uzzol22
My name is Rashedul Islam
03/11/2022
আমার ক্রাশওয়ালীর গল্প : ৫
আমি রিজেক্ট হয়ে দু:খ ভরা মন নিয়ে ঢাকা ফেরত
আসলাম। রেজাল্ট হয় নি এখনো। আব্বা বলল, তার
সাথে ব্যাবসায় বসতে। আমাদের ছোট খাট ব্যাবসা
আছে। আমি নিজের পরিচয়ে বাঁচতে চাই। তাই
আলাদা ভাবে আমার কিছু করা উচিত। তা না হলে
লোকে এমনকি বিয়ে করা বউসহ সবাই বলবে আমি
এখনো বাপের টাকায় চলি। এইতো আর কিছুদিন।
রেজাল্ট হলেই নিজের পায়ে খাড়াব। অনেক সময়
নষ্ট করেছি। মেয়েদের পিছনে। তাই বলে ধ্বংস হয়
যাই নি।
আব্বা এখনো বাসায় আসে নি। আমি আমার রুমে
পিসিতে গান শুনতেছি। কেন জানি বিরহের গান
শুনতে মন চাচ্ছে। তাই একটা গান প্লে করলাম।
,
মোবাইলের ভাইব্রেশনে চমকে উঠলাম। দেখি
অপরিচিত নাম্বার। রাতের বেলা সাধারণত আমি
অপরিচিত কল রিসিভ করি না। এদিকে বাবাও
বাসায় নেই। তাই ভাবলাম হয়তো বাবা ফোন
দিয়েছে। পাঁচ বার কেটে গেছে। ছয়বারের মাথায়
রিসিভ করলাম।
-- আসসালামু আলাইকুম। কে বলছেন?
-- ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার পরিচিত কেউ
বলছি। ( মেয়েলি কন্ঠ।)
-- আপনাকে আমি চিনি বলে মনে পড়ছে না। বাই ঘুম
পাচ্ছে।
-- ও হ্যালো! হ্যালো। এখন তো দুধে ধোয়া তুলসী
পাতা হয়ে গেছেন দেখছি।
-- কি যা তা বলছেন। মাথার তার ছিড়ছে পাগলা
গারদে না গিয়ে আমার কাছে কি?
-- আমি বৃষ্টি.......
নামটা শুনে অবাক হয়ে গেলাম। বৃষ্টি ফোন দিয়েছে
আমাকে। কিছুক্ষণ থ মেরে গেলাম। পরে আবার
বললাম।
-- কোন বৃষ্টি?
-- রাখছি বাই।
কথাটা বলেছে ঠিকই কিন্তু লাইন কাটতেছে না।
হয়তো আমার জন্য অপেক্ষা করছে আমি কিছু বলি
কি না!!
-- কি হল ফোন রাখবেন না?
-- আমি ফোন দিয়েছি। টাকা আমার যাচ্ছে।
অন্যকারো যাচ্ছে না। আর আমি কাটব কি না কাটব
সেটা আমার বিষয়। আশা করি কাউকে বলে দিতে
হবে না।
-- আচ্ছা আপনি না রাখেন। অসুবিধা নাই। সামনের
সপ্তাহে বিয়ে করছি। দাওয়াত রইল। আইসেন।।।
,
এই বলেই ফোনটা রেখে দিলাম। বুঝতে পারছি।
আমার প্রস্তাবে রাজি না থাকলে এত রাতে ফোন
দেওয়ার পাত্রী ও নয়। তাও আবার কল দিয়েছে।
যেখানে মেয়েরা মিসকলে পারদর্শী। আরেকটা
ব্যাপার হল আমি বিয়েতে যাচ্ছি না শুনে ও কেন
আসবে? আর রাতে একা কেন পুকুর পাড়ে আমার
সাথে কথা বলবে? যদি ভাল নাই বাসবে। বিয়ে
বাড়ির ঘটনা আমার কাছে ভেজাল মনে হইছে। কিন্তু
এখনকার ঘটনা একেবারে ফরমালিন মুক্ত।
এখন বুঝ মেয়ে। কাউকে কষ্ট দিলে তার কেমন
লাগে।
,
সপ্তাহ খানেক পরে। বাবা আমাকে ডেকে পাঠাল।
-- জ্বী বাবা।
-- আকাশ চল। মেয়ে দেখতে যাব।
বাবার সাথে ফ্রী আছি ঠিক কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন
করার সাহস আজো আমার হয় নি। কার মেয়ে, কোন
মেয়ে, কার জন্য, এই প্রশ্নগুলি মাথায় যন্ত্রণা দিবে
কিন্তু কথা হয়ে মুখ দিয়ে বের হবে না।
কিন্তু একটা জিনিস কিছুতেই বুঝতেছি না। আমি তো
বাবাকে কিছুই বলি নি। হয় দরজার আড়ালে শুনেছে
না হয় মেয়েটি নিজেই বলেছে। ধুর কি ভাচছি এসব?
বাবা তো বাসায়ই ছিল না। মেয়েটা যে লাজুক।
কোনভাবেই বলবে না। এসব ভাবলে হিসেব তো
মিলাতেই পারব না। বরং মাথার তার ছিড়বে।
এখন বসে মেয়ের বাড়ি। মেয়ে দেখা শেষ।
কথাবার্তা চলছে গার্ডিয়ান দের। আমাদের আলাদা
রুমে পাঠানো হইছে। যাকে দেখতে এসেছি সে আর
কেউ নয়, সে আমার ক্রাশ। অবশেষে মায়ের কথাই
সত্যি হল। মন থেকে চাইলে যেকোন জিনিসই
পাওয়া যায়। তবে চাওয়া ভাল হতে হবে।
মনে মনে বলিলাম, পাইলাম আমি ইহাকেই পাইলাম।
যতন করে বুকে রাখিব, হারিয়ে যেতে দেব না
কোথাও।
................সমাপ্ত................
03/11/2022
আমার ক্রাশওয়ালীর গল্প : ১
বাবা : আকাশের মা!! শুনছ ? আকাশ কোথায়?
মা : কি হইছে ষাড়ের মত চেচাচ্ছ কেন? আকাশ তো
মাথার উপরেই আছে।
বাবা : উহু। আমাদের আকাশ কই!
মা : কি জানি? কই টো টো করে ঘুরে বেড়াচ্ছে কে
জানে?
আকাশ : মা, ও মা বাগানে বোধ হয় গরু ঢুকছে। হাম্বা
হাম্বা করতেছে।
আমি যে রুমে আছি তা সুকৌশলে জানিয়ে দিলাম।
আমি বাবাকে টিটকারি মেরে বলেছি কথাটি।
বাবার কণ্ঠস্বর আমার কাছে গরুর মতই শোনায় তাই
গরুই বানালাম। হি হি...
বাবা : ঐ বান্দর! রুমে কি করিস? নিচে আয়।
আকাশ : চটি পড়তেছি। ( বলেই জিহবায় সজোরে
কামড় দিলাম। তাড়াতাড়ি আবার বললাম। ) জুতো
ছিড়ে গেছে তাই চটি পড়তেছি।
অবশেষে নিচে আসলাম। মা চলে গেছে কিচেনে।
আমি আর বাবা ড্রয়িংরুম এ বসে আছি।
বাবা বারবার মাকে বলছে। আমি বাজারে যাচ্ছি ।
এই কথাটি আমি অলরেডি তিনবার শুনেছি।
চারবারের মাথায় বলেই ফেললাম। ষাড়ের মত না
চেচিয়ে যাওতো এখান থেকে। বুঝলাম বাবা কি
জানি কিছু একটা সুবিধা করতে পারল না। নিরস মুখে
চলে গেল। রিমোট নিয়ে টিভিতে গুঁতোগুঁতি
করছিলাম। এমন সময় মা এসে হাজির।
-- কিরে আকাশ তোর বাবা চলে গেছে?
-- হ্যা গেছে।
-- ওহহহ। ( মুখে কালো ছায়া নিয়ে )
কালো মুখের রহস্য উদঘাটন করতেই হবে। যেহেতু
আমি সুযোগ সন্ধানী মানুশ। কিছুক্ষণ পরে, কিচেনের
দিকে পা বাড়ালাম। টের পেলাম। মা যেন কার
সাথে ফোনে কথা বলছে। আমিও পা টিপে টিপে
গিয়ে দরজার আড়ালে লুকিয়ে পড়লাম। শুনশান
নীরবতায় আড়ি পেতে শুনলাম। হাটে হাড়ি ভাঙতে
হবে তো। মা যখন বাবাকে আর বাবা যখন মাকে
গালমন্দ করে আই মিন ঝাড়ে তখন আমার খুব আনন্দ
হয়। আবার বেশী ঝাড়াঝাড়ি হয়ে গেলে। অবুঝ
শিশুদের মত কান্না পায় আমার।
কথাগুলো মনের সাথে গেথে ফেললাম। বাবাকে
বলতে হবে তো। আজকে অনেক মজা নিতে পারব।
ভেবেই আমার বুকের ছাতি বড় হতে লাগল ঠিক
বেলুনের মত। ঠিক বেলুনের মতই আবার চুপসে গেলাম।
যখন শুনলাম, ঢ্যাং ঢ্যাং করে বাজার করতে চলে
গেলে আমাকে কিছুই বলে গেলে না। তারপর আবার
মা বাবার কথার রিপ্লাই দিচ্ছিল, ও ছিল তো কি
হইছে? আর আমি কি কালা যে শুনতে পাব না?
বাবা সম্ভবত বলেছিল। আকাশ ছিল তো। আমিও
তোমাকে তিন চারবার ডেকেছি। তুমি শুননি। এর
উত্তরে মা ওই কথা গুলো বলছিল। যাক ফিউজ হয়ে
চলে আসলাম। তাদের প্রেম কাহিনী শুনে আমার
লাভ নাই। প্রেম করুক। তাদেরকে দেখেই আমার
বেস্ট প্রেম ঝুটি মনে হয়। এই আধ বুড়া বয়সেও
প্রেমের ট্যাংকি খুলে নিয়ে বসেছে।
চালিয়ে যাও প্রেম ধন্য করো আমায়। তোমাদের
প্রেমের জন্যই আমি পৃথিবী তে এসেছি। নাহয়
পারতাম না।
চলবে...............
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Jessore, Khulna
Jessore
7440
