life.
2. Never invest too much emotion at one thing, because if you do that; You will end hurting yourself.
3. Learn to live life without worries, because God will take care of everything, trust and just have faith.
~~•~~•~~•~~•~~•~~•~~•~~•~~•~~
®
~~
It's good to sit alone for at least some time everyday. But when we sit alone, don't sit with our past, Sit alone to design our present and dream our future. 😊♨
~~•~~○~~•~~○~~•~~○~~•~~○~~•~~
®
~~
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
SONIR AKHRA, DANIA, JATRABARI
Dhaka
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 18:00 |
| Tuesday | 09:00 - 18:00 |
| Wednesday | 09:00 - 18:00 |
| Thursday | 09:00 - 18:00 |
| Friday | 09:00 - 18:00 |
| Saturday | 09:00 - 18:00 |
| Sunday | 09:00 - 18:00 |
