The Scatter Shelf
Random things
09/08/2026
‘“সে এখনও অপেক্ষা করছিল”’
“আমি তোমাকে কোনোদিন ছেড়ে যাব না।”
কথাটা বলার সময় ছেলেটার চোখে যে বিশ্বাস ছিল, মেয়েটা সেই বিশ্বাসটুকুই আঁকড়ে ধরেছিল। সে জানত না, মানুষ কখনও কখনও খুব সহজেই এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফেলে, যার ভার সারাজীবন অন্য কাউকে একা বয়ে বেড়াতে হয়।
মেয়েটা তাকে বিশ্বাস করেছিল। বোকা বলে নয়—বরং সে ভালোবাসতে জানত পুরো হৃদয় দিয়ে। তার কাছে ভালোবাসা কখনও অর্ধেক ছিল না। কাউকে নিজের করে নিলে, তার স্বপ্নের ভেতরেও নিজের জন্য একটা ছোট্ট জায়গা রেখে দিত সে।
প্রতিদিন রাত হলেই তাদের কথা হতো।
কখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কখনও নিছক অর্থহীন কথায়। কখনও ভবিষ্যৎ নিয়ে—একদিন কোথায় যাবে, কীভাবে ঘর সাজাবে, কে আগে রাগ করবে, আর কে আগে অভিমান ভাঙাবে।
ছেলেটা জানত মেয়েটার সব ভয়।
জানত কোন কথায় তার মন খারাপ হয়, কোন ছোট্ট বিষয়েও সে অকারণে হেসে ফেলে, কোন স্বপ্নটা সে কাউকে বলতে ভয় পায়।
মেয়েটা ভাবত, “এই মানুষটাই বুঝি থেকে যাবে।”
কিন্তু মানুষ চলে যাওয়ার আগে সবসময় বিদায় বলে যায় না।
কখনও কখনও সে ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়।
একদিন মেয়েটা খেয়াল করল, আগের মতো আর লম্বা মেসেজ আসে না।
আগে যেখানে একটা “শুভরাত্রি” না বলে ঘুমাতে যেত না, এখন সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনো খবর নেই।
ফোন করলেও ব্যস্ত।
আবার ফোন করলে—
“পরে কথা বলব।”
সেই “পরে” আর আসত না।
মেয়েটা প্রথমে নিজেকে বোঝাত,
“হয়তো ব্যস্ত।”
তারপর বলত,
“হয়তো কোনো সমস্যা হয়েছে।”
তারপর একদিন নিজের কাছেই মিথ্যে বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেল।
কারণ সে বুঝতে পারছিল—সমস্যাটা সময়ের নয়, তার প্রতি বদলে যাওয়া অনুভূতির।
তবুও সে অপেক্ষা করত।
ফোনটা হাতে নিয়ে বারবার স্ক্রিন জ্বালাত। কোনো নতুন নোটিফিকেশন নেই—তবুও আবার দেখত।
হয়তো এবার তার নামটা আসবে।
হয়তো এবার সে লিখবে—
“কোথায় আছো? তোমাকে খুব মনে পড়ছে।”
কখনও পুরোনো মেসেজগুলো খুলে বসে থাকত সে। কত রাতের কথা, কত হাসি, কত ছোট ছোট স্বপ্ন!
সেই কথাগুলো পড়তে পড়তে মনে হতো, মানুষটা বুঝি এখনও তার পাশেই আছে।
শুধু ফোনের ওপাশে নয়—তার হৃদয়ের একদম কাছেই।
এভাবেই কয়েকটা মাস কেটে গেল।
একদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ তার ফোনটা বেজে উঠল।
স্ক্রিনে তার নাম।
মেয়েটার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
কতদিন পর!
কাঁপা হাতে মেসেজটা খুলল।
মাত্র কয়েকটা শব্দ।
“আমি দুঃখিত। আমি এগিয়ে গেছি।”
মেয়েটা অনেকক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
চোখের সামনে অক্ষরগুলো ঝাপসা হয়ে আসছিল, কিন্তু সে চোখের পানি মুছল না।
তার মনে হচ্ছিল, একটা মানুষ কীভাবে এত সহজে “এগিয়ে যেতে” পারে?
যে মানুষটা একদিন বলেছিল,
“তুমি ছাড়া আমি থাকতে পারব না,”
সে আজ কীভাবে এত সহজে তার ছাড়া থাকতে শিখে গেল?
মেয়েটা লিখতে চেয়েছিল—
“তুমি কীভাবে এত সহজে আমাকে ভুলে গেলে?”
লিখতে চেয়েছিল—
“তোমার ফেলে যাওয়া স্মৃতিগুলো নিয়ে আমি এখনও প্রতিদিন যুদ্ধ করি। আর তুমি বলছ, তুমি এগিয়ে গেছ?”
আরও কত কথা ছিল।
অভিমান ছিল।
অভিযোগ ছিল।
ভালোবাসা ছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে কিছুই লিখল না।
অনেকক্ষণ পর শুধু একটা ছোট্ট উত্তর পাঠাল—
“আশা করি তুমি ভালো আছো।”
তারপর ফোনটা পাশে রেখে দিল।
আর তখনই তার চোখের পানি নেমে এল।
নিঃশব্দে।
কোনো শব্দ নেই, কোনো অভিযোগ নেই।
শুধু বুকের ভেতর জমে থাকা এতদিনের ভালোবাসা যেন চোখের পানি হয়ে বেরিয়ে আসছিল।
সে কাঁদছিল তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য নয়।
সে কাঁদছিল কারণ অবশেষে সে সত্যিটা বুঝে গিয়েছিল—
কখনও কখনও আমরা যাকে সারাজীবনের জন্য বেছে নিই, সে মানুষটা তার জীবনের গল্পে আমাদের জন্য আর কোনো অধ্যায় রাখে না।
সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো, সে মানুষটাকে ঘৃণা করতেও পারছিল না।
কারণ ভালোবাসা শেষ হয়ে গেলেও, ভালোবাসার অভ্যাসটা এত সহজে শেষ হয় না।
অনেক রাত পর্যন্ত সে জানালার পাশে বসে ছিল।
ফোনটা পাশে পড়ে ছিল।
বারবার মনে হচ্ছিল, হয়তো আবার একটা মেসেজ আসবে।
হয়তো সে বলবে—
“আমি ভুল করেছি। ফিরে এসো।”
কিন্তু ফোনটা আর বাজেনি।
সেই রাতেই মেয়েটা প্রথমবার বুঝেছিল—
কিছু অপেক্ষার কোনো শেষ নেই।
কিছু মানুষকে আমরা সারাজীবন ভালোবেসে যেতে পারি, অথচ তাদের জীবনে আর কখনও ফিরে যেতে পারি না।
আর কিছু বিদায় পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন বিদায় হয়ে থাকে—
কারণ সেই বিদায়ের সময় আমরা “বিদায়” বলার সুযোগটুকুও পাই না।
[সংগ্রহিত]
Show the power of young people’s voice to the corrupted system.
Cockroach Janta Party
Use hashtags for CJP
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
London
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when The Scatter Shelf posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.
