Apan Natural
Apan Natural – Handmade skincare & health tips! Pure soaps, lotions & herbal wisdom for wellness.
রাসুল (সাঃ)-এর সময় হিজামা পদ্ধতি ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল
হিজামা প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়। এই চিকিৎসাপদ্ধতি আরব, আফ্রিকা, চীন, ভারত ও আমেরিকায় বহু আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। আঠারো শতক থেকে ইউরোপেও এর প্রচলন ঘটে।
হিজামা কীঃ হিজামা অতি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি। হিজামা আরবি শব্দ ‘আল-হাজম’ থেকে এসেছে। যার অর্থ চুষা বা টেনে নেওয়া। আধুনিক পরিভাষায় বলে কাপিং থেরাপি। সুস্থ ব্যক্তির জন্য রোগ প্রতিরোধক। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এই চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি হিজামার উপকারিতা সম্পর্কে উম্মতকে অবহিত ও উৎসাহিত করেছেন। হিজামা রাসুল (সাঃ) ও সাহাবাগণ গ্রহণ করেছেন। হিজামার মাধ্যমে দূষিত রক্ত, ইউরিক অ্যাসিড, রোগের জন্য দায়ী জীবাণু প্লাজমা বা ফ্লোইডের সঙ্গে বের হয়ে আসে। ফলে শরীরের মাংসপেশির রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। পেশী, চামড়া, ত্বক ও শরীরের বিভিন্ন অরগানগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং শরীর সতেজ ও শক্তিশালী হয়।
আমরা সাধারণত রুগের জন্য ঔষধ সেবন করি। কিন্তু হিজামার মাধ্যমে যে দূষিত প্লাজমা বেরিয়ে আসে, তাতে থাকে একাধিক রোগের জীবাণু। যেমন ঠাণ্ডা, কাশি, বিষন্নতা, আর্থ্রাইটিস, চিন্তা, ঘুমের সমস্যা, মাংসপেশির ব্যথা এবং অন্যান্য রোগের জীবাণু বেরিয়ে যেকোনো রোগের তীব্রতা কমিয়ে দেয়। হিজামার মাধ্যমে বর্তমানে অনেক সংক্রামক রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে। এ ছাড়া অসংক্রামিত অনেক রোগও ভালো হয় নিয়মিত হিজামা করালে। রোগাক্রান্তরা বা অতি প্রয়োজনে যেকোনো বারে বা সময়ে হিজামা গ্রহণ করতে পারেন। এমনকি রোজা অবস্থায়ও হিজামা নেওয়া যায়। নবী করিম (সাঃ) তাই করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী করিম (সাঃ) রোজা অবস্থায় হিজামা নিয়েছেন। সহিহ বোখারি : ৫৬৯৪
হিজামা চিকিৎসা কোন রোগের ক্ষেত্রে কার্যকরঃ হিজামার মাধ্যমে ব্যাকপেইন, উচ্চ রক্তচাপ, পা-ব্যথা, হাঁটুব্য-থা, মাথা-ব্যথা (মাইগ্রেন), ঘাড়-ব্যথা, কোমরব্য-থা, জয়েন্টে-ব্যথা, আর্থ্রাইটিস, বাত, ঘুমের ব্যাঘাত, থাইরয়েড ব্যাঘাত, জ্ঞান এবং স্মৃতিশক্তিহীনতা, ত্বকের সুরিয়াসিস, ফোঁড়া ইত্যাদি প্রতিরোধ হয়।
হিজামা কখন নেওয়া উত্তমঃ হিজামা নেওয়ার জন্যও হাদিস শরিফে উত্তম সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কাঁধের দুই পাশে এবং কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে শিঙ্গা লাগাতেন এবং তিনি আরবি মাসের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন। তিরমিজি : ২০৫১
এ ছাড়াও রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন সময় হিজামা নেওয়া যায়, তবে সকালে খালি পেটে হলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
এখানে অভিজ্ঞ হাকিম দ্বারা হিজামা করা হয়
পুরুষের জন্য পুরুষ আর মহিলার জন্য মহিলা থেরাপিষ্ট রয়েছে।
মোবাইল ঃ 01538-234946
পরিচ্ছেদঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বাঁধা অবস্থাতেও শিঙ্গা লাগাতেন:
২৮১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বাধা অবস্থায় পায়ের পাতার উপরিভাগে মালাল নামক স্থানে শিঙ্গা লাগালেন।[1]
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ ، قَالَ : أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ، عَنْ مَعْمَرٍ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ : " أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ بِمَلَلٍ عَلَى ظَهْرِ الْقَدَمِ " .
حدثنا اسحاق بن منصور ، قال : انبانا عبد الرزاق ، عن معمر ، عن قتادة ، عن انس بن مالك : " ان رسول الله صلى الله عليه وسلم احتجم وهو محرم بملل على ظهر القدم " .
[1] আবু দাউদ, হা/১৮৩৯; সুনানে নাসাঈ, হা/২৮৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৭০৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৯৫২ শারহুস সুন্নাহ, হা/১৯৮৬।
পরিচ্ছেদঃ
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন:
২৮০. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাঁধের দু’ পার্শ্বে এবং কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে শিঙ্গা লাগাতেন এবং তিনি ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন।[1]
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَطَّارُ الْبَصْرِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا هَمَّامٌ ، وَجَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا قَتَادَةُ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْتَجِمُ فِي الأَخْدَعَيْنِ وَالْكَاهِلِ ، وَكَانَ يَحْتَجِمُ لِسَبْعَ عَشْرَةَ , وَتِسْعَ عَشْرَةَ , وَإِحْدَى وَعِشْرِينَ " .
حدثنا عبد القدوس بن محمد العطار البصري ، قال : حدثنا عمرو بن عاصم ، قال : حدثنا همام ، وجرير بن حازم ، قال : حدثنا قتادة ، عن انس بن مالك ، قال : " كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحتجم في الاخدعين والكاهل ، وكان يحتجم لسبع عشرة , وتسع عشرة , واحدى وعشرين " .
[1] শারহুস সুন্নাহ, হা/৩২৩৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৪৬৪; মিশকাত, হা/৪৫৪৬।
পরিচ্ছেদঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্দানের দু’পার্শ্বে ও কাঁধের দু’পার্শ্বে শিঙ্গা লাগাতেন:
২৭৮ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গর্দানের দু’পার্শ্বে এবং কাঁধের দু’ পার্শ্বে শিঙ্গা লাগালেন এবং শিঙ্গা লাগানেওয়ালাকে এর পারিশ্রমিক দিলেন। শিঙ্গা লাগানো যদি হারাম হতো, তবে তিনি এর পারিশ্রমিক দিতেন না।[1]
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدَةُ ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ ، عَنْ جَابِرٍ ، عَنِ الشَّعْبِيِّ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ فِي الأَخْدَعَيْنِ , وَبَيْنَ الْكَتِفَيْنِ ، وَأَعْطَى الْحَجَّامَ أَجْرَهُ , وَلَوْ كَانَ حَرَامًا لَمْ يُعْطِهِ " .
حدثنا هارون بن اسحاق الهمداني ، قال : حدثنا عبدة ، عن سفيان الثوري ، عن جابر ، عن الشعبي ، عن ابن عباس ، قال : " ان النبي صلى الله عليه وسلم احتجم في الاخدعين , وبين الكتفين ، واعطى الحجام اجره , ولو كان حراما لم يعطه " .
[1] সহীহ বুখারী, হা/২১০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৯০৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হা/২২০৫: মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১২৪২০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/২১৩৮২।
পরিচ্ছেদঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা লাগাতেন এবং এর পারিশ্রমিকও দিতেন:
২৭৬. হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) কে শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আবু তায়বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শিঙ্গা লাগিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ২ সা’ খাদ্যশস্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাঁর মালিকের সঙ্গে আলাপ করে তাঁর নিকট হতে আদায়যোগ্য অর্থ খারাজও কমিয়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, তোমরা যে ঔষধ ব্যবহার কর, এর মধ্যে শিঙ্গা উত্তম। অথবা বলেছেন, শিঙ্গা উত্তম প্রতিষেধকের অন্তর্ভুক্ত।[1]
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ ، عَنْ حُمَيْدٍ ، قَالَ : سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ ، فَقَالَ : احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , حَجَمَهُ أَبُو طَيْبَةَ ، فَأَمَرَ لَهُ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ ، وَكَلَّمَ أَهْلَهُ فَوَضَعُوا عَنْهُ مِنْ خَرَاجِهِ , وَقَالَ : " إِنَّ أَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحِجَامَةُ " ، أَوْ " إِنَّ مِنْ أَمْثَلِ دَوَائِكُمُ الْحِجَامَةَ " .
حدثنا علي بن حجر ، قال : حدثنا اسماعيل بن جعفر ، عن حميد ، قال : سىل انس بن مالك عن كسب الحجام ، فقال : احتجم رسول الله صلى الله عليه وسلم , حجمه ابو طيبة ، فامر له بصاعين من طعام ، وكلم اهله فوضعوا عنه من خراجه , وقال : " ان افضل ما تداويتم به الحجامة " ، او " ان من امثل دواىكم الحجامة " .
[1] সহীহ মুসলিম, হা/৪১২১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৯০৬; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৩৭৫৮; মুস্তাখরাজে ইবনে আবি আওয়ানা, হা/৪২৯৮।
23/08/2025
চুল পরা প্রতিরোধে ঘরোয়া টিপ্স
------------------------------------
চুল পরা ঘরোয়া সমাধানের জন্য নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন নিয়মিত। তবে এরসঙ্গে মেশাতে হবে শক্তিশালী কিছু উপাদান। নারিকেল তেল নানা ধরনের পুষ্টি ও এন্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ, যা চুলকে গোড়া থেকে শক্তিশালী করে। এর সঙ্গে কিছু উপাদান মেশালে তেলের শক্তি বারে বহুগুন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস বজায় রাখা। হাইড্রেটেড থাকা এবং স্ট্রেস লেভেল নিয়ন্ত্রন করা ও স্বাস্থ্যোজ্জল চুলের জন্য জরুরী।
✅ টিপ্স- ১
---------------
পেয়াঁজের রস মেশাতে পারেন নারিকেল তেলের সঙ্গে। উপাদানটি সালফারের শক্তিশালী উৎস, যা কোলাজেন উপাদান বৃদ্ধি করে, চুলের গোড়া মজবুত করে এবং মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এর এন্টেবেকটেরিয়াল বৈশিষ্ট সংক্রমন এড়াতে সাহায্য করে।
✅ ব্যবহার বিধিঃ ২ টেবিল চামচ পেয়াঁজের রস এবং ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল মিশিয়ে নিন। চুলের গোড়ায় ঘষে ঘষে লাগান মিশ্রণটি। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করুন।
✅ টিপ্স- ২
---------------
কারি পাতা এন্টি অক্সিডেন্ট, প্রোটিন এবং বিটা ক্যারোটিনে ভরপুর। যা চুল পাতলা হওয়া রোধ করে এবং নতুন চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়। চুলের প্রাকৃতিক রঞ্জকতা ধরে রাখতে সাহায্য করে ও অকালে পাকা রোধ করে।
✅ ব্যবহার বিধিঃ একমোট তাজা কারি পাতা পেস্ট করে নিন। ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল গরম করে পেস্টটি এতে মিশ্রণ করুন। কয়েক মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করে তেলটি ছেকে নিন। চুলের গোড়ায় লাগিয়ে ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করুন।
✅ টিপ্স- ৩
----------------
এলোভেরায় প্রোটিওলাইটিক এনজাইম রয়েছে। যা ক্ষতিগ্রস্থ চুলের ফলিকল মেরামত করে এবং নতুন চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়। এলোভেরা মাথার ত্বকের পুষ্টি যোগাতে এবং ঘন স্বাস্থ্যকর চুল তৈরিতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে।
✅ ব্যবহার বিধিঃ ২ টেবিল চামচ তাজা এলাভেরা জেল ২ চেবিল চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। চুলের গোড়ায় লাগিয়ে ৪৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন নরমাল পানি দিয়ে। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করুন।
✅ টিপ্স : ৪
----------------
কেস্টর অয়েল আরেকটি শক্তিশালী উপাদান। যা চুলের বৃদ্ধি তরান্তিত করে। এটি রিসিনোলিক এসিডে সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ বিরোধী এবং এন্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কেস্টর অয়েল চুলের ফলিকলের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।
✅ ব্যবহার বিধিঃ সমপরিমান নারিকেল তেল ও কেস্টর অয়েল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। ১ ঘন্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফলের জন্য ২ থেকে ৩ দিন ব্যবহার করুন।
See translation
#হিজামাঃ
অনেকেই প্রশ্ন করেন হিজামা কি? রুকইয়াহ এর সাথে হিজামা র সম্পর্কে কি? আজকের লেখাটি তাদের জন্য।
দীর্ঘদিন রুকইয়াহ্ করার পরেও প্রয়োজন অনুযায়ী হিজামা করার দরকার হয়ে থাকে। রুকইয়াহ ছাড়াও শারিরীক সুস্থতার জন্য হিজামা গ্রহণ করা যায়।
রুকইয়াহ মূলত জ্বিন, যাদু, বদনজর, ওয়াসওয়াসা এসব সমস্যার জন্য ইসলাম সম্মত উপায়ে কুরাআন হাদিসের আয়াত, দুয়া পড়ে ঝাড়ফুক করার নাম।
হিজামা মুলত মানুষের সকল প্রকার শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতার জন্য নববী এক চিকিৎসার ব্যবস্থার নাম। আর জ্বীনযাদু/যাদুর/সিহরের চিকিৎসার জন্য রুকইয়াহ এর সাথে সাথে হিজামা ও খুব গুরত্বপূর্ণ কার্যকরী ভুমিকা রাখে। তাই রুকইয়াহ এর সাথে সাথে হিজামার সম্পর্কও খুবই গুরত্বপূর্ণ।
বদনজরের সমস্যার ক্ষেত্রে যেমন রুকইয়াহ করতে হয় বদনজর নষ্টের। আবার যাদুর জন্যও রুকইয়াহ্ করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে শারিরিক মানসিক আরো অনেক ধরনের চেইঞ্জ আসে। লক্ষনগুলো চেক করে তবে তার জন্যও রুকইয়াহ করতে হবে।
📖 #হিজামা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাঃ📖
📝1 #
📌হিজামা কী?
হিজামা অন্যতম একটি সুন্নাহ চিকিৎসা যা বিজ্ঞান সম্মত। যাতে মানুষের সকল প্রকার শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতা বিদ্যামান রয়েছে।
ইউনানী ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসারও অন্তর্ভুক্ত। যাকে বাংলায় শিঙ্গা এবং ইংরেজিতে Cupping Therapy ও বলা হয়। ইউনানীতে হাজামাৎ আর আয়ুর্বেদিকে রক্তমোক্ষণ নামে বেশ পরিচিত।
📌হিজামার পদ্ধতি:
এই চিকিৎসা ব্যবস্থা বহু প্রাচীণ। আগে বাঁশ কিংবা প্রাণীর শিং ব্যবহার করে এই চিকিৎসা করা হত। কিন্তু বর্তমানে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশ থেকে সাধারণত গ্লাস কিংবা প্লাস্টিক কাপের সাহায্যে রক্ত বের করে ফেলে দেয়া হয়। এর দ্বারা ভেতরের দূষিত রক্ত দূর হয়ে যায়। যার ফলে মানুষ প্রশান্তি অনুভব করে।
📌কেন হিজামা করাবেন?
সুস্থ লোকেরাও হিজামা করাতে পারেন। এতে সুস্থতার সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। আপনার রোগ হলে যেমন ডাক্তারের কাছে যান। তারপর প্রয়োজন পড়লে অস্ত্রপোচারও করান। তেমনি আপনার শারিরীক রোগ যাদু/সিহরের সমস্যার জন্য হিজামা করাবেন। তাহলে ফায়দা স্বরূপ রোগ থেকে মুক্তি পাবেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি সুন্নাতের উপরও আমল করা হবে ইনশাআল্লাহ।
📌আচ্ছা প্রচলিত চিকিৎসা বিজ্ঞান কি হিজামাকে সমর্থন করে? প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা কিংবা প্রচলিত চিকিৎসা বিজ্ঞান এটাকে বাতিল, অকার্যকর বা ক্ষতিকর বলে না, বরং সমর্থন করে। প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার সহযোগী হিসেবে এই চিকিৎসা গ্রহণ করা যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে এই যে, হিজামার ব্যপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজামাকে বলেছেন সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসা ব্যবস্থা।
📝2 #
📌 হিজামা সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হাদীস দেখেন নিতে পারেন। এছাড়াও আরও হাদিস রয়েছে।
ক) হযরত জাবির রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় হিজামায় শেফা রয়েছে।” সহীহ মুসলিম, হাদীছ নম্বর: ২২০৫
খ) হযরত আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হিজামাকারী কতইনা উত্তম লোক। সে দূষিত রক্ত বের করে মেরুদন্ড শক্ত করে ও দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে।” সুনানে তিরমিযী, হাদীছ নম্বর: ২০৫৩
গ) হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জিবরীল আমাকে জানিয়েছেন যে, মানুষ চিকিৎসার জন্য যতসব উপায় অবলম্বন করে, তম্মধ্যে হিজামাই হল সর্বোত্তম।” আল-হাকিম, হাদীছ নম্বর: ৭৪৭০
ঘ) হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম বলেছেন, খালি পেটে হিজামাই সর্বোত্তম। এতে শেফা ও বরকত রয়েছে এবং এর মাধ্যমে বোধ ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়।” সুনানে ইবনে মাজা, হাদীছ নম্বর: ৩৪৮৭
ঙ) হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম বলেছেন, কেউ হিজামা করতে চাইলে সে যেন আরবী মাসের ১৭, ১৯ কিংবা ২১ তম দিনকে নির্বাচিত করে। রক্তচাপের কারণে যেন তোমাদের কারো মৃত্যু না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবে।” সুনানে ইবনে মাজা, হাদীছ নম্বর: ৩৪৮৬
চ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর সূত্রে নবী (সাঃ) থেকে বর্নিত, “তিনি বলেন রোগমুক্তি তিন জিনিসের মধ্যে রয়েছে। হিজামা লাগানো, মধু পাণ করা এবং আগুন দিয়ে দাগ দেয়ার মধ্যে। তবে আমি আমার উম্মতকে আগুন দিয়ে দাগ দিতে নিষেধ করি”
ছ) কালো যাদু বা কুফুরী বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যেঃ
ইবনুল কাইয়্যূম (রহঃ) মন্তব্য করেন, রাসুলুল্লাহ রাসুলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন যাদু দ্বারা পীড়িত হন তখন তিনি মাথায় সিঙ্গা লাগান এবং এটাই সবচেয়ে উত্তম ঔষধ যদি সঠিকভাবে করা হয়। (যাদ আল মাআদঃ ৪/১২৫-১২৬)
📝3 #
📌হিজামা কিভাবে কাজ করে?
বদ-রক্ত, রোগের জন্য দায়ী জীবাণু প্লাজমা বা ফ্লুইডের সাথে বের করে নিয়ে আসা হয়। যা শরীর থেকে রোগের জন্য দায়ী জীবাণু সরিয়ে ফেলে। এর মাধ্যমে বর্তমানে সংক্রামক সকল রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে। এছাড়া অসংক্রামক অনেক রোগও ভালো হয় নিয়মিত হিজামা করালে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ও রক্ত পরিষ্কার রাখে, শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত জৈব-রাসায়নিক বর্জ্য নিষ্কাশন করে।
হিজামা একটি চিকিৎসা যাতে অন্যান্য মেডিক্যাল ড্রাগসের মত কোন সাইড ইফেক্ট নেই। কেবল নিরাময় আছে (সুবহানাল্লাহ)। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিজের জন্য এ চিকিৎসাটি করিয়েছিলেন।
📝4 #
📌হিজামাতে যে সকল সমস্যায় উপকার হয়:
(১) রক্তদূষণ, উচ্চরক্তচাপ, (২) ঘুমের ব্যাঘাত, স্মৃতিভ্রষ্টতা, মানসিক সমস্যা, (৩) মাইগ্রেন জনিত দীর্ঘমেয়াদী মাথা ব্যাথা, অস্থি সন্ধির ব্যাথা, পিঠে ব্যাথা, হাঁটু ব্যাথা, দীর্ঘমেয়াদী সাধারণ মাথা ব্যাথা, ঘাড়ে ব্যাথা, কোমর ব্যাথা, পায়ে ব্যাথা, মাংসপেশীর ব্যাথা, দীর্ঘমেয়াদী পেট ব্যথা, হাড়ের স্থানচ্যুতি জনিত ব্যাথা। (৪) সাইনুসাইটিস (৫) ব্রণ (৬) কোলেস্টেরল (৭) হাঁপানি (৮) গ্যাস্ট্রিক পেইন, গ্যাস্ট্রিক আলসার (৯) বিষক্রিয়া (১০) দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগ (১১) ত্বকের নিম্নস্থিত বর্জ্য নিষ্কাশন (১২) ফোঁড়া-পাঁচড়া (১৩) চুল পড়া (১৪) স্পোর্টস ইঞ্জুরি (১৫) হরমোনাল সমস্যা (১৬) ইরেক্টিল ডিসফাংশন [ই.ডি], (১৭) মাদকাসক্ত এবং আরও অনেক সমস্যার জন্য হিজামা কার্যকরী ইনশাআল্লাহ।
📝 #5
📌 শিঙা নিয়ে সতর্কতাঃ
আমাদের দেশে পূর্ব থেকে এই শিঙা লাগানোর একটা প্রথা প্রচলিত আছে, যা কিনা বেদে সম্প্রদায়ের মানুষজন করে থাকে, বিশেষ করে বেদে মহিলারা। এরা শিঙা লাগানোর কথা বলে বাড়ি বাড়ি মহল্লায় ডাকাডাকি করে বেরায়। শিঙা লাগানোর পাশাপাশি কৌশলে পরিবারের সার্বিক অবস্থা জেনে নানারকম কথার চাতুরতায় আপনাকে ধোকাবাজি করে:- নগদ অর্থ, স্বর্ণ অলংকার এবং ঘরের চাল, ডাল,তেল, ফ্রিজে থাকা সংরক্ষিত মাছ গোস্তও এমনি কাপড় চোপড়ও হাতিয়ে নিতে বেশ পটু। এরা শিঙা লাগানোর সময়ে ও আগে-পরে কিছু বাক্য উচ্চারণ/মন্ত্র পড়ে থাকে। অর্থাৎ যাদুর মন্ত্র পড়ে শয়তানের সাহায্য নিয়ে সে রোগিকে সাময়িকভাবে উপকার করে। সুতরাং এদের কাছে না যাওয়া, তাদের কাছ থেকে শিঙা না লাগানো জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা তথা ঈমান হেফাজত করা।
📝6 #
হিজামা খরচ সম্পর্কে হাদিস এবং হিজামার বিনিময় নেয়াটা জায়েজ কিনা?
📌 আনাস বিন মালিক (রাঃ) এর নিকট হিজামা বৃত্তির উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিজ শরীরে হিজামা লাগিয়েছেন, আবু তায়বা তাকে হিজামা করিয়েছেন। তাকে ২সা পরিমাণ (প্রায় ৫কেজি) খাদ্যবস্তু দেয়ার নির্দেশ দেন এবং তার মালিকের সাথে আলোচনা করেন, এতে তার উপর ধার্যকৃত কর কমিয়ে দেয়। এবং তিনি আরো বলেন তোমরা যেসব পদ্ধতিতে চিকিৎসা করাও হিজামা হচ্ছে সেই সব এর চেয়ে উত্তম ব্যবস্থা।
[সহী মুসলিম, হা/৩৯৩০ (হাদীস একাডেমী) সহীহুল বুখারী, হা/২১০২ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স)]
📌 আমর বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, “নবী করিম (সাঃ) হিজামা লাগাতেন এবং কোন লোকের পারিশ্রমিক কম দিতেন না”।
[সহীহুল বুখারী, হা/২২৮০ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স) সহী মুসলিম, হা/১৫৭৭, মাসনাদে আহমাদ, হা/১২২০৭]
📌 ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন নবীজী সা. হিজামা করালেন এবং যে তাকে হিজামা করেছে তাকে তিনি মজুরী দিয়েছিলেন। যদি তিনি তা অপছন্দ করতেন তবে তাকে পারিশ্রমিক দিতেন না।
[সহীহুল বুখারী, হা/২১০৩, ২২৭৯ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স)]
অতএব, হিজামা করিয়ে পারিশ্রমিক নেয়ার অবৈধতা সংক্রান্ত বিধান পরবর্তিতে রাসূলুল্লাহ সা.-এর আমল ও নির্দেশ দ্বারা বাতিল/মানসুখ হয়ে গেছে।
🔖আশা করি, এই লেখাটি হিজামা নিয়ে প্রশ্নকারীদের উত্তর হিসেবে যথেষ্ট হবে।
পরামর্শগুলো ফলো করতে পারেন আর হিজামা করানোর জন্য এক্সপার্ট এর নিকট হিজামা গ্রহণ করতে পারেন, এতে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যানকর হবে ইনশাআল্লাহ। আর এটাও স্বরণ রাখা জরুরী যে, হারিয়ে যাওয়া গুরত্বপূর্ণ একটি সুন্নাহ কে পুনর্জাগরণ আপনিও একজন অংশীদার।
হিজামা করানোর জন্য যোগাযোগ করুন 01538234946
পুরুষ ও মহিলা থেরাপিষ্ট দ্বারা হিজামা করা হয়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Azimpur
Dhaka
